The Old Testament of the Holy Bible

আদিপুস্তক 1

1 শুরুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন| প্রথমে পৃথিবী সম্পূর্ণ শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না| 2 অন্ধকারে আবৃত ছিল জলরাশি আর ঈশ্বরের আত্মা সেই জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল| 3 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!” তখনই আলো ফুটতে শুরু করল| 4 আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল| তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন| 5 ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিন” এবং অন্ধকারের নাম দিলেন “রাত্রি|”সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল| এই হল প্রথম দিন| 6 তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক|” 7 তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন| এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল| 8 ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের নাম দিলেন “আকাশ|” সন্ধ্যা হল আর তারপর সকাল হল| এটা হল দ্বিতীয় দিন| 9 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়|” এবং তা-ই হল| 10 ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবী” এবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর|” ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে| 11 তখন ঈশ্বর বললেন, “পৃথিবীতে ঘাস হোক, শস্যদায়ী গাছ ও ফলের গাছপালা হোক| ফলের গাছগুলিতে ফল আর ফলের ভেতরে বীজ হোক| প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করুক| এইসব গাছপালা পৃথিবীতে বেড়ে উঠুক|” আর তাই-ই হল| 12 পৃথিবীতে ঘাস আর শস্যদায়ী উদ্ভিদ উত্পন্ন হল| আবার ফলদাযী গাছপালাও হল, ফলের ভেতরে বীজ হল| প্রত্যেক উদ্ভিদ আপন আপন জাতের বীজ সৃষ্টি করল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে| 13 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল| এভাবে হল তৃতীয় দিন| 14 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশে আলো ফুটুক| এই আলো দিন থেকে রাত্রিকে পৃথক করবে| এই আলোগুলি বিশেষ সভাশুরু করার বিশেষ বিশেষ সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হবে| আর দিন ও বছর বোঝাবার জন্য এই আলোগুলি ব্যবহৃত হবে| 15 পৃথিবীতে আলো দেওয়ার জন্য এই আলোগুলি আকাশে থাকবে|” এবং তা-ই হল| 16 তখন ঈশ্বর দুটি মহাজ্যোতি বানালেন| ঈশ্বর বড়টি বানালেন দিনের বেলা রাজত্ব করার জন্য আর ছোটটি বানালেন রাত্রিবেলা রাজত্ব করার জন্য| ঈশ্বর তারকারাজিও সৃষ্টি করলেন| 17 পৃথিবীকে আলো দেওয়ার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে স্থাপন করলেন| 18 দিন ও রাত্রিকে কর্তৃত্ত্ব দেবার জন্য ঈশ্বর এই আলোগুলিকে আকাশে সাজালেন| এই আলোগুলি আলো আর অন্ধকারকে পৃথক করে দিল এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে| 19 সন্ধ্যা হল এবং সকাল হল| এভাবে চতুর্থ দিন হল| 20 তারপর ঈশ্বর বললেন, “বহু প্রকার জীবন্ত প্রাণীতে জল পূর্ণ হোক আর পৃথিবীর ওপরে আকাশে ওড়বার জন্য বহু পাখী হোক|” 21 সুতরাং ঈশ্বর বড় বড় জলজন্তু এবং জলে বিচরণ করবে এমন সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করলেন| অনেক প্রকার সামুদ্রিক জীব রয়েছে এবং সে সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি| যত রকম পাখী আকাশে ওড়ে সেইসবও ঈশ্বর বানালেন| এবং ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটি ভাল হয়েছে| 22 ঈশ্বর এই সমস্ত প্রাণীদের আশীর্বাদ করলেন| ঈশ্বর সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করে সমুদ্র ভরিয়ে তুলতে বললেন| ঈশ্বর পৃথিবীতে পাখীদের সংখ্যাবৃদ্ধি করতে বললেন| 23 সন্ধ্যা হয়ে গেল এবং তারপর সকাল হল| এভাবে পঞ্চম দিন কেটে গেল| 24 তারপর ঈশ্বর বললেন, “নানারকম প্রাণী পৃথিবীতে উত্পন্ন হোক| নানারকম বড় আকারের জন্তু জানোয়ার আর বুকে হেঁটে চলার নানারকম ছোট প্রাণী হোক এবং প্রচুর সংখ্যায় তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি হোক|” তখন য়েমন তিনি বললেন সব কিছু সম্পন্ন হল| 25 সুতরাং ঈশ্বর সব রকম জন্তু জানোয়ার তেমনভাবে তৈরী করলেন| বন্য জন্তু, পোষ্য জন্তু আর বুকে হাঁটার সবরকমের ছোট ছোট প্রাণী ঈশ্বর বানালেন এবং ঈশ্বর দেখলেন প্রতিটি জিনিসই বেশ ভালো হয়েছে| 26 তখন ঈশ্বর বললেন, “এখন এস, আমরা মানুষ সৃষ্টি করি| আমাদের আদলে আমরা মানুষ সৃষ্টি করব| মানুষ হবে ঠিক আমাদের মত| তারা সমুদ্রের সমস্ত মাছের ওপরে আর আকাশের সমস্ত পাখীর ওপরে কর্তৃত্ত্ব করবে| তারা পৃথিবীর সমস্ত বড় জানোয়ার আর বুকে হাঁটা সমস্ত ছোট প্রাণীর উপরে কর্তৃত্ত্ব করবে|” 27 তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন| মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব| ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন| 28 ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমাদের বহু সন্তানসন্ততি হোক| মানুষে মানুষে পৃথিবী পরিপূর্ণ করো এবং তোমরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণের ভার নাও, সমুদ্রে মাছেদের এবং বাতাসে পাখিদের শাসন করো| মাটির ওপর যা কিছু নড়েচড়ে, যাবতীয় প্রাণীকে তোমরা শাসন করো|” 29 ঈশ্বর বললেন, “আমি তোমাদের শস্যদায়ী সমস্ত গাছ ও সমস্ত ফলদাযী গাছপালা দিচ্ছি| ঐসব গাছ বীজযুক্ত ফল উত্‌পাদন করে| এই সমস্ত শস্য ও ফল হবে তোমাদের খাদ্য| 30 এবং জানোয়ারদের সমস্ত সবুজ গাছপালা দিচ্ছি| তাদের খাদ্য হবে সবুজ গাছপালা| পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার, আকাশের সমস্ত পাখি এবং মাটির উপরে বুকে হাঁটে য়েসব কীট সবাই ঐ খাদ্য খাবে|” এবং এই সব কিছুই সম্পন্ন হল| 31 ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেসব কিছু দেখলেন এবং ঈশ্বর দেখলেন সমস্ত সৃষ্টিই খুব ভাল হয়েছে| সন্ধ্যা হল, তারপর সকাল হল| এভাবে ষষ্ঠ দিন হল|

আদিপুস্তক 2

1 এইভাবে পৃথিবী, আকাশ এবং তাদের আভ্যন্তরীণ যাবতীয় জিনিস সম্পূর্ণ হল| 2 য়ে কাজ ঈশ্বর শুরু করেছিলেন তা শেষ করে সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম নিলেন| 3 সপ্তম দিনটিকে আশীর্বাদ করে ঈশ্বর সেটিকে পবিত্র দিনে পরিণত করলেন| দিনটিকে ঈশ্বর এক বিশেষ দিনে পরিণত করলেন কারণ ঐ দিনটিতে পৃথিবী সৃষ্টির সমস্ত কাজ থেকে তিনি বিশ্রাম নিলেন| 4 এই হল আকাশ ও পৃথিবীর ইতিহাস| ঈশ্বর যখন পৃথিবী ও আকাশ সৃষ্টি করেছিলেন, তখন যা কিছু ঘটেছিল এটা তারই গল্প| 5 পৃথিবীতে তখন কোন গাছপালা ছিল না| মাঠে তখন কিছুই জন্মাতো না| কারণ প্রভু তখনও পৃথিবীতে বৃষ্টি পাঠান নি এবং ক্ষেতে চাষবাস করার জন্য তখন কেউ ছিল না| 6 পৃথিবী থেকে জলউঠে চারপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ল| 7 তখন প্রভু ঈশ্বর মাটি থেকে ধুলো তুলে নিয়ে একজন মানুষ তৈরী করলেন এবং সেই মানুষের নাকে ফুঁ দিয়ে প্রাণবাযু প্রবেশ করালেন এবং মানুষটি জীবন্ত হয়ে উঠল| 8 তখন প্রভু ঈশ্বর পূর্বদিকে একটি বাগান বানালেন আর সেই বাগানটির নাম দিলেন এদন এবং প্রভু ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টি করা মানুষটিকে সেই বাগানে রাখলেন| 9 এবং সেই বাগানে প্রভু ঈশ্বর সবরকমের সুন্দর বৃক্ষ এবং খাদ্যোপযোগী ফল দেয় এমন প্রতিটি বৃক্ষ রোপণ করলেন| বাগানের মাঝখানটিতে প্রভু ঈশ্বর রোপণ করলেন জীবন বৃক্ষটি যা ভাল এবং মন্দ বিষয়ে জ্ঞান দেয়| 10 এদন হতে এক নদী প্রবাহিত হয়ে সেই বাগান জলসিক্ত করল| তারপর সেই নদী বিভক্ত হয়ে চারটি ছোট ছোট ধারায পরিণত হল| 11 প্রথম ধারাটির নাম পীশোন| এই নদী ধারা পুরো হবীলা দেশটিকে ঘিরে প্রবাহিত| 12 (সে দেশে সোনা রয়েছে আর তা উঁচু মানের| এছাড়া এই দেশে গন্ধদ্রব্য, গুগ্গুল আর মূল্যবান গোমেদকমণি পাওয়া যায়|) 13 দ্বিতীয় নদীর নাম গীহোন, এই নদীটি সমস্ত কুশ দেশটিকে ঘিরে প্রবাহিত| 14 তৃতীয় নদীটির নাম হিদ্দেকল| এই নদী অশূরিয়া দেশের পূর্ব দিকে প্রবাহিত| চতুর্থ নদীটির নাম ফরাত্‌| 15 কৃষিকাজ আর বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে এদন বাগানে রাখলেন| 16 প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে এই আদেশ দিলেন, “বাগানের য়ে কোনও বৃক্ষের ফল তুমি খেতে পারো| 17 কিন্তু য়ে বৃক্ষ ভালো আর মন্দ বিষযে জ্ঞান দেয সেই বৃক্ষের ফল কখনও খেও না| যদি তুমি সেই বৃক্ষের ফল খাও, তোমার মৃত্যু হবে!” 18 তারপরে প্রভু ঈশ্বর বললেন, “মানুষের নিঃসঙ্গ থাকা ভালো নয়| আমি ওকে সাহায্য করার জন্যে ওর মত আর একটি মানুষ তৈরী করব|” 19 প্রভু ঈশ্বর পৃথিবীর ওপরে সমস্ত পশু আর আকাশের সমস্ত পাখী তৈরী করবার জন্য মৃত্তিকার ধূলি ব্যবহার করেছিলেন| প্রভু ঈশ্বর ঐ সমস্ত পশুপাখীকে মানুষটির কাছে নিয়ে এলেন আর মানুষটি তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নাম দিল| 20 মানুষটি সমস্ত গৃহপালিত পশু, আকাশের সমস্ত পাখীর এবং অরণ্যের সমস্ত বন্য প্রাণীর নামকরণ করল| মানুষটি অসংখ্য পশু পাখী দেখল কিন্তু সে তার য়োগ্য সাহায্যকারী কাউকে দেখতে পেল না| 21 তখন প্রভু ঈশ্বর সেই মানুষঢিকে খুব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করলেন| মানুষটি যখন ঘুমোচ্ছিল তখন প্রভু ঈশ্বর তার পাঁজরের একটা হাড় বের করে নিলেন| তারপর প্রভু ঈশ্বর য়েখান থেকে হাড়টি বের করেছিলেন সেখানটা চামড়া দিয়ে ঢেকে দিলেন| 22 প্রভু ঈশ্বর মানুষটির পাঁজরের সেই হাড় দিয়ে তৈরি করলেন একজন স্ত্রী| তখন সেই স্ত্রীকে প্রভু ঈশ্বর মানুষটির সামনে নিয়ে এলেন| 23 এবং সেই মানুষটি বলল,“অবশেষে আমার সদৃশ একজন হল| আমার পাঁজরা থেকে তার হাড়, আর আমার শরীর থেকে তার দেহ তৈরী হয়েছে| য়েহেতু নর থেকে তার সৃষ্টি হয়েছে, সেহেতু ‘নারী’ বলে এর পরিচয় হবে|” 24 এইজন্য পুরুষ পিতামাতাকে ত্যাগ করে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং এইভাবে দুজনে এক হয়ে যায়| 25 তখন নরনারী উলঙ্গ ছিল, কিন্তু সেজন্যে তাদের কোন লজ্জাবোধ ছিল না|

আদিপুস্তক 3

1 প্রভু ঈশ্বর যত রকম বন্য প্রাণী সৃষ্টি করেছিলেন সে সবগুলোর মধ্যে সাপ সবচেয়ে চালাক ছিল| সাপ সেই নারীর সঙ্গে একটা চালাকি করতে চাইল| একদিন সাপটা সেই নারীকে জিজ্ঞেস করল, “নারী, ঈশ্বর কি বাগানের কোনও গাছের ফল না খেতে সত্যিই আদেশ দিয়েছেন?” 2 তখন নারী সাপটাকে বলল, “না! ঈশ্বর তা বলেন নি! বাগানের সব গাছগুলো থেকে আমরা ফল খেতে পারি| 3 শুধু একটি গাছ আছে যার ফল কিছুতেই খেতে পারি না| ঈশ্বর আমাদের বলেছিলেন, “বাগানের মাঝখানে য়ে গাছটা আছে, তার ফল কোনমতেই খাবে না| এমন কি ঐ গাছটা ছোঁবেও না - ছুঁলেই মরবে|” 4 কিন্তু সাপটা নারীকে বলল, “না, মরবে না| 5 ঈশ্বর জানেন, যদি তোমরা ঐ গাছের ফল খাও তাহলে তোমাদের ভালো আর মন্দের জ্ঞান হবে| আর তোমরা তখন ঈশ্বরের মত হয়ে যাবে!” 6 সেই নারী দেখল গাছটা সুন্দর এবং এর ফল সুস্বাদু, আর এই ভেবে সে উত্তেজিত হল য়ে ঐ গাছ তাকে জ্ঞান দেবে| তাই নারী গাছটার থেকে ফল নিয়ে খেল| তার স্বামী সেখানেই ছিল, তাই সে স্বামীকেও ফলের একটা টুকরো দিল আর তার স্বামীও সেটা খেল| 7 তখন সেই নারী ও পুরুষ দুজনের মধ্যেই একটা পরিবর্তন ঘটল| য়েন তাদের চোখ খুলে গেল আর তারা সব কিছু অন্যভাবে দেখতে শুরু করল| তারা দেখল তাদের কোনও জামাকাপড় নেই| তারা উলঙ্গ| তাই তারা কযেকটা ডুমুরের পাতা জোগাড় করে সেগুলোকে জুড়ে জুড়ে সেলাই করল এবং সেগুলোকে পোশাক হিসেবে পরল| 8 প্রভু ঈশ্বর বিকেল বেলা বাগানে বেড়াচ্ছিলেন| তাঁর পাযের শব্দ শুনে সেই পুরুষ ও নারী বাগানে গাছগুলির মাঝখানে গিয়ে লুকালো| 9 কিন্তু প্রভু ঈশ্বর পুরুষটিকে ডাকলেন, “তুমি কোথায়?” 10 পুরুষটি বলল, “আপনার পাযের শব্দ শুনে ভয় পেলাম| আমি য়ে উলঙ্গ| তাই আমি লুকিয়ে আছি|” 11 প্রভু ঈশ্বর মানুষটিকে বললেন, “কে বলল য়ে তুমি উলঙ্গ? তোমার লজ্জা করছে কেন? য়ে গাছটার ফল খেতে আমি বারণ করেছিলাম তুমি কি সেই বিশেষ গাছের ফল খেয়েছ?” 12 সেই পুরুষ বলল, “আমার জন্য য়ে নারী আপনি তৈরী করেছিলেন সেই নারী গাছটা থেকে আমায় ফল দিয়েছিল, তাই আমি সেটা খেয়েছি|” 13 তখন প্রভু ঈশ্বর সেই নারীকে বললেন, “তুমি এ কি করেছ?”সেই নারী বলল, “সাপটা আমার সঙ্গে চালাকি করেছে| সাপটা আমায় ভুলিযে দিল আর আমিও ফলটা খেয়ে ফেললাম|” 14 সুতরাং প্রভু ঈশ্বর সাপটাকে বললেন,“তুমি ভীষণ খারাপ কাজ করেছ; তার ফলে তোমার খারাপ হবে| অন্যান্য পশুর চেযে তোমার পক্ষে বেশী খারাপ হবে| সমস্ত জীবন তুমি বুকে হেঁটে চলবে আর মাটির ধুলো খাবে| 15 তোমার এবং নারীর মধ্যে আমি শত্রুতা আনব এবং তার সন্তানসন্ততি এবং তোমার সন্তান সন্ততির মধ্যে এই শত্রুতা বয়ে চলবে| তুমি কামড় দেবে তার সন্তানের পাযে কিন্তু সে তোমার মাথা চূর্ণ করবে|” 16 তারপর প্রভু ঈশ্বর নারীকে বললেন,“তুমি যখন গর্ভবতী হবে, আমি সেই দশাটাকে দুঃসহ করে তুলব, তুমি অসহ্য ব্যথায সন্তানের জন্ম দেবে| তুমি তোমার স্বামীকে আকুলভাবে কামনা করবে কিন্তু সে তোমার উপরে কর্তৃত্ত্ব করবে|” 17 তারপর প্রভু ঈশ্বর পুরুষকে বললেন,“আমি তোমায় ঐ গাছের ফল খেতে বারণ করেছিলাম| তবু তুমি নারীর কথা শুনে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছ| তাই তোমার কারণে আমি এই ভূমিকে শাপ দেব| ভূমি তোমাদের য়ে খাদ্য দেবে তার জন্যে এখন থেকে সারাজীবন তোমায় অতি কঠিন পরিশ্রম করতে হবে| 18 ভূমি তোমার জন্য কাঁটাঝোপ জন্ম দেবে এবং তোমাকে বুনো গাছপালা খেতে হবে| 19 তোমার খাদ্যের জন্যে তুমি কঠোর পরিশ্রম করবে য়ে পর্য্ন্ত না মুখ ঘামে ভরে যায়| তুমি মরণ পর্য্ন্ত পরিশ্রম করবে, তারপর পুনরায় ধূলি হয়ে যাবে| আমি ধুলি থেকে তোমায় সৃষ্টি করেছি এবং যখন তোমার মৃত্যু হবে পুনরায় তুমি ধূলিতে পরিণত হবে|” 20 আদম তার স্ত্রীর নাম রাখল হবা, কারণ সে সমস্ত জীবিত মানুষের জননী হল| 21 প্রভু ঈশ্বর পশুর চামড়া দিয়ে আদম ও হবার জন্য পোশাক বানিয়ে তাদের পরিযে দিলেন| 22 প্রভু ঈশ্বর বললেন, “দেখ, ওরা এখন ভালো আর মন্দ বিষযে জেনে আমাদের মত হয়ে গেছে| এখন মানুষটা জীবনবৃক্ষের ফল পেড়েও খেতে পারে| আর তা যদি খায় তাহলে ওরা চিরজীবি হবে|” 23 সুতরাং প্রভু ঈশ্বর মানুষকে এদন উদ্যান ত্যাগ করতে বাধ্য করলেন| য়ে ভুমি থেকে আদমকে তৈরী করা হয়েছিল, বাধ্য হয়ে সে সেই ভুমিতেই কাজ করতে থাকল| 24 প্রভু ঈশ্বর মানুষকে ঐ উদ্যান থেকে তাড়িয়ে দিলেন| প্রভু করূব দূতদের উদ্যানের প্রবেশ পথে পাহারায় রাখলেন এবং তিনি আগুনের একটা তরবারিকেও সেখানে রাখলেন| জীবনবৃক্ষের কাছে যাবার পথটি পাহারা দেবার জন্য ঐ তরবারিটি চারদিকে জ্বলজ্বল করছিল|

আদিপুস্তক 4

1 আদম ও তার স্ত্রী হবার মধ্যে য়ৌন সম্পর্ক হল| হবা একটি শিশুর জন্ম দিল| শিশুটির নাম রাখা হল কয়িন| হবা বলল, “প্রভুর সহায়তায আমি একটি মানুষের রূপ দিয়েছি|” 2 পরে সে আর একটি শিশু প্রসব করল| এই শিশুটি হল কয়িনের ভাই হেবল| হেবল হল মেষপালক আর কয়িন হল কৃষক| 3 ফসল কাটার সময় প্রভুর জন্যে কয়িন কিছু উপহার নিয়ে এল| কয়িন ক্ষেতে যা ফলিযেছিল তার থেকে কিছু ফসল নিয়ে এল| আর হেবল প্রভুর জন্য তার মেষপাল থেকে বাছাই করা সেরা মেষগুলোর সেরা অংশ নিয়ে এল|প্রভু হেবল ও তার উপহার গ্রহণ করলেন, 4 5 কিন্তু প্রভু কয়িন ও তার উপহার প্রত্যাখ্যান করলেন| এতে কয়িনের ভীষণ দুঃখ আর রাগ হল| 6 প্রভু কয়িনকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি রাগ করছ কেন? তোমার মুখ বিষন্ন কেন? 7 তুমি যদি ভাল কাজ কর, তখন আমি তোমায় গ্রহণ করব| কিন্তু যদি অন্যায় কাজ করো সে পাপ থাকবে তোমার জীবনে| তোমার পাপ তোমাকে আযত্তে রাখতে চায়, কিন্তু তোমাকেই সেই পাপকে আযত্তে রাখতে হবে|” 8 কয়িন তার ভাই হেবলকে বলল, “চলো, মাঠে যাওয়া যাক|” তখন কয়িন আর হেবল বাইরে মাঠে গেল| তখন কয়িন তার ভাই হেবলের উপর ঝাঁপিযে পড়ে তাকে হত্যা করল| 9 পরে প্রভু কয়িনকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার ভাই হেবল কোথায়?”কয়িন বলল, “আমি জানি না| ভাইয়ের উপর নজরদারি করা কি আমার কাজ?” 10 তখন প্রভু বললেন, “তুমি কি করেছ? তোমার ভাইকে তুমি হত্যা করেছ? তার রক্ত মাটির নীচে থেকে আমার উদ্দেশ্যে চিত্কার করছে| 11 তুমি তোমার ভাইকে হত্যা করেছ এবং তোমার হাত থেকে তার রক্ত নেওয়ার জন্যে পৃথিবী বিদীর্ণ হয়েছে| তাই এখন, আমি এই ভূমিকে অভিশাপ দেব| 12 অতীতে, তুমি গাছপালা লাগিয়েছ এবং তোমার গাছপালার ভালই বাড়বৃদ্ধি হয়েছে| কিন্তু এখন তুমি গাছপালা লাগাবে এবং মাটি তোমার গাছপালা বাড়তে আর সাহায্য করবে না| এই পৃথিবীতে তোমার কোনও বাড়ী থাকবে না, তুমি এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ঘুরে ঘুরে বেড়াবে|” 13 তখন কয়িন বলল, “এই শাস্তি আমার পক্ষে খুব বেশী! 14 দেখ, তুমি আমায় নির্বাসনে য়েতে বাধ্য করছ| আমি তোমার কাছেও আসতে পারব না, তোমার সঙ্গে আর আমার দেখাও হবে না| আমার কোনও ঘরবাড়ী থাকবে না| আমি পৃথিবী জুড়ে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হব এবং আমায় য়ে দেখবে সেই হত্যা করবে|” 15 তখন প্রভু কয়িনকে বললেন, “না, আমি তা ঘটতে দেব না| তোমায় যদি কেউ হত্যা করে তাহলে তাকে আরও বেশী শাস্তি দেব|” তখন প্রভু কয়িনের গায়ে একটা চিহ্ন দিলেন যাতে কেউ তাকে হত্যা না করে| 16 কয়িন প্রভুর কাছ থেকে চলে এল এবং এদনের পূর্বদিকে নোদ নামক এক দেশে বাস করতে লাগল| 17 কয়িনের সঙ্গে য়ৌন সম্পর্কের ফলে তার স্ত্রী একটি পুত্রের জন্ম দিল| তার নাম রাখা হল হনোক| কয়িন একটি নগর পত্তন করে তার নামও পুত্রের নামে রাখল হনোক| 18 হনোকের ইরদ নামে একটি পুত্র হল| ইরদের পুত্রের নাম মহূয়ায়েল| আর তার পুত্রের নাম মথুশায়েল| আর তার পুত্রের নাম লেমক| 19 লেমকের দুজন স্ত্রী ছিল| একজনের নাম আদা, আর একজনের নাম সিল্লা| 20 আদার গর্ভে জন্ম হল যাবলের| যারা তাঁবুতে বাস করে এবং পশুপালন করে সেই জাতির জনক হল যুবল| 21 আদার অন্য পুত্রের নাম য়ুবল| তার সন্তানসন্ততি থেকে য়ে জাতির সৃষ্টি হল তারা বীণা ও বাঁশি বাজায| 22 লেমকের অন্য স্ত্রী সিল্লা এক পুত্রের ও এক কন্যার জন্ম দিল| পুত্রের নাম তুবল কয়িন আর কন্যার নাম নয়মা| তুবল কয়িনের সন্তানসন্ততি পিতল ও লোহার কাজে দক্ষ| 23 লেমক তার দুই স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলল,“আদা আর সিল্লা, এদিকে কান দাও| লেমকের স্ত্রীরা, আমার কথা শোনো! একটা লোক আমায় মেরেছিল, তাই তাকে আমি হত্যা করেছি| একজন তরুণ আমায় আঘাত করেছিল, তার বদলে আমি তাকে হত্যা করেছি| 24 কয়িনকে হত্যার শাস্তি ছিল সাত গুণ, লেমককে হত্যার শাস্তি সাতাত্তর গুণ বেশী!” 25 আদমের সঙ্গে য়ৌন সম্পর্কের ফলে হবা আর একটি পুত্রের জন্ম দিল| তারা তার নাম রাখল শেথ| হবা বলল, “ঈশ্বর আমায় আর একটি পুত্র দিয়েছেন| কয়িন হেবলকে মেরে ফেলল, কিন্তু আমার এখন শেথ আছে|” 26 শেথেরও একটি পুত্র হল| সে তার নাম রাখল ইনোশ| সেই সময় লোকেরা প্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে শুরু করল|”

আদিপুস্তক 5

1 এই বই হল আদম পরিবারের বিষয নিয়ে| ঈশ্বর নিজের ছাঁচে মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন| 2 ঈশ্বর মানুষকে পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করেছিলেন| এবং সেই সৃষ্টির দিনে ঈশ্বর আশীর্বাদ করে তাদের নাম দিলেন “আদম|” 3 আদমের যখন 130 বছর বয়স তখন তার আর একটি পুত্র হল| পুত্রটিকে দেখতে হুবহু আদমের মতো| আদম তার নাম রাখলেন শেথ| 4 শেথের জন্মের পর 800 বছর আদম বেঁচ্ছেিলেন| এই সময়ের মধ্যে আদমের আরও পুত্রকন্যা হল| 5 সুতরাং আদম মোট 930 বছর বেঁচ্ছেিলেন| তারপর তাঁর মৃত্যু হল| 6 শেথের যখন 105 বছর বয়স তখন তাঁর একটি পুত্র হয়| তার নাম রাখা হয় ইনোশ| 7 ইনোশের জন্মের পরে শেথ 807 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে শেথের আরও পুত্রকন্যা হয়| 8 সুতরাং শেথ বেঁচ্ছেিলেন মোট 912 বছর| তারপর তাঁর মৃত্যু হয়| 9 ইনোশের যখন 90 বছর বয়স তখন তাঁর কৈনন নামে একটি পুত্র হয়| 10 কৈননের জন্মের পর ইনোশ 815 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়| 11 সুতরাং ইনোশ মোট 905 বছর বেঁচ্ছেিলেন| তারপর তাঁর মৃত্যু হয়| 12 কৈননের 70 বছর বয়সে তাঁর মহললেল নামে একটি পুত্র হয়| 13 মহললেলের জন্মের পর কৈনন 840 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে কৈননের আরও পুত্রকন্যা হয়| 14 সুতরাং কৈনন মোট 910 বছর বেঁচ্ছেিলেন| তারপর তাঁর মৃত্যু হয়| 15 মহললেলের যখন 65 বছর তখন তাঁর য়েরদ নামে একটি পুত্র হয়| 16 য়েরদের জন্মের পর মহললেল 830 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়| 17 সুতরাং মহললেল মোট 895 বছর বেঁচ্ছেিলেন| তারপর তাঁর মৃত্যু হয়| 18 য়েরদের যখন 162 বছর বয়স তখন তাঁর হনোক নামে একটি পুত্র হয়| 19 হনোকের জন্মের পর য়েরদ 800 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়. 20 সুতরাং য়েরদ মোট 962 বছর বেঁচ্ছেিলেন| তারপর তাঁর মৃত্যু হয়| 21 হনোকের যখন 65 বছর বয়স তখন মথূশেলহ নামে তাঁর একটি পুত্র হয়| 22 মথূশেলহর জন্মের পর হনোক আরও 300 বছর ঈশ্বরের সঙ্গে পদচারণা করেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়| 23 সুতরাং হনোক মোট 365 বছর বেঁচ্ছেিলেন| 24 একদিন হনোক ঈশ্বরের সঙ্গে পদচারণা করতে করতে অদৃশ্য হয়ে গেলেন| ঈশ্বর তাঁকে নিয়ে নিলেন| 25 মথূশেলহর যখন 187 বছর বয়স তখন তাঁর লেমক নামে একটি পুত্র হয়| 26 লেমকের জন্মের পর মথূশেলহ 782 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়| 27 সুতরাং মথূশেলহ মোট 969 বছর বেঁচ্ছেিলেন| তারপর তাঁর মৃত্যু হয়| 28 লেমকের যখন 182 বছর বয়স তখন তাঁর একটি পুত্র হল| 29 লেমক পুত্রের নাম রাখলেন নোহ| তিনি বললেন, “ঈশ্বর ভূমিকে অভিশাপ দিয়েছেন বলে কৃষকরূপে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়| কিন্তু নোহ আমাদের বিশ্রাম দেবে|” 30 নোহের জন্মের পর লেমক 595 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়| 31 সুতরাং লেমক মোট 777 বছর বেঁচ্ছেিলেন| তারপর তাঁর মৃত্যু হয়| 32 নোহর 500 বছর বয়সে শেম, হাম এবং য়েফত্‌ নামে তিনটি পুত্র হয়|

আদিপুস্তক 6

1 পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা ক্রমশঃ বেড়ে চলল| অনেকের অনেক কন্যা হল| 2 ঈশ্বরের পুত্রেরা দেখল য়ে তারা সুন্দরী| সুতরাং ঈশ্বরের পুত্রেরা যার যাকে পছন্দ সে তাকে বিয়ে করল|এই নারীরা সন্তানের জন্ম দিল| সেই সময় এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীতে নেফিলিম জাতীয মানুষরা বাস করত| প্রাচীনকাল থেকেই নেফিলিমরা মহাবীররূপে বিখ্যাত ছিল|তখন প্রভু বললেন, “মানুষ নেহাতই রক্তমাংসের জীব মাত্র| ওদের দ্বারা আমি আমার আত্মাকে চিরকাল পীড়িত হতে দেব না| আমি ওদের 120 বছর করে আযু দেব|” 3 4 5 প্রভু দেখলেন য়ে পৃথিবীতে লোকে শুধু মন্দ কাজই করছে| তিনি দেখলেন য়ে লোক সারাক্ষণ মন্দ জিনিসের কথাই চিন্তা করছে| 6 পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করার জন্যে প্রভুর অনুশোচনা হল এবং তাঁর হৃদয় বেদনায় পূর্ণ হল| 7 তাই তিনি বললেন, “পৃথিবীতে যত মানুষ সৃষ্টি করেছি সবাইকে আমি ধ্বংস করব| প্রত্যেক মানুষ, প্রত্যেক জানোয়ার এবং পৃথিবীর উপরে যা কিছু চলে ফিরে বেড়ায সব কিছুকে আমি ধ্বংস করব| বাতাসে যত পাখী ওড়ে সেগুলোকেও আমি ধ্বংস করব| কেন? কারণ এই সবকিছু সৃষ্টি করেছি বলে আমি দুঃখিত|” 8 পৃথিবীতে শুধু একজন মানুষের প্রতি প্রভু সন্তুষ্ট ছিলেন - সে হল নোহ| 9 এই হল নোহের পরিবারের বৃতান্ত| নোহ তাঁর প্রজন্মের একজন ভাল ও সত্‌ মানুষ ছিলেন এবং তিনি সর্বদা ঈশ্বরকে অনুসরণ করতেন| 10 নোহের তিন পুত্র ছিল: শেম, হাম আর য়েফত্‌| 11 ঈশ্বর নীচে পৃথিবীর দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং দেখলেন য়ে মানুষ তা ধ্বংস করেছে| সর্বত্র হিংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ| মানুষ দুষ্ট এবং নিষ্ঠুর হয়ে গেছে এবং নিজেদের জীবন নষ্ট করেছে| 12 13 তাই ঈশ্বর নোহকে বললেন, “সমস্ত লোক ক্রোধ আর হিংসা দিয়ে পৃথিবী পরিপূর্ণ করেছে| তাই আমি সমস্ত জীবন্ত প্রাণীদের ধ্বংস করব| পৃথিবী থেকে সব কিছু মুছে ফেলব| 14 গোফর কাঠ দিয়ে একটা নৌকা বানাও| নৌকোর ভেতরে অনেকগুলি কক্ষ তৈরী করবে এবং কাঠ সংরক্ষণের জন্য বাইরে আলকাতরা লাগাবে| 15 “নৌকোটা 300 হাত লম্বা, 50 হাত চওড়া আর 30 হাত উঁচু করে তৈরী করবে| 16 ছাদের থেকে প্রায় 18 ইঞ্চি নীচে একটা জানালা তৈরী করবে| নৌকোর পাশের দিকে একটা দরজা তৈরী করবে| উপরের তলা, মাঝের তলা আর নীচের তলা - এইভাবে নৌকোর তিনটে তলা থাকবে| 17 “এবার যা বলছি, মন দিয়ে শোন| পৃথিবীতে আমি এক মহাপ্লাবন ঘটাবো| আকাশের নীচের যত জীবন্ত প্রাণী আছে, সব ধ্বংস করবো| পৃথিবীর সমস্ত কিছুর মৃত্যু হবে| 18 কিন্তু তোমার সঙ্গে আমার একটা বিশেষ চুক্তি হবে| তুমি, তোমার স্ত্রী, তোমার পুত্রেরা, তোমার পুত্রবধূরা - তোমরা সবাই ঐ নৌকোতে উঠবে| 19 আর পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর থেকে তুমি একটি করে পুরুষ আর একটি করে স্ত্রী বেছে নেবে| তুমি অবশ্যই তাদের নৌকোতে তুলে নেবে এবং তোমাদের সঙ্গে তাদেরও বাঁচিয়ে রাখবে| 20 সমস্ত রকম পাখীর এক জোড়া, সমস্ত রকম পশুর এক জোড়া এবং মাটিতে বুকে হেঁটে চলে সেরকম সব প্রাণীর এক-এক জোড়া খুঁজে বের করো| পৃথিবীতে যত রকম জীবজন্তু আছে সে সব গুলোর এক জোড়া স্ত্রী পুরুষ জোগাড় করে তোমার নৌকোতে তাদের বাঁচিয়ে রাখবে| 21 তোমাদের জন্য আর অন্যান্য পশুপাখীর জন্য সমস্ত রকম খাবারও অবশ্যই জোগাড় করে রাখবে|” 22 এই সমস্ত কিছুই নোহ করলেন| ঈশ্বর য়েমন আজ্ঞা দিয়েছিলেন, নোহ সবকিছু ঠিক সেইভাবেই পালন করলেন|

আদিপুস্তক 7

1 তখন প্রভু নোহকে বললেন, “তুমি য়ে একজন সত্‌ মানুষ তা আমি লক্ষ্য করেছি| এমনকি এই য়ুগের দুষ্ট লোকদের মধ্যেও তুমি নিজেকে সত্‌ রেখেছ| সুতরাং তোমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে তুমি গিয়ে নৌকোতে ওঠো| 2 পৃথিবীর সমস্ত শুচি পশুপাখীরসাত সাত জোড়া এবং অন্যান্য প্রত্যেক পশুর এক এক জোড়া নাও| এই সমস্ত পশুপাখীদের তুমি ঐ নৌকোতে তোমার সঙ্গে নেবে| 3 সমস্ত রকম পাখীর সাতটি করে জোড়া নেবে| এর ফলে পৃথিবীর অন্যান্য সমস্ত পশুপাখী আমি ধ্বংস করে ফেলার পরেও এইসব পশুপাখী সম্পূর্ণভাবে বংশলোপের হাত থেকে রক্ষা পাবে| 4 এখন থেকে ঠিক সাতদিন পরে আমি পৃথিবীতে প্রবল বর্ষণ ঘটাবো| 40 দিন 40 রাত ধরে বৃষ্টি হবে| আমি পৃথিবীর সমস্ত জীবন্ত প্রাণী ধ্বংস করে দেব| যা কিছু আমি সৃষ্টি করেছি, সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে|” 5 প্রভু যা যা করতে বললেন, নোহ সে সমস্তই করলেন| 6 যখন সেই বর্ষন শুরু হল তখন নোহের বয়স 600 বছর| 7 নোহ এবং তাঁর পরিবার মহাপ্লাবন থেকে পরিত্রাণের জন্যে নৌকোতে প্রবেশ করলেন| নোহের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, তাঁর পুত্রেরা ও পুত্রবধূরা সবাই নৌকোতে ছিলেন| 8 সমস্ত শুচি ও অশুচি পশুপাখী এবং মাটিতে যারা বুকে হেঁটে চলে সেইসব প্রাণী 9 নোহের সঙ্গে নৌকোতে গিয়ে উঠল| ঈশ্বর য়েমনটি আদেশ করেছিলেন ঠিক তেমনভাবে স্ত্রী ও পুরুষে জুটি বেঁধে সমস্ত পশুপাখী নৌকোতে চড়লে, 10 সাত দিন পরে শুরু হল প্লাবন| পৃথিবীতে শুরু হলো বর্ষা| 11 নোহর 600তম বছরের দ্বিতীয় মাসের 17তম দিনে সমস্ত ভূগর্ভস্থ প্রস্রবণ ফেটে বেরিয়ে এল, মাটি থেকে জল বইতে শুরু করল| ঐদিন মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হল, বাঁধ ভেঙে গেল এবং সমস্ত পৃথিবী জলপ্লাবিত হলো| সেই একই দিনে প্রচণ্ড বেগে বৃষ্টিপাত শুরু হল য়েন আকাশের সমস্ত জানালা খুলে গেল| 40 দিন 40 রাত ধরে সমানে বৃষ্টি হলো| সেই দিনটিতেই নোহ ও তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের তিন পুত্র শেম, হাম, য়েফত্‌ আর তাদের তিন স্ত্রী সকলেই নৌকোয প্রবেশ করল| 12 13 14 ঐ সব মানুষ আর পৃথিবীর যাবতীয় পশুপাখী নৌকোর মধ্যে আশ্রয় নিলো| সব রকমের গৃহপালিত জন্তু এবং পৃথিবীতে যতরকমের পশুপাখী চলে ফিরে আর উড়ে বেড়ায সবাই নৌকোর ভেতরে নিরাপদে থাকলো| 15 সমস্ত জন্তু জানোয়ার, পাখী ইত্যাদি নোহর সঙ্গে নৌকোতে জোড়ায় জোড়ায় থাকল| 16 ঈশ্বর য়েমন আদেশ দিয়েছিলেন, নোহ সেই অনুসারে পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণীর এক এক জোড়া নৌকোতে তুললে, প্রভু বাইরে থেকে নৌকোর দরজা বন্ধ করে দিলেন| 17 পৃথিবীতে 40 দিন ধরে বন্যা চলল| জলের মাত্রা ক্রমশঃ উঁচু হতে লাগল আর সেই নৌকো মাটি ছেড়ে জলের উপরে ভাসতে থাকলো| 18 জল বাড়তেই থাকল আর নৌকো মাটি ছেড়ে অনেক উঁচুতে ভাসতে লাগল| 19 জল এত বাড়লো য়ে সবচেয়ে উঁচু পর্বতগুলো পর্য্ন্ত ডুবে গেল| 20 পর্বতগুলোর মাথা ছাপিযে জল বাড়তে লাগল| সবচেয়ে উঁচু পর্বতের উপরেও 20 ফুটের বেশী জল দাঁড়াল| 21 পৃথিবীর সমস্ত জীব মারা গেল| প্রতিটি পুরুষ ও স্ত্রী এবং পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার মারা পড়ল| সমস্ত বন্য প্রাণী, সরীসৃপ ধ্বংস হয়ে গেল| স্থলচর যত প্রাণী শ্বাস প্রশ্বাস নেয় তারাও মারা গেল| 22 23 এইভাবে ঈশ্বর পৃথিবীকে একেবারে পরিষ্কার করে ফেললেন| পৃথিবীর সমস্ত জীবন্ত অস্তিত্ব ধ্বংস করে ফেললেন| সমস্ত মানুষ, সমস্ত জন্তু জানোয়ার, বুকে হাঁটা সমস্ত প্রাণী এবং সমস্ত পাখী এই সব কিছুই পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল| নোহ আর নোহের পরিবার পরিজন এবং নৌকোতে আশ্রয় পাওয়া পশুপাখী - কেবলমাত্র এইসব প্রাণের অবশেষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকলো| 24 একটানা 150 দিন পৃথিবী বিপুল জলরাশিতে ডুবে থাকলো|

আদিপুস্তক 8

1 কিন্তু ঈশ্বর নোহর কথা ভুলে যান নি| নোহ এবং নোহের নৌকোয আশ্রয় পাওয়া সব জীবজন্তুর কথাই ঈশ্বরের মনে ছিল| পৃথিবীর উপর দিয়ে তিনি এক বাতাস বইয়ে দিলেন| এবং সমস্ত জল সরে য়েতে শুরু করল| 2 আকাশ থেকে অবিশ্রান্ত বর্ষন বন্ধ হল| ভূগর্ভস্ত প্রস্রবণগুলি থেকে জল নির্গত হওয়া বন্ধ হল| 3 পৃথিবীর উপর থেকে জলরাশি ক্রমশঃ নেমে য়েতে লাগল| 150 দিন পরে জল এতটাই নেমে গেল য়ে নৌকোটা আবার মাটি স্পর্শ করলো| নৌকা গিয়ে ঠেকল অরারটের একটা পর্বতে| সেটা ছিল সপ্তম মাসের 17 তম দিন| 4 5 জল ক্রমাগত নেমে য়েতে লাগলো এবং দশম মাসের প্রথম দিনে পর্বতের মাথাগুলো জলের উপরে জেগে উঠলো| 6 আরও 40 দিন পরে নোহ নিজের তৈরী নৌকোর জানালাটা খুললেন| 7 তারপর তিনি নৌকো থেকে একটা দাঁড়কাক উড়িয়ে দিলেন| এবং যতদিন না জল নেমে গিয়ে শুকনো ডাঙা দেখা দিল ততদিন সেই দাঁড়কাকটা নৌকো থেকে উড়ে গিয়ে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় উড়ে বেড়াতে লাগল| 8 নোহ একটা পায়রাও উড়িয়ে দিলেন| পায়রাটা শুকনো ডাঙা খুঁজে পায় কিনা তা নোহ জানতে চাইছিলেন| তিনি জানতে চাইছিলেন য়ে পৃথিবী এখনও জলে ডুবে আছে কি না| 9 পৃথিবী তখনও জলে ঢাকা, তাই পায়রাটা বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে এল নৌকোতে| নোহ হাত বাড়িযে পায়রাটাকে ধরে নৌকোর ভিতরে টেনে নিলেন| 10 সাত দিন পরে নোহ আবার পায়রাটা উড়িয়ে দিলেন| 11 এবং সেদিন বিকেলে পায়রাটা জলপাইয়ের একটা কচি পাতা ঠোঁটে নিয়ে ফিরে এল| পৃথিবীতে য়ে আবার ডাঙা জেগে উঠতে শুরু করেছে ঐ কচি পাতাটি তারই চিহ্ন| 12 সাত দিন পরে নোহ আবার পায়রাটা উড়িয়ে দিলেন| কিন্তু এবার পায়রাটা আর ফিরে এল না| 13 তারপর নোহ নৌকোর দরজাটা খুললেন| নোহ তাকিযে শুকনো ডাঙা দেখতে পেলেন| সেটা ছিল বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিন| নোহর বয়স তখন 601 বছর| 14 দ্বিতীয় মাসের 27তম দিনের মধ্যে ডাঙা সম্পূর্ণ শুকনো হয়ে গেল| 15 ঈশ্বর তখন নোহকে বললেন, 16 “নৌকো থেকে নেমে এস| তুমি, তোমার স্ত্রী, তোমার পুত্ররা আর তাদের বধূরা নৌকো থেকে এবার বাইরে যাও| 17 তোমাদের সঙ্গে নৌকোর সমস্ত পশুপাখী নিয়ে বাইরে যাও| সমস্ত পাখী, সমস্ত জন্তু জানোয়ার এবং বুকে হেঁটে চলে এরকম সমস্ত প্রাণী নিয়ে বাইরে এসো| ঐসব পশুপাখী আরও অনেক পশুপাখীর জন্ম দেবে আর সে সবে আবার পৃথিবী ভরে যাবে|” 18 অতএব নোহ, তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধূদের নিয়ে নৌকো থেকে মাটিতে নামলেন| 19 সমস্ত জন্তু জানোয়ার, সমস্ত প্রাণী যা বুকে হাঁটে এবং সমস্ত পাখী নৌকো ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এল| নৌকো ছেড়ে এল জোড়ায জোড়ায সমস্ত পশুপাখী| 20 তখন নোহ প্রভুর জন্যে একটা বেদী তৈরী করলেন| নোহ কয়েকটি শুচি পশু ও কয়েকটি শুচি পাখী ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করে সেই বেদীতে হোম করলেন| 21 প্রভু হোমের গন্ধ আঘ্রাণ করে প্রীত হলেন| আপন মনে প্রভু বললেন, “মানুষকে শাস্তি দেওয়ার জন্যে আমি আর কখনও মৃত্তিকাকে অভিশাপ দেব না| কারণ বাল্যকাল থেকে মানুষের স্বভাব মন্দ| সুতরাং এইমাত্র আমি য়েমনটি করেছিলাম আর কখনও সেভাবে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীদের ধ্বংস করব না| 22 যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন শস্যের চারা রোপণের আর ফসল কাটার নির্দিষ্ট সময় থাকবে| ততদিন ঠাণ্ডা, গরম, শীতকাল আর গ্রীষ্মকাল এবং দিন, রাত হয়ে চলবে|”

আদিপুস্তক 9

1 ঈশ্বর নোহ আর তাঁর পুত্রদের আশীর্বাদ করলেন| ঈশ্বর তাদের বললেন, “তোমাদের বহু সন্তান হোক| তোমাদের উত্তরপুরুষরা পৃথিবী পরিপূর্ণ করুক| 2 পৃথিবীর সমস্ত জন্তু জানোয়ার, আকাশের সমস্ত পাখী, যতরকমের সরীসৃপ জাতীয জীব যারা মাটির উপরে বুকে হেঁটে চলে এবং জলের সমস্ত মাছ প্রত্যেকে তোমাদের ভয় করবে| সমস্ত প্রাণীগণই তোমাদের শাসনে থাকবে| 3 অতীতে তোমাদের খাদ্য হিসেবে আমি শুধু সবুজ উদ্ভিদ তোমাদের দিয়েছিলাম| এখন থেকে সমস্ত জানোয়ারই তোমাদের খাদ্য হবে| পৃথিবীর সমস্ত কিছুই আমি তোমাদের দিচ্ছি| সব কিছুই তোমাদের| 4 য়ে মাংসের মধ্যে সেই প্রাণীর প্রাণ (রক্ত) আছে সেই মাংস কখনও খাবে না| 5 আমি তোমাদের জীবনের জন্য তোমাদের রক্ত দাবি করব| অর্থাত্‌ যদি কোনও জানোয়ার কোনও মানুষকে হত্যা করে তাহলে আমি তার প্রাণ দাবী করব এবং যদি কোন মানুষ অন্য কোনও মানুষের প্রাণ নেয় আমি তারও প্রাণ দাবী করব| 6 “ঈশ্বর মানুষকে আপন ছাঁচে তৈরী করেছেন| তাই য়ে মানুষ অপর মানুষকে হত্যা করে তার অবশ্যই মানুষের হাতে মৃত্যু হবে| 7 “নোহ, তুমি ও তোমার পুত্রদের অনেক সন্তানসন্ততি হোক| আপন পরিজনদের দিয়ে পৃথিবী পরিপূর্ণ করো|” 8 তারপর ঈশ্বর নোহ ও তাঁর পুত্রদের বললেন, 9 “আমি এখন তোমাকে এবং তোমার লোকদের, যারা তোমার পরে বর্ত্তমান থাকবে তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি| 10 নৌকোর মধ্যে থেকে তোমার সঙ্গে য়েসব পাখী, য়েসব গৃহপালিত জন্তু এবং অন্যান্য য়েসব জানোয়ার নেমেছে তাদের সবাইকে আমার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি| পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর কাছে আমার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি| 11 তোমাদের কাছে আমার প্রতিশ্রুতি হল এই: পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ বন্যা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল| কিন্তু এমন ঘটনা আর কখনও হবে না| কোনও বন্যা আর কখনও পৃথিবী থেকে সমস্ত প্রাণ নিশ্চিহ্ন করবে না|” 12 ঈশ্বর আরও বললেন, “আর আমি য়ে এই প্রতিশ্রুতি দিলাম এর প্রমাণস্বরূপ আমি তোমাদের একটা জিনিস দেব| এই প্রমাণ থেকে সকলে জানবে য়ে আমি তোমার সঙ্গে এবং পৃথিবীর সমস্ত জীবন্ত জিনিসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ| এই চুক্তি চিরকালীন| 13 প্রমাণটা এই য়ে, আকাশে আমি মেঘে মেঘে সাতরঙের এক রঙধনু বানিয়েছি| ঐ রঙধনুই হল আমার আর পৃথিবীর মধ্যে চুক্তির চিহ্ন| 14 আমি যখন পৃথিবীর উপরে মেঘমালা ছড়িয়ে দেব, তখন তোমরা মেঘে ঐ রঙধনু দেখতে পাবে| 15 আর আমি যখন ঐ রঙধনু দেখতে পাবো, আমার তখন তোমার ও পৃথিবীর যাবতীয় জীবন্ত জিনিসের সঙ্গে চুক্তির কথা মনে পড়বে| এই চুক্তির মর্ম হল য়ে পৃথিবীতে আর কখনও সর্ব বিধ্বংসী এমন বন্যা হবে না| 16 আমি যখন মেঘের মধ্যে ঐ রঙধনু দেখবো তখন চিরকালের জন্য সম্পন্ন ঐ চুক্তির কথা আমার মনে পড়ে যাবে| আমার আর পৃথিবীর প্রত্যেক প্রাণীর মধ্যে ঐ চুক্তির কথা আমি মনে রাখব|” 17 তারপর প্রভু নোহকে বললেন, “পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর সঙ্গে আমি য়ে একটা চুক্তি করেছি ঐ রঙধনুই তার প্রমাণ|” 18 নোহর সঙ্গে তাঁর পুত্রেরাও নৌকো থেকে বেরিয়ে এলো| তাদের নাম শেম, হাম আর য়েফত্‌| (হামই কনানের পিতা|) 19 ঐ তিনজন হল নোহর পুত্র| ঐ তিন পুত্র হতেই পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এসেছে| 20 মাটিতে নেমে নোহ কৃষিকাজ শুরু করলেন| একটা জমিতে তিনি দ্রাক্ষা চাষ করলেন| 21 সেই দ্রাক্ষা থেকে নোহ দ্রাক্ষারস বানালেন, তারপর সেই দ্রাক্ষারস পান করে নেশায চুর হয়ে তাঁবুর ভিতরে শুয়ে পড়লেন| নোহর গায়ে আবরণ থাকল না| 22 কনানের পিতা হাম সেই উলঙ্গ অবস্থায় নিজের পিতাকে দেখে ফেললো| তাঁবুর বাইরে গিয়ে সে কথা ভাইদের বলল| 23 তখন শেম আর য়েফত্‌ এক খণ্ড বস্ত্র নিয়ে নিজেদের পিঠের উপর ছড়িয়ে নিলো| তারপর পিছন দিকে হেঁটে হেঁটে তাঁবুর ভিতরে ঢুকে ঐ বস্ত্রখণ্ড দিয়ে পিতাকে ঢেকে দিল| এইভাবে, তাদের মুখ বিপরীত দিকে ছিল বলে তাদের পিতার নগ্নতা তারা দেখেনি| 24 দ্রাক্ষারসের প্রভাবে নোহ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন| তিনি যখন ঘুম থেকে উঠলেন তখন জানতে পারলেন তাঁর তরুণ পুত্র হাম তাঁর প্রতি কি করেছে| 25 তখন নোহ বললেন,“অভিশাপ কনানের উপরে পড়ুক| তাকে চিরকাল তার ভাইদের দাস হয়ে থাকতে হবে|” 26 নোহ আরও বললেন,“শেমের প্রভু ঈশ্বরের প্রশংসা কর! কনান য়েন শেমের দাস হয়| 27 ঈশ্বর য়েফত্‌কে আরও জমি দিন, ঈশ্বর শেমের তাঁবুতে অবস্থান করুন এবং কনান তাদের দাস হউক|” 28 বন্যার পরে নোহ 350 বছর বেঁচ্ছেিলেন| 29 নোহ বেঁচ্ছেিলেন মোট 950 বছর; তারপর তাঁর মৃত্যু হয়|

আদিপুস্তক 10

1 শেম, হাম ও য়েফত্‌ এই তিনজন ছিল নোহর পুত্র| বন্যার পরে এই তিনজনের আরও বহু সন্তান সন্ততির জন্ম হল| শেম, হাম ও য়েফতের উত্তরপুরুষরা: 2 য়েফতের পুত্রগণ হল: গোমর, মাগোগ, মাদয়, য়বন, তূবল, মেশক এবং তীরস| 3 গোমরের পুত্রগণ হল: অস্কিনস, রীফত্‌ এবং তোগর্ম| 4 যবনের পুত্রগণ হল: ইলীশা, তর্শীশ, কিত্তীম এবং দোদানীম| 5 ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে য়ে সকল মানুষের বাস তারা সকলেই য়েফতের সন্তানসন্ততি| প্রত্যেক পুত্রের নিজস্ব ভূমি ছিল| সমস্ত পরিবারই বৃদ্ধি পেতে পেতে একটি জাতিতে পরিণত হয়| প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ভাষা ছিল| 6 হামের পুত্রগণ হল: কূশ, মিশর, পূট এবং কনান| 7 কূশের পুত্রগণ হল: সবা, হবীলা, সপ্তা, রযমা এবং সপ্তক|রযমার পুত্রগণ হল: শিবা এবং দদান| 8 নিম্রোদ নামেও কুশের এক পুত্র ছিল| কালক্রমে নিম্রোদ দারুন শক্তিমান পুরুষে পরিণত হয়| 9 প্রভুর সম্মুখে নিম্রোদ একজন বড় শিকারী হয়ে উঠল| সেজন্য তার সঙ্গে অন্যান্য লোকদের তুলনা করে সকলে বলতো, “ঐ মানুষটি নিম্রোদের মত, এমন কি প্রভুর সামনেও দারুণ শিকারী|” 10 নিম্রোদের রাজত্ব বাবিল থেকে শিনিযর দেশে এরক অক্কদ এবং কল্নী পর্য্ন্ত বিস্তৃত হয়েছিল| 11 নিম্রোদ অশূরেও গিয়েছিল| নিম্রোদ অশূর দেশে নীনবী, রহোবোত্‌-পুরী, কেলহ এবং 12 রেষণ (নীনবী এবং কেলহের মধ্যবর্তী ভুভাগে রেষণ মহানগরের পত্তন হয়|) 13 মিশর ছিল লূদীয়, অনামীয়, লহাবীয়, নপ্তুহীয়, 14 পথ্রোষীয়, কস্লূহীয় আর কপ্তোরীয় অঞ্চলগুলির অধিবাসীদের জনক| (পলেষ্টীয়রা কস্লূহীয় দেশ থেকে এসেছিল|) 15 কনান ছিল সীদোনের পিতা| সীদোন কনানের প্রথম সন্তান| কনান হিত্তীয়দের পূর্বপুরুষ ‘হেতেরও’ পিতা ছিলেন| হেত্‌ থেকে হিত্তীয়দের উদ্ভব| 16 কনান ছিলেন যিবুষীয়, ইমোরীয় জনগোষ্ঠী, গির্গাশীয়দের পিতা| 17 হিব্বীয় জনগোষ্ঠী, অর্কীয় জনগোষ্ঠী, সীনীয় জনগোষ্ঠী, 18 অর্বদীয় জনগোষ্ঠী, সমারীয় জনগোষ্ঠী এবং হমাতীয় জনগোষ্ঠী কনান থেকে উদ্ভুত হয়| পরে কনানীয় গোষ্ঠীগুলি পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ল| 19 কনানীয়দের দেশ উত্তরে সীদোন থেকে দক্ষিণে গরার পর্য্ন্ত, পশ্চিমে ঘসা থেকে পূর্বে সদোম ও ঘমোরা পর্য্ন্ত এবং অদ্মা ও সবোযীর থেকে লাশা পর্য্ন্ত বিস্তৃত ছিল| 20 এই সমস্ত মানুষই ছিল হামের উত্তরপুরুষ| এইসব পরিবারগুলির নিজস্ব ভাষা ও নিজস্ব দেশ ছিল| তারা ক্রমে ক্রমে পৃথক পৃথক জাতি হয়ে উঠল| 21 য়েফতের বড় ভাই ছিল শেম| শেমের একজন উত্তরপুরুষ হল এবর এবং এবর সমস্ত হিব্রু জনগোষ্ঠীর জনক রূপে পরিচিত| 22 শেমের পুত্ররা হল: এলম, অশূর, অর্ফক্ষদ, লূদ এবং অরাম| 23 অরামের পুত্রেরা হল: উষ, হূল, গোখর এবং মশ| 24 অর্ফক্ষদের পুত্র শেলহ, শেলহের পুত্র এবর| 25 এবরের দুই পুত্র| এক পুত্রের নাম পেলগ| তার আমলে পৃথিবী বিভক্ত হয় বলে তার ঐ নাম হয়| অন্য পুত্রের নাম য়ক্তন| 26 য়ক্তনের পুত্রেরা হল: অল্মোদদ, শেলফ, হত্‌সমবিত্‌, য়েরহ, 27 হদোরাম, উবল, দিক্ল, 28 ওবল, অবীমায়েল, শিবা, 29 ওফীর, হবীলা এবং য়োবব| এরা সবাই ছিল যক্তনের পুত্র| 30 পূর্ব দিকেমেষা এবং পার্বত্য দেশের মধ্যবর্তী ভুভাগে তারা বাস করত| মেষা ছিল সফার দেশের দিকে| 31 এরা সবাই ছিল শেমের পরিবারের অন্তর্গত| পরিবার, ভাষা, দেশ ও জাতি অনুসারেই তাদের সাজানো হয়েছে| 32 এই সবগুলোই নোহের পুত্রদের পরিবার| পরিবারগুলি তালিকা তাদের জাতি অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে| প্লাবনের পরে এই পরিবারগুলি থেকেই সারা পৃথিবীতে মনুষ্য সমাজের বিস্তার হয়েছে|

আদিপুস্তক 11

1 প্লাবনের পরে সমস্ত পৃথিবী এক ভাষাতে কথা বলত| সমস্ত মানুষ একই শব্দগুলি ব্যবহার করত| 2 সেই লোকেরা পূর্ব দিক থেকে ঘুরতে ঘুরতে শিনিয়র দেশে এসে সমতল ভূমি পেল| তারা সেখানে বসবাস শুরু করল| 3 তারা বলল, “আমরা মাটি দিয়ে ইঁট তৈরী করব, তারপর আরও শক্ত করার জন্যে ইঁটগুলো পোড়াব|” তখন মানুষ পাথরের বদলে ইঁট দিয়ে বাড়ী তৈরী করল| আর গাঁথনি শক্ত করার জন্যে সিমেন্টের বদলে আলকাতরা ব্যবহার করল| 4 তারা বলল, “এস আমরা আমাদের জন্যে এক বড় শহর বানাই| আর এমন একটি উঁচু স্তম্ভ বানাই যা আকাশ স্পর্শ করবে| তাহলে আমরা বিখ্যাত হব এবং এটা আমাদের এক সঙ্গে ধরে রাখবে| সারা পৃথিবীতে আমরা ছড়িয়ে থাকব না|” 5 সেই শহর আর সেই আকাশস্পর্শী স্তম্ভ দেখতে প্রভু পৃথিবীতে নেমে এলেন| মানুষ কি কি তৈরী করেছে সেসব প্রভু দেখলেন| 6 প্রভু বললেন, “সব মানুষ একই ভাষাতে কথা বলছে| আর দেখতে পাচ্ছি য়ে এসব কাজ করার জন্যে তারা ঐক্যবদ্ধ| তারা কি করতে পারে এ তো সবে তার শুরু| শীঘ্রই তারা যা চায় তাই করতে পারবে| 7 তাহলে এস আমরা নীচে গিয়ে ওদের এক ভাষাকে নানারকম ভাষা করে দিই| তাহলে তারা পরস্পরকে বুঝতে পারবে না|” 8 সুতরাং প্রভু সমস্ত লোকেদের সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিলেন| ফলে মানুষ আর সেই শহর তৈরির কাজ শেষ করতে পারল না| 9 এই সেই স্থান যেখানে প্রভু সমস্ত পৃথিবীর এক ভাষাকে অনেক ভাষাতে বিভ্রান্ত করলেন| তাই এই স্থানটির নাম হলো বাবিল| এইভাবে প্রভু তাঁদের সেই স্থান থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিলেন| 10 এটা হল শেমের পরিবারের কাহিনী| প্লাবনের দু বছর পরে, যখন শেমের বয়স 100 বছর তখন তার অর্ফক্ষদ নামে পুত্রটির জন্ম হয়| 11 তারপরে শেম 500 বছর বেঁচ্ছেিলেন| তাঁর আরও পুত্রকন্যা ছিল| 12 অর্ফক্ষদের 35 বছর বয়সে তাঁর পুত্র শেলহের জন্ম হয়| 13 শেলহের জন্মের পরে অর্ফক্ষদ 400 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়| 14 যখন শেলহের বয়স 30 বছর তখন এবর নামে তাঁর এক পুত্র হয়| 15 এবরের জন্মের পরে শেলহ 400 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়| 16 এবরের যখন 34 বছর বয়স তখ পেলগ নামে তাঁর এক পুত্র হয়| 17 পেলগের জন্মের পর এবর 430 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়| 18 পেলগের যখন 30 বছর বয়স তখন রিযু নামে তাঁর এক পুত্র হয়| 19 রিযুর জন্মের পরে পেলগ আরও 200 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়েছিল| 20 রিযুর যখন 32 বছর বয়স তখন সরূগ নামে তাঁর এক পুত্র হয়| 21 সরূগের জন্মের পরে রিযু 207 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়েছিল| 22 সরূগের যখন 30 বছর বয়স তখন নাহোর নামে তাঁর এক পুত্র হয়| 23 নাহোরের জন্মের পরে সরূগ 200 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়েছিল| 24 নাহোরের যখন 29 বছর বয়স তখন তেরহ নামে তাঁর এক পুত্র হয়| 25 তেরহের জন্মের পরে নাহোর আরও 119 বছর বেঁচ্ছেিলেন| ইতিমধ্যে তাঁর আরও পুত্রকন্যা হয়েছিল| 26 তেরহ 70 বছর বয়সে যথাক্রমে অব্রাম, নাহোর ও হারণ নামে পুত্রদের জন্ম দিলেন| 27 এটা হল তেরহের পরিবারের কাহিনী| তেরহ হল অব্রাম, নাহোর ও হারণের জনক| হারণ ছিল লোটের জনক| 28 কিন্তু তেরহের জীবদ্দশাতেই আপন জন্মস্থান কলদীয় দেশের উরে হারণের মৃত্যু হয়| 29 অব্রাম ও নাহোর দুজনেই বিবাহ করেন| অব্রামের স্ত্রীর নাম সারী আর নাহোরের স্ত্রীর নাম মিল্কা| মিল্কা ছিল হারণের কন্যা| হারণ ছিলেন মিল্কা ও য়িষ্কার জনক| 30 সারী বন্ধ্যা ছিল তাই তাঁর কোনও সন্তান হয় নি| 31 তেরহ তাঁর পরিবার নিয়ে কলদীয় দেশের উর পরিত্যাগ করলেন| তাঁদের পরিকল্পনা ছিল কনান দেশে যাওয়ার| তেরহ তাঁর পুত্র অব্রাম, তাঁর পৌত্র লোট এবং পুত্রবধূ সারীকে সঙ্গে নিলেন| তাঁরা হারণ নামে একটা শহরে পৌঁছে সেখানেই বাস করার সিদ্ধান্ত নিলেন| 32 তেরহ 205 বছর বেঁচ্ছেিলেন এবং হারণেই তাঁর মৃত্যু হয়|

আদিপুস্তক 12

1 প্রভু অব্রামকে বললেন, “তুমি এই দেশ, নিজের জাতিকুটুম্ব এবং পিতার পরিবার ত্যাগ করে, আমি য়ে দেশের পথ দেখাব সেই দেশে চল| 2 তোমা হতে আমি এক মহাজাতি উত্পন্ন করব| তোমাকে আশীষ দেব এবং তুমি বিখ্যাত হবে| অন্যকে আশীর্বাদ জানাতে লোকে তোমার নাম নেবে| 3 যারা তোমাকে আশীর্বাদ করবে, সেই লোকেদের আমি আশীর্বাদ করব এবং যারা তোমাকে অভিশাপ দেবে, সেই লোকেদের আমি অভিশাপ দেব| তোমার মাধ্যমে আমি পৃথিবীর সব লোকেদের আশীর্বাদ করব|” 4 অতঃপর অব্রাম প্রভুর আজ্ঞা পালন করলেন| তিনি হারণ ত্যাগ করলেন এবং লোট তাঁর সঙ্গে গেলেন| অব্রামের বয়স তখন 75 বছর| 5 অব্রাম সঙ্গে নিলেন স্ত্রী সারী, ভ্রাতুষ্পুত্র লোট এবং হারণে তাঁদের যা কিছু ছিল সে সবই নিয়ে গেলেন| হারণে অব্রামের য়েসব দাসদাসী ছিল তাদেরও তিনি সঙ্গে নিলেন| দলবল সমেত হারণ ত্যাগ করে অব্রাম কনান দেশে যাত্রা করলেন| 6 অব্রাম কনান দেশের মধ্য দিয়ে শিখিম শহরে গেলেন এবং তারপরে মোরিতে এক বিশাল গাছের কাছে গেলেন| সেই সময় কনানীযরা সেখানে বাস করতো| 7 প্রভু অব্রামের সকাশে আত্মপ্রকাশ করলেন| প্রভু বললেন, “তোমার উত্তরপুরুষদের আমি এই দেশ দেব|”প্রভু যেখানে অব্রামকে দর্শন দিয়েছিলেন সেখানে অব্রাম প্রভুর উদ্দেশ্যে উত্সর্গ সম্পাদনের জন্যে পাথরের একটা বেদী নির্মাণ করলেন| 8 তারপর অব্রাম সেই স্থান ত্যাগ করে গেলেন বৈথেলের পূর্বদিকে অবস্থিত পর্বতে এবং সেখানে তাঁর শিবির স্থাপন করলেন| বৈথেল নগর ছিল পশ্চিম দিকে আর অয় ছিল পূর্ব দিকে| সেখানে অব্রাম আর একটি বেদী নির্মাণ করলেন এবং প্রভুর উপাসনা করলেন| 9 অতঃপর তিনি পুনরায় তাঁর যাত্রা শুরু করলেন| তিনি নেগেভের দিকে অগ্রসর হলেন| 10 তখন দেশটা ছিল খুব শুষ্ক| অনাবৃষ্টির জন্যে কোনও শস্য উত্পাদন সম্ভব ছিল না| তাই অব্রাম বসবাসের জন্য আরও দক্ষিণে মিশরে গেলেন| 11 তিনি খেয়াল করলেন য়ে তাঁর স্ত্রী সারী কত সুন্দরী| তাই মিশরে প্রবেশের ঠিক আগে সারীকে বললেন, “আমি জানি তুমি সুন্দরী| 12 মিশরীয পুরুষরা তোমায় দেখবে| তারা বলবে, ‘এই মহিলা ঐ লোকটার স্ত্রী|’ তারা তখন তোমাকে পাওয়ার জন্যে আমায় মেরে ফেলবে| 13 তাই সবাইকে বলবে য়ে তুমি আমার বোন| তাহলে তারা আর আমায় হত্যা করবে না| তারা আমায় তোমার ভাই ভাববে, আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে| এইভাবে তুমি আমার প্রাণ বাঁচাবে|” 14 তখন অব্রাম মিশরে গেলেন| মিশরীয পুরুষরা দেখল য়ে সারী কত সুন্দরী| 15 মিশরের নেতারা কেউ কেউ তাঁকে দেখলেন| সারী য়ে কত সুন্দরী সে কথা তাঁরা বয়ং ফরৌণের কানে তুললেন| তাঁরা সারীকে ফরৌণের প্রাসাদে নিয়ে গেলেন| 16 অব্রামকে সারীর ভাই মনে করে ফরৌণ অব্রামের প্রতি সদয় ব্যবহার করলেন| অব্রামকে ফরৌণ মেষ, গবাদি পশু এবং বোঝা বইবার জন্য গাধা দিলেন| সেই সঙ্গে দাসদাসী এবং উটও পেলেন অব্রাম| 17 আর ফরৌণ অব্রামের স্ত্রীকে নিলেন| এই কারণে ফরৌণ এবং তাঁর প্রাসাদের সব লোকেদের প্রভু ভয়ঙ্কর অসুখ দিলেন| 18 তখন ফরৌণ অব্রামকে ডেকে বললেন, “তুমি আমার প্রতি খুব অন্যায় করেছ! সারী য়ে তোমার স্ত্রী সে কথা আমায় বলো নি কেন? 19 তুমি কেন বলেছিলে য়ে সারী তোমার বোন? তোমার বোন মনে করে আমি ওকে আমার স্ত্রী করব বলে এনেছিলাম| কিন্তু এখন তোমায় তোমার স্ত্রী ফেরত দিচ্ছি| ওকে নিয়ে তুমি চলে যাও!” 20 তারপর ফরৌণ তাঁর লোকজনদের আদেশ করলেন, “অব্রামকে মিশরের বাইরে নিয়ে যাও|” সুতরাং অব্রাম ও তার স্ত্রী সেই দেশ ত্যাগ করলেন| এবং সঙ্গে তাঁদের সমস্ত জিনিসপত্রও নিয়ে গেলেন|

আদিপুস্তক 13

1 অতঃপর অব্রাম মিশর ত্যাগ করলেন| তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে অব্রাম নেগেভের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হলেন| তাঁর সঙ্গে তখন লোটও ছিল| 2 এই সময় অব্রাম খুবই ধনী| তাঁর প্রচুর পশু এবং প্রচুর সোনা ও রূপা ছিল| 3 অব্রাম তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখলেন| নেগেভ ত্যাগ করে তিনি বৈথেলে ফিরে গেলেন| সেখান থেকে বৈথেল নগর আর অয় নগরের মধ্যবর্তী স্থানে গেলেন| এখানেই অব্রাম ও তাঁর পরিবার আগে একবার শিবির স্থাপন করেছিলেন| 4 এই স্থানটিতেই একটি বেদী নির্মাণ করেছিলেন| তাই অব্রাম এই স্থানটিতেই প্রভুর উপাসনা করলেন| 5 এই পর্য়টনের সময় অব্রামের সঙ্গে লোটও ছিল| লোটের অনেক পশু ও তাঁবু ছিল| 6 অব্রাম আর লোটের এত পশু ছিল য়ে তাদের উভয়কে খাদ্য য়োগাবার জন্য সেই দেশ অসমর্থ ছিল| 7 এই সময় কনানীয় এবং পরিষীয় জাতিরাও সে দেশে বাস করত| অব্রামের পশুপালকদের সঙ্গে লোটের পশুপালকদের বিবাদ হতে লাগল| 8 তখন অব্রাম লোটকে বলল, “তোমার আমার মধ্যে কোনও বিবাদ থাকতে পারে না| তোমার লোকেদের সঙ্গে আমার লোকেদের কোন বিবাদ হওয়া উচিত নয়| আমরা সবাই পরস্পরের আপনজন| 9 আমাদের পৃথক হয়ে যাওয়া উচিত| তোমার য়ে জায়গা পছন্দ সেই জায়গাতেই যাও| তুমি বাঁ দিকে গেলে আমি ডান দিকে যাব| যদি তুমি ডান দিকে যাও, আমি বাঁ দিকে যাব| 10 লোট চোখ তুলে দেখল, সামনে বিস্তৃত যর্দন উপত্যকা| লোট দেখল জায়গাটা পর্য়াপ্ত জলে সরস| (এটা প্রভু কর্তৃক সদোম ও ঘমোরা ধ্বংস করার আগের ঘটনা| তখন সোযর পর্য্ন্ত যর্দন উপত্যকা ছিল প্রভুর উদ্যানের মত| এখানকার মাটি ছিল মিশরের মাটির মত ভাল জাতের মাটি|) 11 তাই লোট যর্দন উপত্যকাতে বাস করবে বলে ঠিক করল| দুজনে পৃথক হয়ে গেল এবং লোট পূর্ব দিকে এগিয়ে চলল| 12 অব্রাম কনানেই থেকে গেলেন এবং লোট উপত্যকার জনপদগুলিতে বাস করতে লাগলেন| লোট উপত্যকার সূদুর দক্ষিণে সদোমে চলে গেলেন এবং সেখানেই তাঁবু পাতলেন| 13 প্রভু জানতেন য়ে সদোমের অধিবাসীরা মহাপাপী| 14 লোট চলে গেলে প্রভু অব্রামকে বলল, “তোমার চারদিকে তাকিয়ে দেখ| উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম চারদিকে তাকাও| 15 যত জমিজায়গা দেখতে পাচ্ছ, সব আমি তোমায় এবং তোমার বংশধরদের দেব| এ দেশ চিরকালের জন্যে তোমার হবে| 16 পৃথিবীর ধূলোর মত আমি তোমার উত্তরপুরুষদের সংখ্যাবৃদ্ধি করব| যদি লোকে পৃথিবীর সব ধূলো গুনতে পারে তাহলে তোমার লোকেদের গোনা যাবে| 17 অতএব এগিয়ে যাও, তোমার নিজের দেশে তুমি হেঁটে বেড়াও| এই দেশ আমি তোমায় দিলাম|” 18 তখন অব্রাম তাঁর তাঁবু উঠিয়ে নিলেন| তিনি মম্রির উচ্চ বৃক্ষগুলির কাছে বাস করতে গেলেন| স্থানটি ছিল হিব্রোণ নগরের কাছে| সেখানে অব্রাম প্রভুর উদ্দেশ্যে উপাসনা করার জন্যে একটি বেদী নির্মাণ করলেন|

আদিপুস্তক 14

1 শিমিযরের রাজা ছিলেন অম্রাফল| অরিযোক ছিলেন ইল্লাসরের রাজা| এলমের রাজা ছিলেন কদলাযোমর এবং গোযীমের রাজা তিদিযল| 2 এইসব রাজা, সদোমের রাজা বিরা, ঘমোরার রাজা বির্শা, অদ্মার রাজা শিনাব, সবোযিমের রাজা শিমেবর এবং বিলার (বিলা সোযর নামেও পরিচিত ছিল) রাজার সঙ্গে য়ুদ্ধ করলেন| 3 এই সমস্ত রাজাদের সৈন্যবাহিনী সিদ্দীম উপত্যকায় মিলিত হল| (সিদ্দীম উপত্যকা বর্তমানে লবণ সমুদ্র|) 4 এই রাজারা বারো বছর ধরে কদর্লাযোমরের অনুগত ছিল| কিন্তু 13তম বছরে তারা সবাই কদর্লাযোমরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল| 5 সুতরাং 14তম বছরে রাজা কদর্লাযোমর ও তাঁর মিত্র রাজাদের সঙ্গে বিদ্রোহী রাজাদের য়ুদ্ধ হল| কদর্লাযোমর ও তাঁর মিত্র রাজারা অন্তরোত্‌ কর্ণযিমের অধিবাসী রফাযীয নামক জাতিকে পরাস্ত করলেন| 6 তারপর তাঁরা হোরীযদের পরাস্ত করলেন| হোরীযরা সেযীর থেকে এল-পারণ (এল-পারণ মরুভূমির কাছে অবস্থিত) পর্য্ন্ত পার্বত্য দেশে বাস করত| 7 তারপর রাজা কদর্লাযোমের উত্তর দিকে গেলেন এবং ঐনমিস্পটে অর্থাত্‌ কাদেশে গিয়ে সমস্ত অমালেকীযদের পরাস্ত করলেন| তিনি হত্‌সসোন তামরের অধিবাসী ইমোরীয়দেরও পরাস্ত করলেন| 8 সেই সময় সদোমের রাজা, ঘমোরার রাজা, অদ্মার রাজা, সবোযিমের রাজা এবং বিলার রাজা তাঁদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সিদ্দীম উপত্যকায় য়ুদ্ধ করতে গেলেন| 9 এই যুদ্ধে অপর পক্ষে ছিলেন এলমের রাজা কদর্লাযোমর, গোযীমের রাজা তিদিযল, শিনিযরের রাজা অম্রাকল এবং ইলাসরের রাজা অরিযোক| অর্থাত্‌ য়ুদ্ধটা ছিল পাঁচজন রাজার বিরুদ্ধে চারজন রাজার| 10 সিদ্দীম উপত্যকায় আলকাতরায় পূর্ণ অনেক গর্ত ছিল| সদোম এবং ঘমোরার রাজা এবং তাদের সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গেল| অনেক সৈন্য ঐসব খাতে পড়ল| কিন্তু অধিকাংশই পাহাড়ে পর্বতে পালিয়ে গেল| 11 সুতরাং সদোম এবং ঘমোরার সমস্ত সরঞ্জাম, তাদের সমস্ত খাদ্যসম্ভার, বস্ত্রাদি এবং অন্যান্য সব জিনিসপত্র প্রতিপক্ষরা নিয়ে চলে গেল| 12 অব্রামের ভ্রাতুষ্পুত্র লোট তখন সদোমে বাস করছিল এবং সদোমের শত্রুরা লোটকে বন্দী করল, লোটের যা কিছু ছিল সব অধিকার করল| 13 লোটের একটি লোককে তারা বন্দী করতে পারে নি| সে পালিয়ে গিয়ে যা যা ঘটেছে সমস্ত অব্রামকে জানাল| অব্রাম তখন ইমোরীয়দের মম্রির গাছগুলির কাছে শিবিরে বাস করছিলেন| মম্রি, ইষ্কোল এবং আনেরের মধ্যে পরস্পরকে সাহায্য করার এক চুক্তি ছিল| তারা অব্রামকে সাহায্য করার একটা চুক্তিও করেছিল| 14 লোট বন্দী হয়েছে জানতে পেরে অব্রাম পরিবারের সবাইকে ডেকে পাঠালেন| তাদের মধ্যে 318 জন শিক্ষিত সৈন্য ছিল| অব্রাম তাঁর লোকেদের পরিচালনা করে শত্রুদের দূরে দান নগর অবধি তাড়িয়ে নিয়ে গেলেন| 15 সেই রাত্রে তিনি ও তাঁর সৈন্যরা অতর্কিতে শত্রুদের আক্রমণ করলেন| তাঁরা শত্রুদের পরাভূত করে দম্মেশকের উত্তরে হোবা পর্য্ন্ত বিতাড়িত করলেন| 16 তারপর শত্রুরা যা যা অধিকার করেছিল, সেই সমস্ত পুনরুদ্ধার করলেন| লোট, লোটের সমস্ত নারী ও ভৃত্যদের পর্য্ন্ত অব্রাম ফিরিযে আনলেন| 17 তারপর অব্রাম কদর্লাযোমর ও তাঁর সঙ্গে য়োগদানকারী রাজাদের পরাস্ত করে তাঁর আগের জায়গায় ফিরে এলেন| তিনি ফিরে এলে সদোমের রাজা তাঁর সঙ্গে শাবী উপত্যকায় (এখন এই স্থান রাজার উপত্যকা নামে পরিচিত) দেখা করতে গেলেন| 18 শালেমের রাজা মল্কীষেদকও অব্রামের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে গেলেন| মল্কীষেদক ছিলেন পরাত্‌পর ঈশ্বরের একজন যাজক| মল্কীষেদক নিয়ে এলেন রুটি ও দ্রাক্ষারস| 19 অব্রামকে আশীর্বাদ করে মল্কীষেদক বললেন,“হে অব্রাম, পরাত্‌পর তোমাকে আশীর্বাদ করুন| ঈশ্বর স্বর্গ ও মর্ত্য সৃষ্টি করেছেন| 20 আমরা পরাত্‌পর ঈশ্বরের প্রশংসা করি| তিনি শত্রুদের পরাস্ত করতে তোমাকে সাহায্য করেছেন|”অব্রাম যুদ্ধের সময় যা যা পেয়েছিলেন তার থেকে এক দশমাংশ মল্কীষেদককে দিলেন| 21 সদোমের রাজা বললেন, “আপনি নিজের জন্যে সব রেখে দিন| শত্রুরা য়ে লোকেদের নিয়ে গেছে শুধু আমার সেই লোকদের আমাকে দিন|” 22 কিন্তু সদোমের রাজাকে অব্রাম বললেন, “পরাত্‌পর ঈশ্বর, যিনি স্বর্গ মর্ত্য সৃষ্টি করেছেন সেই প্রভুর কাছে আমি শপথ করছি| 23 যা কিছু আপনার তার কিছুই আমি রাখব না| আমি প্রতিশ্রুতি করছি য়ে আমি কিছুই রাখব না| এমনকি একটা সুতো অথবা জুতোর ফিতেও না. আমি চাই না য়ে আপনি বলবেন, ‘অব্রামকে আমি বড় লোক বানিয়েছি|’ 24 আমি শুধু সেটুকুই নেব যা আমার য়োদ্ধারা খেয়েছে| কিন্তু অন্যদের আপনি তাদের ভাগ দিন| যুদ্ধে যা জিতেছি তা আপনি নিয়ে যান, কিন্তু কিছু আনের, ইষ্কোল এবং মম্রিকে দিয়ে যান| এরা যুদ্ধে আমায় সাহায্য করেছে|”

আদিপুস্তক 15

1 এইসব ঘটনাবলির পরে অব্রাম দর্শনের মধ্যে প্রভুর কথা শুনতে পেলেন| ঈশ্বর বললেন, “অব্রাম চিন্তা কোরো না| আমি তোমায় রক্ষা করব| আমি তোমায় এক মহাপুরস্কার দেব|” 2 কিন্তু অব্রাম বললেন, “প্রভু ঈশ্বর, আমায় খুশী করার মত আপনি কিছুই দিতে পারবেন না| কেন? কারণ আমার কোনও পুত্র নেই| তাই আমার মৃত্যুর পরে আমার দম্মেশকীয দাস ইলীযেষর আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে|” 3 অব্রাম বললেন, “আপনি আমায় পুত্র দেননি| তাই য়ে দাস আমার ঘরে জন্ম লাভ করেছে সে-ই পাবে আমার সমস্ত ধনসম্পত্তি|” 4 তখন প্রভু অব্রামের সঙ্গে কথা বললেন| ঈশ্বর বললেন, “ঐ দাস তোমার নিজের পুত্র হবে. এবং তোমার ঔরসজাত পুত্রই তোমার সমস্ত কিছুর উত্তরাধিকার পাবে|” 5 তখন ঈশ্বর অব্রামকে বাইরে ডেকে নিয়ে গেলেন| ঈশ্বর বললেন, “আকাশের দিকে তাকাও| দেখ, সেখানে কত তারা| এত তারা য়ে তুমি গুণতেই পারবে না| ভবিষ্যতে তোমার বংশধরেরাও ঐরকম অগুনতি হবে|” 6 অব্রাম ঈশ্বরকে বিশ্বাস করলেন এবং ঈশ্বর অব্রামের বিশ্বাসকে তার ধার্মিকতা হিসেবে বিবেচনা করলেন| 7 এবং ঈশ্বর অব্রামকে বললেন, “আমিই সেই প্রভু, যিনি তোমায় বাবিলের উর থেকে নিয়ে এসেছিলেন, যাতে এই দেশটা আমি তোমায় দিতে পারি| এই দেশ তুমি পাবে|” 8 কিন্তু অব্রাম বললেন, “প্রভু আমার গুরু, এই দেশ য়ে আমি পাব তার নিশ্চয়তা কি?” 9 ঈশ্বর অব্রামকে বললেন, “আমরা একটা চুক্তি করব| আমায় একটা তিন বছরের বাছুর, তিন বছরের ছাগল আর তিন বছরের মেষ এনে দাও| একটা বাচ্চা পায়রা আর একটা ঘুঘুপাখীও এনে দাও|” 10 অব্রাম এই সমস্ত ঈশ্বরের কাছে এনে দিলেন| অব্রাম প্রাণীগুলি হত্যা করে এবং প্রতিটির দুটি করে খণ্ড করে ঐ খণ্ডগুলি থাক-থাক করে সাজিযে রাখলেন| কিন্তু পাখীগুলিকে অব্রাম দুখণ্ড করেন নি| 11 পরে ঐসব প্রাণীর মাংসখণ্ডের জন্যে বড় বড় পাখী ছোঁ মেরে এলো| কিন্তু অব্রাম সেগুলি তাড়িয়ে দিলেন| 12 বেলা বাড়তে থাকল, ঢলে পড়তে লাগল সূর্য়| অব্রামের ভীষণ ঘুম পেল এবং শেষ পর্য্ন্ত তিনি ঘুমিযে পড়লেন| তখন নেমে এল এক ভীষণ অন্ধকার| 13 তখন প্রভু অব্রামকে বললেন, “তোমার কযেকটা কথা জেনে রাখা উচিত্‌| তোমার উত্তরপুরুষরা য়ে দেশে বাস করবে সেই দেশ তাদের নয়, সেখানে তারা বিদেশী বলে গণ্য হবে| এবং সেই দেশের অধিবাসীরা 400 বছর ধরে তোমার উত্তরপুরুষদের দান করে রাখবে এবং তাদের উপর নানা উত্‌পীড়ন করবে| 14 কিন্তু তারপর য়ে জাতি তোমার উত্তরপুরুষদের দাস করে রেখেছিল তাদের আমি শাস্তি দেব| তোমার উত্তরপুরুষরা সেই জাতি ত্যাগ করবে এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে যাবে বহু ভাল জিনিস| 15 “তুমি নিজে বহুকাল জীবিত থাকবে| শান্তিতে তুমি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে| তোমার সমাধি হবে তোমার পরিবারের মধ্যে| 16 চার প্রজন্ম পরে তোমার আত্মীয়স্বজনরা আবার এই দেশে আসবে| তখন তারা এখানকার অধিবাসী ইমোরীয়দের পরাস্ত করবে| তোমার আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে আমি ইমোরীয়দের শাস্তি দেব| এটা ভবিষ্যতে ঘটবে| কারণ ইমোরীয়রা এখনও আমার কাছে শাস্তি পাওয়ার মত খারাপ হয় নি|” 17 সূর্য় অস্ত গেলে গাঢ় অন্ধকার ঘনাল| দুখণ্ড করা মৃত পশুগুলি তখনও মাটির উপরে পড়ে আছে| সেই সময় আগুন ও ধোঁযার স্তম্ভ মৃত পশুগুলির অর্ধেক খণ্ডগুলির মধ্য দিয়ে চলে গেল| 18 সুতরাং ঐদিন প্রভু অব্রামকে একটা প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং সেই অনুসারে অব্রামের সঙ্গে একটা চুক্তি করলেন| প্রভু বললেন, “এই দেশ আমি তোমার উত্তরপুরুষদের দেব| মিশর নদ এবং ফরাত্‌ নদের মধ্যবর্তী বিশাল ভূভাগ আমি তাদের দেব| 19 এটা হল কেনীয়, কনিষীয, কদ্মোনীয, 20 হিত্তীয়, পরিষীয়, রফাযীয, 21 ইমোরীয়, কনানীয়, গির্গানীয় এবং যিবুষীয় বংশগুলির দেশ|”

আদিপুস্তক 16

1 সারী ছিল অব্রামের স্ত্রী| তার ও অব্রামের কোনও সন্তানাদি ছিল না| সারী মিশর থেকে একজন দাসী এনেছিল| তার নাম হাগার| 2 সারী অব্রামকে বললেন, “প্রভু আমায় সন্তান ধারণের ক্ষমতা দেন নি| তাই তুমি আমার দাসী হাগারের কাছে যাও| আমাকে একটি সন্তান দাও এবং আমি সেই সন্তানকে নিজের বলে গ্রহণ করবো|”অব্রাম সারীর নির্দেশ অনুসরণ করলেন| 3 অব্রাম কনানে দশ বছর বাস করার পরে এই ঘটনা ঘটে| সারী হাগারকে তাঁর স্বামী অব্রামের কাছে পাঠালো| (হাগার ছিল তাঁর মিশরীয দাসী|) 4 অব্রামের দ্বারা হাগার গর্ভবতী হলো| যখন সে একথা জানতে পারল সে খুব গর্বিতা হয়ে উঠল এবং ভাবল সে তার প্রভু পত্নী সারীর চেযে ভাল| 5 কিন্তু সারী অব্রামকে বলল, “আমার দাসী এখন আমাকেই তিরস্কার করে এবং এর জন্যে তুমি দায়ী| আমিই তাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছিলাম| সে গর্ভবতী হল| এখন সে নিজেকে আমার চেয়ে ভাল মনে করে| প্রভু বিচার করুন য়ে কোনটা ঠিক|” 6 কিন্তু অব্রাম সারীকে বলল, “তুমিই হাগারের গৃহকর্ত্রী| তোমার য়ে রকম ইচ্ছে সে রকমভাবেই তুমি হাগারের ব্যবস্থা করবে|” ফলে সারী তাঁর দাসী হাগারকে দুঃখ দিলেন এবং হাগার সেখান থেকে পালিয়ে গেল| 7 মরুভূমির মধ্যে এক জলপূর্ণ কূপের পাশে প্রভুর দূত হাগারকে দেখতে পেল| জলাশযটি ছিল শূর যাওয়ার পথে| 8 সেই দূত বলল, “হাগার তুমি তো সারীর পরিচারিকা| তুমি এখানে কেন? তুমি কোথায় যাচ্ছো?”হাগার বলল, “আমি সারীর কাছ থেকে পালাচ্ছি|” 9 প্রভুর দূত হাগারকে বলল, “সারী তোমার গৃহকর্ত্রী| তার কাছে ফিরে যাও| তার বাধ্য হও| 10 হাগারকে প্রভুর দূত আরও বলল, “তোমার থেকে বিশাল জনসমষ্টি সৃষ্টি হবে| এত বিপুল জনসংখ্যা হবে য়ে তাদের গুনে শেষ করা যাবে না|” 11 প্রভুর দূত আরও বলল,“হাগার, এখন তুমি গর্ভবতী, তুমি হবে এক পুত্রের জননী| পুত্রের নাম দেবে ইশ্মায়েল, কারণ প্রভু শুনেছেন তোমার উপর দুর্ব্যবহার হয়েছে, তিনি তোমাকে সাহায্য করবেন| 12 “ইশ্মায়েল স্বাধীন এবং উদ্দাম হবে য়েমন উদ্দাম হয় বন্য গাধা| সে সবার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে এবং সবাই হবে তার প্রতিপক্ষ| সে স্থান থেকে স্থানান্তরে ঘুরে বেড়াবে এবং ভাইদের বসতির কাছে তাঁবু গাড়বে|” 13 প্রভু হাগারের সঙ্গে কথা বললেন| হাগার ঈশ্বরের এক নতুন নাম দিল| সে তাঁকে বলল, “আপনি হলেন ঈশ্বর যিনি আমায় দেখেন|” সে এই কথা বলল কারণ সে ভাবল, “এরকম জায়গাতেও ঈশ্বর আমায় দেখতে পাচ্ছেন, আমার ভালমন্দের কথা চিন্তা করছেন|” 14 সুতরাং ঐ কূপের নাম হল বের-লহয়-রোযী| কাদেশ এবং বেরদ অঞ্চলের মধ্যে ঐ কূপের অবস্থান| 15 হাগার অব্রামের পুত্রের জন্ম দিল| সে অব্রাম পুত্রের নাম দিল ইশ্মাযেল| 16 যখন হাগারের গর্ভে ইশ্মাযেলের জন্ম হয় তখন অব্রামের বয়স 86 বছর|

আদিপুস্তক 17

1 অব্রামের 99 বছর বয়স হলে প্রভু তাঁর সামনে আবির্ভূত হলেন| প্রভু বললেন, “আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর| আমার জন্যে এই কাজগুলি করো: আমার কথামত চলো এবং সত্পথে জীবনযাপন করো| 2 এটা যদি করো তাহলে আমাদের মধ্যে একটা চুক্তির ব্যবস্থা করব| আমি প্রতিশ্রুতি করছি য়ে তোমার বংশধরদের আমি এক মহান জাতিতে পরিণত করব|” 3 তখন অব্রাম ঈশ্বরের সামনে প্রণামে নত হলেন| ঈশ্বর তাঁকে বললেন, 4 “আমাদের চুক্তিতে এটি আমার অংশ| আমি তোমাকে বহু জাতির পিতা করব| 5 আমি তোমার নাম পরিবর্তন করব| তোমার নাম অব্রামের পরিবর্তে অব্রাহাম হবে| আমি তোমায় এই নাম দিচ্ছি কারণ আমি তোমায় বহু জাতির পিতা করছি| 6 আমি তোমার বংশ অতিশয বৃদ্ধি করব| তোমার থেকে নতুন নতুন জাতির এবং রাজার জন্ম হবে| 7 এবং তোমার ও আমার মধ্যে এক চুক্তি সম্পন্ন হবে| তোমার সমস্ত উত্তরপুরুষগণের জন্যও এই একই চুক্তি প্রয়োজ্য হবে| এই চুক্তি চিরকাল বহাল থাকবে| আমি তোমার ও তোমার উত্তরপুরুষগণের জন্য ঈশ্বর থাকব| 8 আমি তোমাকে এবং তোমার সব উত্তরপুরুষদের এই কনান দেশ দেব যার মধ্য দিয়ে তোমরা যাত্রা করছ| আমি তোমাকে এই দেশ চিরকালের জন্য দেব| আমি হব তোমার ঈশ্বর|” 9 এবং ঈশ্বর অব্রাহামকে বললেন, “এখন তোমার দিক থেকে এই চুক্তি হবে এই রকম| তুমি এবং তোমার উত্তরপুরুষগণ আমার চুক্তি মান্য করবে| 10 এটাই চুক্তি যা তুমি মেনে চলবে| তোমার ও আমার মধ্যে এটাই হল চুক্তি| তোমার উত্তরপুরুষগণের জন্যেও এটাই চুক্তি| যত পুত্র সন্তান হবে প্রত্যেককে সুন্নত করতে হবে| 11 তোমার আর আমার মধ্যে চুক্তি য়ে তুমি মেনে চলবে, এই সুন্নত হবে তার প্রমাণস্বরূপ| 12 শিশু পুত্রের বয়স আট দিন হলে এই সুন্নত সম্পন্ন করবে| তোমার পরিবারে যত ছেলের এবং তোমার দাসদের মধ্যে যত ছেলের জন্ম হবে, তোমার বংশধর নয় এমন বিদেশীদের কাছ থেকে তোমার অর্থ দিয়ে তুমি য়ে দাসদের কিনেছিলে তাদের য়ে ছেলেরা জন্মাবে, সকলের অবশ্যই সুন্নত করা হবে| 13 সুতরাং তোমার জাতির প্রত্যেক শিশু পুত্রকে সুন্নত করা হবে| তোমার পরিবারের অথবা ক্রীতদাসের সব পুত্রদের এভাবে সুন্নত করা হবে| 14 অব্রাহাম, তোমার ও আমার মধ্যে এটাই চুক্তি; সুন্নত করা হয়নি এমন কোন পুরুষ থাকলে সে হবে তার নিজের লোকেদের স্বজাতির থেকে বিচ্ছিন্ন| কারণ সে ব্যক্তি আমার চুক্তি ভঙ্গকারী|” 15 ঈশ্বর অব্রাহামকে বললেন, “তোমার স্ত্রী সারীকে আমি এক নতুন নাম দেব| তার নতুন নাম হবে সারা অর্থাত্‌ রানী| 16 আমি তাকে আশীর্বাদ করব| আমি তাকে একটি পুত্র দেব এবং তুমি হবে সেই পুত্রের পিতা| সারা হবে বহু নতুন জাতির মাতা| সারা থেকে আসবে বহু জাতির বহু রাজা|” 17 ঈশ্বরকে য়ে তিনি মান্য করেন এই কথা বোঝাবার জন্যে অব্রাহাম আভূমি মাথা নত করলেন| কিন্তু তিনি নিজের মনে হেসে বললেন, “আমার 100 বছর বয়স| আমার আর সন্তান হতে পারে না| এবং সারার 90 বছর বয়স| সে সন্তানের জন্ম দিতে পারবে না|” 18 তখন অব্রাহাম ঈশ্বরকে বলল, “আশা করি ইশ্মাযেল বেঁচে থেকে আপনার সেবা করবে|” 19 ঈশ্বর বললেন, “না! আমি বলেছি য়ে তোমার স্ত্রী সারার একটি পুত্র হবে| তুমি তার নাম দেবে ইসহাক| তার সঙ্গে আমি আমার চুক্তি সম্পাদন করব| তার সঙ্গে ঐ চুক্তি এমন হবে যা তার উত্তরপুরুষগণের সঙ্গেও চিরকাল বজায় থাকবে| 20 “তুমি ইশ্মাযেলের কথা বলেছ এবং আমি সে কথা শুনেছি| আমি তাকে আশীর্বাদ করব| তার বহু সন্তানসন্ততি হবে| সে বারোজন মহান নেতার পিতা হবে| তার পরিবার থেকে সৃষ্টি হবে এক মহান জাতির| 21 কিন্তু আমি ইসহাকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হব| সারার য়ে পুত্র হবে সে-ই হবে ইসহাক - পরের বছর ঠিক এই সময় সেই পুত্রের জন্ম হবে|” 22 অব্রাহামের সঙ্গে কথা শেষ করে ঈশ্বর উপরে স্বর্গে চলে গেলেন| 23 ঈশ্বর অব্রাহামকে পরিবারের সমস্ত পুরুষ ও বালকের সুন্নতের কথা বলেছিলেন| সুতরাং অব্রাহাম ইশ্মাযেল এবং তাঁর গৃহে জন্ম হয়েছে এমন সমস্ত দাসদের একত্রে সমবেত করলেন| যাদের অর্থ দিয়ে ক্রয করা হয়েছিল, সেই ক্রীতদাসদেরও তিনি সমবেত করলেন| অব্রাহামের বাড়ীর প্রত্যেক পুরুষ ও বালককে একত্র করা হল| এবং প্রত্যেককে সুন্নত করা হল| তাদের সকলকে একই দিনে সুন্নত করা হল| 24 অব্রাহামকে যখন সুন্নত করা হল তখন তাঁর বয়স 99 বছর| 25 এবং তাঁর পুত্র ইশ্মাযেলের সুন্নতের সময় 13 বছর বয়স ছিল| 26 অব্রাহাম ও তাঁর পুত্রের একই দিনে সুন্নত করা হয়| 27 সেই একই দিনে অব্রাহামের বাড়ীর সমস্ত পুরুষেরাও সুন্নত হয়| য়েসব দাসদের অর্থ দিয়ে ক্রয করা হয়েছিল এবং য়েসব দাসদের তাঁর গৃহেই জন্ম হয়েছিল সকলেরই সুন্নত করা হল|

আদিপুস্তক 18

1 পরে প্রভু পুনরায় অব্রাহামের সামনে আবির্ভূত হলেন| মম্রির ওক বৃক্ষগুলির কাছে অব্রাহাম বাস করছিলেন| একদিন অব্রাহাম নিজের তাঁবুর প্রবেশ পথে বসেছিলেন| তখন দিনের সবচেয়ে চড়া গরমের সময়| 2 অব্রাহাম চোখ তুলে দেখলেন য়ে তাঁর সামনে তিনজন আগন্তুক দাঁড়িয়ে| তাঁদের দেখে অব্রাহাম তাঁদের কাছে গিয়ে অভিবাদন জানালেন| 3 অব্রাহাম বললেন, “মহাশয়গণ, আমি আপনাদের সেবক, আমার এখানে আপনারা কিছুক্ষণ অবস্থান করুন| 4 আপনাদের পা ধোযার জন্যে আমি জল এনে দিচ্ছি| আপনারা গাছের ছায়ায বিশ্রাম করুন| 5 আমি আপনাদের খাবারের ব্যবস্থা করছি এবং আপনারা ইচ্ছামত আহার করে আবার আপনাদের গন্তব্য অভিমুখে যাত্রা করতে পারেন|”ঐ তিনজন বললেন, “বেশ কথা! য়েমন বললেন, আমরা তেমনই করব|” 6 অব্রাহাম তাড়াতাড়ি তাঁবুর ভেতরে গেলেন| অব্রাহাম সারাকে বললেন, “চট করে তিনজনের মত রুটির ব্যবস্থা করো|” 7 তারপর অব্রাহাম তাঁর গোয়ালে দৌড়ে গেলেন| সবচেয়ে ভাল বাছুরটা বেছে নিলেন| অব্রাহাম তখনই এক ভৃত্যকে ওটাকে মেরে রান্না করার জন্যে বললেন| 8 তারপর অব্রাহাম সেই মাংস আর খানিকটা দুধ ও পনীর এনে অতিথি তিনজনের সামনে রাখলেন| পরিবেশন করার জন্যে অব্রাহাম সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং তাঁরা গাছের ছায়ায় বসে ভোজন করলেন| 9 তারপর তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার স্ত্রী সারা কোথায়?”অব্রাহাম বললেন, “ওখানে ঐ তাঁবুর মধ্যে|” 10 তখন প্রভু বললেন, “আমি আবার বসন্তকালে আসব| তখন তোমার স্ত্রী সারার একটি পুত্র হবে|”তাঁবুর ভেতর থেকে সারা সমস্ত কথাবার্তা শুনছিলেন| 11 অব্রাহাম ও সারা তখন রীতিমত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা| সন্তান জন্ম দেওয়ার বয়স সারা অনেকদিন আগে পার হয়ে এসেছেন| 12 স্বভাবতই সারা যা শুনলেন তা বিশ্বাস করলেন না| নিজের মনে মনে সারা হেসে বললেন, “আমি বৃদ্ধা হয়েছি আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ| সন্তান প্রসবের পক্ষে আমার অনেক বেশী বয়স হয়েছে|” 13 তখন প্রভু অব্রাহামকে বললেন, “সারা হাসছে| সারা ভাবছে য়ে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পক্ষে তার অনেক বেশী বয়স হয়েছে| 14 কিন্তু প্রভুর পক্ষে কি কোনও কাজ খুব কঠিন? না! আমি য়েমন বলেছি, আবার বসন্তকালে, তেমনই আসব এবং তোমার স্ত্রী সারার তখন সন্তান হবে|” 15 কিন্তু সারা বলল, “আমি হাসি নি! (একথা বললেন কারণ তিনি ভয় পেয়েছিলেন|)কিন্তু প্রভু বললেন, “না! আমি জানি, তা সত্যি নয়! তুমি হেসেছিলে!” 16 তারপর সেই তিনজন আগন্তুক যাওয়ার জন্যে উঠে দাঁড়ালেন| সদোমের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন এবং সদোম অভিমুখে চলতে শুরু করলেন| তাঁদের এগিয়ে দেওয়ার জন্য অব্রাহামও তাদের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটতে শুরু করলেন| 17 প্রভু আপন মনে বললেন, “এখন আমি কি করব তা কি অব্রাহামকে বলব? 18 অব্রাহাম থেকে জন্মলাভ করবে এক মহান ও শক্তিশালী জাতি এবং অব্রাহামের জন্যেই পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে| 19 আমি অব্রাহামের সাথে এক বিশেষ চুক্তি করেছি| প্রভুর ইচ্ছা অনুসারে জীবনযাপনের জন্যে যাতে অব্রাহামের সন্তানসন্ততি ও উত্তরপুরুষগণ অব্রাহামের আজ্ঞা পালন করে তাই এই ব্যবস্থা করেছি| এটা করেছি যাতে তারা ন্যায়পরায়ণ ও সত্‌ জীবনযাপন করে| তাহলে আমি প্রভু, প্রতিশ্রুত জিনিসগুলি দিতে পারব|” 20 তারপরে প্রভু বললেন, “য়ে নিদারুণ পাপ সেখানে সংঘটিত হচ্ছে, তার জন্য আমি সদোম এবং ঘমোরার বিরুদ্ধে তীব্র আর্তনাদ শুনেছি| 21 যত খারাপ বলে শুনেছি তা সত্যিই তত খারাপ কিনা তা আমি নিজে গিয়ে দেখব| তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে সব জানব|” 22 তখন তাঁরা তিনজন সদোম অভিমুখে হাঁটতে শুরু করলেন| কিন্তু অব্রাহাম প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে রইলেন| 23 অব্রাহাম প্রভুর কাছে এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভু, আপনি কি ভাল লোকেদেরও ধ্বংস করবেন য়েমন আপনি মন্দ লোকেদের ধ্বংস করেন? 24 সদোম নগরে যদি 50 জনও ভাল লোক থাকে তাহলে আপনি কি করবেন? তাহলেও কি আপনি নগরটা ধ্বংস করবেন? নিশ্চয়ই আপনি ঐ নগরবাসী 50 জন ভাল লোকের জন্যে নগরটা ধ্বংস করবেন? 25 তাহলে আপনি নিশ্চয়ই ঐ নগরটা বা ঐ খারাপ লোকেদের ধ্বংস করবেন না? যদি তা করেন তাহলে ভাল এবং মন্দ লোকেদের একই পরিণতি হবে| তার অর্থ, ভাল এবং মন্দ জাতীয উভয় লোকদেরই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে| আপনি সমস্ত পৃথিবীর বিচারক| আমি জানি আপনি ঠিক বিচারই করবেন|” 26 তখন প্রভু বললেন, “আমি যদি সদোম নগরে 50 জন ভাল লোক পাই তাহলে আমি সমগ্র নগরটাকেই রক্ষা করব|” 27 তখন অব্রাহাম বললেন, “আপনার তুলনায় আমি নেহাতই ধুলো আর ছাই| কিন্তু একটা প্রশ্ন করে আবার আপনাকে বিরক্ত করছি| 28 যদি ভাল লোকদের থেকে 5 জনেকে খুঁজে না পাওয়া যায় তখন কি করবেন? নগরে যদি মাত্র 45 জন ভাল লোক থাকে? মাত্র 5 জনকে পাওয়া গেল না বলে কি আপনি গোটা নগর ধ্বংস করে ফেলবেন?”তখন প্রভু বললেন, “যদি আমি 45 জন ভাল লোককেও পাই তাহলে ঐ নগর ধ্বংস করব না|” 29 অব্রাহাম আবার বললেন, “সেখানে গিয়ে আপনি যদি মাত্র 40 জন ভাল লোককে পান তাহলে কি আপনি পুরো নগর ধ্বংস করবেন?”প্রভু বললেন, “আমি যদি 40 জন ভাল লোককেও পাই তাহলে আমি নগরটা ধ্বংস করব না|” 30 অব্রাহাম বললেন, “প্রভু দয়া করে আমার ওপর রাগ করবেন না| একটা প্রশ্ন করি! যদি নগরে মাত্র 30 জন ভাল লোককে পান তাহলেও কি আপনি ঐ নগর ধ্বংস করবেন?”তখন প্রভু বললেন, “আমি যদি 30 জন ভাল লোক পাই তাহলে নগরটা ধ্বংস করব না|” 31 তখন অব্রাহাম বললেন, “আপনাকে কি আর একবার বিরক্ত করতে পারি? যদি সেখানে মাত্র 20 জন ভাল লোক পান তাহলে কি করবেন?”প্রভু বললেন, “আমি যদি 20 জন ভাল লোক পাই তাহলে আমি নগরটা ধ্বংস করবো না|” 32 তখন অব্রাহাম বললেন, “প্রভু দয়া করে রাগ করবেন না, কিন্তু শেষবারের মতো আর একটি প্রশ্ন দিয়ে আপনাকে বিরক্ত করি| আপনি যদি সেখানে মাত্র 10 জন ভাল লোক পান তাহলে আপনি কি করবেন?”প্রভু বললেন, “ঐ নগরে 10 জন ভাল লোক পেলেও আমি তা ধ্বংস করব না|” 33 প্রভুর অব্রাহামকে যা বলার ছিল, সব বলা হয়ে গেল| এবার প্রভু তাঁর পথে চলে গেলেন এবং অব্রাহাম নিজের বাসস্থানে ফিরে গেলেন|

আদিপুস্তক 19

1 সেদিন সন্ধ্যায় সদোম নগরে দুজন দূত এলেন| তখন লোট নগরের প্রবেশ পথে বসেছিলেন| তিনি দূতদের আসতে দেখলেন| লোট ভাবলেন য়ে তারা সাধারণ পথিক, নগরের মধ্য দিয়ে কোথাও যাচ্ছে| লৌট উঠে গিয়ে তাঁদের অভিবাদন করে 2 বললেন, “মহাশয়গণ, অনুগ্রহ করে একবার আমার বাড়ীতে আসুন এবং আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন| সেখানে আপনারা হাত-পা ধুয়ে রাত্রিবাস করতে পারেন| তাহলে কাল সকালে আবার আপনাদের গন্তব্য অভিমুখে যাত্রা করতে পারবেন|”দূত দুজন বললেন, “না, আমরা চকেই রাত্রিবাস করব|” 3 কিন্তু লৌট নিজের বাড়ীতে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার জন্যে পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন| তাই দূতরা শেষ পর্য্ন্ত লোটের বাড়ীতে থেকে রাজী হলেন| তাঁরা লোটের বাড়ীতে গেলেন| লোট তাঁদের কিছু পানীয় দিলেন| লৌট তাঁদের রুটি বানিয়ে দিলেন এবং তাঁরা সেই রুটি খেলেন| 4 সেদিন সন্ধ্যায় ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগে, নগরের নানা প্রান্ত থেকে নানা বয়সের বহু লোক লোটের বাড়িতে এল| সদোমের সেইসব লোকেরা লোটের বাড়ী ঘিরে ফেলল এবং লোটকে চিত্কার করে ডাকতে লাগল| 5 তারা বলল, “আজ সন্ধ্যায় যারা এসেছে, কোথায় তারা? তাদের বাইরে নিয়ে এস - আমরা তাদের সাথে য়ৌন সহবাস করতে চাই|” 6 লৌট বাইরে বেরিয়ে এসে দরজা বন্ধ করে দিল| 7 সেই জনতার উদ্দেশ্যে লোট বলল, “না! বন্ধুরা, আমি মিনতি করছি, এমন খারাপ কাজ কোরো না| 8 দেখ, আমার দুটি মেয়ে আছে - কোনও পুরুষ তাদের স্পর্শ করে নি| তোমাদের জন্যে আমি নিজের কন্যাদের দেব| তোমরা তাদের নিয়ে যা খুশী করতে পারো| কিন্তু দয়া করে এই অতিথি দুজনের প্রতি কিছু কোরো না| এই দুজন আমার ঘরে এসেছে এবং আমার অবশ্যই এদের রক্ষা করা উচিত্‌|” 9 য়েসব লোকেরা লোটের বাড়ী ঘিরে রেখেছিল তারা উত্তর দিল, “আমাদের পথ থেকে সরে যাও|” তারপর তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, “এই লোকটা একদিন অতিথি হিসেবে আমাদের নগরে বাস করতে এসেছিল| এখন জ্ঞান দিচ্ছে, আমরা কি করব না করব!” তখন সেই লোকেরা লোটকে বলল, “এখন তোমার প্রতি ওদের চেয়ে আরও বেশী খারাপ ব্যবহার করব|” অতএব সেই জনতা লোটের দিকে এগিয়ে য়েতে থাকল| ক্রমে দরজা ভেঙ্গে ফেলার উপক্রম| 10 কিন্তু য়ে দুজন পুরুষ লোটের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা হঠাত্‌ দরজা খুলে বেরিয়ে এসে লোটকে ভেতরে টেনে নিয়ে গেলেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন| 11 তারপর তাঁরা বাইরের মারমুখো জনতার জন্যে কিছু একটা করলেন| ফলে যুবক, বৃদ্ধ, সব বদমাশ লোকেরা অন্ধ হয়ে গেল| এর ফলে যারা বাড়ির ভেতর জোর করে ঢোকার চেষ্টা করছিল তারা ভেতরে ঢোকার দরজাই খুঁজে পেল না| 12 অতিথি দুজন লোটকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার পরিবারের আর কেউ কি এই শহরে বাস করে? তোমার জামাই, ছেলে, মেয়ে কিংবা পরিবারের আর কেউ কি এখানে আছে? যদি থাকে তাহলে তাদের এখনই এই জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলো| 13 আমরা এই নগর ধ্বংস করে দেব| এই নগর য়ে কত খারাপ তা প্রভু শুনেছেন| তাই এই নগর ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন|” 14 তখন লোট বেরিয়ে গিয়ে তাঁর অন্যান্য মেয়েদের যারা বিয়ে করেছে সেই মেয়েদের স্বামীদের অর্থাত্‌ জামাইদের সঙ্গে কথা বললেন| লোট বলল, “তাড়াতাড়ি করো! এক্ষুনি এই জায়গা ছেড়ে চলে যাও! প্রভু এখনই এই জায়গা ধ্বংস করবেন|” কিন্তু তারা ভাবল, লোট বোধহয় তামাশা করছেন| 15 পরদিন ভোরে সেই দূতেরা লোটকে তাড়া দিলেন| তাঁরা বললেন, “এই নগরবাসীদের শাস্তি দেওয়া হবে| সুতরাং তুমি, তোমার স্ত্রী এবং য়ে দুজন মেয়ে তোমার কাছে থাকে তাদের নিয়ে শীঘ্রই এই জায়গা ছেড়ে চলে যাও| তাহলে এই নগরের সঙ্গে তোমরা আর ধ্বংস হবে না|” 16 কিন্তু লোটের সব গুলিযে গেল এবং তিনি নগর ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাড়া করলেন না| সুতরাং ঐ দুজন লোট এবং তাঁর স্ত্রীর এবং দুই মেয়ের হাত চেপে ধরল| ঐ দুজন লোট এবং তাঁর পরিবারকে নিরাপদে নগরের বাইরে নিয়ে গেলেন| লৌট এবং তার পরিবারের প্রতি প্রভু দয়ালু ছিলেন| 17 তাই ঐ দুজন লোট এবং তাঁর পরিবারকে নগরের বাইরে নিয়ে এলেন| তাঁরা নগরের বাইরে চলে এলে সেই দুজন দুতের একজন বললেন, “এবার প্রাণ বাঁচাবার জন্যে তোমরা দৌড় দাও! আর পেছনের দিকে তাকাবে না| উপত্যকার কোনও জায়গাতে দাঁড়াবে না| যতক্ষণ না ঐ পর্বতে পৌঁছবে ততক্ষণ শুধুই দৌড়বে| থামলে, নগরের সঙ্গে তোমরাও ধ্বংস হয়ে যাবে!” 18 কিন্তু লৌট এই দুজনকে বললেন, “মহাশয়গণ, দয়া করে আমায় অত দূরে দৌড়ে য়েতে বলবেন না! 19 আমি আপনাদের সেবকমাত্র, তবু আমার প্রতি আপনাদের অসীম দয়া| দয়া করে আমার জীবন রক্ষা করেছেন| কিন্তু ঐ পর্বত পর্য্ন্ত সমস্ত পথ দৌড়োবার ক্ষমতা আমার নেই| যদি আমি খুব ধীরে যাই তবে বিপদ ঘটবে এবং আমি নিহত হব! 20 দেখুন, এখানে কাছেই একটা খুব ছোট শহর আছে| আমি সেই শহর পর্য্ন্ত দৌড়ে বেঁচে য়েতে পারি|” 21 দূত লোটকে বললেন, “ভালো কথা আমি তোমার অনুরোধ স্বীকার করেছি| আমি তোমাকে সেটা করতে দেব| আমি ঐ শহর ধ্বংস করব না| 22 কিন্তু সেখানে শীঘ্রই দৌড়ে যাও| যতক্ষণ না নিরাপদে ঐ শহরে তুমি পৌঁছোচ্ছ ততক্ষণ সদোম ধ্বংস করতে পারব না|” (ঐ শহরের নাম সোযর কারণ শহরটি খুব ছোট|) 23 সূর্য়োদযের সঙ্গে সঙ্গে লোট সোযরে পৌঁছলেন| 24 একই সময়ে প্রভু সদোম ও ঘমোরা ধ্বংস করা শুরু করলেন| প্রভু আকাশ থেকে আগুন আর জ্বলন্ত গন্ধক বর্ষণ শুরু করলেন| 25 অর্থাত্‌ প্রভু ঐ নগরগুলি ধ্বংস করলেন| সমস্ত গাছপালা, সমস্ত লোকজন, সমগ্র উপত্যকাটাই প্রভু ধ্বংস করলেন| 26 লোট যখন স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিলেন তখন লোটের স্ত্রী নিষেধ ভুলে একবার পেছনে নগরের দিকে তাকালেন এবং তখনই লবণের মূর্ত্তি হয়ে গেলেন| 27 খুব সকালে অব্রাহাম আগে য়েখানটাতে প্রভুর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন সেই স্থানটিতে তিনি আবার গিয়ে দাঁড়ালেন| 28 অব্রাহাম সদোম এবং ঘমোরার দিকে তাকিযে দেখলেন| সমগ্র উপত্যকার ওপর দৃষ্টিপাত করে অব্রাহাম দেখলেন য়ে সমস্ত উপত্যকা থেকে ধোঁযা উঠছে| দেখে মনে হল বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ফলস্বরূপ ঐ ধোঁযা| 29 ঈশ্বর উপত্যকার সমস্ত নগর ধ্বংস করলেন| কিন্তু ঈশ্বর ঐ নগরগুলি ধ্বংস করার সময় অব্রাহামের কথা মনে রেখেছিলেন এবং তিনি অব্রাহামের ভ্রাতুষ্পুত্রকে ধ্বংস করেন নি| লোট ঐ উপত্যকার নগরগুলির মধ্যে বাস করছিলেন| কিন্তু নগরগুলি ধ্বংস করার আগে ঈশ্বর লোটকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন| 30 সোযরে বাস করতে লোটের ভয় করছিল| তাই তিনি ও তাঁর দুই মেয়ে পর্বতে বাস করতে চলে গেলেন| সেখানে তাঁরা একটা গুহার মধ্যে বাস করতে লাগলেন| 31 দুজনের মধ্যে য়ে মেয়ে বড় সে একদিন ছোট বোনকে বলল, “পৃথিবীতে সর্বত্র স্ত্রী ও পুরুষ বিয়ে করে এবং তাদের সন্তানাদি হয়| কিন্তু আমাদের পিতা বৃদ্ধ হয়েছেন এবং আমাদের সন্তানাদি দিতে পারে এমন অন্য পুরুষ এখানে নেই| 32 তাই আমরা পিতাকে প্রচুর দ্রাক্ষারস পান করিযে বেহুঁশ করিয়ে দেব| তারপর তাঁর সঙ্গে আমরা য়ৌনসঙ্গম করব| আমাদের পরিবার রক্ষা করার জন্যে আমরা এইভাবে আমাদের পিতার সাহায্য নেব!” 33 সেই রাত্রে দু মেয়ে তাদের পিতার কাছে গেল এবং তাঁকে প্রচুর দ্রাক্ষারস পান করতে দিল| তারপর বড় মেয়ে পিতার বিছানায গিয়ে তাঁর সঙ্গে য়ৌন সঙ্গম করল| লোট এমন নেশাগ্রস্ত ছিলেন য়ে তাঁর বিছানায় কে কখন এল এবং কে কখন গেল কিছুই বুঝতে পারলেন না| 34 পরদিন ছোট বোনকে বড় বোন বলল, “গত রাত্রে আমি পিতার সঙ্গে এক বিছানায শুয়েছি| আজ রাতে আবার তাঁকে দ্রাক্ষারস পান করিযে বেহুঁশ করে দেব| তাহলে তুমি তাঁর সঙ্গে য়ৌন সঙ্গম করতে পারবে| এভাবে আমরা সন্তানাদি পেতে আমাদের পিতার সাহায্য নেব| এতে আমাদের বংশধারা অব্যাহত থাকবে|” 35 সুতরাং সেই রাত্রে দু মেয়ে আবার পিতাকে নেশাতে বেহুঁশ করে দিল| তারপর ছোট মেয়ে পিতার বিছানায গিয়ে পিতার সঙ্গে য়ৌন সঙ্গম করল| এবারেও লোট এমন নেশাগ্রস্ত ছিলেন য়ে জানতে পারলেন না কে তার বিছানায এল, কে গেল| 36 লোটের দু মেয়েই গর্ভবতী হল| তাদের পিতাই তাদের সন্তানাদির পিতা| 37 বড় মেয়ের হল এক পুত্র সন্তান| তার নাম হল মোযাব| বর্তমানে য়ে মোয়াবীয় জাতি আছে তাদের আদিপুরুষ হলেন মোযাব| 38 ছোট মেয়েও এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিল| তার নাম বিন্-অম্মি| বর্তমানে য়ে অম্মোন জাতি আছে তাদের আদিপুরুষ হলেন বিন্-অম্মি|

আদিপুস্তক 20

1 অব্রাহাম পূর্বের বাসস্থান ত্যাগ করে নেগেভে গেলেন| তিনি কাদেশ এবং শূরের মধ্যবর্তী গরার নগরে বাস করা শুরু করলেন| 2 গরারে বাস করার সময় অব্রাহাম সবাইকে বললেন য়ে সারা তাঁর বোন| গরারের রাজা অবীমেলক সে কথা শুনলেন| অবীমেলক সারাকে কামনা করলেন, তাই সারাকে নিয়ে আসার জন্য কযেকজন ভৃত্যকে পাঠালেন| 3 কিন্তু রাত্রে ঈশ্বর স্বপ্নে অবীমেলকের কাছে এলেন| ঈশ্বর বললেন, “তোমার মরণ ঘনিয়ে এসেছে| য়ে নারীকে তুমি এনেছ সে বিবাহিতা|” 4 কিন্তু অবীমেলক তখন পর্য্ন্ত সারাকে শয়্য়ার সঙ্গিনী করেন নি| তাই অবীমেলক বললেন, “প্রভু, আমি তো অপরাধ করিনি| আপনি কি একজন নিরপরাধকে হত্যা করবেন? 5 অব্রাহাম নিজে আমায় বলেছে য়ে, ‘এই নারী তার বোন|’ আর ঐ নারীও বলেছে য়ে, ‘ঐ পুরুষ তার ভাই|’ আমি তো কোন অপরাধ করিনি| আমি তো জানতামই না য়ে আমি কি করছি|” 6 তখন ঈশ্বর স্বপ্নের মধ্যে অবীমেলককে বললেন য়ে, “হ্যাঁ, আমি জানি তুমি নির্দোষ এবং এটাও জানি য়ে তুমি কি করছ তা তুমি জানতে না| তোমায় আমি বাঁচিয়ে দিয়েছি| আমি তোমাকে আমার বিরুদ্ধে পাপ করতে দিই নি| আমিই তোমায় ঐ নারীকে শয়্য়ায নিয়ে য়েতে দিই নি| 7 সুতরাং তুমি অব্রাহাম ও তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দাও| অব্রাহাম একজন ভাববাদী| সে তোমার জন্যে প্রার্থনা করবে এবং তুমি তাতে জীবন লাভ করবে| কিন্তু তুমি যদি অব্রাহাম ও তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দাও তাহলে আমি নিশ্চিত য়ে তোমার মৃত্যু আসন্ন এবং তোমার সমস্ত পরিবারেরও মৃত্যু হবে|” 8 সুতরাং পরদিন খুব সকালে অবীমেলক তাঁর ভৃত্যদের ডেকে তাঁর স্বপ্নের কথা বললেন| তাঁর স্বপ্নের কথা শুনে ভৃত্যরা খুব ভীত হয়ে পড়ল| 9 তখন অবীমেলক অব্রাহামকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন আপনি আমাদের প্রতি এরকম ব্যবহার করলেন? আমি আপনার প্রতি কি অন্যায় করেছি? কেন মিথ্যে বললেন য়ে ঐ নারীটি আপনার বোন? আমার রাজত্বে আপনি অনেক বিপর্য়য ডেকে এনেছেন| আমার প্রতি এসব করা আপনার উচিত্‌ হয় নি| 10 আপনি কিসের ভয় পাচ্ছিলেন? কেন আপনি আমার সঙ্গে এরকম ব্যবহার করলেন?” 11 তখন অব্রাহাম বললেন, “আমি ভয় পেয়েছিলাম| আমি ভেবেছিলাম, এখানে কেউ বোধহয় ঈশ্বরকে শ্রদ্ধা করে না| তাই ভেবেছিলাম, সারাকে পাওয়ার জন্যে আমাকে কেউ হত্যা করতেও পারে| 12 সারা আমার স্ত্রী, আবার আমার বোনও বটে| সারা আমার পিতার কন্যা বটে, কিন্তু আমার মাতার কন্যা নয়| 13 ঈশ্বর আমাকে পিতৃগৃহ থেকে দূরে কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন| ঈশ্বর আমাকে অনেক দেশে নিয়ে গেছেন| যখন এরকম হল তখন আমি সারাকে বললাম, ‘আমার জন্য কিছু করো; যেখানেই আমরা যাব, সবাইকে বলবে য়ে তুমি আমার বোন|” 14 তখন অবীমেলক আসল ব্যাপারটা বুঝলেন| তাই অবীমেলক অব্রাহামের হাতে সারাকে ফিরিযে দিলেন| সেই সঙ্গে অবীমেলক অব্রাহামকে কিছু দাস, মেষ ও গবাদি পশুও দিলেন| 15 এবং অবীমেলক বললেন, “চারদিকে তাকিয়ে দেখুন| এসবই আমার জমি| আপনার যেখানে খুশী সেখানে থাকতে পারেন|” 16 আর অবীমেলক সারাকে বললেন, “তোমার ভাই অব্রাহামকে আমি 1200 রৌপ্যমুদ্রা দিয়েছি| যা কিছু ঘটেছে সেসবের জন্যে আমি দুঃখিত এটা বোঝাতেই এই রৌপ্যমুদ্রা| সবাই জানুক য়ে আমি ন্যায় মেনে কাজ করেছি|” 17 অবীমেলকের পরিবারের সমস্ত নারীর গর্ভধারণের ক্ষমতা প্রভু হরণ করেছিলেন| অবীমেলক সারাকে অধিকার করেছিলেন বলে প্রভু এই কাজ করেছিলেন| কিন্তু অব্রাহাম ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন এবং ঈশ্বর অবীমেলক, অবীমেলকের স্ত্রী ও দাসীদের সন্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা ফিরিযে দিলেন| 18

আদিপুস্তক 21

1 প্রভু সারার জন্যে য়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করলেন| প্রভু সারার জন্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সম্পন্ন করলেন| 2 সারা গর্ভবতী হলেন এবং এই বেশী বয়সে অব্রাহামের জন্যে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করলেন| ঈশ্বর য়েভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেভাবেই সব সম্পন্ন হল| 3 সারা একটি পুত্রের জন্ম দিলেন এবং অব্রাহাম তার নাম রাখলেন ইসহাক| 4 ইসহাকের আট দিন বয়স হলে, য়েমনটি ঈশ্বর বলেছিলেন ঠিক সেইভাবে অব্রাহাম তাঁকে সুন্নত করলেন| 5 ইসহাকের জন্মের সময় অব্রাহামের বয়স ছিল 100 বছর| 6 এবং সারা বললেন, “ঈশ্বর আমাকে আনন্দিত করেছেন| য়ে শুনবে সেই আমার সুখে সুখী হবে| 7 কেউ ভাবে নি য়ে আমি অব্রাহামের পুত্রের জন্ম দেব| কিন্তু এই বৃদ্ধ বয়সেও আমি অব্রাহামকে পুত্র দিতে পেরেছি|” 8 ইসহাক ক্রমশঃ বড় হতে লাগল| শীঘ্রই সে শক্ত খাবার খাওয়ার মত বড় হল| তখন অব্রাহাম একটা মস্ত ভোজ দিলেন| 9 অব্রাহামের প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছিল হাগার নামে মিশরীয দাসী| সারা দেখলেন হাগারের সেই পুত্র ইসহাককে নিয়ে মজা করছে| তাই সারা বিচলিত হলেন| 10 সারা অব্রাহামকে বললেন, “ঐ দাসী আর তার পুত্রের হাত থেকে আমাদের বাঁচাও| ওদের বিদায় করে দাও! যখন আমাদের মৃত্যু হবে তখন আমাদের যা কিছু ধন-সম্পদ ইসহাকই পাবে| আমি চাই না য়ে আমার পুত্র ইসহাকের সঙ্গে আমার দাসীর পুত্রও সবকিছুর ভাগ পাক!” 11 এতে অব্রাহাম খুব বিচলিত হলেন| তিনি তাঁর পুত্র ইশ্মায়েলের জন্যে উদ্বিগ্ন হলেন| 12 কিন্তু অব্রাহামকে ঈশ্বর বললেন, “ঐ পুত্র আর দাসীর জন্যে চিন্তা কোরো না| সারা যা চায় তা-ই করো| তোমার একমাত্র উত্তরাধিকারী হবে ইসহাক| 13 কিন্তু তোমার দাসী পুত্রকেও আমি আশীর্বাদ করব| সে তোমার পুত্র সুতরাং তার পরিবার থেকেও আমি এক মহান জাতি সৃষ্টি করব|” 14 পরদিন খুব ভোরে অব্রাহাম কিছু খাদ্য ও পানীয় জল এনে হাগারকে দিলেন| তাই সম্বল করে হাগার পুত্রকে নিয়ে চলে গেল| হাগার সেই স্থান ত্যাগ করে বের্-শেবা মরুভূমির মধ্যে ঘুরে বেড়াতে লাগল| 15 কিছুক্ষণ পরে সব জল ফুরিযে গেল| পিপাসা মেটাবার জন্যে আর কিছু থাকল না| তখন হাগার তার পুত্রকে একটা ঝোপের নীচে রাখল| 16 হাগার খানিকটা দূরে হেঁটে গেল| তারপর সেখানেই বসে পড়ল| হাগারের ভয় হল, জলের অভাবে তার পুত্র বোধ হয় মারা যাবে| পুত্রের মৃত্যু সে দেখতে পারবে না| তাই সেখানে বসে বসে সে কাঁদতে লাগল| 17 ঈশ্বর সেই পুত্রের কান্না শুনতে পেলেন এবং স্বর্গ থেকে ঈশ্বরের দূত হাগারকে বলল, “কি হয়েছে? ভয় পেও না! প্রভু তোমার পুত্রের কান্না শুনতে পেয়েছেন| 18 যাও, পুত্রকে গিয়ে দেখ| ওর হাত ধরে এগিয়ে চলো| আমি তাকে এক বৃহত্‌ জাতির পিতা করব| 19 তখন হাগার ঈশ্বরের কৃপায় একটা কূপ দেখতে পেল| তারপর হাগার সেই কূপের জলে নিজের জলপাত্র পূর্ণ করল| তারপর সেই জল নিয়ে গিয়ে পুত্রকে পান করাল| 20 সেই পুত্র বড় হতে লাগল আর ঈশ্বর সারাক্ষণ তার সঙ্গে থাকলেন| ইশ্মাযেল সেই মরুভূমির মধ্যেই বড় হতে লাগল| ক্রমে ক্রমে সে হল একজন শিকারী| তীরধনুকে সে হয়ে উঠল খুব দক্ষ| 21 তার মা এক মিশরীয় কন্যার সঙ্গে তার বিয়ে দিল| তারা সেই পারণ নামের মরুভূমিতেই বাস করতে লাগল| 22 তারপর অবীমেলক ও ফীখোল অব্রাহামের সঙ্গে কথা বললেন| ফীখোল ছিলেন অবীমেলকের সৈন্যবাহিনীর প্রধান| তাঁরা অব্রাহামকে বললেন, “তোমার সব কাজেতেই ঈশ্বর তোমার সঙ্গে আছেন| 23 সুতরাং ঈশ্বরের সাক্ষাতে তুমি আমায় একটা প্রতিশ্রুতি দাও| প্রতিজ্ঞা করো য়ে তুমি আমার ও আমার সন্তানসন্ততির প্রতি ন্যায়পরায়ণ থাকবে| প্রতিশ্রুতি দাও য়ে তুমি আমার প্রতি এবং য়ে দেশে বাস করছ সেই দেশের প্রতি ন্যায়পরায়ণ হবে| প্রতিশ্রুতি দাও য়ে আমি তোমার প্রতি য়েরকম ন্যায়পরায়ণ, তুমিও আমার প্রতি সেরকম ন্যায়পরায়ণ হবে|” 24 এবং অব্রাহাম বললেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি য়ে আপনি আমার প্রতি য়েরকম আচরণ করেছেন আমিও আপনার প্রতি সেরকম আচরণ করব|” 25 তারপর অব্রাহাম অবীমেলকের কাছে একটা অভিযোগ করলেন| অব্রাহাম অবীমেলকের কাছে অভিযোগ করলেন য়ে তাঁর দাসরা একটা পানীয় জলের কূপ অধিকার করে রেখেছে| সেই কূপটি অব্রাহামের দাসরা খনন করেছিল| 26 কিন্তু অবীমেলক বললেন, “কে এরকম করেছে আমি জানি না| আপনি তো এর আগে এ ব্যাপারে কখনও কিছু বলেন নি!” 27 সুতরাং অব্রাহাম আর অবীমেলক দুজনে চুক্তিবদ্ধ হলেন| অবীমেলক চুক্তির প্রমাণ হিসেবে অব্রাহাম কযেকটা মেঘ আর গবাদি পশু দিলেন| 28 অব্রাহাম অবীমেলকের সামনে সাতটা মেঘ পৃথক করে রাখলেন| 29 অবীমেলক অব্রাহামকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমার সামনে এই সাতটা মেঘ পৃথক করে রাখলেন কেন? 30 অব্রাহাম উত্তর দিলেন, “আপনি যখন এই সাতটা মেঘ আমার কাছ থেকে নেবেন তখন প্রমাণিত হবে য়ে আমি এই কূপ খনন করেছিলাম|” 31 তারপর থেকে ঐ কূপের নাম হল বের্-শেবা| কারণ ঐ স্থানে দুজনে পরস্পরের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন| 32 অতএব বের্-শেবাতে অব্রাহাম ও অবীমেলক দুজনে একটা চুক্তি সম্পাদন করলেন| তারপর অবীমেলক তাঁর সৈন্যাধক্ষ্যদের নিয়ে পলেষ্টীয়দের দেশে ফিরে গেলেন| 33 বের্-শেবাতে অব্রাহাম একটা চিরহরিত্‌ ঝাউগাছ রোপণ করলেন| সেখানে তিনি প্রভু শাশ্বত ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন| 34 অব্রাহাম পলেষ্টীয়দের দেশে বহুকাল বাস করলেন|

আদিপুস্তক 22

1 এই সমস্ত কিছুর পরে ঈশ্বর ঠিক করলেন য়ে তিনি অব্রাহামের বিশ্বাস পরীক্ষা করবেন| তাই ঈশ্বর ডাকলেন, “অব্রাহাম!”এবং অব্রাহাম সাড়া দিলেন, “বলুন!” 2 তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার একমাত্র পুত্র যাকে তুমি ভালবাস সেই ইসহাককে মোরিয়া দেশে নিয়ে যাও| সেখানে পর্বতগুলির মধ্যে একটির ওপরে তাকে আমার উদ্দেশ্যে বলি দাও| আমি তোমাকে বলব কোন পর্বতের ওপর তুমি তাকে বলি দেবে|” 3 পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অব্রাহাম যাত্রার জন্যে গাধার পিঠে জিন সাজালেন| সঙ্গে ইসহাককে নিলেন, আর নিলেন দুজন ভৃত্যকে| অব্রাহাম হোমের জন্য কাঠ কাটলেন| তারপর ঈশ্বর যেখানে য়েতে বলেছিলেন সেই স্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন| 4 তিনদিন চলার পর অব্রাহাম দূরে দৃষ্টিপাত করলেন আর গন্তব্যস্থল দেখতে পেলেন| 5 তখন ভৃত্য দুজনের উদ্দেশ্যে অব্রাহাম বললেন, “গাধাটা নিয়ে তোমরা এখানে অপেক্ষা করো, আমি ছেলেকে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানটিতে যাব এবং উপাসনা করব| পরে তোমাদের কাছে ফিরে আসব|” 6 অব্রাহাম হোমের জন্যে কেটে আনা কাঠ ছেলের কাঁধে দিলেন| এবং সঙ্গে নিলেন খাঁড়া ও আগুন| তারপর অব্রাহাম ও তাঁর ছেলে দুজনেই উপাসনা সম্পাদন করার জন্যে নির্দিষ্ট স্থানটিতে গেলেন| 7 ইসহাক পিতা অব্রাহামকে বলল, “পিতা!”অব্রাহাম উত্তর দিলেন, “বলো, পুত্র!”ইসহাক বলল, “পিতা! হোমের জন্যে সব আয়োজন দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু হোমের আগে বলি দেওয়ার জন্যে মেষশাবক কোথায়?” 8 অব্রাহাম বললেন, “আমার পুত্র, বয়ং ঈশ্বর বলির জন্যে মেষশাবকের ব্যবস্থা করবেন|”সুতরাং অব্রাহাম আর ইসহাক দুজনে মিলে নির্দিষ্ট স্থানটিতে গেলেন| 9 তাঁরা সেই স্থানটিতে পৌঁছলেন যেখানে ঈশ্বর য়েতে বলেছিলেন| সেখানে অব্রাহাম একটি বেদী তৈরী করলেন| বেদীর উপরে অব্রাহাম কাঠগুলো সাজালেন| তারপর অব্রাহাম তাঁর পুত্র ইসহাককে বাঁধলেন এবং বেদীর উপরে সাজানো কাঠগুলোর উপর তাকে শোয়ালেন| 10 এবার অব্রাহাম খাঁড়া বের করে ইসহাককে বলি দেওয়ার জন্যে তৈরী হলেন| 11 কিন্তু তখন প্রভুর দূত অব্রাহামকে বাধা দিলেন| সেই দূত স্বর্গ থেকে “অব্রাহাম, অব্রাহাম” বলে ডাকলেন|অব্রাহাম থেমে গিয়ে সাড়া দিলেন, “বলুন|” 12 দূত বললেন, “তোমার পুত্রকে হত্যা কোরো না, তাকে কোন রকম আঘাত দিও না| এখন আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি ঈশ্বরকে ভক্তি করো এবং তাঁর আজ্ঞা পালন করো| প্রভুর জন্যে তুমি তোমার একমাত্র পুত্রকে পর্য্ন্ত বলি দিতে প্রস্তুত|” 13 তখন অব্রাহাম একটা মেষ দেখতে পেলেন| একটা ঝোপে তার শিং আটকে গেছে| সুতরাং অব্রাহাম সেই মেষটা ধরে এনে বলি দিলেন| ঐ মেষটাই হল ঈশ্বরের জন্যে অব্রাহামের বলি| আর রক্ষা পেল অব্রাহামের পুত্র ইসহাক| 14 সুতরাং অব্রাহাম ঐ স্থানটির একটা নাম দিলেন, “যিহোবা-য়িরি|”এমন কি আজও লোকেরা বলে, “এই পর্বতে প্রভুকে দেখা যায়|” 15 স্বর্গ থেকে প্রভুর দূত দ্বিতীয়বার অব্রাহামকে ডেকে বললেন, 16 “আমার জন্যে তুমি তোমার একমাত্র পুত্রকেও বলি দিতে প্রস্তুত ছিলে| আমার জন্যে তুমি এত বড় কাজ করেছ বলে আমি তোমার কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি; আমি, প্রভু নিজেরই দিব্য করে প্রতিশ্রুতি করছি য়ে, 17 আমি তোমাকে অবশ্য আশীর্বাদ করব| আকাশে যত তারা, আমি তোমার উত্তরপুরুষদেরও সংখ্যাও তত করব| সমুদ্রতীরে যত বালি, তোমার উত্তরপুরুষরাও তত হবে| এবং তোমার বংশ তাদের সমস্ত শত্রুদের পরাস্ত করবে| 18 পৃথিবীর প্রত্যেক জাতি তোমার উত্তরপুরুষদের মাধ্যমে আশীর্বাদ পাবে| তুমি আমার আজ্ঞা পালন করেছ বলে তোমার উত্তরপুরুষদের জন্যে আমি একাজ করব|” 19 তখন অব্রাহাম তাঁর ভৃত্যদের কাছে ফিরে গেলেন| তাঁরা সকলে বের্-শেবাতে ফিরে এলেন এবং অব্রাহাম বের্-শেবাতেই থেকে গেলেন| 20 এইসব ঘটনার পরে অব্রাহামের কাছে এই খবর এল, “শোনো, তোমার ভাই নাহোর এবং তার স্ত্রী মিল্কারও এখন সন্তানাদি হয়েছে; 21 প্রথম পুত্রের নাম উষ, দ্বিতীয় পুত্রের নাম বূষ, তৃতীয় পুত্র কমূয়েল হল অরামের পিতা| 22 তারপরে আছে কেষদ, হসো, পিল্দশ, ষিদ্লক এবং বথুযেল|” 23 বথুয়েল হল রিবিকার পিতা| এই আট পুত্রের মাতা হল মিল্কা এবং পিতা হল নাহোর| আর নাহোর হচ্ছে অব্রাহামের ভাই| 24 তাছাড়া দাসী রূমার থেকেও নাহোরের আরও চারজন পুত্র ছিল| এই চার পুত্রের নাম টেবহ, গহম, তহশ এবং মাখা|

আদিপুস্তক 23

1 সারা 127 বছর বেঁচ্ছেিলেন| 2 কনান দেশের কিরিয়থ অর্ব অর্থাত্‌ হিব্রোণ নগরে তাঁর মৃত্যু হল| অব্রাহাম ভীষণ দুঃখ পেলেন, সারার জন্যে অনেক কাঁদলেন| 3 তারপর স্ত্রীর মৃতদেহ রেখে হেতের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলতে গেলেন| 4 তিনি বললেন, “দেশ পর্য়টন করতে করতে আপনাদের দেশে এসে আমি পরবাসী হিসেবে বাস করছি| ফলে আমার মৃত স্ত্রীকে কবর দেওয়ার মত আমার কোনও জায়গা নেই| আমি যাতে স্ত্রীকে কবর দিতে পারি তার জন্যে দয়া করে আমায় খানিকটা জায়গা দিন|” 5 হেতেরা উত্তরে বলল, 6 “মহাশয়, আমাদের মধ্যে আপনি ঈশ্বরের মহান নেতাদের একজন| আমাদের শ্রেষ্ঠ জমিতে আপনি আপনার মৃত স্ত্রীকে সমাধিস্থ করতে পারেন| আপনার স্ত্রীকে আপনি আপনার পছন্দমত জায়গাতে সমাধিস্থ করলে কেউ আপনাকে বাধা দেবে না|” 7 অব্রাহাম উঠে দাঁড়িয়ে তাঁদের নমস্কার করলেন| 8 অব্রাহাম তাদের বললেন, “আপনারা সত্যিই যদি আমার মৃত স্ত্রীকে কবর দেওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করতে চান তাহলে আমার হয়ে সোহরের পুত্র ইফ্রোণের সঙ্গে কথা বলুন| 9 ইফ্রোণের ক্ষেতের শেষে য়ে মক্পেলার গুহাটা আছে সেটা আমি কিনতে চাই| ইফ্রোণ ঐ গুহার মালিক| যা দাম হয়, সবটাই আমি দেব| আমি চাই য়ে আমার স্ত্রীর কবরের জন্যে য়ে ঐ জায়গা কিনছি আপনারা সবাই তার সাক্ষী থাকুন|” 10 য়াঁদের সঙ্গে অব্রাহাম কথা বলছিলেন তাঁদের মধ্যে ইফ্রোণ উপবিষ্ট ছিলেন| এখন ইফ্রোণ অব্রাহামকে বললেন, 11 “না, মহাশয়, এখানেই ঐ ক্ষেত এবং গুহাটিও আমি আমার লোকেদের সামনে আপনাকে দেব| আপনি যাতে আপনার ইচ্ছা মত আপনার স্ত্রীকে সমাধিস্থ করতে পারেন সেজন্যে ঐ জমি, গুহা আমি আপনাকে দেব|” 12 তখন অব্রাহাম সমবেত হেতের লোকদের সবিনয় নমস্কার করলেন| 13 সকলের উপস্থিতিতে তিনি ইফ্রোণকে বললেন, “কিন্তু আমি ঐ জমির পুরো দাম আপনাকে দিতে চাই| আমার দেওয়া দাম আপনি দয়া করে গ্রহণ করুন, আমি নির্দ্ধিধায় আমার স্ত্রীকে কবর দিই|” 14 উত্তরে ইফ্রোণ অব্রাহামকে বললেন, 15 “মহাশয়, আমার কথা শুনুন| আপনার ও আমার কাছে 10 পাউণ্ড ওজনের রূপোর তো কোন দাম নেই| সুতরাং আপনি জমিটা নিন এবং সেখানে নিশ্চিন্তে আপনার স্ত্রীকে সমাধিস্থ করুন|” 16 অব্রাহাম বুঝতে পারলেন য়ে ইফ্রোণের কথার মধ্যেই জমিটার মূল্য উল্লিখিত রয়েছে| সুতরাং অব্রাহাম ঐ মূল্যই ইফ্রোণকে দিলেন| ইফ্রোণের জন্যে অব্রাহাম 10 পাউণ্ড রূপো ওজন করলেন এবং সেই রূপো বণিককে দিলেন| 17 সুতরাং ইফ্রোণের জমির স্বত্ত্বাধিকারীর পরিবর্তন হল| মম্রির পূর্বদিকে মক্পোলায ঐ জমি অবস্থিত| এখন ঐ জমির স্বত্ত্বাধিকারী হলেন অব্রাহাম| তিনি ঐ জমির অন্তর্গত গুহা এবং সমস্ত বৃক্ষাদির স্বত্ত্বাধিকারী হলেন| সমস্ত নগরবাসী ইফ্রোণ ও অব্রাহামের মধ্যে ঐ চুক্তি সম্পাদন প্রত্যক্ষ করলেন| 18 19 তারপর অব্রাহাম মম্রির (হিব্রোণে) নিকটস্থ জমিতে অর্থাত্‌ কনান দেশের এক গুহার মধ্যে তাঁর স্ত্রী সারাকে সমাধিস্থ করলেন| 20 অব্রাহাম হেতের জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে ঐ জমি ও জমির মধ্যেকার গুহা কিনলেন| এখন ঐ জমি গুহা হল অব্রাহামের সম্পত্তি এবং ঐ জায়গা তিনি সমাধিস্থল হিসেবে ব্যবহার করতে লাগলেন|

আদিপুস্তক 24

1 অব্রাহাম অত্যন্ত বৃদ্ধ বয়স পর্য্ন্ত জীবিত ছিলেন| অব্রাহাম ও তাঁর কৃত সমস্ত কর্মে প্রভুর আশীর্বাদ ছিল| 2 অব্রাহামের সমস্ত সম্পত্তি দেখাশোনার জন্যে একজন পুরানো ভৃত্য ছিল| অব্রাহাম সেই ভৃত্যকে একদিন ডেকে বললেন, “আমার উরুর নীচে হাত দাও| 3 এখন আমার কাছে তুমি একটা প্রতিজ্ঞা করো| স্বর্গ ও মর্য়্তের ঈশ্বর প্রভুর সাক্ষাতে আমায় কথা দাও য়ে কনানের কোন কন্যাকে আমার পুত্র বিয়ে করবে, এরকমটা তুমি কখনও হতে দেবে না| আমরা কনানীয়দের মধ্যে বাস করি বটে, কিন্তু আমার পুত্রের সঙ্গে কোনও কনানীয় কন্যার বিয়ে হতে দেবে না| 4 আমার দেশে আমার স্বজাতির কাছে ফিরে যাও| সেখানে আমার পুত্র ইসহাকের জন্যে পাত্রী খুঁজে বের করে তাকে এখানে নিয়ে এস|” 5 ভৃত্যটি তাঁকে বলল, “এমন তো হতে পারে য়ে কোনও পাত্রী আমার সঙ্গে এদেশে আসতে রাজী হল না| তাহলে কি আমি আপনার পুত্রকে আমার সঙ্গে নিয়ে আপনার জন্মভূমিতে যাব?” 6 অব্রাহাম তাকে বলল, “না! আমার পুত্রকে ঐ দেশে নিয়ে য়েও না| 7 স্বর্গের প্রভু বয়ং ঈশ্বর আমার স্বদেশ থেকে সপরিবারে আমায় এখানে নিয়ে এসেছেন| ঐ দেশ আমার পিতার ও পরিবারের স্বদেশ ছিল| কিন্তু প্রভু কথা দিয়েছেন য়ে এই নতুন দেশ হবে আমার পরিবারের স্বদেশ| প্রভু তোমার আগে তাঁর দূত পাঠাবেন যাতে তুমি আমার পুত্রের জন্য একটি পাত্রী পছন্দ করে তাকে এখানে আনতে পার| 8 কিন্তু যদি সেই পাত্রী তোমার সঙ্গে এই দেশে আসতে না চায় তাহলে তুমি তোমার শপথ থেকে মুক্তি পাবে| কিন্তু তুমি কখনও আমার পুত্রকে সেই দেশে ফিরিযে নিয়ে যাবে না|” 9 সুতরাং ভৃত্যটি তার মনিবের উরুর নীচে হাত দিয়ে সেই রকমই শপথ করল| 10 পরিচারকটি অব্রাহামের দশটি উট নিয়ে সেই স্থান ত্যাগ করল| সঙ্গে নিয়ে গেল নানা ধরণের সুন্দর সুন্দর উপহার| সে গেল নাহোরের নগর মেসোপটেমিযাতে| 11 নগরের বাইরে সেই ভৃত্য জলের কূপের দিকে গেল| সন্ধ্যার সময় নগরের মেয়েরা সেই কূপে জল নিতে বেরিয়ে এল| ভৃত্যটি উটগুলোকে সেখানে হাঁটু গেড়ে বসাল| 12 ভৃত্যটি বলল, “প্রভু, আপনি আমার মনিব অব্রাহামের ঈশ্বর| আজ আমার মনিবের পুত্রের জন্যে একটি য়োগ্য পাত্রী নির্বাচনে আপনি আমায় সাহায্য করুন| অনুগ্রহ করে আমার প্রভু অব্রাহামকে এই দয়া করুন| 13 এখানে কূপের ধারে আমি দাঁড়িয়ে আছি| নগরের তরুণী রমনীরা এই কূপের জল নিতে আসছে| 14 ইসহাকের জন্যে কোন পাত্রীটি উপযুক্ত তা জানার একটা বিশেষ ইঙ্গিত দেখতে পাব বলে এখানে আমি অপেক্ষা করছি| সেই বিশেষ ইঙ্গিতটি হল এই: আমি মেয়েটিকে বলব, ‘তোমার কলসী থেকে আমায় একটু জল দাও|’ সেই মেয়েটিই য়ে উপযুক্ত তা আমি বুঝতে পারব যদি সে বলে, ‘নিন, এই জলে তেষ্টা মেটান| আপনার উটগুলোকে আমি জল দিচ্ছি|’ এরকমটা যদি ঘটে তাহলে আমি বুঝব আপনার কাছ হতে আসা সেটাই প্রমাণ য়ে ঐ মেয়েই ইসহাকের জন্যে সঠিক পাত্রী এবং আমি জানব য়ে আপনি আমার মনিবকে দয়া করেছেন|” 15 ভৃত্য প্রার্থনা শেষ করার আগেই রিবিকা নামে একটি তরুনী কূপের কাছে এল| রিবিকা বথুযেলের কন্যা| বথুযেল ছিল অব্রাহামের ভাই নাহোর ও তার স্ত্রী মিল্কার পুত্র| জল নেওয়ার কলসী কাঁধে নিয়ে রিবিকা কূপের কাছে এল| 16 রিবিকা অসাধারণ সুন্দরী| সে কখনও কোন পুরুষের সঙ্গে ঘুমায নি| সে ছিল কুমারী| কূপের ধারে গিয়ে সে কলসী ভরে জল নিল| 17 তখন সেই ভৃত্য তাড়াতাড়ি তার কাছে গিয়ে বলল, “দারুণ তৃষ্ণা, দয়া করে তোমার কলসী থেকে একটু জল দাও|” 18 রিবিকা সঙ্গে সঙ্গে কাঁধ থেকে কলসী নামিযে তার আঁজলায জল ঢেলে দিয়ে বলল, “এই নিন, তৃষ্ণা মেটান|” 19 তাকে জল খেতে দেওয়ার পরে রিবিকা বলল, “আপনার উটগুলোকেও আমি জল দিচ্ছি|” 20 তখন রিবিকা কলসী খালি করে সবটা জল ঢেলে দিল উটেদের পানপাত্রে| তারপর আবার কূপ থেকে আরও জল আনতে গেল| এভাবে সে সবগুলো উটকেই জল পান করতে দিল| 21 সেই ভৃত্য নীরবে রিবিকার সমস্ত কাজ লক্ষ্য করতে লাগল| সে নিশ্চিত হতে চাইছিল য়ে প্রভু তার প্রার্থনা শুনেছেন কিনা এবং ইসহাকের জন্যে কন্যা সন্ধান সফল হয়েছে কিনা| 22 উটগুলোর জলপান শেষ হলে সে রিবিকাকে একটা 1/4 আউন্স ওজনের সোনার আংটি দিল| তাছাড়া সে এক-একটি 5 আউন্স ওজনের দুখানা সোনার বালাও রিবিকাকে দিল| 23 ভৃত্যটি রিবিকাকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার পিতা কে? তোমার পিতার গৃহে কি আমার লোকেদের রাতে থাকার কোনও ব্যবস্থা হতে পারে?” 24 রিবিকা উত্তর দিল, “বথুযেল আমার পিতা| তিনি মিল্কা ও নাহোরের পুত্র|” 25 তারপর সে বলল, “উটগুলোকে খেতে দেওয়ার মত খড় আর আপনাদের ঘুমোতে দেওয়ার মত জায়গা দুটোই আমাদের আছে|” 26 ভৃত্যটি সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করে প্রভুর উপাসনা করল| 27 সে বলল, “ধন্য প্রভু, আমার মনিব অব্রাহামের ঈশ্বর| আমার মনিবের প্রতি প্রভু দয়া ও বিশ্বস্ততার ব্যবহার করেছেন| প্রভু আমাকে আমার মনিবের আত্মীয়দের বাড়ীতে নিয়ে এসেছেন আমার মনিবের পুত্রের জন্য য়োগ্য পাত্রী খুঁজে বের করার জন্য|” 28 তখন রিবিকা ছুটে গিয়ে যা যা ঘটেছে সেসব তার পরিবারের সবাইকে বলল| 29 রিবিকার এক ভাই ছিল| তার নাম লাবন| সেই আগন্তুক যা কিছু বলেছে, সেইসব রিবিকা যখন বলছিল তখন লাবন মন দিয়ে সব শুনছিল এবং লাবন যখন তার দিদির আঙুলে আংটি আর হাতে বালা দেখল তখন ছুটে বেরিয়ে গিয়ে সেই কূপের ধারে এল| সেই লোকটি তখন কূপের ধারে উটগুলো নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল| 30 31 লাবন বলল, “মহাশয়, আপনাকে আমাদের আলযে স্বাগত জানাই| আপনার এখানে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই| আপনাদের বিশ্রামের জন্যে আমি সমস্ত বন্দোবস্ত করছি এবং আপনাদের উটগুলোর জন্যে আমাদের বাড়ীতে জায়গা আছে|” 32 তাই অব্রাহামের ভৃত্য তাদের বাড়ীর ভেতরে গেল| উটগুলোর থেকে বোঝা নামাতে লাবন তাদের সাহায্য করল এবং উটগুলোকে খাবারের জন্য খড়ও দিল| লাবন তারপর সেই ভৃত্য ও তার লোকেদের পা ধোওযার জন্য জল দিল| 33 তারপর লাবন তাদের খাওয়ার জন্য খাবার দিল| কিন্তু ভৃত্যটি খেতে রাজী হল না| সে বলল, “আমি কেন এসেছি তা না বলে আমি খাব না|” তখন লাবন বলল, “তাহলে আমাদের বলুন|” 34 তখন সেই ভৃত্য বলল, “আমি অব্রাহামের পরিচারক| 35 কিন্তু সমস্ত বিষয়েই আমার মনিবকে আশীর্বাদ করেছেন| আমার মনিব এখন এক মহান ব্যক্তি| অব্রাহামকে প্রভু অনেক মেষের পাল এবং প্রচুর গবাদি পশু দিয়েছেন| অব্রাহামের এখন অনেক সোনা, রূপা, অনেক দাসদাসী| অব্রাহামের অনেক উট ও গাধা আছে| 36 আমার মনিবের স্ত্রী ছিলেন সারা| অনেক বয়সে তিনি একটি পুত্রের জন্ম দিলেন এবং আমার মনিব তাঁর সমস্ত ধন-সম্পদ তাঁর এই পুত্রকে দিয়েছেন| 37 আমার মনিব আমায় একটা শপথ নিতে বাধ্য করেছেন| আমার মনিব আমার বললেন, “আমার পুত্রকে তুমি কনানের কোনও কন্যাকে বিয়ে করতে দেবে না| আমরা কনানের লোকেদের মধ্যে বাস করি বটে, কিন্তু আমি চাই না য়ে সে কনানের কোনও কন্যাকে বিয়ে করে| 38 সুতরাং তুমি শপথ করো য়ে তুমি আমার পিতার দেশে যাবে| আমার আত্মীয়স্বজনদের কাছে যাও এবং আমার পুত্রের জন্যে একজন পাত্রী নির্বাচন করো|’ 39 তখন আমি আমার মনিবকে বললাম, ‘সেই পাত্রী আমার সঙ্গে এই দেশে আসতে না চাইতেও পারে|’ 40 কিন্তু আমার মনিব বললেন, “আমি প্রভুর সেবা করেছি এবং সেই একই প্রভু তাঁর দূত পাঠাবেন তোমার সঙ্গে তোমার সাহায়্য়ের জন্য| আমার আত্মীয়স্বজনদের মধ্যেই তুমি আমার পুত্রের জন্যে পাত্রী খুঁজে পাবে| 41 কিন্তু তুমি যদি আমার পিতার দেশে যাও আর তাঁরা যদি আমার পুত্রের জন্যে মেয়ে দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে তুমি এই শপথের দায থেকে মুক্ত হবে|’ 42 “আজ আমি এই কূপের পাড়ে এসে প্রার্থনা করলাম, ‘প্রভু, আপনি আমার মনিব অব্রাহামের ঈশ্বর, দয়া করে আমার এই যাত্রাকে সফল করুন| 43 আমি এই কূপের পাশে দাঁড়িয়ে জল নেওয়ার জন্যে আসা একটি মেয়ের জন্যে অপেক্ষা করব| সে জল নিতে এলে আমি বলব, “দয়া করে তোমার কলসী থেকে আমায় একটু জল পান করতে দাও|” 44 এতে উপযুক্ত পাত্রী একটা বিশেষভাবে উত্তর দেবে| সে বলবে, “এই জল আপনি পান করুন আর আপনার উটগুলোকেও আমি জল পান করতে দেব|” য়ে মেয়ে এইভাবে উত্তর দেবে, আমি জানব, সে-ই আমার মনিবের পুত্রের জন্যে উপযুক্ত পাত্রী হবে যাকে প্রভু নির্বাচন করেছেন|’ 45 “আমার প্রার্থনা শেষ করার আগেই রিবিকা জল নেওয়ার জন্যে কূয়ো তলায় এল| জলে কলসীটা তার কাঁধে ছিল| আমি তার কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্যে জল চাইলাম| 46 তখনই সে কাঁধ থেকে কলসী নামিযে আমার আঁজলায খানিকটা জল ঢেলে দিল| তারপর সে বলল, ‘এই জল আপনি পান করুন আর আপনার উটগুলোর জন্যে আমি আরও জল দিচ্ছি|’ তখন আমি সেই জল পান করলাম এবং মেয়েটি উটগুলোকেও জল পান করতে দিল| 47 তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার পিতা কে?’ সে বলল, ‘বথুযেল আমার পিতা| তিনি মিল্কা ও নাহোরের পুত্র|’ তখন আমি তাকে আংটি আর বালা জোড়া দিলাম| 48 আর প্রণিপাত করে আমি প্রভুকে ধন্যবাদ জানালাম| আমি প্রভুকে আমার মনিব অব্রাহামের ঈশ্বরকে প্রশংসা করলাম| আমায় সোজা আমার মনিবের ভাইয়ের নাতনির কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে ধন্যবাদ জানাই প্রভুকে| 49 এখন আমায় বলুন, আপনি কি আমার মনিবের প্রতি সদয এবং বিশ্বস্ত হয়ে তাঁকে আপনার কন্যাটিকে দেবেন? না কি গররাজী হবেন? আপনি খুলে বলুন যাতে আমি কি করব, না করব ঠিক করতে পারি|” 50 তখন লাবন এবং বথুয়েল উত্তর দিলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, সবই প্রভুর ইচ্ছা অনুসারে হচ্ছে| সুতরাং তোমাকে আমরা এটি বদলাবার জন্য কিছুই বলতে পারি না| 51 তাই রিবিকাকে দিলাম| ওকে নিয়ে যাও| ওর সঙ্গে তোমার মনিবের পুত্রের বিয়ে দাও| প্রভুর এটাই ইচ্ছা|” 52 যখন অব্রাহামের ভৃত্য একথা সে প্রভুর সামনে ভূমিতে প্রণিপাত করল| 53 তখন সে য়েসব উপহার সামগ্রী এনেছিল সেসব রিবিকাকে দিল| সে তাকে খুব সুন্দর সুন্দর জামা কাপড় এবং সোনা ও রূপার নানা অলঙ্কার দিল| তার ভাই এবং মাকেও দিল বহু রকম মূল্যবান সামগ্রী| 54 তারপর তারা খাওয়াদাওযা সেরে সেখানে রাত্রিযাপন করল| পরদিন খুব সকালে উঠে তারা বলল, “এখন আমার মনিবের কাছে আমাদের ফিরে য়েতে হবে|” 55 তখন রিবিকার মা ও ভাই বলল, “রিবিকা আরও কিছুদিন আমাদের কাছে থাকুক| আর দশ দিন আমাদের কাছে থাক| তারপর সে য়েতে পারে|” 56 কিন্তু ভৃত্য তাদের বলল, “আমায় দেরী করিয়ে দেবেন না| প্রভু আমার যাত্রা সফল করেছেন| এবার আমার প্রভুর কাছে তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়া দরকার|” 57 রিবিকার মা ও ভাই বলল, “রিবিকাকে ডেকে আনি - ও কি বলে শোনা যাক্|” 58 তাঁরা রিবিকাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি এঁর সঙ্গে এখনই যেতে চাও?”রিবিকা বলল, “হ্যাঁ, আমি যাব|” 59 সুতরাং তাঁরা অব্রাহামের ভৃত্য ও তার লোকজনের সঙ্গে রিবিকাকে য়েতে দিলেন| রিবিকাকে ছোটবেলা থেকে য়ে দাসী মানুষ করেছে সে-ও তাদের সঙ্গে চলল| 60 যখন রিবিকা যাত্রা শুরু করল তাঁরা তাকে বললেন,“আমাদের বোন, তুমি হও লক্ষ লক্ষ জনের জননী| তোমার উত্তরপুরুষগণ শত্রুদের পরাজিত করে দখল করুক তাদের নগরগুলি|” 61 তারপর রিবিকা ও তার দাসী উটের পিঠে চড়ে অব্রাহামের ভৃত্য ও তার লোকজনদের অনুগমন করল| সুতরাং সেই ভৃত্য রিবিকাকে নিয়ে প্রভু গৃহের পথে যাত্রা করল| 62 ইসহাক তখন বের্-লহয্-রোযী ত্যাগ করে নেগেভে বাস করছিলেন| 63 একদিন সন্ধ্যায় একান্তে ধ্যান করার জন্যে ইসহাক নির্জন প্রান্তরে বেড়াতে গিয়েছিলেন| ইসহাক চোখ তুলে দেখলেন য়ে দূর থেকে উটের সারি আসছে| 64 রিবিকাও ইসহাককে দেখতে পেলেন| তখন সে উটের পিঠ থেকে লাফিয়ে নেমে পড়ল| 65 ভৃত্যকে জিজ্ঞেস করল, “কে ঐ তরুণ মাঠের মধ্যে দিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে?”ভৃত্য উত্তর দিল, “ঐ আমার মনিবের পুত্র|” শুনে রিবিকা ওড়না দিয়ে তার মুখ ঢাকল| 66 সেই ভৃত্য যা-যা ঘটেছে সব ইসহাককে বলল| 67 তখন ইসহাক মেয়েটিকে তাঁর মায়ের তাঁবুতে নিয়ে গেলেন| সেদিন থেকে রিবিকা হল ইসহাকের স্ত্রী| ইসহাক তাকে খুব ভালবাসলেন| তাকে ভালবেসে ইসহাক মায়ের মৃত্যুর শোকে সান্ত্বনা পেলেন|

আদিপুস্তক 25

1 অব্রাহাম আবার বিবাহ করলেন| তাঁর নতুন স্ত্রীর নাম কটুরা| 2 অব্রাহামের ঔরসে কটুরা সিম্রণ, য়ক্ষণ, মদান, মিদিয়ন, যিশবক এবং শূহরের জন্ম দেন| 3 যক্ষণ ছিলেন শিবা ও দদানের জনক| অশূরীয়, লিযুশ্মীয় আর লটুনীয় অধিবাসীরা ছিল দদানের উত্তরপুরুষ| 4 ঐফা, এফর, হনোক, অবীদ এবং ইল্দারা ছিল মিদিয়নের সন্তানসন্ততি| অব্রাহাম ও কটুরার বিবাহের ফলে এইসব পুত্রদের জন্ম হয়| 5 মৃত্যুর আগে অব্রাহাম তাঁর রক্ষিত দাসীদের গর্ভজাত পুত্রদের নানা রকম উপহার দিয়ে তাদের পূর্ব দেশে পাঠান| তিনি তাদের ইসহাকের কাছ থেকে দূরে পাঠিয়ে দিয়ে তাঁর যা কিছু ছিল সব ইসহাককে দেন| 6 7 অব্রাহাম 175 বছর বয়স পর্য্ন্ত বেঁচে ছিলেন| 8 তারপর অব্রাহাম ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন| সুদীর্ঘ ও সুখী জীবন ছিল তাঁর| তিনি মারা গেলেন এবং তাঁকে তাঁর আপনজনের কাছে নিয়ে যাওয়া হল| 9 তাঁর দুই পুত্র| ইসহাক আর ইশ্মাযেল মিলে তাঁর মৃতদেহ মক্পেলার গুহাতে কবর দিল| সোহরের পুত্র ইফ্রোণের জমিতে ঐ গুহা| জায়গাটা ছিল মম্রির পূর্ব দিকে| 10 এই সেই গুহা য়েটা হেতের সন্তানদের কাছ থেকে কিনেছিলেন| সেখানে স্ত্রী সারার কবরের পাশে অব্রাহামকে কবর দেওয়া হল| 11 অব্রাহামের মৃত্যুর পরে ঈশ্বর ইসহাককে আশীর্বাদ করলেন| ইসহাক বের্-লহয়-রোযীতে বসবাস করতে থাকলেন| 12 ইশ্মায়েলের বংশ বৃত্তান্ত এই| অব্রাহাম ও হাগারের পুত্র ছিলেন ইশ্মাযেল| (হাগার ছিলেন সারার মিশরীয দাসী|) 13 ইশ্মাযেলের পুত্রদের নামগুলো হল: প্রথম পুত্র ছিল নবায়োত্‌, তারপর জন্মায় কেদর, তারপরে যথাক্রমে অদ্বেল, মিষ্মম, 14 মিশ্ম, দুমা, মসা, 15 হদদ, তেমা, যিটুর, নাফীশ এবং কেদমা| 16 এইগুলি হল ইশ্মায়েলের পুত্রদের নাম| প্রত্যেকের এক-একটা ছোট বসতি ছিল এবং প্রত্যেকটি বসতি আস্তে আস্তে শহরে পরিণত হয়| বারোটি পুত্র য়েন বারো জন রাজপুত্র এবং প্রত্যেকের নিজস্ব জনবল| 17 ইশ্মায়েল 137 বছর বেঁচ্ছেিলেন| তারপর তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়| 18 ইশ্মাযেলের উত্তরপুরুষরা সমগ্র মরুভূমি অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে| এই অঞ্চলটি ছিল মিশরের কাছে হুবীলা থেকে শূর পর্য্ন্ত বিস্তৃত এবং এখান থেকে তা বিস্তৃত ছিল অশূরিযা পর্য্ন্ত| ইশ্মাযেলের উত্তরপুরুষেরা প্রায়ই তার ভাইয়ের লোকেদের আক্রমণ করত| 19 এবার ইসহাকের কাহিনী ইসহাক নামে অব্রাহামের এক পুত্র ছিল| 20 যখন ইসহাকের বয়স 40 হল তখন তিনি রিবিকাকে বিয়ে করলেন| রিবিকা ছিলেন পদ্দন্ অরাম অঞ্চলের মেয়ে| তাঁর পিতা বথুযেল এবং অরামীয় লাবন ছিলেন তাঁর ভাই| 21 ইসহাকের স্ত্রীর সন্তানাদি হচ্ছিল না| তাই তিনি প্রভুর কাছে তার স্ত্রীর জন্যে প্রার্থনা করলেন এবং প্রভু তার প্রার্থনা শুনলে রিবিকা গর্ভবতী হলেন| 22 গর্ভবতী অবস্থায় রিবিকা যন্ত্রণা ভোগ করছিলেন কারণ তাঁর গর্ভে দুটি শিশু একে অপরকে জোরে ঠেলাঠেলি করছিল| গর্ভস্থ শিশুর জন্যে রিবিকা অনেক কষ্ট পেতে থাকেন| তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে জানতে চাইলেন, “আমার কেন এমন হচ্ছে?” 23 প্রভু উত্তরে বললেন, “তোমার গর্ভের মধ্যে দুটি জাতি আছে| তুমি দুই মহান বংশের শাসকদের জন্ম দেবে| তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটবে| এক পুত্রের অপেক্ষা অন্য পুত্র শক্তিশালী হবে| ছোট পুত্রের সেবা করবে বড় পুত্র|” 24 যথাসময়ে রিবিকা দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দিলেন| 25 প্রথম সন্তানের গায়ের রং ছিল লাল| গায়ের ত্বক ছিল লোমশ বস্ত্রের মত| তাই তার নাম রাখা হল এষৌ| 26 তারপরে যখন দ্বিতীয় সন্তানটির জন্ম হল তখন তার শক্ত মুঠোর মধ্যে এষৌর পায়ের গোড়ালি ধরা ছিল| তাই তার নাম রাখা হল যাকোব| এষৌ এবং যাকোবের জন্মের সময় ইসহাকের বয়স ছিল 60 বছর| 27 ছেলে দুটি বড় হতে লাগল| এষৌ হল একজন দক্ষ শিকারী| সে জঙ্গলে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে ভালবাসত| কিন্তু যাকোব ছিল শান্ত প্রকৃতির| সে তাঁবুতেই থাকত| 28 ইসহাক এষৌকে ভালবাসতেন| এষৌর শিকার করা পশুর মাংস খেতে তিনি ভালবাসতেন| কিন্তু রিবিকা যাকোবকে ভালবাসতেন| 29 একবার এষৌ শিকার থেকে ফিরে এল| ক্ষুধায সে ছিল ক্লান্ত ও দুর্বল| তখন যাকোব এক হাঁড়ি শিম সেদ্ধ করছিল| 30 এষৌ যাকোবকে বলল, “ক্ষিধের জ্বালায় আমি ক্লান্ত| আমায় এই লাল বীন কিছু খেতে দাও|” (সেজন্যে সবাই তাকে ইদোম বলে|) 31 কিন্তু যাকোব বলল, “তাহলে তুমি আজ বড় পুত্রের অধিকার আমায় বিক্রি করো|” 32 এষৌ বলল, “ক্ষিধের চোটে আমি এমনিতেই আধমরা হয়ে গেছি| মরেই যদি যাই তাহলে পিতার সব সম্পত্তি আমার কোন কাজে লাগবে? তাই আমার ভাগ আমি তোমায় দেব|” 33 কিন্তু যাকোব বলল, “আগে প্রতিজ্ঞা করো য়ে তোমার ভাগ আমায় দেবে|” অতএব যাকোবের কাছে এষৌ প্রতিজ্ঞা করল| এষৌ পিতার সম্পত্তি থেকে নিজের ভাগ যাকোবকে বিক্রি করল| 34 তখন যাকোব এষৌকে রুটি ও খাবার দিল| এষৌ খেয়েদেযে পরিতৃপ্ত হয়ে চলে গেল| সুতরাং এষৌ প্রমাণ করল য়ে বড় পুত্রের অধিকার নিয়ে তার কোনও মাথাব্যথা নেই|

আদিপুস্তক 26

1 একবার দুর্ভিক্ষ হল| অব্রাহামের সময় য়েমন হয়েছিল এই দুর্ভিক্ষটা তেমনই ছিল| তখন ইসহাক পলেষ্টীয়দের অবীমেলকের সঙ্গে দেখা করার জন্যে গরারে গেলেন| 2 প্রভু ইসহাককে দর্শন দিলেন এবং বললেন, “মিশরে য়েও না| আমি তোমায় য়ে দেশে বাস করার পরামর্শ দিচ্ছি সেই দেশে বাস করো| 3 সেই দেশে থাকো এবং আমি তোমার সঙ্গে থাকব| আমি তোমায় আশীর্বাদ করব| এই যত জমিজমা দেখচ সব আমি তোমায় ও তোমার পরিবারকে দেব| তোমার পিতা অব্রাহামকে আমি যা-যা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সে সব কথা আমি রাখব| 4 আকাশের তারার মত তোমার উত্তরপুরুষরা হবে অসংখ্য এবং তোমার পরিবার এই সমস্ত জমির মালিক হবে| তোমার উত্তরপুরুষদের মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত জাতি আমার আশীর্বাদ পাবে| 5 তোমার পিতা অব্রাহাম আমার কথা, আমার আদেশ, আমার বিধি, আমার নিয়ম সব কিছু পালন করেছিল এবং আমি তাকে যা যা করতে বলেছিলাম সব করেছিল বলে আমি এটা করব|” 6 সুতরাং ইসহাক গরারে থেকে গেলেন এবং সেখানেই বাস করতে লাগলেন| 7 ইসহাকের স্ত্রী রিবিকা ছিল অপূর্ব সুন্দরী| গরারের বাসিন্দারা রিবিকার সম্পর্কে ইসহাককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল| ইসহাক বললেন, “ও আমার বোন|” রিবিকাকে তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয দিতে ইসহাক ভয় পেল| ইসহাকের ভয় হল য়ে রিবিকাকে পাওয়ার জন্যে তারা তাকে হত্যা করতে পারে| 8 তারপর ইসহাক সেখানে বহুদিন থেকেছিলেন| একদিন অবীমেলক জানালা দিয়ে ইসহাক ও তার স্ত্রী রিবিকাকে খেলা করতে দেখলেন| 9 তখন অবীমেলক ইসহাককে ডেকে পাঠালেন| অবীমেলক বললেন, “এই নারী আসলে তোমার স্ত্রী| আমায় কেন মিথ্যে করে বলেছিলে য়ে এ তোমার বোন?”ইসহাক বলল, “আমি ভয় পেয়েছিলাম য়ে একে স্ত্রী বলে পরিচয দিলে ওকে পাওয়ার জন্যে আপনি আমায় হত্যা করবেন|” 10 অবীমেলক বললেন, “আমাদের প্রতি অত্যন্ত অন্যায় অবিচার করেছ| আমাদের মধ্যে কেউ যদি তোমার স্ত্রীকে শয়্য়াসঙ্গিনী করতো তাহলে সে মহাপাপের ভাগী হত|” 11 সুতরাং অবীমেলক তাঁর সমস্ত প্রজাদের সাবধান করে দিলেন| তিনি বললেন, “কেউ এই লোকটির বা এর স্ত্রীর কোন ক্ষতি করবে না| যদি কেউ এদের কোনও ক্ষতি করে তাহলে তার শাস্তি হবে মৃত্যু|” 12 ইসহাক তাঁর ক্ষেতে চাষ করলেন| এবং সে বছর খুব ভাল ফসল হল| প্রভু তাঁকে খুব আশীর্বাদ করলেন| 13 ইসহাক ধনী হলেন| তিনি আরও অনেক ধন উপার্জন করলেন| এভাবে তিনি একজন অত্যন্ত ধনবান ব্যক্তি হলেন| 14 তিনি প্রচুর মেষপাল ও গো-পালের মালিক হলেন| তাঁর বিশাল দাস ও ধন ছিল| সমস্ত পলেষ্টীয় মানুষরা তাঁকে ঈর্ষা করতে লাগল| 15 ফলে অনেক কাল আগে অব্রাহাম ও তাঁর লোকজন য়েসব কূপ খনন করেছিলেন সেগুলো পলেষ্টীয়রা বুজিযে ফেলল| 16 এমনকি অবীমেলক পর্য্ন্ত ইসহাককে বললেন, “আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যাও| তুমি আমাদের অপেক্ষা অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে গেছ|” 17 সুতরাং ইসহাক সেই স্থান ত্যাগ করে সঙ্কীর্ণ গরার নদীর ধারে এসে শিবির স্থাপন করলেন| ইসহাক সেখানে অবস্থান করে সেখানেই বসবাস করতে লাগলেন| 18 এর বহুকাল আগে অব্রাহাম প্রচুর কূপ বা জলাশয খনন করেছিলেন| অব্রাহাম মারা গেলে পলেষ্টীয়রা সেইসব কূপ মাটি দিয়ে বুজিযে ফেলেছিল| 19 তখন ইসহাক ফিরে গিয়ে আবার সেই কূপগুলি খনন করলেন| ইসহাকের ভৃত্যরাও ছোট নদীটির কাছে একটা কূপ খনন করল এবং তারা সেই কূপের মধ্যে একটি জলের ঝর্ণা দেখতে পেল| 20 গরার উপত্যকায় যারা মেষ চরাত তাদের সঙ্গে ইসহাকের লোকজনদের বিবাদ বাধল| তারা বলল, “এই জল আমাদের|” তাই ইসহাক ঐ কূপটির নাম দিলেন এষক| তিনি কূপটির ঐ নাম দিলেন, কারণ ঐখানেই তর্কাতর্কিটা হয়েছিল| 21 ইসহাকের লোকেরা আর একটি কূপ খনন করল| সেই কূপ নিয়ে ইসহাকের লোকেদের সঙ্গে স্থানীয লোকেদের আবার বিবাদ বাধল| তাই ইসহাক ঐ কূপটির নাম দিলেন সিট্ন| 22 সেখান থেকে সরে গিয়ে ইসহাক আবার একটি কূপ খনন করলেন| এবার ঐ কূপটির নাম দিলেন রহোবোত্‌| ইসহাক বললেন, “এবার প্রভু আমাদের জন্যে একটা জায়গা পেয়েছেন| এখানেই আমরা বহুগুণ হব ও সফল হব|” 23 সেখান থেকে ইসহাক গেলেন বের্শেবাতে| 24 সেই রাত্রে প্রভু ইসহাকের সঙ্গে কথা বললেন| প্রভু বললেন, “আমি তোমার পিতা অব্রাহামের ঈশ্বর| ভয় পেও না| আমি তোমার সঙ্গে আছি এবং তোমায় আশীর্বাদ করছি| তোমার পরিবারকে আমি এক মহান পরিবারে পরিণত করব| আমার বিশ্বস্ত সেবক অব্রাহামের জন্যে আমি একাজ করব|” 25 সুতরাং ইসহাক এক বেদী নির্মাণ করে সেখানে প্রভুর উপাসনা করলেন| ইসহাক সেই জায়গায় তাঁবু স্থাপন করলেন আর তাঁর পরিচারকরা সেখানে কূপ খনন করলো| 26 গরার থেকে অবীমেলক এলেন ইসহাকের সঙ্গে দেখা করতে| অবীমেলকের সঙ্গে তাঁর উপদেষ্টা অহূষত্‌ এবং তাঁর সৈন্যাধ্যক্ষ ফীকোলও এলেন| 27 ইসহাক জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার কাছে এসেছেন কেন? আগে আপনি আমার সঙ্গে বন্ধুর মত ব্যবহার করেন নি| এমনকি আপনার রাজ্য থেকে আপনি আমায় তাড়িয়ে দিয়েছিলেন|” 28 উত্তরে তাঁরা বললেন, “এখন আমরা জেনেছি য়ে প্রভু আপনার সঙ্গে আছেন| আমরা মনে করি য়ে আমাদের মধ্যে একটা চুক্তি হওয়া উচিত্‌| আমরা চাই আপনি আমাদের কাছে শপথ নিনি| 29 আমরা আপনাকে কখনও আঘাত করি নি| আপনিও দিব্য করুন য়ে আমাদের কখনও আঘাত করবেন না| আমরা আপনাকে বহিষ্কার করেছিলাম| এখন এটা পরিষ্কার য়ে প্রভু আপনাকে আশীর্বাদ করেছেন|” 30 সুতরাং ইসহাক অভ্য়াগতদের জন্যে এক ভোজসভার আযোজন করলেন| সবাই পরিতৃপ্তির সঙ্গে পানভোজন করলেন| 31 পরদিন খুব সকালে তাঁরা একে অপরের কাছে একটি প্রতিজ্ঞা করলেন| তারপর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বিদায নিলেন| 32 সেইদিন ইসহাকের ভৃত্যরা এসে তারা য়ে কূপ খনন করেছিল তার কথা জানাল| তারা বলল, “ঐ কূপের মধ্যে জল পাওয়া গেছে|” 33 তাই ইসহাক ঐ কূপের নাম দিলেন শিবিরা এবং এখনও ঐ নগরী বের্-শেবা নামে পরিচিত| 34 এষৌর যখন 40 বছর বয়স হল তখন সে দুজন হিত্তীয় রমণীকে বিবাহ করল| একজন ছিল বেরির কন্যা য়িহূদীত্‌| অন্যজন ছিল এলনের কন্যা বাসমত্‌| 35 এই বিবাহ দুটিতে ইসহাক এবং রিবিকা মানসিকভাবে বিপর্য়স্ত হয়েছিলেন|

আদিপুস্তক 27

1 ইসহাক ক্রমশঃ বৃদ্ধ হলেন, ক্ষীণ হল তাঁর দৃষ্টিশক্তি - আর কিছু ভাল দেখতে পান না| একদিন তিনি বড় পুত্রকে ডাকলেন, “এষৌ!”এষৌ উত্তর দিল, “আমি এখানে|” 2 ইসহাক বললেন, “আমি বৃদ্ধ হয়েছি| শীঘ্রই মারাও য়েতে পারি| 3 তাই তোমার তীরধনুক নিয়ে শিকারে যাও| আমার খাওয়ার জন্যে একটা কিছু শিকার করে আনো| 4 আমি ভালবাসি এখন কোনও খাবার তৈরী কর| আমায় খাবার এনে দাও, আমি খাই| মৃত্যুর আগে তোমায় আশীর্বাদ করে যাই|” 5 তখন এষৌ শিকার করতে বেরিয়ে গেল|এসব কথা ইসহাক যখন এষৌকে বলছিলেন তখন রিবিকা সব শুনছিলেন| 6 রিবিকা তাঁর প্রিয পুত্র যাকোবকে বলল, “শোন, তোমার পিতা তোমার ভাই এষৌকে কি বলছিলেন সব শুনেছি| 7 তোমার পিতা বললেন, ‘আমার খাওয়ার জন্যে একটা জানোয়ার শিকার করে আনো| আমায় রেঁধে দাও, আমি খাই| তাহলে আমি মৃত্যুর আগে তোমায় আশীর্বাদ করব|” 8 এখন শোন বাবা, আমি যা বলি তা করো| 9 আমাদের ছাগলের খোঁযাড়ে যাও, দুটো ছাগল ছানা নিয়ে এস| তোমার পিতা য়েমন মাংস খেতে ভালবাসে তেমন করে আমি রেঁধে দেব| 10 তারপর সেই খাবার পিতার কাছে নিয়ে যাবে| মৃত্যুর আগে তিনি তোমায় আশীর্বাদ করবেন|” 11 কিন্তু যাকোব মা রিবিকাকে বলল, “আমার ভাযের গা ভর্তি লোম| কিন্তু আমার শরীরের ত্বক মসৃণ| 12 পিতা আমায় ছুঁলেই টের পাবেন য়ে আমি এষৌ নই| তাহলে পিতা আমায় আশীর্বাদ দেবেন না| বরং অভিশাপ দেবেন| কেন? কেননা আমি তাঁর সঙ্গে চালাকি করতে গিয়েছিলাম|” 13 সুতরাং রিবিকা তাকে বলল, “যদি তিনি অভিশাপ দেন তবে তা আমার ওপর আসুক| আমি য়েমন বলছি তেমনটি করো| যাও, আমার জন্য ছাগল নিয়ে এস|” 14 তখন যাকোব দুটো ছাগল নিয়ে এসে তার মাকে সেগুলি দিল| তার মা ঠিক য়েভাবে ইসহাক খেতে ভালবাসেন সেই বিশেষ ভাবে ছাগল দুটো রান্না করলেন| 15 তারপর রিবিকা বড় পুত্র এষৌর প্রিয জামাকাপড় নিলেন| 16 আর যাকোবের হাতে ও গলায লাগিয়ে দিলেন ছাগলের চামড়া| 17 তারপর রিবিকা সেই রান্না করা মাংস নিয়ে এসে যাকোবকে দিলেন| 18 যাকোব পিতার কাছে গিয়ে ডাকল, “পিতা|”তার পিতা সাড়া দিলেন, “তুমি কে বাবা?” 19 যাকোব বলল, “আমি তোমার বড় পুত্র এষৌ| তুমি য়েমন বলেছিলে আমি সব তেমনভাবে করে এনেছি| এখন উঠে বসো, তোমার জন্যে যা শিকার করেছি, খাও আগে| আমায় পরে আশীর্বাদ কোরো|” 20 কিন্তু ইস্ হাক তাঁর পুত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি করে এত তাড়াতাড়ি জানোয়ার শিকার করলে?”যাকোব উত্তর দিল, “কারণ প্রভু, তোমার ঈশ্বর আমাকে জানোয়ারগুলি তাড়াতাড়ি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছেন|” 21 তখন ইসহাক যাকোবকে বললেন, “কাছে এস, বাবা আমি তোমায় ছুঁযে দেখি, তুমি সত্যিই আমার পুত্র এষৌ কিনা|” 22 সুতরাং যাকোব তার পিতা ইসহাকের কাছে গেল| ইসহাক তার গায়ে হাত বুলিযে বলল, “তোমার গলার স্বর যাকোবের মত শোনাচ্ছে, কিন্তু তোমার হাত এষৌর মত লোমশ|” 23 ইসহাক বুঝতে পারলেন না য়ে এ আসলে যাকোব| কারণ তার হাত এষৌর হাতের মতোই লোমশ| সুতরাং ইসহাক যাকোবকে আশীর্বাদ করলেন| 24 ইসহাক নিঃসন্দেহ হবার জন্যে আবার জিজ্ঞেস করল, “তুমি সত্যিই আমার পুত্র এষৌ তো?” যাকোব উত্তর দিল, “হ্যাঁ, পিতা, আমিই এষৌ|” 25 তখন ইসহাক বললেন, “আমাকে আমার পুত্রের শিকার করা পশুগুলির থেকে খাবার এনে দাও| আমি সেটা খেয়ে তোমায় আশীর্বাদ করবো|” তখন যাকোব খাবারটা দিল এবং ইসহাক তা খেলেন| তারপর যাকোব কিছু দ্রাক্ষারস দিলে ইসহাক তা পান করলেন| 26 তারপর ইসহাক তাকে বললেন, “কাছে এস, আমায় চুমু দাও|” 27 সুতরাং যাকোব তার পিতার কাছে গিয়ে তাঁকে চুম্বন করল| তখন ইসহাক যাকোবের জামা কাপড়ে এষৌর জামা কাপড়ের গন্ধ পেল এবং তাকে আশীর্বাদ করলেন| ইসহাক বললেন,“য়ে প্রান্তর প্রভুর আশীর্বাদ ধন্য, আমার সন্তান সেই প্রান্তরের গন্ধ বহে| 28 তোমাকে প্রভু প্রচুর বৃষ্টি দিন যাতে প্রচুর ফসল আর দ্রাক্ষারস হয়| 29 তুমি সকলের সেবা পাবে| বহু জাতি তোমায় সেবা করবে এবং তোমার প্রতি নত থাকবে| ভাই জাতিদের ওপরে তোমার প্রভুত্ব বহাল হবে| তোমার মাতার পুত্রগণ তোমার অধীন হবে এবং তারা তোমার আদেশে চলবে| তোমাকে যারা শাপ দেবে তারা হবে অভিশপ্ত, যারা তোমাকে আশীর্বাদ করবে তারা আশীর্বাদ পাবে|” 30 ইসহাক যাকোবকে আশীর্বাদ করা শেষ করলেন| তারপর য়েই যাকোব পিতার কাছ থেকে আশীর্বাদ নিয়ে চলে গেল অমনি এষৌ ফিরে এল শিকার থেকে| 31 পিতা ঠিক য়েমন খেতে ভালবাসে ঠিক সেভাবে এষৌ মাংস রাঁধল| তারপর খাবারটা নিয়ে এল পিতার কাছে| পিতাকে সে বলল, “পিতা, আমি তোমার পুত্র| ওঠো, তোমার জন্যে শিকার করে আমি মাংস রেঁধে নিয়ে এসেছি, খাও, তারপরে আমায় আশীর্বাদ করো|” 32 কিন্তু ইসহাক জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কে?”সে উত্তর দিল, “আমি তোমার পুত্র - তোমার বড় পুত্র এষৌ|” 33 তখন ইসহাক মহা উদ্বিগ্ন হলেন| জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে তুমি আসার আগে কে মাংস রান্না করে এনে দিল আমায়? আমি সমস্ত মাংস খেয়ে তাকে আশীর্বাদ করলাম| এখন সেই আশীর্বাদ ফিরিযে নেওয়ার পক্ষেও ঢ়েব দেরী হয়ে গেছে|” 34 এষৌ তার পিতার কথা শুনল| সে খুব ক্রুদ্ধ ও তিক্ত হয়ে উঠল| সে চিত্কার করে কেঁদে উঠল| পিতাকে বলল, “তাহলে আমাকেও আশীর্বাদ করো, পিতা!” 35 ইসহাক বললেন, “তোমার ভাই আমার সঙ্গে চালাকি করেছে! সে এসে তোমার আশীর্বাদ নিয়ে গেছে!” 36 এষৌ বলল, “তার নাম যাকোব| ওর জন্যে ঐ নামই ঠিক| আমার সঙ্গে ভাই দুবার চালাকি করল| প্রথমবার কৌশলে সে প্রথম সন্তান হিসেবে আমার যা অধিকার ছিল তার থেকে বঞ্চিত করেছে এবং এবার আমার প্রাপ্য আশীর্বাদ থেকে আমাকে বঞ্চিত করল|” তারপর এষৌ জিজ্ঞেস করল, “আমার জন্যে কি তোমার আর কোন আশীর্বাদ অবশিষ্ট নেই?” 37 ইসহাক উত্তর দিলেন, “না, তার জন্যে বড় দেরী হয়ে গেছে| আমি তোমায় শাসন করার অধিকারও যাকোবকে দিয়ে ফেলেছি| আমার আশীর্বাদে সে পাবে তার সমস্ত ভাইদের সেবা| আর আমি তাকে প্রচুর শস্য আর দ্রাক্ষারসের জন্যে আশীর্বাদ দিয়েছি| তোমায় আশীর্বাদ করার জন্যে আর কিছু বাকি নেই|” 38 কিন্তু এষৌ আশীর্বাদের জন্যে পিতাকে পীড়াপীড়ি করে বলল, “পিতা তোমার কাছে কি শুধুমাত্র একটিই আশীর্বাদ আছে?” এষৌ কাঁদতে শুরু করল| 39 তখন ইসহাক বললেন,“তুমি কখনও উর্বর জমি পাবে না, তুমি কখনও পর্য়াপ্ত বর্ষা পাবে না| 40 তোমাকে লড়তে হবে জীবনের জন্যে এবং ভ্রাতার ভৃত্য হবে তুমি| কিন্তু লড়ে তুমি হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন| মুক্তি পাবে তোমার ভ্রাতার শাসন থেকে|” 41 তারপর এই আশীর্বাদের জন্যে এষৌ যাকোবকে ঘৃণা করতে শুরু করল| মনে মনে এষৌ ভাবল, “আমার পিতা শীঘ্রই মারা যাবেন| তার জন্য শোক করার সময় শেষ হবার পরে আমি যাকোবকে হত্যা করব|” 42 রিবিকা জানলেন য়ে এষৌ যাকোবকে হত্যা করার কথা ভাবছে| তিনি যাকোবকে ডেকে পাঠালেন| যাকোবকে তিনি বললেন, “শোন, তোমার ভাই এষৌ তোমায় হত্যা করার কথা ভাবছে| 43 তাই আমি যা বলি তা-ই করো| আমার ভাই লাবন বাস করে হারণে| তার কাছে গিয়ে তুমি লুকিয়ে থাকো| 44 তার কাছে তুমি কিছুদিন থাকো যতদিন না তোমার ভাইয়ের রাগ পড়ে| 45 কিছুদিন পরে তোমার ভাই, তুমি তার প্রতি কি করেছ না করেছ সব ভুলে যাবে| তখন আমি তোমায় ফিরিযে আনার জন্যে একটি ভৃত্য পাঠাব| আমি একই দিনে আমার দু পুত্রকে হারাতে চাই না|” 46 তারপর রিবিকা ইসহাককে বললেন, “তোমার পুত্র এষৌ হিত্তীয়দের কন্যাকে বিয়ে করেছে| এ আমার মোটে ভাল লাগে নি| কেননা তারা আমাদের আপনজন নয়| যাকোবও যদি ঐ মেয়েদের কাউকে বিয়ে করে তাহলে আমি নির্ঘাত মারা যাব|”

আদিপুস্তক 28

1 ইসহাক যাকোবকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে আশীর্বাদ করলেন| তারপর ইসহাক যাকোবকে একটি আজ্ঞা করলেন| তিনি বললেন, “তুমি কখনও কনানের মেয়ে বিয়ে করবে না| 2 তাই এই জায়গা ছেড়ে পদ্দন্-অরামে চলে যাও| তোমার দাদামশায বথূয়েলের কাছে যাও| তোমার মামা লাবনের কন্যাদের কোন একজনকে বিয়ে করো| 3 প্রার্থনা করি য়ে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমায় আশীর্বাদ করবেন এবং তোমায় বহু সন্তানসন্ততি দেবেন| তুমি যাতে এক মহান জাতির জনক হও তার জন্যে আমি প্রার্থনা করি| 4 য়েভাবে ঈশ্বর অব্রাহামকে আশীর্বাদ করেছিলেন সেভাবে তিনি য়েন তোমায় ও তোমার সন্তানসন্ততিকে আশীর্বাদ করেন-এই প্রার্থনা করি এবং আমি প্রার্থনা করি য়ে যে দেশে তুমি বাস করবে সেই দেশ তোমার হবে| ঈশ্বর এই দেশ অব্রাহামকে দিয়েছিলেন|” 5 তখন ইসহাক যাকোবকে পদ্দন্-অরাম নামক স্থানে পাঠালেন| যাকোব গেলেন রিবিকার ভাই লাবনের কাছে| বথুযেল লাবন ও রিবিকার জনক এবং যাকোব ও এষৌর মা হলেন রিবিকা| 6 এষৌ জানতে পারল য়ে তার পিতা ইসহাক যাকোবকে আশীর্বাদ করেছেন| এষৌ জানল য়ে ইসহাক যাকোবকে পদ্দন-অরামে পাঠিয়েছেন সেখানে বিয়ে করার জন্যে| ইসহাক য়ে যাকোবকে কনানের মেয়ে বিয়ে না করার আদেশ দিয়েছেন সে কথাও এষৌ জানল| 7 এষৌ জানল য়ে যাকোব পিতামাতাকে মেনে চলেছে এবং পদ্দন্-অরামে গেছে| 8 এসবের থেকে এষৌ বুঝল য়ে তাদের পিতা ইসহাক চাইতেন না য়ে পুত্ররা কেউ কনানের মেয়েদের বিয়ে করে| 9 এষৌর তখনই দুজন স্ত্রী ছিল| কিন্তু সে ইশ্মায়েলের কাছে গিয়ে আরও একটি বিয়ে করল| এবার সে ইশ্মায়েলের কন্যা মহলত্‌কে বিয়ে করল| অব্রাহামের আর এক পুত্র ইশ্মায়েল| মহলত্‌ নবায়োতের বোন| 10 যাকোব বের্-শেবা ছেড়ে হারণে গেল| 11 হারণে যাওয়ার পথে সূর্য়াস্ত হল| তখন যাকোব রাত কাটাবার জন্যে একটা জায়গায় গেল| সেখানে একটা পাথর দেখতে পেয়ে সে তার ওপরে মাথা রেখে ঘুমিযে পড়ল| 12 ঘুমের মধ্যে যাকোব একটা স্বপ্ন দেখল| সে দেখল, মাটি থেকে একটা সিঁড়ি গেছে স্বর্গে| যাকোব দেখল য়ে ঈশ্বরের দূতরা ঐ সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করছে| আর যাকোব দেখল য়ে প্রভু সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছেন| 13 প্রভু বললেন, “আমিই প্রভু, তোমার পিতামহ অব্রাহামের ঈশ্বর| আমি ইসহাকের ঈশ্বর| য়ে জমিতে তুমি এখন শুয়ে আছ তা আমি তোমাকে দেব| এই জমি আমি তোমাকে এবং তোমার বংশকে দেব| 14 তোমার বহু সংখ্যক উত্তরপুরুষ হবে| তারা পৃথিবীর ধূলোর মতো অসংখ্য হবে| তারা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়বে| পৃথিবীর সব জাতিরা তোমার এবং তোমার উত্তরপুরুষদের মাধ্যমে আশীর্বাদ পাবে| 15 “আমি তোমার সঙ্গে আছি| তুমি য়ে কোন জায়গায় যাও না কেন আমি তোমাকে রক্ষা করব এবং এই দেশে আবার ফিরিযে আনব| আমি তোমার কাছে যা প্রতিজ্ঞা করেছি তা পূর্ণ না করা পর্য্ন্ত আমি তোমায় ত্যাগ করব না|” 16 যাকোব ঘুম থেকে উঠে বলল, “আমি জানি প্রভু এই জায়গায় রয়েছেন| কিন্তু আমি না ঘুমানো পর্য্ন্ত জানতাম না য়ে তিনি এখানে রয়েছেন|” 17 যাকোব ভয় পেল| সে বলল, “এ এক মহান জায়গা| এই হল ঈশ্বরের গৃহ| এই হল স্বর্গের দ্বার|” 18 যাকোব খুব ভোরে উঠে পড়ল| য়ে পাথরে মাথা রেখে শুয়েছিল তা দাঁড় করিযে স্থাপন করল| তারপর সে সেই পাথরের উপর তেল ঢালল| এইভাবে সে সেই পাথরকে ঈশ্বরের স্মরনার্থে স্মৃতি চিহ্নস্বরূপ করল| 19 সেই জায়গার নাম ছিল লুস কিন্তু যাকোব তার নাম বৈথেল রাখল| 20 এরপর যাকোব এক প্রতিজ্ঞা করে বলল, “যদি ঈশ্বর আমার সহায় থাকেন, যদি তিনি আমাকে এ যাত্রায় রক্ষা করেন, যদি তিনি আমার খাদ্য ও পরণের কাপড় য়োগান, 21 আর যদি আমি শান্তিতে আমার পিতার গৃহে ফিরতে পারি, যদি ঈশ্বর এই সমস্ত কিছুই সাধন করেন তাহলে প্রভুই আমার ঈশ্বর হবেন| 22 এই পাথর আমি স্মৃতিস্তম্ভ রূপে স্থাপন করছি| এটা প্রমাণ করবে য়ে এ জায়গা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে এবং পবিত্র জায়গা| এবং ঈশ্বর আমাকে যা কিছু দেবেন তার দশ ভাগের এক ভাগ অংশ আমি ঈশ্বরকে দেব|”

আদিপুস্তক 29

1 তারপর যাকোব আবার তার যাত্রা পথে চলল| সে পূর্বদিকের দেশে গেল| 2 যাকোব তাকিযে দেখল মাঠে একটা কূপ রয়েছে| কূপের ধারে ছিল তিন পাল মেষ| মেষরা এই কূপের জলই পান করত| একটা বড় পাথর দিয়ে কূপের মুখটা ঢাকা ছিল| 3 পালের সব মেষ জড়ো হলে মেষপালকরা কূপের মুখ থেকে পাথরটা গড়িয়ে দিতো| তখন সব মেষরা জল পান করত| মেষদের জল পান শেষ হলে মেষপালকরা সেই পাথরটা আবার যথাস্থানে গড়িয়ে দিত| 4 সেখানকার মেষপালকদের যাকোব বলল, “ভাইরা, তোমরা কোথা থেকে এসেছ?”তারা উত্তরে বলল, “আমরা হারোণ থেকে এসেছি|” 5 তখন যাকোব বলল, “তোমরা কি নাহোরের পুত্র লাবনকে চেন?”মেষপালকরা উত্তরে বলল, “আমরা তাঁকে চিনি|” 6 তখন যাকোব বলল, “তিনি কেমন আছেন?”তারা বলল, “তিনি ভাল আছেন| সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে| দেখুন, তাঁর কন্যা রাহেল এখন মেষপাল নিয়ে আসছেন|” 7 যাকোব বলল, “দেখ, এখনও দিনের আলো রয়েছে এবং সূর্য় ডুবতে এখনও দেরী| মেষ জড়ো করার সময় তো এখন নয়| তাই তাদের জল পান করিযে মাঠে আবার চরতে দাও|” 8 কিন্তু মেষপালকরা বলল, “সব মেষপাল এক জায়গায় জড়ো না হওয়া পর্য্ন্ত আমরা তা করতে পারি না| তারপর আমরা কূপের মুখ থেকে পাথর সরিয়ে দেব আর সব মেষ জল পান করতে পারবে|” 9 য়ে সময় যাকোব মেষপালকদের সঙ্গে কথা বলছিল, রাহেল তার পিতার মেষপাল নিয়ে এল| (রাহেলের কাজ ছিল মেষদের যত্ন নেওয়া|) 10 রাহেল ছিল লাবনের কন্যা| লাবন ছিলেন যাকোবের মাতার অর্থাত্‌ রিবিকার ভাই| যাকোব রাহেলকে দেখে এগিয়ে গিয়ে পাথর সরিয়ে তার মামার মেষদের জল দিল| 11 পরে যাকোব রাহেলকে চুমু খেয়ে উঁচু গলায কাঁদতে লাগল| 12 যাকোব রাহেলকে বলল য়ে সে তার পিতার পরিবারের দিক দিয়ে আত্মীয়| রিবিকার পুত্র| তাই রাহেল দৌড়ে বাড়ী গিয়ে তার পিতাকে তা জানাল| 13 লাবন তাঁর বোনের পুত্র যাকোবের কথা শুনলেন| এবার তাই লাবন দৌড়ে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন| লাবন তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন এবং নিজের বাড়ীতে নিয়ে এলেন| যা ঘটেছিল তার সব কিছু যাকোব লাবনকে বলল| 14 তখন লাবন বললেন, “তুমি য়ে আমার পরিবারের একজন এ বড়ই আনন্দের!” তাই লাবন যাকোবের সঙ্গে এক মাস কাটালেন. 15 একদিন লাবন যাকোবকে বললেন, “পারিশ্রমিক বিনা আমার জন্যে তোমার এই পরিশ্রম করাটা ঠিক হচ্ছে না| তুমি আমার আত্মীয়, দাস নও| আমি তোমায় কি পারিশ্রমিক দেব?” 16 লাবনের দুটি কন্যা ছিল| বড়টির নাম লেয়া এবং ছোটটির নাম রাহেল| 17 রাহেল সুন্দরী ছিল| লেয়ার চোখ দুটি শান্ত ছিল| 18 যাকোব রাহেলকে ভালোবাসল| যাকোব লাবনকে বলল, “আমি সাত বছর কাজ করব যদি আপনি আমাকে আপনার কনিষ্ঠা কন্যা রাহেলকে বিয়ে করতে দেন|” 19 লাবন বললেন, “অন্য কারও সঙ্গে হওয়ার থেকে তোমার সাথে বিয়ে হওয়াটা ওর পক্ষে মঙ্গল হবে| তাই আমাদের সঙ্গে থেকে যাও|” 20 তাই যাকোব থেকে গেল এবং লাবনের জন্য সাত বছর কাজ করল| কিন্তু রাহেলকে সে ভালবাসত বলে এই সাত বছর সময় তার কাছে অল্প বলে মনে হল| 21 সাত বছর পর যাকোব লাবনকে বলল, “রাহেলকে আমায় দিন, আমি তাকে বিয়ে করব| আপনার কাছে পরিশ্রম করার মেযাদ শেষ হয়েছে|” 22 তাই লাবন সেখানকার সমস্ত লোককে ভোজে নিমন্ত্রিত করলেন| 23 সেই রাত্রে লাবন তাঁর কন্যা লেয়াকে যাকোবের কাছে নিয়ে এলেন| যাকোব ও লেয়া য়ৌন সহবাস করলেন| 24 (লাবন তার দাসী সিল্পাকে তার কন্যার দাসী হবার জন্যও দিলেন|) 25 সকাল বেলা যাকোব দেখলেন তিনি লেয়ার সাথে রাত কাটিযেছেন| যাকোব লাবনকে বলল, “আপনি আমার সঙ্গে চালাকি করেছেন| রাহেলকে বিয়ে করার জন্য আপনার জন্য কত কঠোর পরিশ্রম করেছি, তবে কেন আপনি আমার সঙ্গে এই চালাকি করলেন?” 26 লাবন বললেন, “আমাদের দেশের প্রথা অনুযায়ীবড় কন্যার আগে ছোট কন্যার বিয়ে আমরা দিই না|” 27 কিন্তু বিবাহ উত্সবের পুরো সপ্তাহটা কাটাও আর আমি রাহেলের সঙ্গে তোমার বিয়ে দেব| কিন্তু তুমি আরও সাতবছর আমার সেবা করবে|” 28 সুতরাং যাকোব তাই করলেন এবং বিবাহ অনুষ্ঠানের সপ্তাহটি শেষ করলেন| তখন লাবন তার কন্যা রাহেলকে যাকোবের স্ত্রী হতে দিলেন| 29 (লাবন তার দাসী বিল্হাকে রাহেলের দাসী হিসেবে দিলেন|) 30 সুতরাং যাকোব রাহেলের সঙ্গেও য়ৌন সহবাস করলেন| আর যাকোব রাহেলকে লেয়ার থেকেও বেশী ভালবাসত| যাকোব লাবনের জন্য আরও সাত বত্সর পরিশ্রম করল| 31 প্রভু দেখলেন য়ে যাকোব লেয়ার থেকে রাহেলকে বেশী ভালবাসে| তাই প্রভু লেয়াকে সন্তান প্রসবের জন্য সক্ষম করলেন| কিন্তু রাহেলের সন্তান হল না| 32 লেয়া এক পুত্রের জন্ম দিলেন| তিনি তার নাম রাখলেন রূবেণ| লেয়া তার এই নাম দিলেন কারণ তিনি বললেন, “প্রভু আমার কষ্ট সকল দেখেছেন| আমার স্বামী আমায় ভালবাসেন না| তাই এবার আমার স্বামী আমায় ভালবাসতেও পারেন|” 33 লেয়া আবার গর্ভবতী হলেন এবং তাঁর আর একটি পুত্র হল| তিনি তার নাম রাখলেন শিমিয়োন| লেয়া বললেন, “আমি য়ে ভালবাসা থেকে বঞ্চিত তা প্রভু শুনেছেন তাই তিনি আমাকে এই পুত্র দিয়েছেন|” 34 লেয়া আবার গর্ভবতী হলেন এবং তাঁর আর একটি পুত্র হল| তিনি এই পুত্রের নাম লেবি রাখলেন| লেয়া বললেন, “এবার অবশ্যই আমার স্বামী আমায় ভালবাসবেন| আমি তাকে তিনটি পুত্র দিয়েছি|” 35 এরপর লেয়া আর একটি পুত্রের জন্ম দিলেন| তিনি এই পুত্রের নাম রাখলেন যিহূদা| লেয়া তার এই নাম রাখলেন কারণ তিনি বললেন, “এখন আমি প্রভুর প্রশংসা করব|” এবার লেয়ার আর সন্তান হল না|

আদিপুস্তক 30

1 রাহেল দেখল য়ে সে যাকোবকে কোন সন্তান দিতে পারে নি| রাহেল তাই তার বোন লেয়ার প্রতি ঈর্ষান্বিত হল| তাই রাহেল যাকোবকে বলল, “আমায় সন্তান দিন নতুবা আমি মারা যাব!” 2 যাকোব রাহেলের প্রতি ক্রুদ্ধ হল| সে বলল, “আমি ঈশ্বর নই| ঈশ্বরই তোমার গর্ভ রুদ্ধ করে রেখেছেন|” 3 তারপর রাহেল বলল, “আপনি আমার দাসী বিল্হাকে নিন| তার সাথে শয়ন করুন এবং সে আমার জন্য সন্তান প্রসব করবে| তাহলে আমি তার মাধ্যমে মাতা হতে পারব|” 4 তাই রাহেল বিল্হাকে যাকোবের কাছে পাঠাল| যাকোব বিল্হার সঙ্গে য়ৌন সহবাস করল| 5 বিল্হা গর্ভবতী হয়ে যাকোবের জন্য এক পুত্রের জন্ম দিল| 6 রাহেল বলল, “ঈশ্বর আমার প্রার্থনা শুনেছেন| তিনি তাই আমার এক পুত্র দিতে মনস্থ করলেন|” তাই রাহেল এই সন্তানের নাম দান রাখল| 7 বিল্হা আবার গর্ভবতী হয়ে দ্বিতীয় পুত্রের জন্ম দিল| 8 রাহেল বলল, “আমি আমার বোনের সঙ্গে ভারী প্রতিদ্বন্দিতা করেছি এবং আমি জিতেছি|” তাই সে সেই পুত্রের নাম দিল নপ্তালি| 9 লেয়া দেখলেন য়ে তার আর সন্তান হবার সম্ভাবনা নেই| তাই তিনি তার দাসী সিল্পাকে য়োকোবকে দিলেন| 10 এবার সিল্পার এক পুত্র হল| 11 লেয়া বললেন, “আমি খুবই সৌভাগ্যবতী|” তাই তিনি এই পুত্রের নাম গাদ রাখলেন| 12 সিল্পা আর একটি পুত্রের জন্ম দিল| 13 লেয়া বললেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত! এখন হতে স্ত্রী লোকেরা আমায় ধন্যা বলবে|” তাই তিনি তার নাম আশের রাখলেন| 14 গম কাটার সময় রূবেণ ক্ষেতে গিয়ে একটি বিশেষ ধরণের ফুল দেখতে পেলেন| রূবেণ সেই ফুলগুলি তার মা লেয়ার কাছে নিয়ে এল| কিন্তু রাহেল লেয়াকে বলল, “তোমার পুত্রের আনা ঐ ফুলের কিছু আমাকে দাও|” 15 লেয়া উত্তরে বললেন, “তুমি এর মধ্যেই আমার স্বামীকে নিয়ে নিয়েছ| এখন তুমি আমার পুত্রের ফুলগুলিও নিতে চাইছ?”কিন্তু রাহেল বলল, “তুমি তোমার পুত্রের আনা ফুল আমায় দিলে আজ রাত্রে আমার স্বামীর সঙ্গে সহবাস করতে পাবে|” 16 ক্ষেত থেকে রাতে যাকোব বাড়ী ফিরল| লেয়া তাকে দেখে তার সঙ্গে সাক্ষাত্‌ করতে বাইরে এলেন| তিনি বললেন, “আজ রাতে তুমি আমার সঙ্গে শোবে| আমি তোমার জন্য মূল্য হিসাবে আমার পুত্রের ফুল দিয়ে দিয়েছি|” তাই সেই রাত্রে যাকোব লেয়ার সঙ্গে শয়ন করল| 17 এরপর ঈশ্বরের দয়ায় লেয়া আবার গর্ভবতী হলেন| তিনি পঞ্চম পুত্রের জন্ম দিলেন| 18 লেয়া বললেন, “আমি আমার দাসীকে আমার স্বামীর কাছে পাঠানোর বেতন হিসাবে ঈশ্বর আমাকে এই সন্তান দিলেন|” তিনি সেই পুত্রের নাম ইষাখর রাখলেন| 19 লেয়া আবার গর্ভবতী হয়ে ষষ্ঠ পুত্রের জন্ম দিলেন| 20 লেয়া বললেন, “ঈশ্বর আমাকে অপূর্ব উপহার দিলেন| এখন নিশ্চয়ই যাকোব আমাকে গ্রহণ করবেন কারণ আমি তাকে দুটি পুত্র দিয়েছি|” তাই লেয়া সেই পুত্রের নাম সবূলূন রাখলেন| 21 পরে লেয়া একটি কন্যার জন্ম দিলেন| তিনি তার নাম রাখলেন দীণা| 22 এবার ঈশ্বর রাহেলের প্রার্থনা শুনলেন| ঈশ্বর রাহেলের গর্ভ মুক্ত করলেন| 23 রাহেল গর্ভবতী হয়ে এক পুত্রের জন্ম দিল| রাহেল বলল, “ঈশ্বর আমার লজ্জা দূর করেছেন এবং এক পুত্র দিয়েছেন|” তাই রাহেল ঈশ্বর আমাকে আর একটি পুত্র দিন, একথা বলে তার নাম রাখল য়োষেফ| 24 25 য়োষেফের জন্মের পর যাকোব লাবনকে বলল, “এবার আমাকে আমার বাড়ী ফিরতে দিন| 26 আমাকে আমার স্ত্রী ও পুত্রদের নিয়ে য়েতে দিন| আমি 14 বছর পরিশ্রম করে তাদের আপনার কাছ থেকে লাভ করেছি| আপনি জানেন আমি ভালভাবেই আপনার সেবা করেছি|” 27 লাবন তাকে বললেন, “এখন আমায় কিছু বলতে দাও! আমি জানি তোমার জন্যই প্রভু আমায় মনোনীত করেছেন| 28 আমায় বল তোমার পারিশ্রমিক হিসাবে কি দিতে হবে আর আমি তোমায় তা দেব|” 29 যাকোব উত্তরে বলল, “আপনি জানেন য়ে আমি আপনার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি| আমার তত্ত্বাবধানে আপনার পশুবল ভালই রয়েছে এবং বৃদ্ধি পেয়েছে| 30 যখন আমি এসেছিলাম তখন আপনার অল্পই ছিল| কিন্তু এখন আপনার প্রচুর হয়েছে| প্রতিবার আমি আপনার জন্য কিছু কাজ করলে প্রভু আপনাকে আশীর্বাদ করেছেন| এখন সময় এসেছে আমার নিজের জন্য কাজ করার| সময় এসেছে আমার নিজের গৃহ গাঁথার|” 31 লাবন জিজ্ঞাসা করলেন, “তাহলে আমি তোমায় কি দেব?”যাকোব উত্তরে বলল, “আমি আপনার কাছ থেকে কিছু চাই না| কেবল চাই আপনি আমার শ্রমের বেতন দিন| কেবল এই একটি কাজ করুন; আমি ফিরে গিয়ে আপনার মেষপালের যত্ন নেব| 32 কিন্তু আজকে আমাকে আপনার সমস্ত পশুপালের মধ্যে দিয়ে য়েতে দিন এবং য়ে সমস্ত মেষের গায়ে গোল গোল দাগ এবং ডোরা কাটা দাগ রয়েছে তাদের প্রত্যেককে নিতে দিন| আর সমস্ত কালো ছাগ শিশুও আমাকে নিতে দিন| এবং গোল গোল দাগ ও ডোরা কাটা দাগ রয়েছে এমন সমস্ত স্ত্রী ছাগ শিশুও আমার হোক্| সেই হবে আমার বেতন| 33 তাহলে আমি আপনার প্রতি বিশ্বস্ত কিনা তা সহজেই বুঝতে পারবেন| আপনি এসে আমার পশুপাল দেখতে পারেন| যদি কোন ছাগ চিত্র বিচিত্র না হয় এবং মেষ কালো রঙের না হয় তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন য়ে আমি চুরি করেছি|” 34 লাবন বললেন, “এতে আমার সম্মতি রয়েছে| তুমি যা চাইলে আমরা সেই মত করব|” 35 কিন্তু সেই দিন লাবন সমস্ত চিত্র বিচিত্র পুং ছাগল এবং চিতল স্ত্রী ছাগলগুলিকে লুকিয়ে ফেললেন এবং কালো মেষগুলিকে লুকিয়ে ফেললেন| লাবন তার পুত্রদের সেই সমস্ত পাহারা দিতে বললেন| 36 তাই তার পুত্রেরা চিত্র বিচিত্র সেই সকল পশু নিয়ে তাদের অন্য এক জায়গায় চরিযে নিয়ে তিন দিন পথের দূরত্ব বজায় রাখলেন| বাকী পশু যা পড়ে রইল যাকোব তার যত্ন নিল| কিন্তু সেই পালে চিত্র বিচিত্র অথবা রঙীন কোন পশুই ছিল না| 37 তাই যাকোব ঝাউ ও বাদাম গাছের কচি ডালপালা কাটল এবং ডালের ছাল কিছুটা করে ছাড়াল যাতে ডোরা কাটা দেখায়| 38 যাকোব সেই ডালগুলি পশুদের জল খাওয়ার জায়গার সামনে রাখল| পশুরা সেইস্থানে জল পান করতে এলে 39 সঙ্গমও করল| এরপর সেই ডালের সামনে সঙ্গম করা পশুদের চিত্র বিচিত্র, ডোরাকাটা অথবা কালো শাবক জন্মাল| 40 পশুপালের জন্য সমস্ত পশুর মধ্যে থেকে যাকোব চিত্র বিচিত্র ও কালো পশুদের পৃথক করল| যাকোব তার পশুদের লাবনের পশুদের থেকে আলাদা করে রাখল| 41 য়ে কোন সময় বলবান পশুরা সঙ্গম করলে যাকোব সেই ডালগুলি তাদের সামনে রাখত| বলবান পশুরা সেই ডালপালার সামনে সঙ্গম করত| 42 কিন্তু দুর্বল পশুরা সঙ্গম করলে যাকোব সেখানে ডালগুলি রাখত না| তাই দুর্বল পশুদের শাবকগুলি লাবনের হল| আর বলবান পশুদের শাবকগুলি হল যাকোবের| 43 এইভাবে যাকোব বেশ ধনী হয়ে উঠল| তার অনেক পশু, ভৃত্য, উট এবং গাধা হল|

আদিপুস্তক 31

1 একদিন যাকোব শুনল য়ে লাবনের পুত্ররা কথাবার্তা বলছেন| তারা বলল, “আমাদের পিতার সবকিছুই যাকোব নিয়ে নিয়েছে| যাকোব খুবই ধনী হয়েছে| ওর এই ধনের সবটাই সে আমাদের পিতার কাছ থেকে নিয়েছে|” 2 যাকোব লক্ষ্য করল য়ে লাবন অতীতের মত আর বন্ধুমনোভাবাপন্ন নয়| 3 প্রভু যাকোবকে বললেন, “তোমার পূর্বপুরুষেরা য়ে দেশে বাস করতেন, তোমার সেই নিজের দেশে ফিরে যাও| আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকব|” 4 তাই যাকোব রাহেল ও লেয়াকে সেই মাঠে দেখা করতে বলল| যেখানে সে তার মেষপাল ও ছাগপাল রেখেছিল| 5 যাকোব রাহেল ও লেয়াকে বলল, “আমি দেখছি য়ে তোমাদের পিতা আমার ওপর রেগে গেছেন| অতীতে সব সময় তিনি আমার সঙ্গে বন্ধুত্বের মনোভাব পোষণ করতেন কিন্তু তিনি আর সেরকম নন| কিন্তু আমার পিতা ঈশ্বর আমার সঙ্গে রয়েছেন| 6 তোমরা উভয়েই জান আমি তোমাদের পিতার জন্য আমার সাধ্যমত কঠোর পরিশ্রম করেছি| 7 কিন্তু তোমাদের পিতা আমাকে ঠকিয়েছেন| এই নিয়ে দশবার তিনি আমার বেতন বদলেছেন| কিন্তু এই সকল সময় ঈশ্বর লাবনের সমস্ত চালাকি হতে আমাকে রক্ষা করেছেন| 8 “একবার লাবন বললেন, “বিন্দু চিহ্নিত সমস্ত ছাগল তুমি রাখতে পার| তাই হবে তোমার বেতন|’ তিনি এই কথা বলার পর সমস্ত পশুর বিন্দু চিহ্নিত শাবক জন্মাল| তাই সেসব আমারই হল| কিন্তু তখন লাবন বললেন, ‘সব বিন্দু চিহ্নিত ছাগল আমার| তুমি ডোরা কাটা ছাগগুলি রাখতে পার| সেই হবে তোমার বেতন|’ তিনি একথা বলার পর সমস্ত পশু ডোরাকাটা শাবকের জন্ম দিল| 9 সুতরাং ঈশ্বরই পশুগুলিকে তোমার পিতার কাছ থেকে নিয়ে আমায় দিয়েছেন| 10 “একটি স্বপ্নে আমি দেখলাম, দলের সঙ্গে সঙ্গম করছে য়ে পুরুষ ছাগলরা, তাদেরই গায়ে ডোরাকাটা এবং ছোপমারা| 11 ঈশ্বরের দূত সেই স্বপ্নে আমার সঙ্গে কথা বললেন, “যাকোব!”“আমি উত্তর দিলাম, ‘আজ্ঞে!’ 12 “দূত আমাকে উত্তর দিলেন, “দেখ, কেবল ডোরাকাটা ও বিন্দু চিহ্নিত ছাগলরাই সঙ্গম করছে| আমিই তা ঘটাচ্ছি| লাবন তোমার প্রতি য়ে সমস্ত অন্যায় করেছেন তার সমস্তই আমি দেখেছি| আমি এমনটা করছি যাতে সমস্ত ছাগ শাবক তোমারই হয়| 13 আমি সেই ঈশ্বর যিনি বৈথেলে তোমার কাছে এসেছিলেন| সেই স্থানে তুমি এক বেদী স্থাপন করেছিলে| তুমি সেই বেদীতে ওলিভ তেল ঢেলেছিলে এবং আমার কাছে এক প্রতিজ্ঞা করেছিলে| এখন আমি চাই য়ে তুমি য়ে দেশে জন্মেছিলে সেই দেশে ফিরে যাবার জন্য প্রস্তুত হও|” 14 রাহেল ও লেয়া যাকোবকে উত্তরে বললেন, “আমাদের পিতা তার মৃত্যুর সময় আমাদের জন্য কিছু রেখে যাবেন না| তিনি আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করেন য়েন আমরা বিদেশী| তিনি আমাদের তোমার কাছে বিক্রি করেছেন এবং তারপর য়ে অর্থ আমাদের পাবার কথা তা তিনি খরচ করে ফেলেছেন| 15 16 ঈশ্বর এই সমস্ত ধন পিতার কাছ থেকে নিয়েছেন যার মালিক এখন আমরা এবং আমাদের সন্তানেরা| সেইজন্য ঈশ্বর য়েমনটি বলেছেন সেই মতোই আপনার কাজ করা উচিত্‌|” 17 সেইজন্য যাকোব যাত্রার জন্য প্রস্তুত হল| সে তার সব পুত্রদের ও স্ত্রীদের উটের পিঠে ওঠাল| 18 তারপর তারা কনান দেশে ফিরে গেল যেখানে যাকোবের পিতা বাস করতেন| যাকোবের সমস্ত পশুপাল তার সামনে সামনে হেঁটে চলল| পদ্দন্-অরামে থাকাকালীন সে য়ে সমস্ত কিছু অর্জন করেছিল তার সব কিছু নিয়ে চলল| 19 সেই সময় লাবন মেষদের লোম ছাঁটতে গেলেন| তিনি সেই কাজে গেলে পরে রাহেল তার ঘরে ঢুকে তার পিতার ঠাকুরগুলোকে চুরি করল| 20 যাকোব অরামীয় লাবনের সঙ্গে চালাকি করল কারণ তার চলে যাবার বিষযে সে তাঁকে জানাল না| 21 যাকোব তার পরিবার ও সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ল| তারা ফরাত্‌ নদী পার হয়ে পর্বতময় প্রদেশ গিলিয়দের দিকে রওনা দিলেন| 22 তিন দিন পরে লাবন জানতে পারলেন য়ে যাকোব পালিয়ে গেছে| 23 তাই লাবন তাঁর লোকজন জড়ো করে যাকোবের পেছনে ধাওয়া করে চললেন| সাত দিন পর লাবন যাকোবকে পার্বত্য গিলিয়দ দেশের কাছে দেখতে পেলেন| 24 সেই রাতে ঈশ্বর স্বপ্নে লাবনের কাছে গেলেন| ঈশ্বর বললেন, “সাবধান! যাকোবের সঙ্গে ভেবে চিন্তে কথা বোলো!” 25 পরের দিন সকাল বেলা লাবন যাকোবকে দেখতে পেলেন| যাকোব পর্বতের উপরে তার তাঁবু খাটিয়েছিল| তাই লাবন ও তার লোকজন পর্বতময প্রদেশ গিলিয়দে তাঁদের তাঁবু খাটালেন| 26 লাবন যাকোবকে বললেন, “তুমি কেন আমার সঙ্গে চালাকি করলে? কেন তুমি আমার কন্যাদের যুদ্ধ বন্দীদের মত ধরে নিয়ে গেলে? 27 তুমি আমাকে না জানিয়ে কেন পালালে? যদি আমায় বলতে তবে আমি একটা ভোজের আয়োজন করতাম| বাজনার সাথে নাচ গানের ব্যবস্থাও করতাম| 28 তুমি এমনকি আমার নাতি নাতনিদের চুমু খেতে ও কন্যাদের বিদায় জানাবারও সুয়োগ দিলে না| এইভাবে তুমি খুব অজ্ঞের মত কাজ করেছ| 29 তোমাকে আঘাত করার ক্ষমতা আমার রয়েছে| কিন্তু গত রাতে তোমার পিতার ঈশ্বর আমার স্বপ্নে আমার কাছে এলেন| তিনি আমাকে সাবধান করে দিলেন যাতে তোমার কোন ক্ষতি না করি| 30 আমি জানি তুমি তোমার বাড়ী ফিরে য়েতে চাও আর সেইজন্যই তুমি চলে এসেছ| কিন্তু কেন তুমি আমার ঘর থেকে ঠাকুরগুলোকে চুরি করলে?” 31 যাকোব উত্তরে বলল, “আমি ভয় পেয়েছিলাম তাই আপনাকে না বলে চলে এসেছি! আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আমার কাছ থেকে আপনার কন্যাদের ছিনিয়ে নেবেন| 32 কিন্তু আমি আপনার ঠাকুরগুলো চুরি করি নি| যদি এখানে আমার সঙ্গের কোন ব্যক্তি ঐ ঠাকুরগুলোকে নিয়ে থাকে তবে তাকে হত্যা করতে হবে| আপনার লোকেরাই এই বিষয়ে আমার সাক্ষী হবে| আপনার যা কিছু তা আপনি খুঁজে দেখতে পারেন| যা আপনার তা নিয়ে নিন|” (যাকোব জানতেন না য়ে রাহেল লাবনের ঠাকুরগুলো চুরি করেছে|) 33 তাই লাবন গিয়ে যাকোবের তাঁবু এবং তারপর লেয়ার তাঁবু খুঁজে দেখলেন| তারপর সেই দুই দাসীর তাঁবুও খুঁজে দেখলেন| কিন্তু সেই ঠাকুরগুলোকে তাদের ঘরে খুঁজে পেলেন না| তারপর লাবন রাহেলের তাঁবুর দিকে গেলেন| 34 রাহেল ঠাকুরগুলোকে উটের গদির তলায় লুকিয়ে তার ওপরে বসে ছিলেন| লাবন সমস্ত তাঁবু তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ঠাকুরগুলোকে খুঁজে পেলেন না| 35 রাহেল তার পিতাকে বলল, “পিতা আমার উপর রাগ করবেন না| আমি আপনার সামনে উঠে দাঁড়াতে পারছি না কারণ আমার মাসিক চলছে|” তাই লাবন তাঁবুর ভিতরে দেখলেন কিন্তু তাঁর ঠাকুরগুলো খুঁজে পেলেন না| 36 তখন যাকোব খুব রেগে গিয়ে বলল, “আমি কি দোষ করেছি? কোন আইন ভেঙ্গেছি? কি অধিকারে আপনি আমাকে তাড়া করে থামাতে এসেছেন? 37 আমার যা কিছু রয়েছে তার সবকিছুই আপনি খুঁজে দেখেছেন| কিন্তু আপনার কিছুই খুঁজে পান নি আর যদি পেয়ে থাকেন তবে তা দেখান| সেটা এখানেই রাখুন যাতে আমাদের লোকেরা তা দেখতে পায়| আমাদের লোকেরাই বিচার করুক আমাদের মধ্যে কারা ঠিক| 38 আমি 20 বছর আপনার জন্য কাজ করেছি| এই সময় আপনার কোন মেষশাবক বা ছাগশিশু জন্মাবার সময় মারা যায় নি| আর আমি আপনার পালের কোন মেষ মেরে খাই নি| 39 কোন সময় বন্য পশুর দ্বারা কোন মেষ মারা গেলে আমি সবসময় নিজে আপনার কাছে এসে বলি নি য়ে আমার দোষে এটা হয় নি| কিন্তু দিন রাত আমি ক্ষতি স্বীকার করেছি| 40 দিনের বেলা সূর্য় য়েন আমার শক্তি নিঙড়ে নিত এবং রাতে শীতে ঘুম আমার চোখ থেকে উধাও হয়ে য়েত| 41 আমি 20 বছর ধরে আপনার কাছে দাসের মত কাজ করেছি| প্রথম 14 বছর আমি আপনার দুই কন্যা লাভ করার জন্য খেটেছি| শেষ 6 বছর আমি আপনার পশু লাভ করার জন্য খেটেছি| এবং এই সময় আপনি দশ বার আমার বেতন বদলেছেন| 42 কিন্তু আমার পূর্বপুরুষের ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর এবং ইসহাকের ভয়?আমার সঙ্গে ছিলেন| ঈশ্বর আমার সঙ্গে না থাকলে আপনি আমাকে খালি হাতে বিদায দিতেন| কিন্তু ঈশ্বর আমার কষ্ট সকল ও আমার পরিশ্রম দেখলেন| এই জন্যই গত রাতে ঈশ্বর প্রমাণ করেছেন য়ে আমি ঠিক|” 43 লাবন যাকোবকে বললেন, “এই মহিলারা আমারই কন্যা| এই সন্তানেরা ও এই পশুরাও আমারই| যা কিছু দেখছ এ সবই তো আমারই, কিন্তু আমার কন্যাদের ও নাতি নাতনিদের আমার কাছে রাখার জন্য কিছুই করতে পারি না| 44 সেইজন্যে এস তোমার সঙ্গে এক চুক্তি করি| আমাদের এই চুক্তির প্রমাণ স্বরূপ আমরা এক পাথরের থাম স্থাপন করব|” 45 চুক্তির প্রমাণ হিসাবে যাকোব একটা বড় পাথর খুঁজে এনে সেটা স্থাপন করল| 46 সে তার নিজের লোকদেরও পাথর এনে রাশি করে রাখতে বলল| তারপর সেই পাথরের রাশির ধারে বসে খাওয়া দাওযা করল| 47 লাবন সেই স্থানের নাম রাখলেন য়িগর্ সাহদুথা| কিন্তু যাকোব সেই স্থানের নাম দিল গল্-এদ| 48 তখন লাবন বললেন, “পাথরের এই রাশি আমাদের চুক্তি স্মরণ করতে সাহায্য করবে|” এই কারণে যাকোব সেই স্থানের নাম গল্-এদ রাখল| 49 তারপর লাবন বললেন, “আমরা পরস্পরের থেকে দূরে চলে গেলে প্রভু য়েন আমাদের পাহারা দেন|” সেইজন্যে সেই স্থানের নাম মিস্পা রাখা হল| 50 তারপর লাবন বললেন, “মনে রেখো তুমি যদি আমার কন্যাদের আঘাত কর তবে ঈশ্বর তোমাকে শাস্তি দেবেন| তুমি যদি অন্য আর কোন স্ত্রী লোককে বিয়ে কর তবে মনে রেখো ঈশ্বর লক্ষ্য রাখছেন| 51 আমাদের মধ্যে স্থাপিত স্তম্ভ ও এই রাশি করা পাথরগুলো স্মরণ করিযে দেবে আমাদের চুক্তির কথা| 52 আমি কখনই এই পাথরগুলো পার হয়ে তোমার সাথে লড়াই করতে যাবো না এবং তুমিও অবশ্যই পার হয়ে আমার সঙ্গে লড়াই করতে আসবে না| 53 আমরা যদি এই চুক্তি লঙঘন করি তবে অব্রাহামের ঈশ্বর, নাহোরের ঈশ্বর এবং তাদের পূর্বপুরুষের ঈশ্বর আমাদের বিচারে দোষী করুন|”যাকোবের পিতা ইসহাক ঈশ্বরকে “ভয়” বলে ডাকতেন| তাই যাকোব সেই নাম ব্যবহার করে প্রতিজ্ঞা করল| 54 তারপর যাকোব সেই পর্বতে একটা পশু বলিদান রূপে উত্সর্গ করল| আর তার আপনজনদের বোজে নিমন্ত্রণ করল| খাওয়া দাওযা শেষ হলে তারা সেই রাতটা পাহাড়েই কাটাল| 55 পরের দিন ভোরে লাবন তাঁর নাতি নাতনিদের ও কন্যাদের চুমু খেয়ে বিদায জানালেন| তিনি তাদের আশীর্বাদ করে ঘরে ফিরে গেলেন|

আদিপুস্তক 32

1 যাকোবও সেই স্থান হতে উঠে চলল| পথে সে ঈশ্বরের দূতগণের দেখা পেল| 2 তাদের দেখে যাকোব বলল, “এ ঈশ্বরের শিবির!” সেই জন্যে সে সেই স্থানের নাম মহনযিম রাখল| 3 যাকোবের ভাই এষৌ থাকত সেযীরে| এই জায়গাটা ছিল পাহাড়ী দেশ ইদোমে| যাকোব এষৌর কাছে বার্তাবাহকদের এই বলে পাঠাল, 4 “এই সব কথা আমার মনিব এষৌকে গিয়ে বলো| আপনার দাস যাকোব বলে: আমি এতগুলি বছর লাবনের কাছে কাটিযেছি| 5 আমার অনেক গরু, গাধা, মেষপাল, লোকজন ও দাসী রয়েছে| মহাশয় আমি এই বার্তা পাঠিয়ে অনুরোধ করছি, আপনি আমাদের গ্রহণ করুন|” 6 বার্তাবাহকরা যাকোবের কাছে ফিরে এসে বলল, “আমরা আপনার ভাই এষৌযের কাছে গিয়েছিলাম| তিনি আপনার সাথে দেখা করতে আসছেন| তাঁর সাথে 400 জন লোক রয়েছে|” 7 এই বার্তায যাকোব ভীত হল| সে তার লোকজনদের দুই দলে ভাগ করল| সে তার মেষপাল, পশুপাল ও উটের পালকে দুই ভাগে ভাগ করল| 8 যাকোব বলল, “যদি এষৌ এসে এক দলকে ধ্বংস করে তবে অপর দল নিশ্চয় পালিয়ে রক্ষা পাবে|” 9 যাকোব বলল, “হে আমার পিতা অব্রাহামের ঈশ্বর, আমার পিতা ইসহাকের ঈশ্বর! প্রভু তুমিই আমাকে আমার দেশে আমার পরিবারের কাছে ফিরে য়েতে বলেছিলে| তুমি বলেছিলে আমার মঙ্গল করবে| 10 তুমি আমার প্রতি কত করুণা করেছ| আমার কত মঙ্গল করেছ| প্রথমবার যখন আমি য়র্দ্দন পার হচ্ছিলাম তখন কেবল পথ চলার লাঠি ছাড়া আমার কাছে কিছুই ছিল না| কিন্তু এখন আমার সব কিছু প্রচুর বলে দুটো দল হয়েছে| 11 দয়া করে আমায় আমার ভাইয়ের হাত থেকে, এষৌর হাত থেকে রক্ষা কর| আমার ভয় হয় য়ে সে আমাদের, এমনকি সন্তানদের সঙ্গে মাযেদেরও হত্যা করবে| 12 প্রভু তুমি আমায় বলেছিলে, ‘আমি তোমার মঙ্গল করব| আমি তোমার বংশধরদের সংখ্যায় সমুদ্রের বালির মত করব যা গুনে শেষ করা যায় না|” 13 সেই স্থানে যাকোব রাত কাটাল| এষৌকে উপহার হিসাবে দেবার জন্য জিনিস গোছাল| 14 যাকোব 200টি ছাগী, 20টি ছাগ, 200টি মেষী ও 20টি মেষ নিল| 15 আরও নিল 30টি উট এবং তাদের বাচ্চা, 40টি গরু, 10টি ষাঁড়, 20টি গর্দ্দভী ও 10টি গর্দ্দভ| 16 যাকোব প্রতিটি পশুপাল তার দাসদের হাতে দিল| তারপর যাকোব তার দাসদের বলল, “প্রতিটি পশুর পাল পৃথক কর| আমার আগে আগে যাও আর প্রতিটি পালের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব রেখো| 17 যাকোব তার দাসদের আজ্ঞা দিল| প্রথম দলের পশু য়ে দাসের হাতে তাকে সে বলল, “যখন আমার ভাই এষৌ এসে তোমাকে জিজ্ঞেস করবে, ‘এ সব পশু কার? তুমি কোথায় যাচ্ছ? তুমি কার দাস?’ 18 তখন তুমি বলবে, ‘এইসব পশু আপনার দাস যাকোবের| যাকোবই এইসব উপহার হিসাবে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন. আর যাকোব নিজেও পেছন পেছন আসছেন|” 19 যাকোব দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং অন্য সব দাসদের ঐ একই কাজ করতে বলল| সে বলল, “এষৌর সঙ্গে দেখা হলে তোমরাও সবাই ঐ একই কাজ করবে| 20 তোমরা বলবে, “এই উপহার আপনার জন্যে আর আপনার দাস যাকোব আমাদের পেছনেই আসছেন|” যাকোব বলল, “যদি আমি এই লোকদের উপহার সমেত আমার আগে পাঠাই তবে হয়তো এষৌ আমায় ক্ষমা করে গ্রহণ করবেন|” 21 তাই যাকোব এষৌকে উপহারগুলি পাঠাল| কিন্তু সেই রাতে যাকোব তাঁবুতে রইল| 22 পরে সেই রাতে উঠে যাকোব সেখান থেকে চলে গেল| সে তার সাথে তার দুই স্ত্রী, দুই দাসী ও তার এগারোটি সন্তানকে নিয়ে য়ব্বোক নদী পার হল| 23 যাকোবের পরিবার নদী পার হয়ে গেলে সে তার সমস্ত জিনিসপত্রও পার হবার জন্য পাঠাল| 24 অবশেষে যাকোব নদী পার হবার জন্য রইল| কিন্তু সে একা পার হবার আগে একজন পুরুষ এসে তার সঙ্গে মল্লয়ুদ্ধ করল| সূর্য় ওঠার আগে পর্য্ন্ত সেই পুরুষটি তার সঙ্গে য়ুদ্ধ করলেন| 25 পুরুষটি যখন দেখলেন তিনি যাকোবকে পরাজিত করতে পারছেন না তখন যাকোবের পাযে আঘাত করলেন; তাতে যাকোরে পাযের হাড় সরে গেল| 26 তারপর সেই পুরুষটি যাকোবকে বললেন, “আমায় য়েতে দাও, সূর্য় উঠছে|”কিন্তু যাকোব বলল, “আপনি আমাকে আশীর্বাদ না করলে আমি আপনাকে য়েতে দেব না|” 27 সেই পুরুষটি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার নাম কি?”যাকোব উত্তর দিল, “আমার নাম যাকোব|” 28 তখন সেই পুরুষটি বললেন, “তোমার নাম যাকোবের পরিবর্তে ইস্রায়েল হবে| আমি তোমার এই নাম রাখলাম কারণ তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে ও মানুষের সঙ্গে য়ুদ্ধ করেছ কিন্তু পরাজিত হও নি|” 29 তখন যাকোব তাকে জিজ্ঞেস করল, “দয়া করে বলুন আপনার নাম কি?”কিন্তু সেই পুরুষটি বললেন, “কি জন্য আমার নাম জিজ্ঞেস করছ?” সেই সময়ই পুরুষটি যাকোবকে আশীর্বাদ করলেন| 30 তাই যাকোব সেই জায়গার নাম পনূয়েল রাখল| যাকোব বলল, “এই স্থানেই আমি ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখলাম কিন্তু তাও প্রাণে বাঁচলাম|” 31 সে পনূয়েল পার হলে সূর্য় উঠল| যাকোব পায়ের জন্য খোঁড়াতে খোঁড়াতে চলল| 32 সেইজন্য আজও ইস্রায়েলীয়রা উরুসন্ধির পেশী ভোজন করে না, কারণ যাকোবের সেই পেশীই আহত হয়েছিল|

আদিপুস্তক 33

1 যাকোব তাকিয়ে দেখলেন এষৌ আসছেন| এষৌ তার সঙ্গে 400 জন লোক নিয়ে আসছিলেন| যাকোব তার পরিবারকে চারটি দলে ভাগ করল| লেয়া এবং তার সন্তানেরা একটি দলে, রাহেল ও য়োষেফ আর একটি দলে এবং দুই দাসী ও তাদের সন্তানেরা আরও দুটি দলে ছিল| 2 যাকোব তার দাসীদের সন্তানদের সামনে রাখল| লেয়া এবং তার সন্তানদের সে তাদের পেছনে রাখল| যাকোব রাহেল ও য়োষেফকে সবশেষে রাখল| 3 যাকোব নিজে এষৌর দিকে এগিয়ে গেল| এর ফলে এষৌর সাথেই প্রথমে তার সাক্ষাত্‌ হল| যাকোব তার ভাইয়ের দিকে হেঁটে যাবার সময় সাতবার আভূমি প্রণত হল| 4 এষৌ যাকোবকে দেখতে পেয়ে তার সাথে দেখা করার জন্য দৌড়ে গেলেন| এষৌ যাকোবের গলা জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন| তারপর তাঁরা দুজনেই কাঁদলেন| 5 এষৌ তাকিযে সেই স্ত্রীলোক ও শিশুদের দেখতে পেয়ে বললেন, “তোমার সাথে ঐ লোকজনেরা কারা?”যাকোব উত্তরে বললেন, “ঈশ্বর অনুগ্রহ করে আমাকে এইসব সন্তানসন্ততিদের দিয়েছেন|” 6 তারপর সন্তানদের নিয়ে দুই দাসী এষৌর সঙ্গে দেখা করতে গেল| তারা তাঁর সামনে সশ্রদ্ধ প্রণিপাত করল| 7 এরপর লেয়া ও তার সন্তানরা এষৌর সঙ্গে দেখা করে তাঁর সামনে সশ্রদ্ধভাবে উপুড় হয়ে তাঁকে প্রণাম করল| শেষে রাহেল ও য়োষেফ এষৌর সঙ্গে দেখা করে উপুড় হয়ে প্রণাম করল| 8 এষৌ বললেন, “আমি এখানে আসার সময় য়ে জনসমারোহ দেখতে পেলাম তা এবং এইসব পশুই বা কিসের জন্য?”যাকোব বলল, “ঐ সব আপনার জন্য আমার উপহার| য়েন আপনি আমাকে গ্রহণ করেন|” 9 কিন্তু এষৌ বললেন, “তোমাকে উপহার দিতে হবে না ভাই আমার যথেষ্ট রয়েছে|” 10 যাকোব বলল, “তা না, আমার বিনতি এই যদি সত্যিসত্যি আপনি আমাকে গ্রহণ করে থাকেন তবে আমি য়ে উপহার আপনাকে দিই তা গ্রহণ করুন| আমি আবার আপনার মুখ দেখতে পেয়ে আনন্দিত| য়েন ঈশ্বরেরই মুখ দর্শন করলাম| আপনি য়ে আমাকে গ্রহণ করলেন এতেই আমি খুব খুশী| 11 সেইজন্য বিনয় করি আমি য়ে য়ে উপহার আপনার জন্য এনেছি তা গ্রহণ করুন| ঈশ্বর আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তাই আমার প্রযোজনের অতিরিক্তই রয়েছে|” এইভাবে যাকোব তার উপহারগুলি স্বীকার করার জন্য এষৌর কাছে বিনতি করল| সেইজন্য এষৌ উপহারগুলি স্বীকার করলেন| 12 তারপর এষৌ বললেন, “এবার তুমি তোমার যাত্রা পথে চলতে পার| আমি তোমার সঙ্গে যাব|” 13 কিন্তু যাকোব তাকে বলল, “আপনি জানেন য়ে আমার শিশুরা দুর্বল এবং আমাকে আমার পশুপাল সম্পর্কে সাবধান হতে হবে| যদি আমি তাদের একদিনে এতদূর য়েতে বাধ্য করি, তবে সব পশুই মারা পড়বে| 14 সেইজন্যে আপনি আগে আগে যান| গবাদিপশু এবং অন্যান্য পশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্তানরা যাতে খুব ক্লান্ত না হয়ে পড়ে সেই দিক দেখে আমি খুব ধীর গতিতে যাব| আমি সেযীরে আপনার সঙ্গে দেখা করব|” 15 তাই এষৌ বললেন, “তবে তোমাকে সাহায্য করার জন্য আমার কিছু লোক তোমার কাছে রেখে যাই|”কিন্তু যাকোব বলল, “আপনি বড়ই দয়ালু কিন্তু সেটারই বা প্রয়োজন কি?” 16 সেদিন এষৌ সেয়ীরের পথে যাত্রা শুরু করলেন| 17 কিন্তু যাকোব সুক্কোতে গেল| সেই জায়গায় সে নিজের জন্য একটা গৃহ তৈরী করল আর তার পশুপালের জন্য ছাউনি তৈরী করল| এইজন্য সেই জায়গার নাম রাখা হল সুক্কোত্‌| 18 যাকোব নিরাপদে পদ্দম্-অরাম হতে যাত্রা করে কনান দেশের শিখিম নগরে এসে উপস্থিত হল| সেই শহরের কাছে এক মাঠের মধ্যে সে শিবির স্থাপন করল| 19 শিখিমের পিতা হামোরের কাছ থেকে যাকোব ঐ মাঠটি 100 রৌপ্য খণ্ড দিয়ে কিনেছিল| 20 যাকোব সেই জায়গায় ঈশ্বরের উপাসনা করার জন্য এক বেদী তৈরী করে তার নাম রাখল, “এল্ ইলোহে, ইস্রাযেলের ঈশ্বর|”

আদিপুস্তক 34

1 দীণা ছিল যাকোব এবং লেয়ার কন্যা| একদিন দীণা সেই জায়গার মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে গেল| 2 হমোর ছিলেন সেই দেশের রাজা, তাঁর পুত্র শিখিম দীণাকে দেখতে পেলেন| শিখিম দীণাকে ধরে নিয়ে গিয়ে বলাত্‌কার করলেন| 3 শিখিম দীণার প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করার জন্য অনুণয করতে লাগলেন| 4 শিখিম তাঁর পিতাকে বললেন, “দয়া করে ওকে আমার জন্যে এনে দাও য়েন আমি বিয়ে করতে পারি|” 5 যাকোব জানতে পারল য়ে ছেলেটি তার কন্যার সাথে ঐ মারাত্মক খারাপ কাজটি করেছে| কিন্তু য়েহেতু তার সব কটি পুত্রই মাঠে পশু চরাতে গিয়েছিল, সেই জন্য তারা ঘরে ফিরে না আসা পর্য্ন্ত তিনি কিছুই করলেন না| 6 সেই সময় শিখিমের পিতা হমোর যাকোবের সঙ্গে কথা বলতে এলেন| 7 যাকোবের পুত্রেরা মাঠেই জানতে পারল কি ঘটেছে| ঘটনা শুনে তারা খুবই রেগে গেল কারণ শিখিম যাকোবের কন্যাকে বলাত্‌কার করে ইস্রায়েলকে লজ্জায ফেলেছিলেন| শিখিমের করা এই ভয়ঙ্কর ঘটনা শুনতে পেয়েই ভাইয়েরা ক্ষেত থেকে ফিরে এল| 8 কিন্তু হমোর ভাইদের বললেন, “আমার পুত্র শিখিম দীণাকে খুবই চায়| অনুগ্রহ করে ওকে বিয়ে করতে দাও| 9 এই বিবাহ বোঝাবে য়ে তোমাদের সঙ্গে আমাদের এক বিশেষ চুক্তি হয়েছে| তখন আমাদের পুত্ররা তোমাদের কন্যাদের এবং তোমাদের পুত্ররা আমাদের কন্যাদের বিয়ে করতে পারবে| 10 তোমরা আমাদের সঙ্গে এই একই দেশে থাকতে পারবে| তোমরা এখানকার জমির মালিক হবে ও ব্যবসা করতে পারবে|” 11 শিখিম নিজেও যাকোব ও ভাইয়েদের সঙ্গে কথা বললেন| শিখিম বললেন, “দয়া করে আমায় গ্রহণ কর| তোমরা আমাকে যা করতে বলবে তাই-ই করব| 12 যদি তোমরা আমায় কেবল দীণাকে বিয়ে করতে দাও, তবে তোমাদের চাওযা য়ে কোন উপহার আমি তোমাদের দেব| তোমরা যা চাইবে তাই-ই দেব, কেবল দীণাকে বিয়ে করতে দাও|” 13 যাকোবের পুত্ররা শিখিম ও তার পিতাকে মিথ্যা বলব বলে ঠিক করল| ভাইয়েরা তাদের রাগ সামলাতে পারছিল না কারণ শিখিম তাদের বোন দীণার প্রতি এই জঘন্য কাজ করেছিলেন| 14 তাই ভাইয়েরা তাঁকে বলল, “আপনি সুন্নত নন বলে আপনার সঙ্গে আমাদের বোনের বিয়ে দিতে পারি না| যদি আমরা আমাদের বোনকে আপনাকে বিয়ে করতে দিই তা হবে আমাদের পক্ষে এক অপমান| 15 কিন্তু আপনি এই একটি কাজ করলে আমরা তার সঙ্গে আপনার বিয়ে দিতে পারি| আপনার শহরের প্রত্যেকটি পুরুষকে আমাদের মত সুন্নত হতে হবে| 16 তাহলে আপনাদের পুত্ররা আমাদের কন্যাদের এবং আমাদের কন্যারা আপনাদের পুত্রদের বিয়ে করতে পারবে| তাহলে আমরা এক জাতি হব| 17 যদি আপনি সুন্নত হতে অস্বীকার করেন তবে আমরা দীণাকে নিয়ে যাব.” 18 এই চুক্তি হমোর এবং শিখিমকে খুব আনন্দিত করল| 19 দীণার ভাইয়েরা যা করতে বলল তাতে শিখিম খুশী হয়ে রাজী হলেন|শিখিম ছিলেন তাঁর পরিবারে সবচেয়ে সম্মানীয ব্যক্তি| 20 হমোর ও শিখিম তাঁদের শহরের সমাগম স্থানে গেলেন| তাঁরা শহরের পুরুষদের সঙ্গে কথা বললেন| 21 তাঁরা বললেন, “ইস্রাযেলের এই লোকরা আমাদের বন্ধু হতে চায়| তারা আমাদের দেশে বাস করুক ও আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করুক| আমাদের সকলের জন্য য়থেষ্ট জায়গা আমাদের রয়েছে| তাদের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক বিবাহও হতে পারে| আমাদের ছেলেরা তাদের মেয়েদের বিয়ে করতে পারে এবং তাদের মেয়েরা আমাদের ছেলেদের বিয়ে করতে পারে| 22 কিন্তু একটি বিষয আমাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে| আমাদের সব পুরুষকে সুন্নত হতে হবে, য়েমনটি ইস্রাযেলের লোকরা হয়ে রয়েছে| 23 একাজ করলে আমরা তাদের গো-মেষাদির পাল ও পশুর দ্বারা এবং সম্পত্তির দ্বারা ধনী হব| সুতরাং তাদের সঙ্গে আমাদের এই চুক্তি করা উচিত্‌, তাহলে তারা এখানে আমাদের সঙ্গে থাকবে|” 24 সমবেত সমস্ত লোক হমোর ও শিখিমের কথা শুনে সম্মতি জানাল| আর সব পুরুষরা সেই সময় সুন্নত হল| 25 তিন দিন পরেও সুন্নত হওয়া লোকরা তখনও পীড়িত ছিল| যাকোবের দুই পুত্র শিমিয়োন ও লেবি জানত য়ে ঐ লোকরা এই সময়ে দুর্বল থাকবে| তাই তারা শহরে ঢুকে সেখানকার সমস্ত লোককে হত্যা করল| 26 দীণার ভাই শিমিয়োন ও লেবি এই দুজনে মিলে হমোর ও তার পুত্র শিখিমকে হত্যা করল| তারা শিখিমের বাড়ী থেকে দীণাকে বের করে নিয়ে এল| 27 যাকোবের পুত্ররা শহরের সব কিছু লুঠ করল| শিখিম তাদের বোনের সঙ্গে ভ্রষ্টাচার করার জন্য তারা তখনও রেগে ছিল| 28 তাই ভাইয়েরা সমস্ত পশু, গাধা এবং শহরে ও ক্ষেতে যা কিছু ছিল তার সবই নিয়ে নিল| 29 সেই লোকেদের সর্বস্ব এমনকি তাদের স্ত্রী ও শিশুদের অধিকার করল| 30 কিন্তু যাকোব শিমিয়োন ও লেবিকে বলল, “তোমরা আমায় অনেক বিপদে ফেলেছ| এই অঞ্চলের সমস্ত লোক এখন আমায় ঘৃণা করবে| কনানীয ও পরিষীয় সমস্ত লোকরা আমার বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে| আমরা এখানে অল্প কযেকজন রযেছি| যদি এই জায়গার লোকরা একত্রে আমাদের সঙ্গে য়ুদ্ধ করতে আসে, তবে আমি তো ধ্বংস হবোই এমনকি আমার সমস্ত লোকও আমার সঙ্গে ধ্বংস হবে|” 31 কিন্তু ভাইয়েরা বলল, “ঐ লোকরা আমাদের বোনের সঙ্গে বেশ্যার মত য়ে ব্যবহার করেছে সেটাও কি উচিত্‌ ছিল? না, ঐ লোকেরা আমাদের বোনের প্রতি অন্যায় করেছে|”

আদিপুস্তক 35

1 ঈশ্বর যাকোবকে বললেন, “বৈথেল শহরে যাও| সেখানে বাস কর আর উপাসনার জন্য একটা বেদী তৈরী কর| স্মরণ কর এলকে| তুমি যখন তোমার ভাই এষৌর কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলে তখন সেখানে এই ঈশ্বরই তোমায় দর্শন দিয়েছিলেন|” 2 তাই যাকোব তার পরিবার ও তার সমস্ত দাসকে বলল, “তোমাদের কাছে কাঠ ও ধাতুর য়ে সমস্ত পুতুল ঠাকুর রয়েছে তার সমস্তই ধ্বংস কর| নিজেদের পবিত্র কর এবং পরিষ্কার কাপড় পর| 3 আমরা এই জায়গা ছেড়ে বৈথেলে যাব| সেখানেই আমি আমার ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে একটি বেদী তৈরী করব, এই ঈশ্বরই সঙ্কটের সময় আমায় সাহায্য করেছিলেন| আমি যেখানেই গিয়েছি সেখানেই এই ঈশ্বর আমার সঙ্গে গিয়েছেন|” 4 সেইজন্য লোকরা বিদেশের সমস্ত ঠাকুরগুলোকে যাকোবের কাছে এনে দিল| তারা যাকোবকে তাদের কানের দুলগুলি এনে দিল| যাকোব এসব কিছু শিখিম শহরের কাছে একটা এলা গাছের তলায় পুঁতে রাখল| 5 যাকোব আর তার পুত্ররা সেই জায়গা পরিত্যাগ করল| সেই স্থানের লোকরা তাদের তাড়া করে হত্যা করতে চেযেছিল| কিন্তু তারা ভীষণ ভয় পেয়ে যাকোবকে আর অনুসরণ করল না| 6 এরপর যাকোব আর তার লোকরা লুসে গেল| লুসের বর্তমান নাম বৈথেল| এটি কনান দেশে অবস্থিত| 7 যাকোব সেই জায়গায় একটি বেদী তৈরী করে তার নাম রাখল “এল্ বৈথেল|” যাকোব এই নাম বেছে নিল কারণ ভাইয়ের কাছ থেকে পালিয়ে যাবার সময় এইখানে ঈশ্বর তাঁর সামনে আবির্ভূত হয়েছিলেন| 8 রিবিকার ভাই দবোরার সেইখানেই মৃত্যু হল| তারা তাকে বৈথেলে একটা অলোন গাছের নীচে কবর দিল এবং সেই জায়গার নাম রাখল অলোন্ বাষুত্‌| 9 পদ্দন্-অরাম থেকে যাকোব যখন ফিরে এল ঈশ্বর তাঁকে আবার দর্শন দিলেন এবং তাকে আশীর্বাদ করলেন| 10 ঈশ্বর যাকোবকে বললেন, “তোমার নাম যাকোব কিন্তু আমি তোমার অন্য নাম রাখব| এখন থেকে তোমাকে যাকোব বলে ডাকা হবে না, তোমার নাম হবে ইস্রায়েল|” তাই ঈশ্বর তার নাম রাখলেন ইস্রায়েল| 11 ঈশ্বর তাকে বললেন, “আমিই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর এবং আমি তোমায় এই আশীর্বাদ করছি| তোমার অনেক সন্তান-সন্ততি হোক, এক মহাজাতি হয়ে বেড়ে ওঠো| তোমার থেকেই অন্য অনেক জাতি এবং রাজারা উত্পন্ন হবে| 12 আমি অব্রাহাম ও ইসহাককে য়ে দেশ দিয়েছিলাম সেই দেশই এখন তোমায় দিচ্ছি| তোমার পরে তোমার বংশধরদের আমি সেই দেশ দিচ্ছি|” 13 এরপর ঈশ্বর সেই জায়গা থেকে চলে গেলেন| 14 এই স্থানে যাকোব একটি স্মরণস্তম্ভ স্থাপন করল| সেই পাথরের উপরে দ্রাক্ষারস ও তেল ঢেলে যাকোব সেটা পবিত্র করল| এটা ছিল এক বিশেষ জায়গা কারণ এখানেই ঈশ্বর যাকোবের সঙ্গে কথা বলেছিলেন| এবং যাকোব এই জায়গার নাম রাখল বৈথেল| 15 16 যাকোব এবং তার দল বৈথেল ত্যাগ করল| তারা ইফ্রাতে পৌঁছাবার আগেই রাহেলের প্রসবের সময় এল| 17 কিন্তু এইবার প্রসবকালে রাহেলের ভীষণ কষ্ট হল, প্রসব বেদনা তীব্র হয়ে উঠল| রাহেলের ধাত্রী এই দেখে বললেন, “ভয় পেও না রাহেল! তুমি আরেকটি পুত্রের জন্ম দিতে চলেছ|” 18 রাহেল পুত্রটি প্রসব করার সময়ই মারা গেল| মারা যাবার আগে রাহেল পুত্রটির নাম রাখল বিনোনী| কিন্তু যাকোব তার নাম রাখল বিন্যামীন| 19 রাহেলকে ইফ্রাথ যাবার পথেই কবর দেওয়া হল| (ইফ্রাথই বৈত্‌লেহম|) 20 রাহেলকে সম্মান জানাতে যাকোব তার কবরে একটি স্তম্ভ স্থাপন করল| সেই বিশেষ স্তম্ভটি আজও সেখানে রয়েছে| 21 এরপর ইস্রায়েল আবার তার যাত্রা পথে চললেন| তিনি মিগ্দল এদর দক্ষিণে তাঁর তাঁবু খাটালেন| 22 ইস্রায়েল এই স্থানে অল্পকাল রইলেন| এই স্থানেই রূবেণ তার পিতার দাসী বিল্হার কাছে গেল এবং তার সাথে শয়ন করল| ইস্রায়েল এই খবর জানতে পেরে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন|যাকোবের 12টি পুত্র ছিল| 23 যাকোব এবং লেয়ার পুত্ররা হল: যাকোবের প্রথম জাত পুত্র রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর ও সবূলূন| 24 যাকোব এবং রাহেলের পুত্ররা হল য়োষেফ ও বিন্যামীন| 25 বিল্হা ছিলেন রাহেলের দাসী| যাকোব ও বিল্হার পুত্ররা হল দান এবং নপ্তালি| 26 সিল্পা ছিলেন লেয়ার দাসী| যাকোব এবং সিল্পার পুত্ররা হল গাদ ও আশের|পদ্দন্-অরামে যাকোবের এই কটি পুত্রের জন্ম হয়| 27 যাকোব কিরিযথ অর্ব্বয স্থিত মম্রি নামক স্থানে তার পিতা ইসহাকের কাছে গেলেন| এই জায়গায়ই অব্রাহাম ও ইসহাক বাস করতেন| 28 ইসহাক 180 বত্সর বেঁচে ছিলেন| 29 এরপর ইসহাক বৃদ্ধ ও পূর্ণায়ু হয়ে মারা গেলেন| তার দুই পুত্র এষৌ ও যাকোব তার পিতাকে য়ে স্থানে কবর দেওয়া হয়েছিল সেইখানেই তাকে কবর দিলেন|

আদিপুস্তক 36

1 এষৌর (ইদোম) বংশ বৃত্তান্ত এই| 2 এষৌ কনান দেশের এক স্ত্রীলোককে বিয়ে করেন| এষৌর স্ত্রীরা ছিলেন: হিত্তীয়, এলোনের কন্যা আদা, অনার কন্যা অহলীবামা, অনা ছিলেন হিব্বীয় সিবিয়োনের পৌত্রী| 3 এবং ইশ্মায়েলের কন্যা বাসমত্‌, বাসমতের বোনের নাম নবায়োত| 4 এষৌ এবং আদার পুত্রের নাম ইলীফস| বাসমতের পুত্রের নাম ছিল রূযেল| 5 অহলীবামার তিনটি পুত্রের নাম য়িযূশ, যালম ও কোরহ| এষৌর এই পুত্ররা কনান দেশে জন্মেছিলেন| 6 এষৌ এবং যাকোবের প্রচুর সম্পত্তি এবং বহু লোকজন হয়ে যাবার জন্য তাদের পক্ষে একসঙ্গে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠল| তাদের প্রচুর পশুপাল ছিল বলে সেই জমিটি, যেখানে তারা থাকত, তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারত না| তাই এষৌ তার ভাই যাকোবের কাছ থেকে চলে গেলেন| এষৌ তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, সমস্ত দাসী, গরু এবং অন্যান্য পশু এবং কনান দেশে তার আর যা কিছু ছিল সব নিয়ে পর্বতময প্রদেশ সেয়ীরে চলে গেলেন| (এষৌ ইদোম নামেও পরিচিত এবং ইদোম সেয়ীর দেশের অপর নাম|) 7 8 9 এষৌ হলেন ইদোমীয়দের পূর্বপুরুষ| পার্বত্য সেয়ীর (ইদোম) প্রদেশে বসবাসকারী এষৌর পরিবারগোষ্ঠীর নামগুলি: 10 এষৌ এবং আদার পুত্র ইলীফস| এষৌ এবং বাসমতের পুত্র রূযেল| 11 ইলীফসের পাঁচটি পুত্র ছিল: তৈমন, ওমার, সফো, গযিতম ও কনস| 12 তিম্না নামে এষৌর একজন দাসীও ছিল| তিম্না ও ইলীফসের পুত্রের নাম অমালেক| 13 রূয়েলের চার পুত্রের নাম নহত্‌, সেরহ, শল্ম ও মিসা| এরা ছিল এষৌর স্ত্রী বাসমতের নাতি| 14 এষৌর তৃতীয় স্ত্রীর নাম ছিল অহলীবামা, ইনি ছিলেন অনার কন্যা| (অনা ছিলেন সিবিয়োনের পুত্র|) এষৌ এবং অহলীবামার সন্তানরা হল: য়িযূশ, বালম ও কোরহ| 15 এষৌ হতে উত্পন্ন পরিবারগোষ্ঠীগুলি হল নিম্নরূপ:এষৌর প্রথম পুত্র ইলীফস থেকে উত্পন্ন তৈমন, ওমার, সফো, কনস, 16 কোরহ, গযিতম ও অমালেক|এই সমস্ত পরিবারগোষ্ঠী এষৌর স্ত্রী আদা থেকে উত্পন্ন| 17 এষৌর পুত্র রূয়েল ছিলেন নহত্‌, সেরহ শল্ম ও মিসার পিতা|এই সমস্ত পরিবারের মা ছিলেন এষৌর স্ত্রী বাসমত্‌| 18 এষৌর স্ত্রী অহলীবামা, অনার কন্যা, য়িযূশ, বালম ও কোরহের জন্ম দিলেন| ঐ তিনজন ছিলেন তাদের পরিবারের পিতা| 19 এষৌ হতে উত্পন্ন ঐ পুরুষরা প্রত্যেকে ছিলেন তাঁদের নিজ পরিবারগোষ্ঠীর নেতা| 20 হোরীয় সেয়ীরের এই পুত্ররা সেই দেশে বাস করত| এরা হল লোটন, শোবল, শিবিযোন, অনা, দিশোন, এত্‌সর, ও দীশন| 21 এই পুত্ররা ছিল ইদোম দেশে সেয়ীর হতে আসা হোরীয় পরিবারের গোষ্ঠীর নেতাসকল| 22 লোটন ছিলেন হোরি এবং হেমনের পিতা| (তিম্না ছিলেন লোটনের বোন|) 23 শোবল ছিলেন অল্ বন, মানহত্‌, এবল, মফো ও ওনমের পিতা| 24 সিবিয়োনের দুই পুত্র ছিল অযা ও অনা| (অনাই সেই জন যিনি তাঁর পিতার গাধাদের চরাবার সময় মরুভূমিতে উষ্ণ প্রস্রবণ খুঁজে পেয়েছিলেন|) 25 অনা ছিলেন দিশোন ও অহলীবামার পিতা| 26 দিশোনের চার পুত্র ছিল| তাদের নাম: হিম্দন, ইশ্বন, যিত্রণ ও করান| 27 এত্সরের তিন পুত্র ছিল| তাদের নাম বিল্হন, সাবন ও আকন| 28 দীশনের দুই পুত্র ছিল| তাদের নাম উষ ও অরাণ| 29 হোরীয পরিবারগুলির দলপতিদের নামগুলি এইরকম: লোটন, শোবল, সিবিযোন, 30 অনা, দিশোন, এত্সর ও দীশোন| সেয়ীর দেশে য়ে পরিবারগুলি বাস করত, এই লোকেরা ছিল তাদের দলপতিগণ| 31 সেই সময় ইদোমে রাজারা রাজত্ব করতেন| ইস্রায়েলে রাজ শাসন চালু হবার বহু পূর্বেই ইদোমে রাজারা রাজত্ব করতেন| 32 যিয়োরের পুত্র বেলা ইদোম দেশে রাজত্ব করেন, তার রাজধানীর নাম দিন্হাবা| 33 বেলার মৃত্যুর পর য়োবব রাজা হলেন| য়োবব ছিলেন বস্রা নিবাসী সেরহের পুত্র| 34 য়োববের মৃত্যুর পর হূশম রাজত্ব করলেন| হূশম ছিলেন তৈমন দেশীয়| 35 হূশমের মৃত্যুর পর বেদদের পুত্র হদদ সেই নগর শাসন করলেন| (হদদই মোয়াব দেশে মিদিয়নদের পরাজিত করেছিলেন| হদদ এসেছিলেন অবীত্‌ শহর থেকে| 36 হদদের মৃত্যুর পর সম্ল সেই দেশ শাসন করতে থাকেন| সম্ল এসেছিলেন মম্রেকা থেকে| 37 সম্লের মৃত্যুর পর শৌল সেই দেশ শাসন করতে থাকেন| শৌল এসেছিলেন ফরাত্‌ নদীর ধারে স্থির রহোবোত্‌ থেকে| 38 শৌলের মৃত্যুর পর বাল্হানন সেই দেশে রাজত্ব করেন| বাল্হানন ছিলেন অক্বোরের পুত্র| 39 বাল্হাননের মৃত্যুর পর হদর সেই দেশে রাজত্ব করেন| হদর ছিলেন পাযু শহরের লোক| হদরের স্ত্রীর নাম মহেটবেল; ইনি ছিলেন মট্টেদের কন্যা| (মট্টেদের পিতার নাম মেষাহবের|) 40 এষৌ ছিলেন ইদোম পরিবারগুলির পিতা| ইদোম পরিবারগুলি হল তিম্ন, অল্বা, য়িথেত্‌, অহলীবামা, এলা, দীনোন, কনস, তৈমন, মিব্মস, মগদীয়েল ও ঈরম| এই পরিবারগুলির নাম অনুসারেই তাদের বসতি স্থানের নাম হল| 41 42 43

আদিপুস্তক 37

1 যাকোব কনান দেশেই বাস করতে লাগল| এই সেই দেশ যেখানে পূর্বে তার পিতা বাস করতেন| 2 যাকোবের পরিবারের বৃত্তান্ত এইরকম|য়োষেফ তখন 17 বছর বযস্ক যুবক| তার কাজ ছিল মেষ, ছাগলের তত্ত্বাবধান করা| য়োষেফ এই কাজ করতেন তার ভাইয়েদের সঙ্গে অর্থাত্‌ বিল্হা ও সিল্পার সন্তানদের সঙ্গে| (বিল্হা ও সিল্পা তাঁর সত্‌ মা ছিলেন|) ভাইয়েরা মন্দ কাজ করলে য়োষেফ তা তাঁর পিতাকে এসে জানাতেন| 3 য়োষেফ ছিলেন ইস্রায়েলের বৃদ্ধাবস্থার সন্তান| এই জন্য ইস্রায়েল তার অন্যান্য পুত্রদের চেযে য়োষেফকেই বেশী ভালবাসতেন| যাকোব তাকে একটা বিশেষ জামা উপহার দিয়েছিল| জামাটি ছিল লম্বা এবং বেশ সুন্দর| 4 য়োষেফের ভাইয়েরা দেখল য়ে তাদের পিতা তাদের চাইতে য়োষেফকেই বেশী ভালবাসেন| এইজন্য তারা তাকে ঘৃণা করতে লাগল| তারা য়োষেফের সাতে বন্ধুভাবে কথা বলতেও চাইল না| 5 একদিন য়োষেফ একটা স্বপ্ন দেখলেন| পরে তিনি তার ভাইদের সেই স্বপ্নটা বললেন| এরপর তার ভাইয়েরা তাকে আরও ঘৃণা করতে থাকল| 6 য়োষেফ বললেন, “আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি| 7 দেখলাম আমরা সকলে ক্ষেতে কাজ করছি| আমরা সকলে গমের আঁটি বাঁধছিলাম, এমন সময় আমার আঁটিটা উঠে দাঁড়াল| আর আমার আঁটির চারপাশে গোল করে ঘিরে থাকা তোমাদের আঁটিগুলো একে একে আমারটিকে প্রণাম জানাল|” 8 তার ভাইয়েরা বলল, “তুমি কি মনে কর এর অর্থ তুমি আমাদের রাজা হয়ে আমাদের উপর রাজত্ব করবে?” তার ভাইয়েরা তাদের সম্বন্ধে দেখা এই স্বপ্নের জন্য তাকে আরও ঘৃণা করতে লাগল| 9 এরপর য়োষেফ আরেকটি স্বপ্ন দেখে সেই স্বপ্ন সম্বন্ধে তার ভাইয়েদের বললেন, “আমি আরেকটি স্বপ্ন দেখেছি| দেখলাম সূর্য়, চাঁদ এবং এগারোটি তারা আমাকে প্রণাম করছে|” 10 য়োষেফ তাঁর পিতাকেও এই স্বপ্নটি সম্বন্ধে বললেন| কিন্তু তাঁর পিতা এর সমালোচনা করে বললেন, “এ কি ধরণের স্বপ্ন? তুমি কি বিশ্বাস কর য়ে তোমার মা, তোমার ভাইয়েরা, এমনকি আমিও তোমায় প্রণাম করব?” 11 য়োষেফের ভাইয়েরা তাঁকে ঈর্ষা করত| কিন্তু য়োষেফের পিতা সেসব মনে রাখলেন আর ভেবে অবাক হলেন যে এর অর্থ কি হতে পারে| 12 একদিন য়োষেফের ভাইয়েরা শিখিমে গেল তাদের পিতার মেষ চরাতে| 13 যাকোব য়োষেফকে বলল, “শিখিমে যাও| সেখানে তোমার ভাইয়েরা আমার মেষ চরাচ্ছে|”য়োষেফ উত্তর করলেন, “আমি যাবো|” 14 য়োষেফের পিতা বললেন, “যাও গিয়ে দেখ তোমার ভাইয়েরা নিরাপদে আছে কিনা| তারপর ফিরে এসে আমাদের জানিও মেষদের অবস্থা কেমন|” এইভাবে য়োষেফের পিতা তাকে হিব্রোণ উপত্যকা থেকে শিখিমে পাঠালেন| 15 শিখিমে য়োষেফ পথ হারালে একজন লোক তাঁকে মাঠে ঘুরে বেড়াতে দেখল| সেই লোকটি বলল, “তুমি কি খুঁজে বেড়াচ্ছ?” 16 য়োষেফ উত্তর দিলেন, “আমি আমার ভাইদের খোঁজ করছি| বলতে পারেন তারা তাদের মেষ নিয়ে কোথায় গেছে?” 17 সেই লোকটি বলল, “তারা তো চলে গেছে| আমি তাদের দোথনে যাবার কথা বলতে শুনেছিলাম|” তাই য়োষেফ তার ভাইদের খুঁজতে গেলেন এবং দোথনে তাদের খুঁজে পেলেন| 18 য়োষেফের ভাইয়েরা তাকে দূর থেকে আসতে দেখে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করল| 19 ভাইয়েরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, “ঐ দেখ স্বপ্নদর্শক য়োষেফ আসছে| তাকে মেরে ফেলার 20 এই তো সুয়োগ| তাকে আমরা য়ে কোন একটা খালি কূপের মধ্যে ফেলে দিয়ে পিতাকে গিয়ে বলতে পারি য়ে এক বুনো জন্তু তাকে মেরে ফেলেছে| এইভাবে আমরা ওকে দেখাব য়ে তার স্বপ্নগুলো অসার|” 21 কিন্তু রূবেণ য়োষেফের প্রাণ বাঁচাতে চাইল| 22 সে বলল, “আমরা তাকে হত্যা করব না| এস, আমরা তাকে হত্যা না করে বরং বিনা আঘাতে ঐ শুকনো কূপের মধ্যে ফেলে দিই|” রূবেণের পরিকল্পনা ছিল য়োষেফকে এইভাবে উদ্ধার করে তার পিতার কাছে ফেরত পাঠানোর| 23 য়োষেফ তার ভাইদের কাছে এলে তারা তাকে আক্রমণ করে তার সুন্দর লম্বা জামাটা ছিঁড়ে ফেলল| 24 এরপর তারা তাকে ধরে ছুঁড়ে দিল এক শুকনো কূপের মধ্যে| 25 য়োষেফ যখন কূপের মধ্যে, সেই সময় তার ভাইয়েরা খেতে বসল| এইসময় তারা একদল বণিককে দেখতে পেল যারা গিলিয়দ থেকে মিশরে যাত্রা করছিল| তাদের উটগুলো বহন করছিল বহু রকম মশলা ও ধন দৌলত| 26 তাই যিহূদা তার ভাইয়েদের বলল, “আমাদের ভাইকে হত্যা করে আর তার মৃত্যুর সংবাদ গোপন করে আমাদের কি লাভ হবে? 27 এর থেকে লাভ হবে যদি আমরা তাকে এই বণিকদের কাছে বিক্রী করে দিই| এভাবে আমরা আমাদের নিজের ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য দোষীও হব না|” অন্য ভাইয়েরাও সম্মতি জানাল| 28 মিদিয়নীয় বণিকরা কাছে আসতেই ভাইয়েরা য়োষেফকে কূপ থেকে তুলে আনলো| তারা তাকে 20টি রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে বিক্রী করে দিল| বণিকরা এবার তাকে মিশরে নিয়ে চলল| 29 এই সময় রূবেণ সেখানে তার ভাইয়েদের সঙ্গে ছিল না| সে জানতোও না য়ে তারা য়োষেফকে বিক্রী করে দিয়েছে| রূবেণ কূপের ধারে ফিরে এসে দেখল য়োষেফ সেখানে নেই| তখন সে দুঃখ প্রকাশ করার জন্য নিজের কাপড় ছিঁড়ে ফেলল| 30 ভাইয়েদের কাছে ফিরে গিয়ে রূবেণ বলল, “ছেলেটা সেখানে নেই, এখন আমি কি করব?” 31 ভাইয়েরা তখন একটা ছাগল মেরে তার রক্তে য়োষেফের সুন্দর শালটা রাঙ্গিয়ে দিল| 32 এরপর তারা সেই শালটা তাদের পিতাকে দেখাল| ভাইয়েরা বলল, “আমরা এই শালটা পেয়েছি, দেখুন তো এটা য়োষেফের কিনা?” 33 তাদের পিতা শালটা দেখে চিনতে পারলেন য়ে সেটা য়োষেফেরই| পিতা বললেন, “হ্যাঁ, এটা তো তারই! হয়তো কোনো বন্য জন্তু তাকে মেরে ফেলেছে| আমার পুত্র য়োষেফকে এক হিংস্র পশু খেয়ে ফেলেছে!” 34 পুত্র শোকে যাকোব তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলল, তারপর চট বস্ত্র পরে দীর্ঘ সময় তার পুত্রের জন্য শোক করল| 35 যাকোবের পুত্র কন্যারা তাকে সান্ত্বনা দিতে চাইল| কিন্তু যাকোবকে সান্ত্বনা দেওয়া গেল না| সে বলল, “আমার মৃত্যু দিন পর্য্ন্ত আমি আমার পুত্রের জন্য দুঃখ করে যাব|”তাই যাকোব য়োষেফের জন্য দুঃখিত হয়ে রইল| 36 মিদিয়নীয় বণিকরা পরে য়োষেফকে মিশরে নিয়ে গিয়ে ফরৌণের রক্ষক সেনাপতি পোটীফরের কাছে বিক্রি করে দিল|

আদিপুস্তক 38

1 সেই সময় যিহূদা তার ভাইদের ছেড়ে হীরা নামে একটি লোকের সঙ্গে বাস করতে গেল| হীরা ছিলেন অদুল্লমীয় শহরের লোক| 2 সেখানে যিহূদা এক কনানীয় স্ত্রীলোককে দেখতে পেয়ে তাকে বিয়ে করল| মেয়েটির পিতার নাম ছিল শূয়| 3 কনানীয় মেয়েটি একটি পুত্রের জন্ম দিয়ে তার নাম রাখল এর| 4 পরে সে আরেকটি পুত্রের জন্ম দিয়ে তার নাম রাখল ওনন| 5 পরে তার শেলা নামে আরেকটি পুত্র হল| তৃতীয় পুত্রের জন্মের সময় যিহূদা কষীবে বাস করছিল| 6 যিহূদা তামর নামে এক কন্যাকে এনে তার সঙ্গে প্রথম পুত্র এরের বিয়ে দিল| 7 কিন্তু এর অনেক মন্দ কাজ করায প্রভু তার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন এবং তাকে হত্যা করলেন| 8 তখন যিহূদা এরের ভাই ওননকে বলল, “যাও তোমার মৃত ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে শয়ন কর| তার স্বামী হও| নিজের ভাই এরের জন্য বংশ উত্পন্ন কর|” 9 ওনন বুঝল মিলনের ফলে সন্তানসন্ততি হলে তা তার হবে না| ওনন তাই য়ৌন সঙ্গম করল| সে তার শরীরের অভ্য়ন্তরে বীর্য়্য় ত্যাগ করল না| 10 এই কাজে প্রভু ক্রুদ্ধ হলেন এবং ওননকেও মেরে ফেললেন| 11 তখন যিহূদা তার বৌমা তামরকে বলল, “যাও, তোমার পিতার বাড়ী ফিরে যাও| য়ে পর্য্ন্ত না আমার ছোট পুত্র শেলা বড় হয় সে পর্য্ন্ত বিয়ে না করে সেখানেই থাক|” যিহূদা আসলে ভয় পেয়েছিলেন, ভেবেছিলেন অন্য ভাইদের মতো হয়তো শেলাও মারা যাবে| তামর তার পিতার বাড়ী ফিরে গেল| 12 পরে যিহূদার স্ত্রী, শূয়ের কন্যার মৃত্যু হল| শোকের সময় গেলে যিহূদা তার অদুল্লমীয় বন্ধু হীরার সাথে মেষদের লোম ছাঁটতে তিম্নায গেল| 13 তামর জানতে পারল য়ে তার শ্বশুর তিম্নায় তার মেষদের লোম ছাঁটতে যাচ্ছেন| 14 তামর বিধবা বলে য়ে কাপড় পরত তা খুলে ফেলে অন্য কাপড় পরল ও তার মুখ ওড়না দিয়ে ঢাকল| তারপর সে তিম্নার কাছে অবস্থিত ঐনযিম শহরের দিকে য়ে রাস্তা চলে গেছে তার ধারে বসল| তামর জানত য়ে যিহূদার ছোট পুত্র শেলা এখন বড় হয়েছে কিন্তু তবু শেলার সাথে তার বিয়ে দেবার কোন পরিকল্পনাই যিহূদা করে নি| 15 যিহূদা সেই পথে য়েতে য়েতে তাকে দেখে ভাবল বোধ হয় বেশ্যা| (বেশ্যার মত তার মুখ ওড়না দিয়ে ঢাকা ছিল|) 16 যিহূদা তার কাছে গিয়ে বলল, “এস আমার সাথে শোও|” (যিহূদা জানত না য়ে এই ছিল তামর, তার পুত্রবধূ|)সে বলল, “আমায় কত দেবেন?” 17 যিহূদা উত্তর করল, “আমার পশুপাল থেকে তোমার জন্য একটা বাচ্চা ছাগল পাঠিয়ে দেব|”সে বলল, “ঠিক আছে| কিন্তু ছাগলটা পৌঁছাবার আগে আমার কাছে কিছু বন্ধক রাখুন|” 18 যিহূদা জিজ্ঞেস করল, “তোমাকে য়ে ছাগল পাঠাব তার প্রমাণ হিসাবে তুমি আমার কাছে কি চাও?”তামর বলল, “চিঠিতে মারবার তোমার ঐ মোহর, ও তার সুতো এবং হাঁটার ছড়িটাও আমায় দাও|” যিহূদা তাকে ঐ জিনিসগুলো দিল| তারপর যিহূদা ও তামর সহবাস করলে তামর গর্ভবতী হল| 19 তামর ঘরে ফিরে মুখের ওড়নাটা খুলে ফেলে বিধবার সাজে সাজল| 20 পরে যিহূদা তার বন্ধু হীরাকে এনযিমে পাঠাল সেই বেশ্যাকে ছাগলটা দিতে| যিহূদা হীরাকে আরও বলল য়ন সে তার কাছে থেকে সেই মোহর ও ছড়িটা নিয়ে আসে| কিন্তু হীরা তাকে খুঁজে পেল না| 21 হীরা ঐনযিম শহরের লোকদের জিজ্ঞাসা করল, “রাস্তার ধারে বসে থাকা বেশ্যাটা কোথায়?”লোকে উত্তর দিল, “এখানে কখনই কোন বেশ্যা ছিল না তো|” 22 তাই যিহূদার বন্ধু ফিরে এসে বলল, “সেই স্ত্রীলোককে খুঁজে পেলাম না| সেখানকার লোকজন বলল সেখানে কোন বেশ্যা কখনই ছিল না|” 23 তাই যিহূদা বলল, “সেইসব জিনিস তার কাছেই থাকুক| আমি চাই না য়ে লোক আমাদের নিয়ে হাসে| আমি ছাগলটা তাকে দিতে চেযেছিলাম কিন্তু খুঁজে পেলাম না| এটাই যথেষ্ট|” 24 তিন মাস পরে কেউ একজন যিহূদাকে বলল, “তোমার পুত্রবধু তামর বেশ্যার কাজ করেছে আর এখন সে গর্ভবতী হয়েছে|”তখন যিহূদা বলল, “তাকে বাইরে নিয়ে এসে পুড়িয়ে দাও|” 25 সেই লোকটি তামরকে হত্যা করতে এলে সে তার শ্বশুরকে এক খবর পাঠাল| তামর বলল, “য়ে লোকটি আমায় গর্ভবতী করেছে এই জিনিসগুলি তার| এই জিনিসগুলির দিকে দেখ| এগুলো কার? এই মোহর ও সুতো কার? এই ছড়িটা কার?” 26 যিহূদা সেই জিনিসগুলো চিনতে পেরে বলল, “সেই ঠিক| আমারই ভুল হয়েছে| আমি আমার পুত্র শেলাকে দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেও তাকে দিই নি|” এরপর যিহূদা কিন্তু তার সাথে আর সহবাস করল না| 27 তামরের প্রসবের সময় উপস্থিত হলে তারা দেখল তার যমজ সন্তান হতে চলেছে| 28 প্রসবের সময় একটা বাচ্চা তার হাত বের করলে ধাইমা তার হাতে একটা লাল সুতো বাঁধল আর বলল, “এই বাচ্চাটা আগে জন্মাবে|” 29 কিন্তু বাচ্চাটা তার হাত গুটিযে নিলে অন্য বাচ্চাটা প্রথমে জন্মাল| তাই সেই ধাইমা বলল, “তুমি প্রথমে ঠেলে বেরিয়ে আসতে পেরেছ!” তাই তারা তার নাম পেরস রাখল| 30 এরপর অন্য শিশুটির জন্ম হল, যার হাতে লাল সুতো বাধা ছিল| তারা এর নাম রাখল সেরহ|

আদিপুস্তক 39

1 বণিকরা যারা য়োষেফকে কিনেছিল, তারা তাকে মিশরে নিয়ে গেল এবং ফরৌণের রক্ষকদের সেনাপতি পোটীফরের কাছে বিক্রি করে দিল| 2 কিন্তু প্রভু য়োষেফকে সাহায্য করলেন| য়োষেফ সফলকর্মা হলেন| য়োষেফ সেই মিশরীয় পোটীফরের অর্থাত্‌ তার মনিবের বাড়ীতেই বাস করতেন| 3 পোটীফর দেখলেন য়ে প্রভু য়োষেফের সাথে রয়েছেন এবং য়োষেফ যা কিছু করেন তাতেই তিনি তাকে সফল হতে দেন| 4 সেইজন্য পোটীফর খুশী হয়ে য়োষেফকে তার নিজের বাড়ীর অধ্যক্ষ করে তারই হাতে সব কিছুর ভার দিলেন| 5 য়োষেফকে সেই বাড়ীর অধ্যক্ষ করা হলে প্রভু পোটীফরের বাড়ী এবং তার সব কিছুকে আশীর্বাদ করলেন| য়োষেফের জন্যই প্রভু একাজ করলেন| আর তিনি পোটীফরের ক্ষেতে যা জন্মাত তাকেও আশীর্বাদযুক্ত করলেন| 6 তাই পোটীফর তার বাড়ীর সব কিছুর ভারই য়োষেফের হাতে দিয়ে দিলেন, কেবল নিজের খাবারটা ছাড়া আর কিছুরই জন্য তিনি চিন্তিত ছিলেন না|য়োষেফ ছিলেন অত্যন্ত রূপবান ও সুদর্শন পুরুষ| 7 কিছু সময় পরে য়োষেফের মনিবের স্ত্রীও তাকে পছন্দ করতে শুরু করল| একদিন সে তাকে বলল, “আমার সঙ্গে শোও|” 8 কিন্তু য়োষেফ প্রত্যাখ্যান করে বলল, “আমার মনিব জানেন তার বাড়ীর প্রতিটি বিষযের প্রতি আমি বিশ্বস্ত| তিনি এখানকার সব কিছুর দায দায়িত্বই আমাকে দিয়েছেন| 9 আমার মনিব আমাকে এই বাড়ীতে প্রায় তার সমান স্থানেই রেখেছেন| আমি কখনই তার স্ত্রীর সঙ্গে শুতে পারি না| এটা মারাত্মক ভুল কাজ! ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ কাজ|” 10 স্ত্রী লোকটি রোজই য়োষেফকে এ কথা বলত, কিন্তু য়োষেফ রাজী হতেন না| 11 একদিন য়োষেফ নিজের কাজ করতে বাড়ীর ভেতরে গেলেন| সেই সময় সেই বাড়ীতে কেবল একা তিনিই ছিলেন| 12 তার মনিবের স্ত্রী সেই সময় তার কাপড় টেনে ধরে বলল, “আমার সঙ্গে বিছানায় এস|” কিন্তু য়োষেফ সেই বাড়ী থেকে এত দ্রুত দৌড়ে পালাল য়ে জামাটা স্ত্রীলোকটির হাতেই রয়ে গেল| 13 স্ত্রীলোকটি দেখল য়ে য়োষেফ তার হাতেই জামাটা ফেলে বাড়ীর বাইরে দৌড়ে বেরিয়ে গেছে| তাই সে চিন্তা করে ঠিক করল যা ঘটেছে সে সম্বন্ধে মিথ্যা কথা বলবে| 14 সে তার বাড়ীর ভৃত্যদের ডেকে বলল, “দেখ! এই ইব্রীয় ক্রীতদাসকে কি আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করার জন্য এখানে আনা হয়েছে? সে ভিতরে এসে আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমি চেঁচিয়ে উঠলাম| 15 আমার চিত্কারে সে ভয় পেয়ে পালাল| কিন্তু সে তার জামাটা ফেলে গেছে|” 16 তারপর তার স্বামী অর্থাত্‌ য়োষেফের মনিব আসা পর্য্ন্ত সে সেই জামাটা তার কাছে রেখে দিল| 17 স্বামীকেও সে ঐ একই ঘটনা বলল| সে বলল, “য়ে ইব্রীয় দাসটিকে তুমি এখানে এনেছ, সে আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল| 18 কিন্তু সে আমার কাছে আসতেই আমি চিত্কার করে উঠলাম| সে দৌড়ে পালাল বটে কিন্তু তার জামাটা ফেলে গেল|” 19 য়োষেফের মনিব তার স্ত্রীর সব কথা শুনে ক্রুদ্ধ হল| 20 তাই রাজার শত্রুদের য়ে কারাগারে রাখা হত, পোটীফর য়োষেফকে সেইখানে রাখল| য়োষেফ সেখানে রইলেন| 21 কিন্তু প্রভু য়োষেফের সঙ্গে ছিলেন| প্রভু য়োষেফের প্রতি দয়া করে চললেন| কিছুদিন পরে সেই কারাগারের রক্ষকদের প্রধানের কাছে তিনি প্রিয হলেন| 22 সেই কারাগারের সমস্ত বন্দীদের ভার য়োষেফের হাতে দিলেন| সেই পদে অধিষ্ঠিত য়ে কোন পদাধিকারী স্বাভাবিকভাবে যা করেন, য়োষেফ তাই করতেন| 23 সুতরাং য়োষেফের অধীনের কোন কাজই কারাধিকারীকে তত্ত্বাবধান করতে হোত না| এটা হয়েছিল কারণ প্রভু তার সঙ্গে ছিলেন এবং তাকে সব কাজে সফল করেছিলেন|

আদিপুস্তক 40

1 পরে ফরৌণের দুই ভৃত্য ফরৌণের প্রতি কিছু অন্যায় কাজ করল| এই ভৃত্যেরা ছিল তার রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশনকারী| 2 ফরৌণ প্রধান রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশনকারীর উপর ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন| 3 তাই ফরৌণ তাদের য়োষেফের সাথে একই কারাগারে রাখলেন| পোটীফর, ফরৌণের কারারক্ষকদের প্রধান সেই কারাগারের দায়িত্বে ছিলেন| 4 প্রধান কারারক্ষক সেই দুই বন্দীকে য়োষেফের পরিচর্য়ার অধীনে রাখলেন| সেই দুইজন লোকই কিছু সময় সেই কারাগারে রইল| 5 একদিন রাত্রে দুই বন্দীই স্বপ্ন দেখল| (এই দুই বন্দী ছিল মিশরের রাজার রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশনকারী|) প্রত্যেক বন্দীই ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্ন দেখল এবং প্রতিটি স্বপ্নের নিজস্ব অর্থ ছিল| 6 পরের দিন সকালে য়োষেফ তাদের কাছে গিয়ে দেখলেন য়ে তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ| 7 য়োষেফ জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের এত বিষন্ন দেখাচ্ছে কেন?” 8 লোক দুটি উত্তর করল, “গত রাতে আমরা স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু স্বপ্নের অর্থ বুঝছি না| সেই স্বপ্নের অর্থ বলার বা তা বুঝিযে দেবার কেউ নেই|”য়োষেফ তাদের বললেন, “ঈশ্বরই একজন যিনি বোঝেন ও স্বপ্নের অর্থ বলতে পারেন| তাই আমার অনুরোধ, তোমাদের স্বপ্নগুলো বল|” 9 সুতরাং দ্রাক্ষারস পরিবেশক য়োষেফকে তার স্বপ্ন বলল, “আমি স্বপ্নে একটা দ্রাক্ষালতা দেখলাম| 10 সেই লতায় তিনটে শাখা ছিল| আমি দেখলাম শাখাগুলিতে ফুল হল এবং দ্রাক্ষা ফলল| 11 আমি ফরৌণের পানপাত্র ধরেছিলাম, তাই সেই দ্রাক্ষাগুলোকে সেই কাপে নিঙড়ে নিলাম| তারপর সেই পানপাত্র ফরৌণকে দিলাম|” 12 তখন য়োষেফ বললেন, “সেই স্বপ্নের অর্থ আমি তোমায় বলছি| তিনটি শাখার অর্থ তিন দিন| 13 তিন দিন শেষ হবার আগেই ফরৌণ তোমায় ক্ষমা করে আবার তোমাক কাজে বহাল করবেন| তুমি ফরৌণের জন্য আগে য়ে কাজ করতে তাই-ই করবে| 14 কিন্তু তুমি ছাড়া পেলে আমায় স্মরণ কর| আমার প্রতি দয়া কর| ফরৌণকে আমার সম্বন্ধে বল যাতে আমি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে পারি| 15 আমাকে জোর করে আমার নিজের জায়গা, ইব্রীয়দের দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে| কারাগারে থাকার মত কোন অন্যায়ই আমি করি নি|” 16 রুটিওয়ালা দেখল অন্য ভৃত্যের স্বপ্নটা ভাল| তখন সে য়োষেফকে বলল, “আমিও একটা স্বপ্ন দেখেছি| দেখলাম আমার মাথায় রুটির তিনটে ঝুড়ি রয়েছে| 17 উপরের ঝুড়িতে সব রকমের সেঁকা খাবার ছিল| সেই খাবার রাজার জন্য ছিল কিন্তু পাখীরা ঐ খাবার খেতে লাগল|” 18 য়োষেফ বললেন, “আমি তোমাকে স্বপ্নের অর্থ বলছি| তিনটে ঝুড়ির অর্থ তিন দিন| 19 তিন দিনের মধ্যে রাজা তোমাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেবেন| তিনি তোমার শিরশ্ছেদ করে একটা বাঁশের মাথায় ঝুলিয়ে দেবেন| আর পাখীরা তোমার দেহের মাংস খাবে|” 20 তৃতীয় দিনটা ছিল ফরৌণের জন্ম দিন| ফরৌণ তাঁর সব দাসদের জন্য ভোজের আযোজন করলেন| সেই সময়ে ফরৌণ রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশককে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেন| 21 ফরৌণ পানপাত্র বাহককে মুক্তি দিয়ে পুনরায় তাকে তার কাজে নিয়েগ করলেন| আর সেই পানপাত্র বাহক আবার ফরৌণের হাতে পানপাত্র দিতে লাগল| 22 কিন্তু ফরৌণ রুটিওয়ালাকে ফাঁসি দিলেন| য়োষেফ য়েমনটি বলেছিলেন সেরকম ভাবেই সব ঘটনা ঘটল| 23 কিন্তু সেই পানপাত্র বাহকদের য়োষেফকে সাহায্য করার কথা মনে রইল না| সে য়োষেফের বিষয ফরৌণকে কিছুই বলল না, য়োষেফের কথা ভুলে গেল|

আদিপুস্তক 41

1 দু বছর পর ফরৌণ একটা স্বপ্ন দেখলেন| দেখলেন তিনি নীল নদীর ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছেন| 2 স্বপ্নে নদী থেকে সাতটা গরু উঠে এসে ঘাস খেতে লাগল| গরুগুলো ছিল হৃষ্টপুষ্ট, দেখতেও ভালো| 3 এরপর নদী থেকে আরও সাতটা গরু উঠে এসে পাড়ের হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলোর গা ঘেঁসে দাঁড়াল| কিন্তু ঐ গরুগুলো রোগা ছিল, দেখতেও অসুস্থ| 4 সেই সাতটা অসুস্থ গরু সাতটা হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলোকে খেয়ে ফেলল| তখনই ফরৌণের ঘুম ভেঙ্গে গেল| 5 ফরৌণ আবার শুতে গেলেন; আবার স্বপ্ন দেখলেন| এইবার দেখলেন একটা গাছে সাতটা শীষ বেড়ে উঠছে| শীষগুলো পুষ্ট এবং শস্যে ভরা| 6 তারপর দেখলেন আরও সাতটা শীষ উঠছে| কিন্তু শীষগুলো অপুষ্ট আর পূবের বাতাসে ঝলসে গেছে| 7 এরপর ঐ রোগা রোগা সাতটা শীষ পুষ্ট সাতটা শীষকে খেয়ে ফেলল| ফরৌণের ঘুম আবার ভেঙ্গে গেল| তিনি বুঝলেন য়ে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন| 8 পরের দিন সকালে রাতে দেখা স্বপ্নগুলোর জন্য ফরৌণের মন অস্থির হয়ে উঠল| তাই তিনি মিশরের সমস্ত যাদুকর ও জ্ঞানী লোকদের ডেকে পাঠালেন| ফরৌণ তার স্বপ্ন তাদের বললেন কিন্তু কেউ তার অর্থ বলতে পারল না| 9 তখন পানপাত্রবাহকের য়োষেফের কথা মনে পড়ল| ভৃত্যটি ফরৌণকে বলল, “আমার সাথে যা ঘটেছিল তা মনে পড়ছে| 10 আপনি আমার ও রুটিওয়ালার উপর রেগে গিয়েছিলেন এবং আমাদের বন্দী করেছিলেন| 11 তারপর এক রাতে সে ও আমি স্বপ্ন দেখলাম| প্রত্যেকটি স্বপ্নের আলাদা অর্থ ছিল| 12 আমাদের সাথে কারাগারে এক ইব্রীয় যুবক ছিল| সে ছিল রক্ষীদের অধিকারী ভৃত্য| আমরা তাকে আমাদের স্বপ্ন বললে সে তার মানে বলে দিল| 13 আর সে যা বলল বাস্তবে তাই-ই ঘটল| সে বলেছিল য়ে আমি মুক্তি পেয়ে আবার পুরানো কাজ ফিরে পাব - ঘটলও তাই| রুটিওয়ালা সম্বন্ধে বলেছিল য়ে সে মারা যাবে - ঘটলও তাই|” 14 তাই ফরৌণ য়োষেফকে ডেকে পাঠালে দুজন রক্ষী দ্রুত তাকে কারাগার থেকে বের করে আনল| য়োষেফ দাড়ি কামালেন, পরিষ্কার জামা পরলেন| তারপর ফরৌণের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন| 15 ফরৌণ য়োষেফকে বললেন, “আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু কেউ তার ব্যাখ্যা করতে পারছে না| আমি শুনেছি য়ে তুমি স্বপ্ন শুনলে তার ব্যাখ্যা করতে পার|” 16 উত্তরে য়োষেফ বললেন, “আমি পারি না! কিন্তু হয়তো ফরৌণের জন্য ঈশ্বর তার অর্থ বলে দেবেন|” 17 তখন ফরৌণ য়োষেফকে বলতে লাগলেন, “আমার দেখা স্বপ্নে আমি নীল নদীর ধারে দাঁড়িয়েছিলাম| 18 তখন নদী থেকে সাতটা গরু উঠে এসে ঘাস খেতে শুরু করল| গরুগুলো ছিল হৃষ্টপুষ্ট, দেখতেও সুন্দর| 19 তারপর আমি নদী থেকে আরও সাতটি গরু উঠে আসতে দেখলাম| কিন্তু এই গরুগুলো রোগা রোগা, দেখতেও অসুস্থ| ঐরকম বিশ্রী গরু আমি মিশরে কখনও দেখি নি| 20 তারপর রোগা অসুস্থ গরুগুলো প্রথমে আসা হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলোকে খেয়ে ফেলল| 21 কিন্তু তাও তাদের চেহারা রোগা আর অসুস্থই রইল| দেখে মনেই হবে না যা তারা সেই মোটা মোটা গরুগুলো খেয়েছে| তারপর আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল| 22 “আমার পরের স্বপ্নে আমি দেখলাম একটা গাছে সাতটা শীষ বেড়ে উঠছে| শীষগুলো পুষ্ট শস্যের দানায ভরা| 23 তারপর সেগুলোর পরে সাতটা আরও শীষ উঠে এলো| কিন্তু এগুলো রোগা আর পূবের বাতাসে ঝলসানো ছিল| 24 এরপর সেই অপুষ্ট শীষগুলো পুষ্ট শীষগুলোকে খেয়ে ফেলল|“আমার যাদুকরদের আমি এই স্বপ্নগুলো বললাম বটে কিন্তু তারা তার অর্থ বলতে পারল না| স্বপ্নগুলোর অর্থ কি?” 25 তখন য়োষেফ ফরৌণকে বললেন, “এই দুই স্বপ্নের বিষয়টা এক| ঈশ্বর শীঘ্রই যা করতে চলেছেন তা আপনার কাছে প্রকাশ করেছেন| 26 উভয় স্বপ্নের প্রকৃত অর্থ এক| সাতটা ভাল গরু এবং সাতটা ভাল শীষ সাতটা ভাল বছরকে বোঝাচ্ছে| 27 আর সাতটা রোগা গরু, সাতটা অপুষ্ট শীষ বোঝায় সাতটা দুর্ভিক্ষের বছর| সাতটা ভাল বছরের পর দুর্ভিক্ষের সাত বছর আসবে| 28 শীঘ্র যা ঘটতে চলেছে ঈশ্বর তাই-ই আপনাকে দেখিয়েছেন| য়ে ভাবে আমি বললাম ঈশ্বর সেইভাবেই এসব ঘটাবেন| 29 সাত বছর মিশরে প্রচুর শস্য উত্পন্ন হবে| 30 কিন্তু তারপর আসবে দুর্ভিক্ষের সাতটা বছর| মিশরের লোকরা ভুলে যাবে অতীতে কত শস্যই না হত| এই দুর্ভিক্ষে দেশ নষ্ট হবে| 31 লোকরা ভুলে যাবে শস্যের প্রাচুর্য়্য় বলতে কি বোঝায| 32 “ফরৌণ, আপনি একটি বিষয় নিয়ে দুটি স্বপ্ন দেখেছন| কারণ ঈশ্বর য়ে সত্যিই তা ঘটাতে চলেছেন তা আপনাকে দেখাতে চাইলেন| আর তিনি শীঘ্রই তা ঘটাবেন| 33 তাই ফরৌণ, আপনার উচিত্‌ একজন সুবুদ্ধি ও জ্ঞানবান লোক খুঁজে তাকে মিশর দেশের জন্য নিযুক্ত করা| 34 তারপর আপনি অন্য লোকদের নিয়োগ করুন য়েন তারা খাদ্য সংগ্রহ করে| সাতটি ভাল বছরের প্রত্যেকটি লোক তাদের উত্‌ পন্ন শস্যের এক পঞ্চমাংশ সেই লোকদের দিক| 35 এইভাবে ঐ লোকরা ঐ সাতটি ভাল বছরে প্রচুর খাদ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজন না পড়া পর্য্ন্ত শহরে শহরে সংগ্রহ করে রাখবে| এইভাবে ফরৌণ, আপনার অধীনে ঐ খাদ্য আসবে| 36 তারপর দুর্ভিক্ষের সাত বছরে মিশর দেশের জন্য খাদ্য থাকবে| আর দুর্ভিক্ষে মিশর ধ্বংস হয়ে যাবে না|” 37 এই পরিকল্পনা ফরৌণের মনপুতঃ হল আর তাঁর আধিকারিকরাও মেনে নিল| 38 তারপর ফরৌণ তাদের বললেন, “ঐ কাজ করার জন্যে মনে হয় না আমরা য়োষেফের থেকে আর ভাল কাউকে পাব! ঈশ্বরের আত্মা তার সঙ্গে রয়েছে আর সেই জন্যই সে জ্ঞানবান!” 39 তাই ফরৌণ য়োষেফকে বললেন, “ঈশ্বর তোমাকে এই সমস্ত যখন জানিয়েছেন তখন তোমার মত জ্ঞানী আর কে হতে পারে? 40 আমি তোমাকে আমার নিয়ন্ত্রণের জন্য নিযুক্ত করলাম, সমস্ত লোক তোমার আদেশ পালন করবে| ক্ষমতার দিক থেকে কেবল আমি তোমার চেযে বড় থাকব|” 41 ফরৌণ য়োষেফকে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যপাল করলেন| ফরৌণ য়োষেফকে বললেন, “আমি তোমাকে সমগ্র মিশরের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করলাম|” 42 তারপর ফরৌণ তাঁর আংটি খুলে য়োষেফের হাতে পরিযে দিলেন| সেই আংটিতে রাজকীয ছাপ ছিল| ফরৌণ তাকে মিহি কার্পাসের পোশাক দিলেন এবং তার গলায সোনার হার পরিযে দিলেন| 43 ফরৌণ য়োষেফকে দ্বিতীয় রথে চড়তে দিলেন| রক্ষকরা য়োষেফের রথের আগে আগে য়েতে য়েতে লোকদের বলতে থাকল, “য়োষেফের সামনে হাঁটু গাড়ো|”এইভাবে য়োষেফ সমগ্র মিশরের রাজ্যপাল হলেন| 44 ফরৌণ তাকে বললেন, “আমি রাজা ফরৌণ, সুতরাং আমি যা চাই তাই করব কিন্তু মিশরের আর কেউ তোমার আজ্ঞা ছাড়া হাত অথবা পা তুলতে পারবে না|” 45 ফরৌণ য়োষেফের আর এক নাম সাফনত্‌-পানেহ রাখলেন| ফরৌণ য়োষেফকে আসনত্‌ নামে এক কন্যার সঙ্গে বিয়েও দিলেন| সে ছিল ওন নামক শহরে যাজক পোটীফরের কন্যা| এইভাবে য়োষেফ সমস্ত মিশর দেশের রাজ্যপাল হলেন| 46 য়োষেফের 30বছর বয়সে তিনি মিশর দেশের রাজার সেবা করতে শুরু করলেন| তিনি সমস্ত মিশর দেশ ঘুরলেন| 47 সাত বছর মিশরে খুব ভাল শস্য উত্পন্ন হল| 48 আর ঐ সাত বছর ধরে য়োষেফ মিশরে খাবার সঞ্চয় করলেন| প্রত্যেক শহরে শহরে য়োষেফ সেই শহরের আশেপাশের ক্ষেতে যা জন্মাত তার থেকে সংগ্রহ করতেন| 49 য়োষেফ সমুদ্রের বালির মত এত শস্য সংগ্রহ করলেন য়ে তা মাপা গেল না কারণ তা মাপা সম্ভব ছিল না| 50 য়োষেফের স্ত্রী আসমত্‌ ছিলেন ওন শহরের যাজকের কন্যা| দুর্ভিক্ষের প্রথম বছর আসার আগেই য়োষেফ এবং আসমতের দুটি পুত্র হল| 51 প্রথম পুত্রের নাম রাখা হল মনঃশি| য়োষেফ এই নাম দিলেন কারণ তিনি বললেন, “ঈশ্বর আমার সমস্ত কষ্ট ও আমার বাড়ীর সমস্ত চিন্তা ভুলে য়েতে দিলেন|” 52 য়োষেফ দ্বিতীয় পুত্রের নাম রাখলেন ইফ্রয়িম| য়োষেফ এই নাম রাখলেন কারণ তিনি বললেন, “আমার মহাকষ্টের মধ্যেও ঈশ্বর আমাকে ফলবান করেছেন|” 53 সাত বছর লোকেরা খাদ্যের জন্য প্রচুর শস্য পেল| তারপর সেই বছরগুলো শেষ হল| 54 এবার দুর্ভিক্ষের সাতটা বছর শুরু হল ঠিক য়েমনটি য়োষেফ বলেছিলেন| সেই অঞ্চলের কোন দেশে কোথাও কোন খাদ্য শস্য জন্মালো না| কিন্তু মিশরের লোকদের জন্য য়থেষ্ট খাদ্য ছিল. কারণ য়োষেফ শস্য জমা করে রেখেছিলেন| 55 দুর্ভিক্ষের সময় শুরু হলে লোকেরা খাদ্যের জন্য ফরৌণের কাছে এসে কান্নাকাটি করল| ফরৌণ মিশরীযদের বললেন, “যাও য়োষেফকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর কি করতে হবে|” 56 সব জায়গায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে য়োষেফ গুদাম থেকে লোকদের শস্য বিক্রি করতে শুরু করলেন| দুর্ভিক্ষ মিশরেও ভযাবহ রূপ নিল| 57 সর্বত্রই সেই দুর্ভিক্ষ প্রবল হল, ফলে মিশরের আশেপাশের দেশ থেকেও লোকরা শস্য কিনতে এলো|

আদিপুস্তক 42

1 কনান দেশেও প্রবলভাবে দুর্ভিক্ষ হলো| যাকোব জানতে পারল য়ে মিশর দেশে শস্য রয়েছে| তাই যাকোব তার পুত্রদের বলল, “আমরা কিছু না করে কেন এখানে বসে রযেছি? 2 শুনলাম মিশর দেশে শস্য বিক্রি হচ্ছে| সেখানে গিয়ে আমরা শস্য কিনি| তাহলে আমরা বাঁচব| মরব না!” 3 তাই য়োষেফের দশ ভাই মিশরে শস্য কিনতে গেলেন| 4 যাকোব কিন্তু বিন্যামীনকে পাঠালেন না| (কেবল বিন্যামীনই য়োষেফের সহোদর ভাই ছিলেন|) যাকোব ভয় পেলেন পাছে বিন্যামীনের খারাপ কিছু ঘটে| 5 কনানেও দুর্ভিক্ষ ভযাবহ রূপ নিল ফলে কনান দেশের বহু লোক মিশরে শস্য কিনতে গেল| তাদের মধ্যে ইস্রাযেলের সন্তানরাও ছিলেন| 6 সেই সময় য়োষেফ মিশর দেশের রাজ্যপাল ছিলেন| আর য়ে সব লোক মিশরে শস্য কিনতে আসত তাদের উপর য়োষেফ নজর রাখতেন| তাই য়োষেফের ভাইরাও তার কাছে এসে হেঁট হয়ে প্রণাম করল| 7 য়োষেফ তাঁর ভাইদের দেখে চিনতে পারলেন, কিন্তু এমন ভান করলেন য়েন তাদের চেনেনই না| তিনি তাদের সঙ্গে কর্কশভাবে কথা বললেন| তিনি বললেন, “তোমরা কোথা থেকে এসেছ?”ভাইরা উত্তর দিল, “আমরা কনান দেশ থেকে এখানে খাদ্য কিনতে এসেছি|” 8 য়োষেফ জানতেন য়ে এই লোকরাই তার ভাই কিন্তু তারা য়োষেফকে চিনল না| 9 আর ভাইদের নিয়ে য়োষেফ য়ে স্বপ্নগুলি দেখেছিলেন তা তাঁর মনে পড়ে গেল|য়োষেফ তাঁর ভাইদের বললেন, “তোমরা এখানে শস্য কিনতে আস নি! তোমরা গুপ্তচর| তোমরা আমাদের দুর্বল জায়গাগুলো জানতে এসেছ|” 10 কিন্তু তার ভাইরা বলল, “তা নয় মহাশয়! আমরা আপনার দাস, কেবল খাদ্য কিনতে এসেছি|” 11 আমরা ভাইরা এক পিতার সন্তান| আমরা সত্‌ লোক, আমরা কেবল খাদ্য কিনতে এসেছি|” 12 তখন য়োষেফ তাদের বললেন, “তা নয়, কিন্তু তোমরা আমাদের কোথায় দুর্বলতা তাই দেখতে এসেছ|” 13 আর ভাইরা বলল, “না! আমরা সবাই ভাই ভাই! আমাদের পরিবারে আমরা বারো ভাই| আমাদের সকলের পিতা একজনই| ছোট ভাই এখনও আমাদের পিতার কাছে রয়েছে| অন্য ভাইটি বহু বছর আগে মারা গেছে| আমরা আপনার দাস, কনান দেশ থেকে এসেছি|” 14 কিন্তু য়োষেফ তাদের বলল, “না! আমি দেখছি আমার কথাই ঠিক| তোমরা গুপ্তচরই বটে|” 15 কিন্তু তোমরা য়ে সত্য বলছ তা আমি তোমাদের প্রমাণ করতে দেব| ফরৌণের নামে দিব্য়ি দিয়ে বলছি, য়ে পর্য্ন্ত না তোমাদের ছোট ভাই এখানে আসে আমি তোমাদের য়েতে দেব না| 16 আমি তোমাদের একজনকে য়েতে দেব য়ে ছোট ভাইকে আমার কাছে নিয়ে আসবে, সেই সময়ে তোমরা কারাগারে থাকবে| আমরা দেখব য়ে তোমাদের কথা সত্যি কিনা, যদিও আমার বিশ্বাস য়ে তোমরা গুপ্তচর|” 17 তারপর য়োষেফ তাদের তিনদিনের জন্য কারাগারে রাখলেন| 18 তিন দিন পরে য়োষেফ তাদের বললেন, “আমি ঈশ্বরকে ভয় করি! এই কাজ করলে তোমরা বাঁচবে| 19 তোমরা যদি সত্যিই সত্‌ লোক হও তবে তোমাদের এক ভাই এখানে এই কারাগারে থাকুক| অন্যরা শস্য বহন করে আপনজনের কাছে নিয়ে য়েতে পারে| 20 কিন্তু তোমরা অবশ্যই ছোট ভাইকে এখানে আমার কাছে নিয়ে আসবে| তাহলে আমি জানব য়ে তোমরা সত্য বলছ এবং তোমরা প্রাণে বাঁচবে|”ভাইরা এতে সম্মতি জানাল| 21 তারা একে অপরকে বলল, “আমরা য়োষেফের প্রতি য়ে অন্যায় কাজ করেছিলাম তার জন্য এই শাস্তি পাচ্ছি| আমরা তার কষ্ট দেখেও তার প্রাণের জন্য বিনতি শুনতে অস্বীকার করেছিলাম, আর এখন তাই আমরা এই সমস্যায় পড়েছি|” 22 তখন রূবেণ তাদের বলল, “আমি তোমাদের বলেছিলাম ঐ ছেলেটার প্রতি কোন অন্যায় কোর না| কিন্তু তোমরা আমার কথা শুনতে চাও নি| তাই এখন তার মৃত্যুর জন্য আমরা শাস্তি পাচ্ছি|” 23 য়োষেফ ভাইদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুবাদক ব্যবহার করছিলেন| তাই ভাইরা বুঝল না য়ে য়োষেফ তাদের ভাষা বুঝতে পারছেন| কিন্তু য়োষেফ যা শুনছিলেন তার সব কিছুই বুঝলেন| তাদের কথাবার্তা য়োষেফকে দুঃখিত করল| 24 তাই য়োষেফ তাদের থেকে দূরে গিয়ে কাঁদলেন| কিছুক্ষণ পরে য়োষেফ আবার তাদের কাছে ফিরে এলেন| তিনি শিমিয়োনকে ধরে তাদের সামনেই বাঁধলেন| 25 য়োষেফ তার ভৃত্যদের বললেন য়েন তাদের বস্তাগুলো শস্যে ভরে দেয| ভাইয়েরা শস্যের জন্য য়োষেফকে টাকা দিল| কিন্তু য়োষেফ সে টাকা না নিয়ে তাদের বস্তাতেই ফেরত রাখলেন| তারপর তিনি তাদের পথ যাত্রার জন্য রয়োজনীয় জিনিসগুলিও দিলেন| 26 তাই ভাইরা গাধার পিঠে শস্য চাপিয়ে রওনা হল| 27 সেই রাত্রে ভাইরা রাত কাটানোর জন্য এক জায়গায় এসে থামল| এক ভাই গাধার খাবার শস্য বের করার জন্য বস্তা খুলতেই বস্তায় তার টাকা দেখতে পেল| 28 সে অন্য ভাইদের বলল, “দেখ, শস্য কিনতে য়ে টাকা দিয়েছিলাম তা ফেরত এসেছে|” কেউ বস্তায় টাকা ফেরত রেখেছে| এতে ভাইরা খুব ভয় পেয়ে গেল| তারা একে অন্যকে বলল, “ঈশ্বর আমাদের প্রতি এ কি করেছেন?” 29 ভাইরা তাদের কনান দেশে পিতা যাকোবের কাছে ফিরে গেল| যা ঘটেছে তার সব কিছু তারা যাকোবকে বলল| 30 তারা বলল, “সেই দেশের রাজ্যপাল আমাদের সঙ্গে কর্কশভাবে কথা বললেন| তিনি ভাবলেন আমরা গুপ্তচর! 31 কিন্তু আমরা তাকে বললাম য়ে আমরা গুপ্তচর নই, আমরা সত্‌ লোক| 32 আমরা তাকে আমাদের পিতার কথা এবং ছোট ভাই কনান দেশে পিতার সঙ্গে বাড়ীতে রয়েছে তার কথা এবং এক ভাই য়ে মারা গেছে তার কথাও বললাম| 33 “তখন সেই দেশের রাজ্যপাল আমাদের এই কথা বললেন, “তোমরা য়ে সত্‌ লোক তার প্রমাণ দেবার একটা পথ রয়েছে| আমার এখানে তোমাদের এক ভাইকে রেখে যাও| তোমাদের শস্য তোমাদের পরিবারের কাছে নিয়ে যাও| 34 তারপর তোমাদের ছোট ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো| তাহলে আমি বুঝব তোমরা সত্‌ লোক, অথবা তোমরা গুপ্তচর হয়ে আমাদের ধ্বংস করতে এসেছ কিনা| তোমরা যদি সত্যি বলছ প্রমাণ হয় তবে আমি তোমাদের ভাইকে ফেরত দেব আর তোমরা আবার স্বচ্ছন্দে এই দেশ থেকে শস্য কিনতে পারবে|” 35 তারপর ভাইরা তাদের বস্তা থেকে শস্য বের করতে শুরু করলো| আর প্রত্যেক ভাই নিজের নিজের বস্তায় নিজের নিজের টাকা খুঁজে পেলেন| ভাইরা ও তাদের পিতা সেই টাকা দেখে ভীত হল| 36 যাকোব তাদের বললেন, “তোমরা কি চাও আমি আমার সব সন্তানদের হারাই? য়োষেফ চলে গেছে| শিমিয়োনও নেই| আর এখন তোমরা বিন্যামীনকেও নিয়ে য়েতে এসেছ|” 37 কিন্তু রূবেন তার পিতাকে বলল, “পিতা, যদি আমি বিন্যামীনকে তোমার কাছে ফিরিযে না আনি তবে তুমি আমার দুই সন্তানকে হত্যা কোর|” 38 কিন্তু যাকোব বললেন, “আমি বিন্যামীনকে তোমাদের সঙ্গে য়েতে দেব না| তাই ভাই মৃত আর আমার স্ত্রী রাহেলের পুত্রদের মধ্যে সেই অবশিষ্ট| মিশরে যাবার পথে তার যদি কিছু হয় তবে তা আমাকে মেরেই ফেলবে| তাহলে এই দুঃখে তোমরা আমাকে এই বৃদ্ধ মানুষকে মেরে ফেলবে|”

আদিপুস্তক 43

1 দুর্ভিক্ষের সময়টা সেই দেশের পক্ষে খারাপ হল| 2 মিশর থেকে আনা সব শস্যই লোকেরা খেয়ে শেষ করে ফেলল| যখন সেইসব শস্য শেষ হল, যাকোব তার দুটি পুত্রকে বলল, “মিশরে গিয়ে খাবার জন্য আরও শস্য কিনে আনো|” 3 কিন্তু যিহূদা যাকোবকে বলল, “কিন্তু সেই দেশের রাজ্যপাল আমাদের সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইকে নিয়ে না এলে আমি তোমাদের সঙ্গে কথা বলব না|’ 4 আপনি বিন্যামীনকে আমাদের সঙ্গে পাঠালে আমরা আবার শস্য কিনতে য়েতে পারি| 5 কিন্তু বিন্যামীনকে না পাঠালে আমরা যাব না| সেই রাজ্যপাল আমাদের সাবধান করে দিয়ে বলেছে তাকে না নিয়ে আসা চলবে না|” 6 ইস্রায়েল বললেন, “কেন তোমরা তাকে বললে য়ে তোমাদের আরেক ভাই রয়েছে? কেন তোমরা আমায় এই রকম বিপদ এনে দিলে|” 7 ভাইরা উত্তরে বলল, “লোকটি অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিলেন| তিনি আমাদের ও আমাদের পরিবার সম্বন্ধে সব কিছু জানতে চাইছিলেন| তিনি এও জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের পিতা কি এখনও জীবিত আছেন? তোমাদের বাড়ীতে কি আর কোন ভাই রয়েছে?’ আমরা কেবল তার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি| আমরা জানতাম না য়ে তিনি ছোট ভাইকে নিয়ে আসতে বলবেন|” 8 তখন যিহূদা তার পিতা ইস্রায়েলকে বলল, “বিন্যামীনকে আমার সঙ্গে য়েতে দিন| আমি তার যত্ন নেব| আমাদের মিশরে য়েতেই হবে, না গেলে আমরা সবাই মারা যাব, এমনকি আমাদের সন্তানরাও মরবে| 9 আমি নিশ্চিতভাবে তার নিরাপত্তার দিকে নজর রাখব| আমিই তার দায়িত্ব নেব| আমি যদি তাকে ফেরত না আমি তবে চিরকাল তোমার কাছে অপরাধী থাকব| 10 আমাদের যদি আগে য়েতে দিতে তবে আমরা দ্বিতীয়বার খাবার নিয়ে আসতে পারতাম|” 11 তখন তাদের পিতা ইস্রায়েল বললেন, “এই যদি সত্যি হয় তবে বিন্যামীনকে তোমাদের সঙ্গে নাও| কিন্তু রাজ্যপালের জন্য কিছু উপহার নিয়ে য়েও| সেই সমস্ত জিনিস যা আমরা আমাদের দেশে সংগ্রহ করেছি তা নিয়ে যাও| তার জন্য মধু, পেস্তা, বাদাম, ধূনো, আঠা এবং সুগন্ধদ্রব্য এইসব নিয়ে যাও| 12 এইবার তোমাদের সঙ্গে দ্বিগুন টাকা নিও| গতবার দাম মেটাবার পর য়ে টাকা তোমাদের কাছে ফেরত্‌ এসেছিল তা সঙ্গে নাও| হতে পারে রাজ্যপালের ভুল হয়েছিল| 13 বিন্যামীনকে নিয়েই তার কাছে যাও| 14 আমার প্রার্থনা তোমরা যখন রাজ্যপালের সামনে দাঁড়াবে তখন য়েন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমাদের সাহায্য করেন| প্রার্থনা করি সে য়েন বিন্যামীন ও শিমিয়োনকে নিরাপদে ফিরে আসতে দেয| যদি তা না হয় তবে আমি পুত্র হারানোর শোকে আবার মুষড়ে পড়ব|” 15 তাই রা রাজ্যপালকে দেবার জন্য উপহারগুলো নিল আর সঙ্গে আগে যা নিয়েছিল তার দ্বিগুন টাকা নিল| এইবার বিন্যামীনও তার ভাইদের সাথে মিশরে গেল| 16 মিশরে য়োষেফ বিন্যামীনকে তার ভাইদের সঙ্গে দেখতে পেয়ে ভৃত্যদের বললেন, “ঐ লোকদের আমার বাড়ী নিয়ে এস| পশু মেরে রান্না কর| এই লোকরা আজ দুপুরে আমার সঙ্গে খাবে|” 17 ভৃত্যটি কথা মত কাজ করল| সে ঐ লোকদের য়োষেফের বাড়ীর ভিতর নিয়ে এল| 18 য়োষেফের বাড়ী যাবার সময় ভাইরা ভয় পেয়ে গেল| তারা বলল, “গতবার য়ে টাকা আমাদের বস্তায় ফেরত্‌ দেওয়া হয়েছিল তার জন্যই বোধহয় আমাদের এখানে আনা হচ্ছে| ঐ বিষযটিকেই আমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে তারা আমাদের গাধা কেড়ে নিয়ে আমাদের দাস করে রাখবে|” 19 তাই ভাইরা য়োষেফের বাড়ীর প্রধান ভৃত্যের কাছে গেল| 20 তারা বলল, “সত্যি বলছি গতবার আমরা শস্য কিনতে এসেছিলাম| 21 বাড়ী ফেরার পথে আমরা বস্তা খুলে প্রত্যেক বস্তায় আমাদের টাকা খুঁজে পেলাম| আমরা জানি না টাকা সেখানে কি করে এলো| কিন্তু আমরা সেই টাকা ফেরত্‌ দেবার জন্য নিয়ে এসেছি| আর এবারের শস্য কেনার জন্যও টাকা এনেছি|” 22 23 কিন্তু সেই ভৃত্য বলল, “ভয় পেও না, আমায় বিশ্বাস কর| তোমাদের ঈশ্বর, তোমাদের পিতার ঈশ্বর নিশ্চয়ই উপহার হিসাবে সেই টাকা তোমাদের বস্তায় ফেরত্‌ দিয়েছেন| আমার মনে আছে তোমরা গতবার শস্যের জন্য দাম দিয়েছিলে|”তারপর সেই ভৃত্যটি শিমিয়োনকে কারাগার থেকে বের করে আনল| 24 ভৃত্যটি তাদের য়োষেফের বাড়ী নিয়ে গেল| সে তাদের জল দিলে তারা পা ধুয়ে নিল| তারপর সে তাদের গাধাদের খাবার খেতে দিল| 25 ভাইরা শুনতে পেল য়ে তারা য়োষেফের সঙ্গে খাবে| তাই তারা দুপুর পর্য্ন্ত তাদের উপহার সাজাল| 26 য়োষেফ বাড়ী ফিরলে ভাইয়েরা তাদের সঙ্গে করে আনা উপহার তাকে দিল| তারপর তারা হাঁটু গেড়ে তাকে প্রণাম করল| 27 য়োষেফ তারা কেমন আছে জিজ্ঞেস করলেন| তারপর বললেন, “তোমাদের বৃদ্ধ পিতা যার সম্বন্ধে আমাকে বলেছিলে তিনি কেমন আছেন? তিনি কি এখনও জীবিত আছেন?” 28 ভাইরা উত্তর দিল, “হ্যাঁ, মহাশয়, আমাদের পিতা এখনও জীবিত আছেন|” তারপর তারা আবার য়োষেফের সামনে হাঁটু গেড়ে তাকে প্রণাম করল| 29 তখন য়োষেফ বিন্যামীনকে দেখতে পেলেন| (বিন্যামীন ও য়োষেফ ছিলেন এক মায়ের সন্তান|) য়োষেফ বললেন, “এই কি তোমাদের ছোট ভাই যার সম্বন্ধে তোমরা আমায় বলেছিলে?” তারপর য়োষেফ বিন্যামীনকে বললেন, “বত্স, ঈশ্বর তোমায় আশীর্বাদ করুন|” 30 সেই সময় য়োষেফ ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন| য়োষেফ তাঁর ভাই বিন্যামীনকে য়ে ভালবাসেন তা প্রকাশ করতে চাইলেন| তাঁর কান্না পেল, কিন্তু তিনি চাইলেন না য়ে তাঁর ভাইরা তাকে কাঁদতে দেখুক| তাই য়োষেফ দৌড়ে তাঁর ঘরে গিয়ে কাঁদতে লাগলেন| 31 তারপর য়োষেফ তাঁর মুখ ধুয়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন| নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বললেন, “এখন খাবার সময় হয়েছে|” 32 ভৃত্যেরা য়োষেফের জন্য একটা টেবিলে ব্যবস্থা করল| অন্য টেবিলে তার ভাইদের বসার ব্যবস্থা হল, এছাড়া মিশরীযদের জন্য আলাদা আরেকটা টেবিলে ব্যবস্থা করা হল| মিশরীযরা মনে মনে বিশ্বাস করত য়ে ইব্রীয়দের সঙ্গে বসে তাদের খাওয়াটা উচিত কাজ নয়| 33 য়োষেফের ভাইরা তার সামনের টেবিলেই বসল| ভাইরা ছোট থেকে বড়জন পরপর বসেছিল| কি ঘটছিল তাই ভেবে ভাইরা বিস্মযে একে অপরের দিকে চাইল| 34 ভৃত্যরা য়োষেফের টেবিল থেকে খাবার এনে তাদের দিচ্ছিল| তবে ভৃত্যরা বিন্যামীনকে অন্যদের চাইতে পাঁচগুণ বেশী খাবার দিল| ভাইরা য়োষেফের সঙ্গে খেল, পান করল য়ে পর্য্ন্ত না তারা প্রায় মত্ত হয়ে গেল|

আদিপুস্তক 44

1 তারপর য়োষেফ তাঁর ভৃত্যদের এক আদেশ দিয়ে বললেন, “ওদের প্রত্যেকের বস্তা বইবার ক্ষমতা অনুসারে শস্য ভর্তি করে দাও| আর প্রত্যেকের টাকাও তাদের শস্যের সঙ্গে রেখে দাও| 2 আমার ছোট ভাইয়ের বস্তায় তার টাকাটা রেখ এবং তার সঙ্গে আমার বিশেষ রূপোর পেয়ালাটাও রাখ|” ভৃত্যরা য়োষেফের কথা মত কাজ করল| 3 পরের দিন ভোরবেলা ভাইদের গাধায করে দেশে ফেরার জন্য বিদেয করা হল| 4 তারা শহর ছেড়ে বেরোলে য়োষেফ তার ভৃত্যকে বললেন, “যাও, ওদের পিছু নাও| ওদের থামিযে বল, ‘আমরা তোমাদের প্রতি কি ভাল ব্যবহার করি নি? তবে তোমরা কেন আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে? কেন তোমরা আমার মনিবের রূপোর পেয়ালা চুরি করলে? 5 আমার মনিব সেই পেয়ালা থেকে পান করেন এবং গণনার জন্যও ব্যবহার করেন| তোমরা যা করেছ তা অন্যায় কাজ|”‘ 6 ভৃত্যটি সেই মত কাজ করল| সে সেখানে পৌঁছে ভাইদের থামালো| য়োষেফ যা বলতে বলেছিলেন, ভৃত্যটি সেই মত কথা বলল| 7 কিন্তু ভাইরা ভৃত্যটিকে বলল, “রাজ্যপাল কেন এইরকম কথা বলছেন? আমরা সেইরকম কোন কাজ করতেই পারি না| 8 আমরা আমাদের বস্তায় য়ে টাকা আগের বার পেয়েছিলাম তা ফিরিযে এনেছিলাম| তাহলে নিশ্চয়ই আমরা তোমার মনিবের বাড়ী থেকে সোনা কি রূপা কিছুই চুরি করতে পারি না| 9 তুমি যদি সেই রূপোর পেয়ালা আমাদের কারও বস্তায় খুঁজে পাও তবে তার মৃত্যু হোক| তুমি তাকে তাহলে হত্যা এবং সেক্ষেত্রে আমরাও তোমার দাস হব|” 10 ভৃত্যটি বলল, “আমরা তোমাদের কথা মতই কাজ করব| কিন্তু আমি সেই জনকে হত্যা করব না| আমি রূপোর পেয়ালা খুঁজে পেলে সেই জন আমার দাস হবে, অন্যরা য়েতে পারে|” 11 তখন প্রত্যেক ভাই তাড়াতাড়ি মাটিতে নিজেদের বস্তা খুলে ফেলল| 12 ভৃত্যটি বস্তাগুলি দেখতে লাগল| জ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে কনিষ্ঠের বস্তা খুঁজে দেখলে বিন্যামীনের বস্তায় সেই পেয়ালা খুঁজে পাওয়া গেল| 13 ভাইরা এতে অত্যন্ত দুঃখিত হল| তারা তাদের শোক প্রকাশ করতে জামা ছিঁড়ে ফেলল| নিজেদের বস্তা আবার গাধায চাপিয়ে শহরে ফিরে চলল| 14 যিহূদা তার ভাইদের নিয়ে য়োষেফের বাড়ী গেল| য়োষেফ তখনও বাড়ীতে ছিলেন| ভাইরা তার সামনে মাটিতে পড়ে তাকে প্রণাম করল| 15 য়োষেফ তাদের বললেন, “তোমরা কেন এ কাজ করেছ| তোমরা কি জানতে না য়ে আমি গণনা করতে পারি| এ কাজে আমার থেকে ভালো কেউ নেই|” 16 যিহূদা বলল, “মহাশয়, আমাদের বলবার কিছুই নেই| ব্যাখ্যা করারও পথ নেই| আমরা য়ে নির্দোষ তা প্রমাণ করারও পথ নেই| অন্য কোন অন্যায় কাজের জন্য ঈশ্বর আমাদের বিচারে দোষী করেছেন| সেইজন্য আমরা সবাই এমনকি, বিন্যামীনও, আপনার দাস হব|” 17 কিন্তু য়োষেফ বললেন, “আমি তোমাদের সবাইকে দাস করব না| কেবল য়ে পেয়ালা চুরি করেছে সেই আমার দাস হবে| বাকী তোমরা তোমাদের পিতার কাছে শান্তিতে ফিরে যাও|” 18 তখন যিহূদা য়োষেফের কাছে গিয়ে বললেন, “মহাশয়, দয়া করে আমাকে সব কথা পরিস্কার করে আপনাকে বলতে দিন| দয়া করে আমার প্রতি রাগ করবেন না| আমি জানি আপনি ফরৌণের সমান| 19 আমরা আগে যখন এখানে এসেছিলাম তখন আপনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তোমাদের একজন পিতা আর ভাই আছে কি?’ 20 আমরা আপনাকে উত্তর দিয়েছিলাম, ‘আমাদের এক পিতা আছেন, তিনি বৃদ্ধ| আমাদের এক ছোট ভাই রয়েছে| আমাদের পিতা তাকে ভালবাসেন কারণ সে তার বৃদ্ধ বয়সের সন্তান| আর সেই ছোট ভাইয়ের নিজের এক ভাই মারা গেছে| তাই তার মায়ের পুত্রদের মধ্যে একমাত্র সেই বেঁচে আছে এবং তার পিতা তাকে খুব ভালবাসেন| 21 তারপর আপনি বললেন, “তবে সেই ভাইকেই আমার কাছে নিয়ে এস| আমি তাকে দেখতে চাই|’ 22 আর আমরা আপনাকে বললাম, ‘সেই ছোট ভাই পিতাকে ছেড়ে আসতে পারে না| আর পিতা তাকে হারালে শোকেতে মারাই যাবেন|’ 23 কিন্তু আপনি আমাদের বললেন, ‘তোমাদের অবশ্যই সেই ভাইকে আনতে হবে নতুবা আমি শস্য বিক্রি করব না|’ 24 তাই আমরা ফিরে গিয়ে আপনি যা বলেছিলেন তা আমাদের পিতাকে জানালাম| 25 “পরে আমাদের পিতা বললেন, ‘যাও, গিয়ে আরও কিছু শস্য কিনে আনো|’ 26 আর আমরা পিতাকে বললাম, ‘আমরা ছোট ভাইকে না নিয়ে য়েতে পারি না| রাজ্যপাল বলেছেন ছোট ভাইকে না দেখলে তিনি আমাদের কাছে শস্য বিক্রি করবেন না|’ 27 তখন আমাদের পিতা বললেন, ‘তোমরা জান আমার স্ত্রী রাহেলের দুটি সন্তান হয়|’ 28 তাদের একজনকে আমি য়েতে দিলে বন্য জন্তু তাকে মেরে ফেলল| সেই থেকে আর কখনও তাকে দেখিনি| 29 তোমরা যদি অন্য জনকেও আমার কাছে থেকে নিয়ে যাও আর তার যদি কিছু ঘটে তাহলে আমি শোকে মারা যাব|’ 30 এখন ভেবে দেখুন ছোট ভাইকে নিয়ে বাড়ী না ফিরলে কি ঘটবে - এই ছোট ভাই পিতার প্রাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ! 31 ছোট ভাইকে আমাদের সঙ্গে না দেখলে আমাদের পিতার মারাই যাবেন আর দোষটা হবে আমাদেরই| তাহলে আমরা আমাদের বৃদ্ধ পিতাকে এই দুঃখের কারণে মেরে ফেলব| 32 “এই ছোট ভাইয়ের দায়িত্ব আমিই নিয়েছিলাম| আমি পিতাকে বলেছিলাম, ‘আমি যদি তাকে তোমার কাছে ফিরিযে না আনি তবে সারাজীবন আমি অপরাধী হয়ে থাকব|’ 33 তাই এখন আমার এই ভিক্ষা, দয়া করে ছোট ভাইকে তার ভাইদের সঙ্গে ফিরতে দিন| আর আমি এখানে আপনার দাস হয়ে থাকি| 34 ঐ ছোট ভাই না ফিরলে আমি পিতাকে মুখ দেখাতে পারবো না| ভেবে ভয় পাচ্ছি আমার পিতার কি হবে|”

আদিপুস্তক 45

1 য়োষেফ আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না| তিনি সেখানে উপস্থিত সমস্ত লোকের সামনে কেঁদে উঠলেন এবং বললেন, “সবাইকে চলে য়েতে বলো|” তাই সব লোক চলে গেল| কেবল য়োষেফের ভাইয়েরা সঙ্গে রইল| তখন য়োষেফ নিজের পরিচয দিলেন| 2 য়োষেফ খুব উচ্চস্বরে কাঁদছিলেন, আর ফরৌণের বাড়ীর সমস্ত মিশরীযরা তা শুনতে পেল| 3 য়োষেফ তাঁর ভাইদের বললেন, “আমি তোমাদের বাই য়োষেফ| আমার পিতা ভাল আছেন তো?” কিন্তু ভাইয়েরা উত্তর দিল না কারণ তারা হতবুদ্ধি হলেন, ভয় পেলেন| 4 তাই য়োষেফ আবার তাঁর ভাইদের বললেন, “এখানে আমার কাছে এস| দয়া করে এখানে এস|” তাই ভাইরা য়োষেফের কাছে গেল| য়োষেফ তাদের বললেন, “আমি তোমাদের ভাই য়োষেফ| আমিই সেই, যাকে তোমরা দাস হিসাবে মিশরের জন্য বেচে দিয়েছিলে|” 5 এখন চিন্তা কর না| তোমরা যা করেছিলে তার জন্য রাগও কর না| ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুসারেই আমি এখানে এসেছি| আমি তোমাদের প্রাণ বাঁচাতেই এখানে এসেছি| 6 দুর্ভিক্ষের কেবল দুটো বছরই কেটেছে| এখনও আরও পাঁচ বছর কোন চাষ হবে না, ফসলও ফলবে না| 7 সুতরাং ঈশ্বর আমাকে তোমাদের আগেই এখানে পাঠিয়েছেন যাতে আমি তোমাদের লোকজনদের এই দেশে এনে বাঁচাতে পারি| 8 আমাকে য়ে এখানে পাঠানো হয়েছে তাতে তোমাদের দোষ নেই| এ ছিল ঈশ্বরের পরিকল্পনা| ঈশ্বরই আমাকে ফরৌণের পিতার স্থানে বসিযেছেন| আমি তার সমস্ত বাড়ীর সমস্ত মিশর দেশের রাজ্যপাল হয়েছি|” 9 য়োষেফ বলল, “তোমরা তাড়াতাড়ি আমার পিতার কাছে যাও| তাঁকে বল তার পুত্র য়োষেফ এই বার্তা পাঠিয়েছে|”ঈশ্বর আমাকে মিশরের রাজ্যপাল করেছেন| তাই এখানে আমার কাছে চলে আসুন| দেরী করবেন না| এখনই চলে আসুন| 10 আপনি আমার কাছাকাছি গোশন প্রদেশে থাকতে পারেন| আপনি, আপনার সন্তানরা, আপনার নাতিনাতনিরা এবং আপনার সমস্ত পশুদেরও নিয়ে আসুন| 11 দুর্ভিক্ষের পরের পাঁচ বছর আমি আপনার যত্ন নেব| ফরে আপনি এবং আপনার পরিবারের যা আছে তার কিছুই হারিযে যাবে না| 12 য়োষেফ তার ভাইদের বললেন, “আমি য়ে সত্যি সত্যিই য়োষেফ তা তোমরা চোখেই দেখছ| এখন আমার ভাই বিন্যামীনও জানে য়ে আমি তোমাদের ভাই, তোমাদের সঙ্গে কথা বলছি| 13 আমি মিশর দেশে য়ে সম্মান অর্জন করেছি সে সম্বন্ধে পিতাকে বোল| এখানে তোমরা যা যা দেখছ সে সম্বন্ধে তাঁকে বোল| এবার ওঠ, যত তাড়াতাড়ি পার আমার পিতাকে এখানে নিয়ে এস|” 14 এরপর য়োষেফ বিন্যামীন বুকে জড়িয়ে ধরে দুজনেই কাঁদতে লাগলেন| 15 য়োষেফ অন্যান্য ভাইদেরও চুমু খেয়ে কাঁদলেন| এরপর ভাইরা তারা সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল| 16 ফরৌণও জানতে পারলেন য়ে য়োষেফের ভাইরা তার কাছে এসেছে| এই খবর ফরৌণের সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়লে ফরৌণ ও তাঁর দাসরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন| 17 ফরৌণ য়োষেফকে বললেন, “তোমার ভাইদের বল তাদের য়ে পরিমাণ শস্যের প্রয়োজন তা নিয়ে য়েন কনান দেশে যায়| 18 আরও বল য়েন তারা তাদের পিতা এবং তাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমার কাছে এইখানে ফিরে আসে| আমি তোমাদের বাস করার জন্য মিশরে সব চাইতে ভাল জমি দেব| আর তোমার পরিবার এখানকার সব চেযে ভাল খাবার খেতে পাবে|” 19 তারপর ফরৌণ বললেন, “আমাদের মালবাহী গাড়ীগুলোর মধ্যে য়েগুলো ভালো তার কিছু তোমার ভাইদের দাও| তাদের বলো য়েন, তারা কনান দেশে গিয়ে তাদের পিতা এবং নিজের নিজের স্ত্রী ও পুত্র কন্যা নিয়ে গাড়ী করে ফিরে আসে| 20 সেখান থেকে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে আসার ব্যাপারে তারা য়েন চিন্তা না করে, কারণ মিশরের সমস্ত উত্তম জিনিস তাদের|” 21 ইস্রাযেলের সন্তানরা তাই করলেন| ফরৌণ য়েমন আদেশ করেছিলেন সেই মতন য়োষেফ তাদের ভালো কিছু মালবাহী গাড়ী দিলেন আর যাত্রার জন্য য়থেষ্ট খাবারও দিলেন| 22 য়োষেফ তাঁর প্রত্যেক ভাইকে সুন্দর জামা জোড়াও দিলেন| কিন্তু য়োষেফ বিন্যামীনকে দিলেন পাঁচ জোড়া জামা আর 300 রৌপ্য মুদ্রা, 23 য়োষেফ তাঁর পিতার জন্যও উপহার পাঠালেন| তিনি দশটা গাধার পিঠে বস্তা ভরে মিশরের বহু উত্তম জিনিস পাঠালেন| আর তার পিতার ফেরবার পথে যাত্রার জন্য আরও দশটি স্ত্রী গাধার পিঠে করে শস্য, রুটি এবং অন্যান্য খাবার পাঠালেন| 24 তারপর য়োষেফ তাঁর ভাইদের বিদায দিলেন| আর তারা যখন পথে যাচ্ছে য়োষেফ তাদের বললেন, “সোজা বাড়ী যাও| পথে ঝগড়া কর না|” 25 তাই তারা মিশর দেশ ছেড়ে তাদের পিতার কাছে কনান দেশে গিয়ে পৌঁছাল| 26 ভাইরা বলল, “পিতা য়োষেফ এখনও জীবিত! আর তিনিই সমস্ত মিশরের নিযুক্ত রাজ্যপাল|” তাদের পিতা এই শুনে হতবুদ্ধি হয়ে রইলেন; প্রথমে তো তাঁর বিশ্বাসই হল না| 27 কিন্তু তারপর তারা য়োষেফ যা বলেছিলেন তা বলল| আর য়োষেফ তাঁকে মিশর দেশে নিয়ে যাবার জন্য মালবাহী গাড়ীগুলো পাঠিযছিলেন তা যখন যাকোব দেখলেন, তখন তিনি আনন্দে উত্তেজিত হয়ে উঠলেন| 28 ইস্রায়েল বললেন, “এবার আমি তোমাদের কথা বিশ্বাস করছি| আমার পুত্র য়োষেফ এখনও বেঁচে আছে! আহা, মৃত্যুর আগে আমি তাকে দেখতে পাব!”

আদিপুস্তক 46

1 ইস্রায়েল মিশর দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেন| প্রথমে তিনি বের্-শেবাতে গেলেন| সেখানে ইস্রায়েল তাঁর পিতা ইসহাকের ঈশ্বরের উপাসনা করলেন এবং বলি দিলেন| 2 রাত্রে ঈশ্বর স্বপ্নে যাকোবের সঙ্গে কথা বললেন| ঈশ্বর বললেন, “যাকোব, যাকোব|”ইস্রায়েল উত্তর দিলেন, “এই য়ে আমি|” 3 তখন ঈশ্বর বললেন, “আমি ঈশ্বর, তোমার পিতার ঈশ্বর! মিশরে য়েতে ভয় কোর না| মিশরে আমি তোমাকে এক মহাজাতিতে পরিণত করব| 4 আমি তোমার সঙ্গে মিশরে যাব আর তোমাকে সেখান থেকে ফিরিযে আনব| তুমি মিশরে মারা যাবে কিন্তু য়োষেফ তোমার সঙ্গে থাকবে| তুমি মারা গেলে য়োষেফই তার নিজের হাত দিয়ে তোমার চোখ বুজিযে দেবে|” 5 তারপর যাকোব বের্-শেবা ছেড়ে মিশরের দিকে যাত্রা করলেন| ইস্রাযেলের পুত্ররা নিজেদের পিতা যাকোবকে এবং প্রত্যেকে নিজের পুত্র কন্যা ও স্ত্রীদের নিয়ে মিশরে চললেন| ফরৌণ য়ে মালবাহী গাড়ীগুলো পাঠিয়েছিলেন সেইগুলো করেই তাঁরা গেলেন| 6 তাঁরা তাঁদের পশুপাল এবং কনান দেশে তাদের যা যা ছিল সব নিয়ে চললেন| সুতরাং ইস্রায়েল মিশরে তার সমস্ত সন্তান এবং তাদের পরিবার নিয়েই গেলেন| 7 তাঁর সঙ্গে ছিল তাঁর পুত্ররা এবং নাতিরা, তাঁর কন্যারা এবং নাতনিরা| সুতরাং তাঁর সমস্ত পরিবার তাঁর সাথে মিশরে গেলেন| 8 ইস্রাযেলের পুত্ররা এবং তার বংশধররা যারা তাঁর সঙ্গে মিশরে গিয়েছিলেন তাদের নামগুলি এই: ়বূবেণ ছিলেন জ্যেষ্ঠ পুত্র| 9 রূবেণের পুত্ররা ছিলেন হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মি| 10 শিমিযোনের পুত্ররা ছিলেন য়িমূযেল, যামীন, ওহদ, যাখীন, সোহর এছাড়া শৌল| (শৌলের মা ছিলেন একজন কনানীয স্ত্রীলোক|) 11 লেবীর পুত্ররা ছিলেন গের্শোন, কহাত্‌ ও মরারি| 12 যিহূদার পুত্ররা হলেন এর, ওনন, শেলা, পেরস ও সেরহ| (এর ও ওনন কনান দেশেই মারা গিয়েছিল|) পেরসের পুত্ররা হলেন হিষ্রোণ ও হামূল| 13 ইষাখরের পুত্ররা হলেন তোলয, পুয, য়োব ও শিম্রোণ| 14 সবূলূনের পুত্ররা হলেন সেরদ, এলোন ও মহলোল| 15 রূবেণ, শিমিয়োন, লেবি, যিহূদা, ইষাখর ও সবূলূন এনারা ছিলেন যাকোব ও লেয়ার সন্তানগণ| পদ্দম্-অরামে লেয়ার এই সন্তানরা জন্মেছিল| তার দীনা নামে একটি কন্যাও ছিল| তার পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ছিল 33 জন| 16 গাদের পুত্ররা ছিলেন সিফিযোন, হগি, শূনী, ইষ্ বোন, এরি, অরোদী ও অরেলী| 17 আশেরের পুত্ররা ছিলেন য়িম্না, য়িশ্বা, য়িশবি, বরিয এবং তাদের বোন সেরহ| বরিযের পুত্ররা অর্থাত্‌ হেবর ও মল্কীযেলও ছিলেন| 18 যাকোবের এই পুত্ররা ছিলেন তার স্ত্রী দাসী সিল্পার| (সিল্পাই সেই দাসী যাকে লাবন তার কন্যা লেয়ার সাথে দিয়েছিলেন|) তার পরিবারের মোট সদস্য ছিলেন 16 জন| 19 বিন্যামীনও যাকোবের সঙ্গে ছিলেন| বিন্যামীন ছিলেন যাকোব ও রাহেলের পুত্র| (য়োষেফও রাহেলের পুত্র| কিন্তু য়োষেফ ইতিমধ্যে মিশরে ছিলেন|) 20 মিশরে য়োষেফের দুই পুত্র হয়| তাদের নাম মনঃশি ও ইফ্রয়িম| (য়োষেফের স্ত্রীর নাম ছিল আসমত্‌| তিনি ছিলেন ওন শহরের যাজক পোটীফর এর কন্যা| 21 বিন্যামীনের পুত্ররা হল বেলা, বেখর, অস্ বেল, গেরা, নামন, এহী, রোশ, মুপ্পীম, হুপ্পীম ও অর্দ| 22 এনারা ছিলেন যাকোব ও তার স্ত্রী রাহেলের সন্তান| পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা 14 জন| 23 দানের পুত্র ছিলেন হূশীম| 24 নপ্তালির পুত্র ছিলেন য়হসিযেল, গূনি, বেত্‌সর ও শিল্লেম| 25 এঁরা ছিলেন যাকোব ও বিল্হার সন্তান| (বিল্হা-ই সেই দাসী যাকে লাবন তার কন্যা রাহেলের সাথে পাঠিয়েছিলেন|) এই পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল সাত| 26 সরাসরি যাকোব হতে উত্পন্ন উত্তরপুরুষদের মোট 66জন তার সঙ্গে মিশরে গিয়েছিলেন| (এই সংখ্যার মধ্যে যাকোবের পুত্রদের স্ত্রীদের গণনা করা হয় নি|) 27 আবার য়োষেফেরও দুই সন্তান ছিলেন য়াঁরা মিশরে জন্মেছিলেন| সুতরাং মিশরে যাকোবের পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা হল 70 জন| 28 য়োষেফের সঙ্গে কথা বলার জন্য যাকোব যিহূদাকে তাঁর আগে পাঠালেন| এর পরে যাকোব এবং তাঁর পুত্ররা গোশন প্রদেশে পৌঁছোলেন| যিহূদা গোশন প্রদেশে য়োষেফের সঙ্গে কথা বলতে গেলেন| যাকোব এবং তাঁর পরিবারের লোকজন এরপর সেই প্রদেশে পৌঁছালেন| 29 য়োষেফ যখন শুনলেন য়ে তাঁর পিতা আসছেন তখন তিনি রথ প্রস্তুত করে গোশন প্রদেশে তাঁর পিতা ইস্রাযেলের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন| য়েষেফ তাঁর পিতাকে দেখে গলা জড়িয়ে ধরে বহুক্ষণ কাঁদলেন| 30 তখন ইস্রায়েল য়োষেফকে বললেন, “এখন আমি শান্তিতে মরতে পারব| আমি তোমার মুখ দেখলাম এবং জানলাম য়ে তুমি এখনও জীবিত|” 31 য়োষেফ তাঁর ভাইদের এবং পিতার পরিবারের বাকীদের বললেন, “আমি ফরৌণকে বলতে যাচ্ছি য়ে তোমরা এখানে এসেছ| আমি ফরৌণকে বলব, ‘আমার ভাইরা এবং পিতার পরিবারের বাকী সবাই কনান দেশ ছেড়ে এখানে আমার কাছে এসেছেন| 32 পরিবারের সবাই মেষপালক| তারা বরাবরই মেষপাল ও গো-পাল রেখে থাকেন| তারা তাদের পশু ও আর যা কিছু তাদের ছিল সবই তাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন| 33 ফরৌণ তোমাদের ডাকলে জিজ্ঞেস করবে, ‘তোমরা কি কাজ কর?’ 34 তোমরা তাকে বলবে, ‘আমরা মেষপালক| সারাজীবন ধরেই আমরা মেষ পালন করে আসছি| আমাদের আগে আমাদের পিতৃপুরুষরা মেষপালক ছিলেন|’ ফরৌণ তোমাদের গোশন প্রদেশে থাকতে দেবেন| মিশরীযরা মেষপালকদের পছন্দ করেন না, সেইজন্য তোমাদের গোশন প্রদেশে থাকাটাই ভাল হবে|”

আদিপুস্তক 47

1 য়োষেফ ফরৌণের কাছে গিয়ে বললেন, “আমার পিতা, আমার ভাইরা এবং তাদের পরিবারের সবাই এখানে এসেছেন| তারা তাদের পশু ও সর্বস্ব নিয়ে কনান দেশ থেকে চলে এসেছেন| তাঁরা এখন গোশন প্রদেশে রয়েছেন|” 2 ফরৌণের সামনে যাবার জন্য ভাইদের মধ্যে পাঁচজনকে মনোনীত করলেন| 3 ফরৌণ ভাইদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কি কাজ কর?”ভাইরা ফরৌণকে বলল, “মহাশয় আমরা মেষপালক| আর আমাদের আগে আমাদের পূর্বপুরুষরাও মেষপালক ছিলেন|” 4 তারা ফরৌণকে বলল, “কনান দেশে ভযাবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছে| তাই পশুদের খাবার ঘাসের অভাব হয়েছে| তাই আমরা এই দেশে বাস করব বলে এখানে এসেছি| দয়া করে আমাদের গোশন প্রদেশে থাকতে দিন|” 5 তখন ফরৌণ য়োষেফকে বললেন, “তোমার পিতা ও তোমার ভাইরা তোমার কাছে এসেছেন| 6 তাদের থাকবার জন্য তুমি মিশরে য়ে কোন জায়গা বেছে নিতে পারো| তোমার পিতা এবং তোমার ভাইদের সব চাইতে ভাল জমিটা দিও| তাদের গোশন প্রদেশে বাস করতে দাও| আর তারা যদি দক্ষ মেষপালক হয় তবে তারা আমার পশুপালেরও যত্ন নিতে পারে|” 7 তখন য়োষেফ তাঁর পিতাকে ফরৌণের সঙ্গে দেখা করবার জন্য ডেকে আনলেন| যাকোব ফরৌণকে আশীর্বাদ করলেন| 8 ফরৌণ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার বয়স কত?” 9 যাকোব ফরৌণকে বললেন, “আমার আযুর এই অল্প বয়সে আমাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে| আমি কেবল 130 বছর বযস্ক| আমার পিতা এবং আমার পূর্বপুরুষরা আমার চাইতেও বেশী বয়স বেঁচ্ছেেন|” 10 যাকোব ফরৌণকে আশীর্বাদ করলেন এবং তাঁর সামনে থেকে বিদায নিলেন| 11 ফরৌণের কথামত য়োষেফ তাঁর পিতা ও ভাইদের মিশরে জমিজমা দিলেন| রামিষেষ শহরের কাছে স্থিত সেই জমি মিশরের সব জমির চেযে সেরা ছিল| 12 আর য়োষেফ তাঁর পিতা, তাঁর ভাইদের এবং তার সমস্ত পরিজনদের তাদের প্রযোজনীয খাদ্য সরবরাহ করলেন| 13 দুর্ভিক্ষ আরও ভযাবহ হয়ে উঠল| ফলে দেশে কোথাও কোন খাদ্য রইল না| এই দরুণ দুর্ভিক্ষের জন্যে মিশর এবং কনান দেশ দরিদ্র হয়ে পড়ল| 14 দেশের লোকরা আরও শস্য কিনতে থাকল আর য়োষেফ সেই অর্থ জমিযে ফরৌণের কাছে নিয়ে আসতেন| 15 কিছু পরে মিশরীয এবং কনানীযদের সব অর্থ শেষ হয়ে গেল| কারণ তারা সমস্ত অর্থই শস্য কিনতে ব্যয করেছিল| তাই মিশরীযরা য়োষেফের কাছে গিয়ে বলল, “আমাদের খাদ্য দিন| আমাদের অর্থ শেষ হয়ে গেছে| আমরা খেতে না পেলে আপনার চোখের সামনে মারা যাব|” 16 কিন্তু য়োষেফ উত্তর দিলেন, “তোমাদের গো-পাল দাও, আমি তোমাদের খাবার দেব|” 17 এইভাবে খাদ্য কেনার জন্য লোকরা তাদের গো-পাল, ঘোড়া এবং অন্যান্য পশুর ব্যবহার করলেন| সেই বছরে য়োষেফ পশুর বদলে তাদের খাদ্য দিলেন| 18 কিন্তু পরের বছরে লোকদের খাবার কেনার জন্য পশু এবং অন্য কিছু ছিল না| তাই লোকরা য়োষেফের কাছে গিয়ে বলল, “আপনি জানেন আমাদের কাছে আর কোন অর্থ নেই| আর আমাদের সব পশুও এখন আপনারই| সুতরাং আপনি যা দেখছেন আমাদের সেই দেহ ও আমাদের জমি ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছুই নেই| 19 সত্যিই আমরা আপনার চোখের সামনে মারা যাব| কিন্তু আপনি আমাদের খাদ্য দিলে আমরা ফরৌণকে আমাদের জমি দেব এবং আমরা তার দাস হব| আমাদের বপন করার বীজ দিন| তাহলে আমরা মরব না| আর জমিতে আবার আমাদের জন্য শস্য হবে|” 20 তাই য়োষেফ মিশরের সমস্ত জমি ফরৌণের জন্য কিনে নিলেন| লোকরা ক্ষুধার জন্য মিশরের সমস্ত জমি ফরৌণের কাছে বিক্রি করে দিল| 21 আর মিশরের সর্বত্র লোকরা ফরৌণের দাস হল| 22 য়োষেফ কেবল যাজকদের জমি কিনলেন না| যাজকদের জমি বিক্রি করারও প্রয়োজন ছিল না| কারণ ফরৌণ তাদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক দিতেন আর তারা সেই অর্থ দিয়ে খাদ্য কিনত| 23 য়োষেফ লোকদের বললেন, “এখন আমি তোমাদের এবং তোমাদের জমি ফরৌণের জন্য কিনে নিয়েছি| তাই আমি এরপর তোমাদের জমিতে বপন করার বীজ দেব| আর তোমরা তা বপন করতে পার| 24 শস্য ছেদনের সময় তোমরা অবশ্যই উত্পন্ন শস্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফরৌণকে দেবে| বাকী পাঁচ ভাগের চার ভাগ শস্য তোমাদের হবে| তোমরা তোমাদের খাদ্যের জন্য সেই রাখা শস্যের বীজ পরের বছর বপন করার জন্য ব্যবহার করতে পারবে| আর তাতে তোমাদের পরিবার ও সন্তানদের জন্যও খাদ্য থাকবে|” 25 লোকরা বলল, “আপনি আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন| আমরা ফরৌণের দাস হয়ে খুশী|” 26 তাই য়োষেফ সেই সময় জমির ব্যাপারে আইন তৈরী করলেন| আর সেই আইন আজও বলবত্‌ রয়েছে| সেই আইন অনুযায়ীজমিতে উত্পন্ন সবকিছুর পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফরৌণের| যাজকদের জমি ছাড়া সমস্ত জমি ফরৌণের|” 27 ইস্রায়েল মিশরের গোশন প্রদেশেই স্থায়ী হলেন| তাঁর পরিবার সংখ্যার বৃদ্ধি পেল এবং বিশাল হয়ে উঠল| মিশর দেশে তাঁরা কিছু জমি পেলেন এবং সফল হলেন| 28 যাকোব মিশরে 17 বছর বেঁচে ছিলেন সুতরাং তাঁর বয়স হল 147 বছর| 29 সময় হল যখন ইস্রায়েল বুঝলেন য়ে তিনি শীঘ্রই মারা যাবেন| তাই তিনি তাঁর পুত্র য়োষেফকে নিজের কাছে ডাকলেন| তিনি বললেন, “যদি তুমি আমায় ভালবাস তবে আমার উরুর নীচে হাত রাখ এবং প্রতিজ্ঞা কর য়ে তুমি তোমার কথায় বিশ্বস্ত হবে| আমি মারা গেলে আমায় মিশরে কবর দিও না| 30 য়ে জায়গায় আমার পূর্বপুরুষদের কবর দেওয়া হয়েছে সেখানেই আমায় কবর দিও| আমাকে মিশর থেকে বয়ে নিয়ে গিয়ে আমাদের পারিবারিক কবরে কবর দিও|”য়োষেফ উত্তর দিলেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি আপনার কথা মতোই কাজ করব|” 31 তারপর যাকোব বললেন, “আমার কাছে দিব্য কর|” তখন ইস্রায়েল বিছানায তার মাথা নামিযে ঈশ্বরের উপাসনা করলেন|”

আদিপুস্তক 48

1 কিছু সময় পরে য়োষেফ জানতে পারলেন য়ে তাঁর পিতা খুব অসুস্থ| তাই য়োষেফ তাঁর দুই পুত্র মনঃশি ও ইফ্রয়িমকে নিয়ে তাঁর পিতার কাছে গেলেন| 2 য়োষেফ সেখানে পৌঁছালে ইস্রায়েলকে কেউ খবর দিলেন, “আপনার পুত্র য়োষেফ আপনাকে দেখতে এসেছেন|” ইস্রায়েল খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তিনি খুব চেষ্টা করে কোন মতে বিছানায উঠে বসলেন| 3 তখন ইস্রায়েল য়োষেফকে বললেন, “কনান দেশের লূস নামক জায়গায় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমার সামনে আবির্ভূত হয়েছিলেন| সেখানে ঈশ্বর আমায় আশীর্বাদ করেছিলেন| 4 ঈশ্বর আমায় বলেছিলেন, “আমি তোমাকে বহু বংশ করব| তোমার অনেক সন্তানসন্ততি হবে এবং তারা মহান হবে| এই দেশ তোমার বংশধররা চিরকালের জন্য তাদের অধিকারে রাখবে|” 5 আর এখন তোমার দুই পুত্র, আমার আসার আগেই মিশর দেশে এদের জন্ম হয়েছিল| তোমরা দুই পুত্র মনঃশি ও ইফ্রয়িম আমার কাছে নিজের পুত্রের মতই হোক| তারা আমার কাছে রূবেণ ও শিমিয়োনের মত হোক| 6 সুতরাং ঐ দুই জন পুত্র আমারই হোক| তারা আমার সব কিছুর অংশীদার হবে| কিন্তু এছাড়া তোমার যদি আর অন্য পুত্র থাকে তবে তা তোমারই হোক| আর তারা ইফ্রয়িম ও মনঃশির কাছে সন্তানের মতই হোক - অর্থাত্‌ ভবিষ্যতে তারা ইফ্রয়িম ও মনঃশির অধিকারভুক্ত সব কিছুরই অংশীদার হবে| 7 পদ্দম্-অরাম থেকে আসার সময় রাহেল মারা গেলেন| এই ঘটনায আমি অত্যন্ত দুঃখ পেলাম| আমরা যখন ইফ্রাথের দিকে যাচ্ছিলাম তখন কনান দেশে তিনি মারা গেলেন| আমি তাকে সেখানে ইফ্রাথ যাবার পথের ধারে কবর দিলাম| (ইফ্রাথ বৈত্‌লেহেমের অপর নাম|)” 8 তখন ইস্রায়েল য়োষেফের পুত্রদের দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “এই বালকরা কারা?” 9 য়োষেফ তাঁর পিতাকে বললেন, “এরা আমার পুত্ররা, ঈশ্বরই এদের আমায় দিয়েছেন|”ইস্রায়েল বললেন, “তোমার ছেলেদের আমার কাছে নিয়ে এস| আমি তাদের আশীর্বাদ করব|” 10 ইস্রায়েল বৃদ্ধ হয়েছিলেন এবং চোখেও ভালো দেখতে পেতেন না| তাই য়োষেফ দুই পুত্রকে পিতার খুব কাছে নিয়ে এলেন| ইস্রায়েল তাদের গলা জড়িয়ে চুমু খেলেন| 11 তারপর ইস্রায়েল য়োষেফকে বললেন, “আমি ভাবতেই পারি নি য়ে কখনও তোমার মুখ দেখতে পাব| কিন্তু দেখ! ঈশ্বর আমাকে তোমার এমনকি তোমার পুত্রদেরও দেখতে দিলেন|” 12 তারপর য়োষেফ ইস্রায়েলের কোল থেকে তার পুত্রদের নিলেন এবং তারা ইস্রায়েলের সামনে মাথা নত করল| 13 য়োষেফ ইফ্রয়িমকে তার ডানদিকে এবং মনঃশিকে তার বাঁ দিকে রাখলেন| (সুতরাং ইফ্রয়িম ইস্রায়েলের বাম দিকে ও মনঃশি তার ডান দিকে রইল|) 14 কিন্তু ইস্রায়েল তাঁর হাত আড়াআড়ি ভাবে রেখে তার ডান হাত ছোট পুত্র ইফ্রয়িমের মাথায় রাখলেন| ইস্রায়েল তার বাম হাত বড় পুত্র মনঃশির মাথায় রাখলেন| মনঃশি প্রথমজাত হলেও তিনি বাম হাত তার উপরে রাখলেন| 15 ইস্রায়েল য়োষেফকে আশীর্বাদ করে বললেন,“আমার পূর্বপুরুষ অব্রাহাম ও ইসহাক আমাদের ঈশ্বরের উপাসনা করতেন| আর সেই ঈশ্বরই সারা জীবন আমায় গ্রহণ করেছেন| 16 তিনিই সেই দেবদূত যিনি আমায় সব সমস্যা থেকে রক্ষা করেছেন| আমার প্রার্থনা, তিনিই এই পুত্রদের আশীর্বাদ করবেন| এখন এই পুত্ররা আমার এবং আমার পূর্বপুরুষ অব্রাহাম ও ইসহাকের নামে আখ্যাত হোক| আমার প্রার্থনা তারা য়েন পৃথিবীতে বৃদ্ধি পযে বহু বংশ ও বহু জাতি হয়|” 17 য়োষেফ যখন দেখলেন তাঁর পিতা ডান হাত ইফ্রয়িমের মাথায় রেখেছেন, তখন তিনি খুশী হলেন না| য়োষেফ পিতার হাত ইফ্রযিমের মাথা থেকে তুলে ধরে মনঃশির মাথায় রাখতে চাইলেন| 18 য়োষেফ তার পিতাকে বললেন, “আপনি আপনার ডান হাত ভুল জনের মাথার উপর রেখেছেন| মনঃশিই প্রথমজাত| তার উপরেই ডান হাত রাখুন|” 19 কিন্তু তাঁর পিতা তর্ক করে বললেন, “আমি জানি বত্স, আমি জানি| মনঃশি প্রথমজাত সে মহান হবে, বহুলোকের পিতা হবে কিন্তু ছোট জন বড় জনের চেয়েও মহান হবে আর তার বংশ আরও অনেক হবে|” 20 তাই ইস্রায়েল সেই দিন এই বলে আশীর্বাদ করলেন,“ইস্রায়েল কাউকে আশীর্বাদ করতে তোমাদেরই নাম ব্যবহার করবে| তারা বলবে, “ঈশ্বর তোমাকে য়েন মনঃশি ও ইফ্রযিমের মতো করেন|”এইভাবে ইস্রায়েল মনঃশির চাইতে ইফ্রয়িমকে বড় করলেন| 21 তারপর ইস্রায়েল য়োষেফকে বললেন, “দেখ আমার মৃত্যুর সময় কাছে এসে গেছে| কিন্তু ঈশ্বর তোমার সঙ্গে থাকবেন| তিনিই তোমাকে আবার তোমার পূর্বপুরুষদের দেশে নিয়ে যাবেন| 22 আমি তোমাকে যা দিলাম তা তোমার ভাইদের দিই নি| ইমোরীয়দের হাত থেকে য়ে পাহাড় আমি জয় করে নিয়েছিলাম তা তোমায় দিচ্ছি| আমি সেই পাহাড় জয় করতে আমার তরবারি ও ধনুক ব্যবহার করেছিলাম এবং আমি জয়ী হয়েছিলাম|”

আদিপুস্তক 49

1 এরপর যাকোব তাঁর পুত্রদের তার কাছে ডাকলেন এবং বললেন, “আমার বাছারা এখানে আমার কাছে এস| ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা আমি তোমাদের বলছি| 2 “যাকোবের পুত্ররা এস, একসাথে এসে শোন তোমাদের পিতা ইস্রায়েল কি বলছেন|” 3 “রূবেণ আমার প্রথম জাত, তুমিই তো আমার প্রথম সন্তান, পুরুষ হিসাবে আমার শক্তির প্রথম প্রমাণ| তুমি আমার সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং শক্তিমান| 4 কিন্তু বন্যার মত তোমার কামেচ্ছা, তুমি তা দমন করো নি| সেইজন্য তুমি সম্মানিত সন্তান হিসাবে তোমার প্রাধান্য হারাবে| তুমি তোমার পিতার শয়্য়ায উঠেছিলে আর তার এক স্ত্রীর সাথে শুয়েছিলে| তুমি সেই শয়্য়ায ঘুমিযেছ এবং সেই শয়্য়াকে অপবিত্র করেছ|” 5 “শিমিয়োন ও লেবি ভাই ভাই| তারা য়োদ্ধা এবং তারা তাদের তরবারি নিয়ে য়ুদ্ধ করতে ভালবাসে| 6 তারা গোপনে মন্দ বিষয পরিকল্পনা করল| আমার আত্মা তাদের পরিকল্পনার অংশ নেবে না| তাদের গোপন সত্য আমি স্বীকার করব না| তারা রাগে মানুষ হত্যা করল| কেবল ঠাট্টা করতে পশুদের আঘাত করল| 7 তাদের রাগ এক অভিশাপ| কারণ তা প্রচণ্ড| উন্মত্ত হয়ে উঠলে তারা নিষ্ঠুরতায পূর্ণ হয়| তারা যাকোবের দেশে তাদের অংশ পাবে না| তারা সমস্ত ইস্রাযেলে ছড়িয়ে পড়বে|” 8 “যিহূদা তোমার ভাইরা তোমার প্রশংসা করবে| তুমি তোমার শত্রুদের পরাজিত করবে| তোমার ভাইরা তোমার কাছে জানু পাতবে| 9 আমার বাছা, তুমি শিকারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সিংহের মতো| সে বিশ্রাম করলে তাকে বিরক্ত করার সাহস কার আছে| 10 যিহূদার বংশ থেকেই রাজারা উঠবে| তার বংশ য়ে শাসন করবে এই চিহ্ন প্রকৃত রাজা না আসা পর্য্ন্ত রইবে| পরে বহু লোক বাধ্য হয়ে তার সেবা করবে| 11 সে দ্রাক্ষালতা দিয়ে তার গাধা বাঁধবে| গাধার শাবককে উত্তম দ্রাক্ষালতায় বাঁধবে| উত্তম দ্রাক্ষারসে নিজের বস্ত্র ধৌত করবে| 12 তার চোখ দ্রাক্ষারস পান করে লাল, তার দাঁত দুধ পান করে সাদা|” 13 “সবূলূন সমুদ্রের কাছে বাস করবে| তার সমুদ্রোপকুল জাহাজের পক্ষে হবে নিরাপদ| সীদোন পর্য্ন্ত বিস্তৃত হবে তার দেশ|” 14 “ইষাখর খচ্চরের মত কঠিন পরিশ্রম করেছে| ভারী বোঝা বহন করার পর সে বিশ্রাম করবে| 15 সে দেখবে তার বিশ্রাম স্থান উত্তম| তার দেশ হবে মনোহর| তখন সে ভারী বোঝা বইতে সম্মত হবে| দান হিসাবে কাজ করতে সম্মতি জানাবে|” 16 “দান ইস্রায়েলের অন্য বংশের মতোই নিজের প্রজাদের বিচার করবে| 17 দান হবে পথের ধারের সাপের মতো| সে পথে শুয়ে থাকা বিষধর সাপের মতই হবে| সেই সাপ, য়ে ঘোড়ার পাযে দংশন করে চালককে মাটিতে ফেলে দেয| 18 হে প্রভু, আমি তোমার পরিত্রাণের অপেক্ষা করছি|” 19 “এক দল দস্যু গাদকে আক্রমণ করবে| কিন্তু গাদ তাদের পিছনে তাড়া করবে|” 20 “আশেরের দেশে উত্তম খাদ্য উত্পন্ন হবে| রাজার উপযুক্ত খাদ্যই সে য়োগাবে!” 21 “নপ্তালি মুক্ত হরিণীর মতো, আর তার বাক্য তাদের সুন্দর শিশুর মতো|” 22 “য়োষেফ কৃতকার্য়্য় হয়েছে| সে ফলে ঢাকা লতার মতো| বসন্তে বেড়ে ওঠা শাখার মতো| বেড়ার গায়ে বেড়ে ওঠা লতার মতো| 23 অনেক লোক তার বিরুদ্ধে গেছে এবং তার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে| ধনুকধারীরা তার শত্রু হয়েছে| 24 কিন্তু সে তার পরাক্রমী ধনু ও দক্ষ বাহুর সাহায়্য়ে যুদ্ধ জয় করেছে| সে ক্ষমতা পায় যাকোবের এক বীরের কাছ থেকে, এক মেষপালকের কাছ থেকে য়ে ইস্রায়েলের পর্বত স্বরূপ, মেষপালক অর্থাত্‌ ইস্রায়েলের শৈলের কাছে| 25 তোমার পিতার ঈশ্বরের কাছ থেকে ঈশ্বর তোমায় আশীর্বাদ করুন| সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তোমায় আশীর্বাদ করুন, উপরের আকাশ হতে আশীর্বাদ বর্ষান, আর গভীর জল থেকেও আশীর্বাদ করুন| তিনি তোমাকে স্তন ও গর্ভ হতেও আশীর্বাদ করুন| 26 আমার পূর্বপুরুষরা অনেক আশীর্বাদ ভোগ করেছেন| কিন্তু তোমার পিতা আমি আরও বেশী আশীর্বাদ পেয়েছি| তোমার ভাইরা তোমায় সব থেকে বঞ্চিত করল; কিন্তু এখন আমি পর্বতের সমান উঁচু আশীর্বাদ তোমার মাথায় রাশিকৃত করলাম|” 27 “বিন্যামীন ক্ষুধার্ত নেকড়ে| সকালে সে শিকার করে খেতে হবে| বিকালে যা পড়ে থাকে তা ভাগ করে নেয়|” 28 এই হল ইস্রায়েলের বারো বংশ| আর এই কথাগুলো তাদের পিতা তাদের বলেছিলেন| তিনি প্রত্যেকটি সন্তানকে তাদের উপযুক্ত আশীর্বাদে আশীর্বাদ করলেন| 29 তারপর ইস্রায়েল তাদের এই নির্দেশ দিয়ে বললেন, “মৃত্যুর পর আমি চাই আমার লোকদের সঙ্গে পুনর্মিলিত হতে, সুতরাং হেতীয ইফ্রোণের ক্ষেতে য়ে গুহা আছে সেখানে আমার পিতৃপুরুষদের সেই গুহায় আমায় কবর দিও| 30 সেই কবর কনান দেশে মম্রির কাছে মক্পেলা থেকে কিনেছিলেন য়েন কবর দিতে পারেন| 31 অব্রাহাম ও তার স্ত্রী সারাও সেই কবরে সমাহিত হয়েছিলেন| ইসহাক ও তার স্ত্রী রিবিকাকেও সেই কবরে সমাহিত করা হয়েছিল| আমি আমার স্ত্রী লেয়াকেও সেখানে সমাহিত করেছি| 32 সেই গুহা হেতীয়দের কাছ থেকে কেনা সেই ক্ষেতের মধ্যে রয়েছে|” 33 যাকোব তার পুত্রদের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে শুয়ে পড়লেন| বিছানায পা উঠিযে রাখলেন, তারপর মারা গেলেন|

আদিপুস্তক 50

1 ইস্রায়েল মারা গেলে য়োষেফ অত্যন্ত দুঃখিত হলেন| তিনি কাঁদলেন এবং তাঁর পিতাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন| 2 য়োষেফ তাঁর ভৃত্যদের পিতার দেহ প্রস্তুত করতে বললেন| (এই ভৃত্যরা চিকিত্সক ছিল|) চিকিত্সকেরা মিশরীযরা য়ে বিশেষভাবে দেহ প্রস্তুত করে সেইভাবে যাকোবের দেহ কবর দেবার জন্য প্রস্তুত করল| 3 দেহ বিশেষভাবে প্রস্তুত করার সময় কবর দেবার আগে তারা 40 দিন পর্য্ন্ত অপেক্ষা করল| তারপর 70 দিন ধরে মিশরীযরা যাকোবের জন্য শোক পালন করল| 4 শোকের 70 দিন শেষ হলে য়োষেফ ফরৌণের আধিকারিকদের বললেন, 5 “ফরৌণকে দয়া করে এই কথা বলুন: “আমার পিতা যখন মৃত্যুশয়্য়ায ছিলেন তখন আমি তাঁর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম য়ে তাঁকে কনান দেশে এক গুহায সমাহিত করব| এই গুহা তিনি নিজের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন| তাই দয়া করে আমার পিতাকে কবর দিতে দিন| তারপর আমি আবার আপনার কাছে আসব|” 6 ফরৌণ বললেন, “তোমার প্রতিজ্ঞা পালন কর| যাও তোমার পিতাকে কবর দাও|” 7 তাই য়োষেফ তাঁর পিতাকে সমাহিত করতে চললেন| ফরৌণের সমস্ত আধিকারিক, ফরৌণের নেতারা এবং মিশরের প্রবীণরা য়োষেফের সাথে গেলেন| 8 য়োষেফের পরিবারের সবাই, তাঁর ভাইরা ও তাঁর পিতার পরিবারের সবাই, তাঁর সঙ্গে গেলেন| গোশন প্রদেশে কেবল তাদের সন্তানসন্ততি ও পশুরা থেকে গেল| 9 সেই এক বিরাট দল হল এমনকি এক দল সৈনিকও রথে ও ঘোড়ায় চড়ে চলল| 10 তারা যর্দন নদীর পূর্বদিকে গোরেন আটদেরখামারে এলেন| এই স্থানে তারা ইস্রায়েলের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে শোক সভা করলেন| সেই শোক সভা সাত দিন ধরে চলল| 11 কনান দেশের লোকরা গোরেন আটদের সেই অন্ত্যোষ্টি ক্রিয়া দেখে বললেন, “মিশরীয়দের এ দারুণ বিষাদময় শোকের অনুষ্ঠান!” সেইজন্য য়র্দ্দন নদীর পারের সেই জায়গার নাম হল আবেল্-মিস্রযীম| 12 সুতরাং যাকোবের পুত্ররা তাদের পিতার কথানুসারে কাজ করলেন| 13 তারা তাঁর দেহ কনান দেশে বহন করে এনে মক্পেলার গুহাতে কবর দিল| অব্রাহাম হেতীয় ইক্রোণের কাছ থেকে মম্রির কাছে য়ে ক্ষেত কিনেছিলেন এই কবর সেখানেই ছিল| অব্রাহাম কবর দেবার জন্যই এটা কিনেছিলেন| 14 য়োষেফ তাঁর পিতাকে কবর দেবার পর তাঁর দলের সবাই মিশরে ফিরে গেলেন| 15 যাকোব মারা গেলে য়োষেফের ভাইরা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হল| তারা এই ভেবে ভীত হল য়ে বহু বছর আগে তারা য়োষেফের প্রতি যা করেছিল, য়োষেফ হয়তো তার প্রতিফল দেবেন| তারা বলল, “হয়তো য়োষেফ এখনও আমরা যা করেছিলাম তার জন্য ঘৃণা করেন|” 16 এইজন্য ভাইরা য়োষেফকে এই বলে পাঠাল: পিতা মারা যাবার আগে আপনাকে এই বার্তা দিতে বলেছিলাম| 17 তিনি বললেন, ‘য়োষেফকে আমার এই অনুরোধ, সে য়েন দয়া করে তার ভাইদের অন্যায় কাজ ক্ষমা করে দেয|’ সেই জন্য আমরা এখন আমাদের তোমার প্রতি করা সেই অন্যায় কাজের ক্ষমা চাই| আমরা সেই ঈশ্বরের দাস যিনি তোমার পিতারও ঈশ্বর|এই খবরে য়োষেফ খুব দুঃখ পেলেন এবং কাঁদলেন| 18 তাঁর ভাইরা তাঁর সামনে গিয়ে প্রণাম করলেন এবং বললেন, “আমরা আপনার দাস হব|” 19 তখন য়োষেফ তাদের বললেন, “ভয় কর না, আমি ঈশ্বর নই!” শাস্তি দেবার অধিকার আমার নেই| 20 এটা সত্যি য়ে তোমরা আমার প্রতি অনিষ্ট করার পরিকল্পনা করেছিলে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরই আমার জন্য ভাল কিছু পরিকল্পনা করছিলেন| ঈশ্বরের আমার মাধ্যমে অনেকের প্রাণ বাঁচানোর পরিকল্পনা ছিল| 21 আর ঘটল ও তা-ই| তাই ভয় পেও না| আমি তোমাদের এবং তোমাদের সন্তানদের সহায় হব|” এইভাবে য়োষেফ ভাইদের ভালো ভালো কথা বললে তারা ভালো বোধ করল| 22 য়োষেফ তাঁর পিতার পরিবারের সঙ্গে মিশরে রইলেন| য়োষেফ 110 বছর বয়সে মারা গেলেন| 23 য়োষেফের জীবনকালেই য়োষেফ এও দেখলেন য়ে তাঁর পুত্র মনঃশির মাখীর নামে একটি পুত্র হল| য়োষেফের জীবনকালেই মাখীরের পুত্ররা জন্মাল এবং য়োষেফ তাও দেখে য়েতে পারলেন| 24 অন্তিম শয়্য়ায য়োষেফ তাঁর ভাইদের বললেন, “আমার মৃত্যুর সময় নিকট, কিন্তু আমি জানি ঈশ্বর তোমাদের যত্ন নেবেন এবং এই দেশ থেকে বের করে নিয়ে যাবেন সেই দেশে, য়ে দেশ তিনি অব্রাহাম ইসহাক ও যাকোবকে দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন|” 25 তারপর য়োষেফ তাঁর লোকদের একটি শপথ নিতে বললেন য়ে ঈশ্বর তাদের যখন নতুন দেশে নিয়ে যাবেন, তখন তারা য়েন তাঁর অস্থি বহন করে নিয়ে যায়| 26 য়োষেফ 110 বছর বয়সে মিশরে মারা যান| চিকিত্সকরা তাঁর দেহে ঔষধ দিয়ে মিশরে এক কফিনের মধ্যে রাখলেন|

যাত্রাপুস্তক 1

1 যাকোব তাঁর পুত্রদের নিয়ে মিশরের পথে চললেন| পুত্রদের সঙ্গে তাদের নিজ নিজ পরিবারও ছিল| ইস্রায়েলের পুত্ররা হল: 2 রূবেণ, শিমিযোন, লেবি, যিহূদা 3 ইষাখর, সবূলূন, বিন্যামীন, 4 দান, নপ্তালি, গাদ এবং আশের| 5 যাকোবের সবশুদ্ধ 70 জন উত্তরপুরুষ ছিল| য়োষেফ তাঁর বারোজন পুত্রের একজন, কিন্তু সে আগে থেকে মিশরে ছিল| 6 পরে য়োষেফ তাঁর ভাইরা এবং ঐ প্রজন্মের প্রত্যেকেই মারা গেলেও 7 ইস্রায়েলের লোকদের অসংখ্য সন্তান ছিল| তাদের লোকসংখ্যা খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে গিয়েছিল| ফলস্বরূপ মিশর দেশটি ইস্রায়েলীয়তে ভরে গিয়েছিল| 8 সেই সময় একজন নতুন রাজা মিশর শাসন করতে লাগলেন| এই রাজা য়োষেফকে চিনতেন না| 9 রাজা তাঁর প্রজাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “ইস্রায়েলের লোকদের দিকে চেযে দেখ, ওরা সংখ্যায় অসংখ্য এবং আমাদের থেকে বেশী শক্তিশালী! 10 তাদের শক্তিবৃদ্ধি বন্ধ করবার জন্য আমাদের কিছু একটা চতুরতার সাহায্য নিতেই হবে| কারণ, এখন যদি যুদ্ধ লাগে তাহলে ওরা আমাদের পরাজিত করবার জন্য ও আমাদের দেশ থেকে বের করে দেবার জন্য আমাদের শত্রুদের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে|” 11 মিশরের লোকরা তাই ইস্রায়েলের লোকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলার ফন্দি আঁটল| অতএব ইস্রায়েলীয়দের তত্ত্বাবধান করবার জন্য মিশরীয়রা ক্রীতদাস মনিবদের নিয়োগ করল| এই দাস শাসকরা ইহুদীদের দিয়ে জোর করে রাজার জন্য পিথোম ও রামিষেষ নামে দুটি শহর নির্মাণ করাল| এই দুই শহরে রাজা শস্য এবং অন্যান্য জিনিসপত্র মজুত করে রাখলেন| 12 মিশরীয়রা ইস্রায়েলীয়দের কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য করল| কিন্তু তাদের যত বেশী কঠিন পরিশ্রম করানো হতে থাকল ততই ইস্রায়েলের লোকদের সংখ্যাবৃদ্ধি এবং বিস্তার ঘটতে থাকল| ফলে মিশরীয়রা ইস্রায়েলের লোকদের আরও বেশী ভয় পেতে শুরু করল| 13 আর সেইজন্য তারা উদ্বিগ্ন হয়ে ইস্রায়েলের লোকদের প্রতি আরও বেশী নির্দয হয়ে উঠল| ফলস্বরূপ মিশরীয়রা ইস্রায়েলীয়দের আরো কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য করল| 14 মিশরীয়রা ইস্রায়েলীয়দের জীবন দুর্বিসহ করে তুলল| তারা ইস্রায়েলীয়দের ইঁট তৈরি করবার জন্য গাদা গাদা ভারী ঢালাই এর মিশ্রণ বহন করতে এবং মাঠে লাঙল চালাতে বাধ্য করেছিল| তারা ইস্রায়েলীয়দের সব রকমের কঠিন কাজ করতে বাধ্য করেছিল| 15 ইস্রায়েলীয় মহিলাদের সন্তান প্রসবে সাহায্য করবার জন্য দুজন ধাইমা ছিল| তাদের দুজনের নাম ছিল শিফ্রা ও পূযা| 16 বয়ং রাজা এসে সেই দুই ধাইমাকে বললেন, “দেখছি তোমরা বরাবর হিব্রু মহিলাদের সন্তান প্রসবের সময় সাহায্য করে চলেছে| দেখ, যদি কেউ কন্যা সন্তান প্রসব করে তাহলে ঠিক আছে, তাকে বাঁচিয়ে রেখ, কিন্তু পুত্র সন্তান হলে সঙ্গে সঙ্গেই সেই সদ্যোজাত পুত্র সন্তানকে হত্যা করবে|” 17 কিন্তু ধাইমা দুজন ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রেখে রাজার আদেশ অমান্য করে পুত্র সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখল| 18 রাজা এবার তাদের ডেকে পাঠিয়ে বললেন, “তোমরা এটা কি করলে? কেন তোমরা আমার অবাধ্য হয়েছ এবং পুত্র সন্তানদের বাঁচিয়ে রেখেছ?” 19 ধাইমারা রাজাকে বলল, “হে রাজা, ইস্রায়েলীয় মহিলারা মিশরের মহিলাদের থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী| আমরা তাদের সাহায্যের জন্য পৌঁছাবার আগেই ইস্রায়েলীয় মহিলারা সন্তান প্রসব করে ফেলে|” 20 ঈশ্বর ঐ ধাইমাদের এই আচরণে খুশী হলেন| তাই ঈশ্বর ধাইমাদের আশীর্বাদ করলেন এবং তাদের নিজেদের পরিবার বানাতে দিলেন| ইস্রায়েলীয়রা সংখ্যায় আরও বাড়তে থাকল এবং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল| 21 22 পরে ফরৌণ নিজস্ব লোকদের আদেশ দিলেন, “তোমরা কন্যা সন্তান বাঁচিয়ে রাখতে পারো| কিন্তু পুত্র সন্তান হলে তাকে নীলনদে ছুঁড়ে ফেলতে হবে|”

যাত্রাপুস্তক 2

1 লেবি পরিবারের একজন পুরুষ লেবি পরিবারেরই এক কন্যাকে বিয়ে করেছিল| 2 সে সন্তানসম্ভবা হল এবং একটা সুন্দর ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দিল| পুত্র সন্তান দেখতে এত সুন্দর হয়েছিল য়ে তার মা তাকে তিন মাস লুকিয়ে রেখেছিল| 3 তিন মাস পরে যখন সে তাকে আর লুকিয়ে রাখতে পারছিল না, তখন সে একটি ঝুড়িতে আলকাতরা মাখালো এবং তাতে শিশুটিকে রেখে নদীর তীরে লম্বা ঘাসবনে রেখে এলো| 4 শিশুটির বড় বোন তার ভাইয়ের কি অবস্থা হতে পারে দেখবার জন্য দূরে দাঁড়িয়ে ভাইয়ের ঝুড়ির দিকে লক্ষ্য রাখছিল| 5 ঠিক তখনই ফরৌণের মেয়ে নদীতে স্নান করতে এসেছিল| সে দেখতে পেল ঘাসবনে একটি ঝুড়ি ভাসছে| তার সহচরীরা তখন নদী তীরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল| তাই সে তার সহচরীদের একজনকে ঝুড়িটা তুলে আনতে বলল| 6 তারপর রাজকন্যা ঝুড়িটা খুলে দেখল য়ে তাতে রযেছে একটি শিশুপুত্র| শিশুটি তখন কাঁদছিল| আর তা দেখে রাজকন্যার বড় দযা হল| ভাল করে শিশুটিকে লক্ষ্য করার পর সে বুঝতে পারল য়ে শিশুটি হিব্রু| 7 এবার শিশুটির দিদি আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে রাজকন্যাকে বলল, “আমি কি আপনাকে সাহায্যের জন্য কোনও হিব্রু যাত্রীকে ডেকে আনব য়ে অন্তত শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে পারবে?” 8 রাজকন্যা বলল, “বেশ যাও|”সুতরাং মেয়েটি গেল এবং শিশুটির মাকে ডেকে আনল| 9 রাজকন্যা তাকে বলল, “আমার হয়ে তুমি এই শিশুটিকে দুধ পান করাও| এরজন্য আমি তোমাকে টাকা দেব|” তারই মা শিশুটিকে য়ত্ন করে বড় করে তুলতে লাগল| 10 শিশুটি বড় হয়ে উঠলে মহিলাটি তার সন্তানকে রাজকন্যাকে দিয়ে দিল| রাজকন্যা শিশুটিকে নিজের ছেলের মতোই গ্রহণ করে তার নাম দিল মোশি| শিশুটিকে সে জল থেকে পেয়েছিল বলে তার নামকরণ করা হল মোশি| 11 একদিন, মোশি বড় হয়ে যাবার পর সে তার নিজের লোকদের দেখবার জন্য বাইরে গেল এবং দেখল তাদের ভীষণ কঠিন কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে| সে এও দেখল য়ে একজন মিশরীয় একজন হিব্রু ছোকরাকে প্রচণ্ড মারধর করছে| 12 মোশি চারিদিকে তাকিয়ে দেখল কেউ ব্যাপারটা লক্ষ্য করছে না| তখন মোশি সেই মিশরীয়কে হত্যা করে তাকে বালিতে পুঁতে দিল| 13 পরদিন মোশি দেখল দুজন ইস্রায়েলীয় নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে| তাদের মধ্যে একজন অন্যাযভাবে আরেকজনকে মারছে| মোশি তখন সেই অন্যাযকারী লোকটির উদ্দেশ্যে বলল, “কেন তুমি তোমার প্রতিবেশীকে মারছো?” 14 লোকটি উত্তরে জানাল, “তোমাকে কে আমাদের শাস্তি দিতে পাঠিয়েছে? বলো, তুমি কি আমাকে মারতে এসেছ য়েমনভাবে তুমি গতকাল ঐ মিশরীয়কে হত্যা করেছিলে?”তখন মোশি ভয় পেয়ে মনে মনে বলল, “তাহলে এখন ব্যাপারটা সবাই জেনে গেছে|” 15 একদিন রাজা ফরৌণ মোশির কীর্তি জানতে পারলেন; তিনি তাকে হত্যা করতে চাইলেন| কিন্তু মোশি মিদিযন দেশে পালিয়ে গেল|মিদিয়নে এসে একটি কুয়োর সামনে মোশি বসে পড়ল| 16 সেখানে এক যাজক ছিল| তার ছিল সাতটি মেয়ে| কুযো থেকে জল তুলে পিতার পোষা মেষপালকে জল খাওয়ানোর জন্য সেই সাতটি মেয়ে কুযোর কাছে এল| তারা মেষদের জল পানের পাত্রটি ভর্তি করার চেষ্টা করছিল| 17 কিন্তু কিছু মেষপালক এসেছিল এবং তরুণীদের তাড়িয়ে দিয়েছিল| তাই মোশি তাদের সাহায্য করতে এলো এবং তাদের পশুর পালকে জল পান করালো| 18 তখন তরুণীরা তাদের পিতা রূয়েলের কাছে ফিরে গেল| সে বলল, “তোমরা আজ তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছ দেখছি!” 19 তরুণীরা উত্তর দিল, “হ্যাঁ, ওখানে কুযো থেকে জল তোলার সময় কিছু মেষপালক আমাদের তাড়িয়ে দিল| কিন্তু একজন অচেনা মিশরীয় এলো এবং আমাদের সাহায্য করল| সে আমাদের জন্য জলও তুলে দিল এবং আমাদের মেষের পালকে জল পান করালো|” 20 রূযেল তার মেয়েদের বলল, “সেই লোকটি কোথায? তোমরা তাকে ওখানে ছেড়ে এলে কেন? যাও তাকে আমাদের সঙ্গে খাবার নেমতন্ন করে এসো|” 21 মোশি রূযেলের সঙ্গে থাকবার জন্য খুশীর সঙ্গে রাজী হল| রূযেল তার মেয়ে সিপ্পোরার সঙ্গে মোশির বিয়ে দিল| 22 বিয়ের পর সিপ্পোরা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিল| মোশি তার নাম দিল গের্শোম কারণ সে ছিল প্রবাসে থাকা একজন অপরিচিত ব্যক্তি| 23 দেখতে দেখতে অনেক বছর পেরিযে গেল| মিশরের রাজাও ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন| কিন্তু ইস্রায়েলীয়দের তখনও জোর করে কাজ করানো হচ্ছিল| তারা সাহায্যের জন্য কান্নাকাটি শুরু করল| এবং সেই কান্না বয়ং ঈশ্বর শুনতে পাচ্ছিলেন| 24 ঈশ্বর তাদের গভীর আর্তনাদ শুনলেন এবং তিনি স্মরণ করলেন সেই চুক্তির কথা যা তিনি অব্রাহাম, ইস্হাক এবং যাকোবের সঙ্গে করেছিলেন| 25 ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দের দেখেছিলেন এবং তিনি জানতেন তিনি কি করতে যাচ্ছেন এবং তিনি স্থির করলেন য়ে শীঘ্রই তিনি তাঁর সাহায্যের হাত তাদের দিকে বাড়িযে দেবেন|

যাত্রাপুস্তক 3

1 রূযেল ছাড়াও মোশির শ্বশুরের আর এক নাম ছিল য়িথ্রো| য়িথ্রো মিদিযনীর একজন যাজক| মোশি য়িথ্রোর মেষের পালের দেখাশোনার দায়িত্ব নিল| মোশি মেষের পাল চরাতে মরুভূমির পশ্চিম প্রান্তে য়েত| একদিন সে মেষের পাল চরাতে চরাতে ঈশ্বরের পর্বত হোরেবে (সিনয়) গিয়ে উপস্থিত হল| 2 ঐ পর্বতে সে জ্বলন্ত ঝোপের ভিতরে প্রভুর দূতের দর্শন পেল| মোশি দেখল ঝোপে আগুন লাগলেও তা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে না| 3 তাই সে অবাক হয়ে জ্বলন্ত ঝোপের আর একটু কাছে এগিয়ে গেল| মনে মনে ভাবল কি আশ্চর্য় ব্যাপার, ঝোপে আগুন লেগেছে, অথচ ঝোপটা পুড়ে নষ্ট হচ্ছে না! 4 প্রভু লক্ষ্য করছিলেন মোশি ক্রমশঃ ঝোপের দিকে দৃষ্টিপাত করতে করতে কাছে এগিয়ে আসছে| তাই ঈশ্বর ঐ ঝোপের ভিতর থেকে ডাকলেন, “মোশি, মোশি!”এবং মোশি উত্তর দিল, “হ্যাঁ, প্রভু|” 5 তখন প্রভু বললেন, “আর কাছে এসো না| পায়ের চটি খুলে নাও| তুমি এখন পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছো| 6 আমি তোমার পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর| আমি অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্হাকের ঈশ্বর এবং যাকোবের ঈশ্বর|”মোশি ঈশ্বরের দিকে তাকানোর ভয়ে তার মুখ ঢেকে ফেলল| 7 তখন প্রভু বললেন, “মিশরে আমার লোকদের দুর্দশা আমি নিজের চোখে দেখেছি| এবং যখন তাদের ওপর অত্যাচার করা হয় তখন আমি তাদের চিত্কার শুনেছি| আমি তাদের যন্ত্রণার কথা জানি| 8 এখন সমতলে নেমে গিয়ে মিশরীয়দের হাত থেকে আমার লোকদের আমি রক্ষা করব| আমি তাদের মিশর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাব এবং আমি তাদের এমন এক সুন্দর দেশে নিয়ে যাব য়ে দেশে তারা স্বাধীনভাবে শান্তিতে বাস করতে পারবে| সেই দেশ হবে বহু ভাল জিনিসে ভরা ভূখণ্ড|নানা ধরণের মানুষ সে দেশে বাস করে: কনানীয, হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও য়িবুষীয গোষ্ঠীর লোকরা সেখানে বাস করে| 9 আমি ইস্রায়েলীয়দের কান্না শুনেছি| দেখেছি, মিশরীয়রা কিভাবে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে| 10 তাই এখন আমি তোমাকে ফরৌণের কাছে পাঠাচ্ছি| যাও! তুমি আমার লোক ইস্রায়েলীয়দের মিশর থেকে বাইরে নিয়ে এসো|” 11 কিন্তু মোশি ঈশ্বরকে বলল, “আমি কোনও মহান ব্যক্তি নই! সুতরাং আমি কি করে ফরৌণের কাছে যাব এবং ইহুদীদের মিশর থেকে উদ্ধার করে আনব?” 12 ঈশ্বর বললেন, “তুমি পারবে, কারণ আমি তোমার সঙ্গে থাকব! আমি য়ে তোমাকে পাঠাচ্ছি তার প্রমাণ হবে; তুমি ইস্রায়েলীয়দের মিশর থেকে উদ্ধার করে আনার পর এই পর্বতে এসে আমার উপাসনা করবে|” 13 তখন মোশি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলল, ‘কিন্তু আমি যদি গিয়ে ইস্রায়েলীয়দের বলি য়ে, “তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন,’ তখন তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তার নাম কি?’ তখন আমি তাদের কি বলব?” 14 তখন ঈশ্বর মোশিকে বললেন, “তাদের বলো, ‘আমি আমিই|’ যখনই তুমি ইস্রায়েলীয়দের কাছে যাবে তখনই তাদের বলবে, ‘আমিই’ আমাকে পাঠিয়েছেন|” 15 ঈশ্বর মোশিকে আরও বললেন, “তুমি অবশ্যই তাদের একথা বলবে: ‘য়িহোবা হলেন তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্হাকের ঈশ্বর এবং যাকোবের ঈশ্বর| আমার নাম সর্বদা হবে য়িহোবা| এই নামেই আমাকে লোকে বংশ পরম্পরায চিনবে|’ লোকদের বলো, ‘য়িহোবা তোমাকে পাঠিয়েছেন!”‘ 16 প্রভু আরও বললেন, “যাও, ইস্রায়েলের প্রবীণদের একত্র করে তাদের বলো, ‘য়িহোবা, তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর আমাকে দর্শন দিয়েছেন| অব্রাহামের, ইস্হাকের, এবং যাকোবের ঈশ্বর আমাকে বলেছেন: তোমাদের সঙ্গে মিশরে যা ঘটছে তা সবই আমি দেখেছি| 17 আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি য়ে মিশরের দুর্দশা থেকে তোমাদের উদ্ধার করব| আমি তোমাদের উদ্ধার করব এবং তোমাদের কনানীয, হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের দেশে নিয়ে যাব| আমি তোমাদের বহু সুসম্পদে ভরা ভূখণ্ডে নিয়ে যাব|’ 18 “প্রবীণরা তোমার কথা শুনবে এবং তখন তুমি প্রবীণদের নিয়ে মিশরের রাজার কাছে যাবে| তুমি অবশ্যই যাবে এবং রাজাকে বলবে য়ে য়িহোবা, ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বর আমাদের সামনে আবির্ভূত হয়েছিলেন| এখন আমাদের তিনদিন ধরে মরুভূমিতে ভ্রমণ করতে দাও| সেখানে আমরা য়িহোবা, আমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উত্সর্গ দান করব|” 19 “কিন্তু আমি জানি য়ে মিশরের রাজা তোমাদের সেখানে য়েতে দেবে না| কেবলমাত্র একটি মহান শক্তিই তাকে বাধ্য করতে পারে তোমাদের যাবার অনুমতি দেবার জন্য| 20 তাই আমি আমার বিরাট ক্ষমতা দিয়ে মিশরীয়দের আঘাত করব| আমি ঐ দেশে আশ্চর্য় সব কাণ্ড ঘটাব| আমার ঐসব অদ্ভুত কাণ্ড ঘটানোর পরেই দেখবে য়ে সে তোমাদের য়েতে দিচ্ছে| 21 এবং আমি ইস্রায়েলীয়দের প্রতি মিশরীয়দের দযালু করে তুলব| ফলে তোমরা যখন মিশর ত্যাগ করবে তখন মিশরীয়রা তোমাদের হাত উপহারে ভরে দেবে| 22 প্রত্যেক ইস্রায়েলীয় মহিলা নিজের নিজের মিশরীয় প্রতিবেশীর বাড়ী যাবে এবং মিশরীয় মহিলার কাছে গিয়ে উপহার চাইবে| এবং মিশরীয় মহিলারা তাদের উপহার দেবে| তোমার লোকরা উপহার হিসাবে সোনা, রূপা এবং মিহি ও মসৃণ পোশাক পাবে| তারপর যখন তোমরা মিশর ত্যাগ করবে তখন সেই উপহারগুলি নিজের নিজের ছেলেমেয়েদের গায়ে পরিযে দেবে| এইভাবে তোমরা মিশরীয়দের সম্পদ নিয়ে আসতে পারবে|”

যাত্রাপুস্তক 4

1 তখন মোশি ঈশ্বরকে বললেন, “কিন্তু আপনি আমাকে পাঠিয়েছেন বললেও ইস্রায়েলের লোকরা তা বিশ্বাস করতে চাইবে না| বরং তারা উল্টে বলবে, ‘প্রভু তোমাকে দর্শন দেন নি|”‘ 2 কিন্তু প্রভু মোশিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার হাতে ওটা কি?”মোশি উত্তর দিল, “এটা আমার পথ চলার লাঠি|” 3 তখন প্রভু বললেন, “ঐ লাঠিকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেল|”প্রভুর কথামতো মোশি তার হাতের পথ চলার লাঠিকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলতেই ঐ লাঠি তত্ক্ষনাত্‌ সাপে পরিণত হল| মোশি তা দেখে ভয়ে পালাতে যাচ্ছে দেখে 4 প্রভু মোশিকে বললেন: “যাও কাছে গিয়ে সাপটিকে লেজের দিক থেকে ধরো|”সুতরাং মোশি সাপটির লেজ ধরে ঝোলাতেই দেখল সাপটি আবার লাঠিতে পরিণত হল| 5 তখন প্রভু বললেন, “লাঠি দিয়ে এই চমত্কারিত্ব দেখলেই লোকরা বিশ্বাস করবে য়ে তুমি প্রভু, তোমার পূর্বপুরুষের ঈশ্বরের দেখা পেয়েছ| দেখা পেয়েছ অব্রাহাম, ইসহাক এবং যাকোবের ঈশ্বরের|” 6 তারপর প্রভু মোশিকে বললেন, “আমি তোমাকে আরও একটি প্রমাণ দেব| আলখাল্লার নীচে হাত রাখো|”তাই মোশি আলখাল্লা খুলে হাত ভেতরে রাখলো| তারপর সে তার হাত বের করে দেখল হাতটি শ্বেতীতে ভরে গেছে| 7 তখন প্রভু বললেন, “এবার আবার আলখাল্লার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দাও|” তাই মোশি আবার তার হাত আলখাল্লার ভেতরে ঢুকিয়ে দিল এবং তা বের করে আনার পর মোশি দেখল তার হাত আবার আগের মতোই স্বাভাবিক সুন্দর হয়ে গেছে| 8 তারপর প্রভু বললেন, “যদি লোকরা লাঠিকে সাপ বানানোর কীর্তি দেখার পরও তোমাকে বিশ্বাস না করে তাহলে হাতের ব্যাপারটি দেখাবে| তখন তোমাকে তারা বিশ্বাস করবে| 9 যদি এই দুটো প্রমাণ দেখানোর পরও লোকরা তোমাকে বিশ্বাস না করে তাহলে নীলনদ থেকে সামান্য জল নেবে| সেই জল মাটিতে ঢালবে এবং জল মাটিকে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে তা রক্তে পরিণত হবে|” 10 তখন মোশি প্রভুর উদ্দেশ্যে বললেন, “কিন্তু প্রভু আমি তো একজন চতুর বক্তা নই| আমি কোনোকালেই সাজিযে গুছিযে কথা বলতে পারি না| এবং এখনও আপনার সঙ্গে কথা বলার পরেও আমি সুবক্তা হতে পারি নি| আপনি জানেন য়ে আমি ধীরে ধীরে কথা বলি এবং কথা বলার সময় ভাল ভাল শব্দ চযন করতে পারি না|” 11 তখন প্রভু তাকে বললেন, “মানুষের মুখ কে সৃষ্টি করেছে? এবং কে একজন মানুষকে বোবা ও কালা তৈরী করে? কে মানুষকে অন্ধ তৈরী করে? কে মানুষকে দৃষ্টিশক্তি দেয়? আমি যিহোবা| আমিই একমাত্র এইসব করতে পারি| 12 সুতরাং যাও| যখন তুমি কথা বলবে তখন আমি তোমায় কথা বলতে সাহায্য করব| আমিই তোমার মুখে শব্দ জোগাব|” 13 তবু মোশি বলল, “হে আমার প্রভু, আমার একটাই অনুরোধ, আপনি এই কাজের জন্য অন্য একজনকে মনোনীত করুন, আমাকে নয়|” 14 মোশির প্রতি প্রভু তখন ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, “বেশ! তাহলে তোমাকে সাহায্য করার জন্য আমি তোমার ভাই হারোণকে তোমার সঙ্গে দিচ্ছি| হারোণ লেবীয় পরিবারের সন্তান এবং সে বেশ ভাল বক্তা| হারোণ ইতিমধ্যেই তোমার সঙ্গে দেখা করার জন্য আসছে| এবং সে তোমাকে দেখে খুশীই হবে| 15 হারোণ তোমার সঙ্গে ফরৌণের কাছে যাবে| তোমাদের কি বলতে হবে তা আমি বলে দেব| কি করতে হবে তা আমি তোমাদের শিখিযে দেব এবং তুমি তা হারোণকে বলে দেবে| 16 তোমার হয়ে হারোণ লোকদের সঙ্গে কথা বলবে| তুমি হবে তার কাছে ঈশ্বরের মতো| আর হারোণ হবে তোমার মুখপাত্র| 17 সুতরাং যাও এবং সঙ্গে তোমার পথ চলার লাঠি নাও| আমি য়ে তোমার সঙ্গে আছি তা প্রমাণ করার জন্য লোকদের এই চিহ্ন-কার্য়্য়গুলি দেখাও|” 18 মোশি তখন তার শ্বশুর যিথ্রোর কাছে ফিরে গেল| মোশি তার শ্বশুরকে বলল, “অনুগ্রহ করে আমাকে মিশরে ফিরে য়েতে দিন| আমি দেখতে চাই আমার লোকরা এখনও সেখানে বেঁচে আছি কিনা|”যিথ্রো তার জামাতা মোশিকে বলল, “নিশ্চয়ই! আশা করি তুমি সেখানে ভালোভাবেই পৌঁছাবে|” 19 মিদিয়নে থাকাকালীন প্রভু মোশিকে বললেন, “মিশরে ফিরে যাওয়া এখন তোমার পক্ষে ভাল| কারণ যারা তোমায় হত্যা করতে চেযেছিল তারা এখন কেউ বেঁচে নেই|” 20 সুতরাং মোশি তখন তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের গাধার পিঠে চাপিয়ে মিশরে প্রত্যাবর্তন করল| সঙ্গে সে তার পথ চলার লাঠিও নিল| এটা সেই পথ চলার লাঠি যাতে রযেছে ঈশ্বরের অলৌকিক শক্তি| 21 মিশরে আসার পথে প্রভু মোশির সঙ্গে কথা বলেছিলেন| তিনি বলেছিলেন, “আমি তোমাকে অলৌকিক কাজ দেখানোর য়ে সব শক্তি দিয়েছি সেগুলো সব ফরৌণের সঙ্গে কথা বলার সময় তার সামনে করে দেখাবে| কিন্তু আমি ফরৌণকে একগুঁয়ে এবং জেদী করে তুলব| সে লোকদের কিছুতেই ছেড়ে দেবে না| 22 তখন তুমি ফরৌণকে বলবে: 23 প্রভু বলেছেন, ‘ইস্রায়েল হল আমার প্রথমজাত পুত্র সন্তান| এই প্রথমজাত সন্তান একটি পরিবারে জন্মেছিল| অতীত দিনে এই প্রথমজাত সন্তানের গুরুত্ব ছিল অসীম| এবং আমি তোমাকে বলছি আমার পুত্রকে আমার উপাসনার জন্য ছেড়ে দাও| তুমি যদি ইস্রায়েলকে ছেড়ে দিতে অস্বীকার করো তাহলে আমি তোমার প্রথমজাত পুত্র সন্তানকে হত্যা করব|” 24 মিশরে ফেরার পথে মোশি একটি পান্থশালায় রাত্রিযাপন করছিল| তখন প্রভু তাকে হত্যা করতে চেষ্টা করলেন| 25 কিন্তু সিপ্পোরা একটা ধারালো পাথরের ছুরি দিয়ে তার পুত্রের সুন্নত্‌ করল| এবং সুন্নত্‌ এর চামড়া (চামড়াটি লিঙ্গের মুখ থেকে ছিঁড়ে বেরিয়েছিল|) মোশির পায়ে ছোঁযাল| তারপর সে মোশিকে বলল, “আমার কাছে তুমি রক্তের স্বামী|” 26 সিপ্পোরা একথা বলেছিল কারণ তার ছেলের সুন্নত্‌ তাকে করতেই হত| তাই সে তাদের কাছ থেকে সরে এল| 27 প্রভু হারোণকে বললেন, “মরুপ্রান্তরে গিয়ে মোশির সঙ্গে দেখা করো|” প্রভুর কথামতো হারোণ ঈশ্বরের পর্বতে গিয়ে মোশির সঙ্গে দেখা করে তাকে চুম্বন করল| 28 প্রভু য়ে সব কথা বলবার জন্য মোশিকে পাঠিয়েছিলেন এবং প্রভুই য়ে তাকে পাঠিয়েছেন তা প্রমাণ করবার জন্য য়ে সব অলৌকিক কাজ করতে বলেছিলেন তার সম্বন্ধে, সবই মোশি হারোণকে জানাল| প্রভু যা বলেছেন তার সবকিছু মোশি হারোণকে খুলে বলল| 29 সুতরাং মোশি এবং হারোণ ইস্রায়েলের লোকদের মধ্যে প্রবীণ ব্যক্তিদের একত্র করার জন্য গেল| 30 তখন হারোণ সেই কথাগুলো বলল য়েগুলো প্রভু মোশিকে বলতে বলেছিলেন| আর মোশি লোকদের সামনে সেই সকল চিহ্ন কার্য়্য় করে দেখাল| 31 তার ফলে লোকরা বিশ্বাস করল য়ে প্রভু মোশিকে পাঠিয়েছেন| একই সঙ্গে ইস্রায়েলের লোকরা জানল য়ে, ঈশ্বর তাদের দুঃখ দুর্দশা দেখে তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন| তাই তারা সকলে নতজানু হয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করতে লাগল|

যাত্রাপুস্তক 5

1 লোকদের সঙ্গে কথা বলার পর মোশি এবং হারোণ ফরৌণের কাছে গিয়ে বলল, “প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর বলেছেন, ‘আমার সম্মানার্থে উত্সব করার জন্য আমার লোকদের মরুপ্রান্তরে যাওয়ার ছাড়পত্র দাও|” 2 কিন্তু ফরৌণ বলল, “কে প্রভু? আমি কেন তাকে মানব? কেন ইস্রায়েলকে ছেড়ে দেব? এমনকি এই প্রভু কে আমি তাই জানি না| সুতরাং আমি এভাবে ইস্রায়েলের লোকদের ছেড়ে দিতে পারি না|” 3 তখন হারোণ এবং মোশি বলল, “ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন| তাই আমরা তিন দিনের জন্য মরুপ্রান্তরে ভ্রমণের অনুমতি প্রার্থনা করছি, সেখানে আমরা আমাদের প্রভু, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য উত্সর্গ করব| আমরা যদি তা না করি তাহলে তিনি প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে আমাদের ধ্বংস করে দেবেন| আমাদের মহামারী অথবা যুদ্ধের প্রকোপে মেরে ফেলবেন|” 4 কিন্তু তখন মিশরের রাজা তাদের উত্তর দিলেন, “মোশি ও হারোণ, তোমরা কাজের লোকদের বিরক্ত করছ| ওদের কাজ করতে দাও| গিয়ে নিজের কাজে মন দাও| 5 দেখ, দেশে এখন প্রচুর কর্মী আছে এবং তোমরা তাদের কাজ করা থেকে বিরত করছ|” 6 একই দিনে ক্রীতদাস প্রভুদের এবং ইস্রায়েলীয় তত্ত্বাবধায়কদের ফরৌণ আদেশ দিলেন ইস্রায়েলীয় লোকদের আরো কিছু কঠিনতর কাজ দিতে| 7 ফরৌণ তাদের বললেন, “ইঁট তৈরির জন্য এতদিন তোমরা খড় সরবরাহ করেছো| কিন্তু ওদের বলো, এখন থেকে ইঁট তৈরির জন্য রয়োজনীয় খড় ওরা নিজেরাই য়েন খুঁজে আনে| 8 কিন্তু খড় খুঁজে আনতে হবে বলে ইঁটের উত্পাদন য়েন না কমে| আগে ওরা সারাদিনে য়ে পরিমাণ ইঁট তৈরি করতো নিজেরা খড় জোগাড় করে আনার পরও ওদের আগের মতো একই পরিমাণ ইঁট তৈরি করতে হবে| আজকাল ওরা ভীষণ অলস হয়ে গেছে| এবং সেজন্যই ওরা আমার কাছে মরুপ্রান্তরে যাওয়ার ছাড়পত্র চাইছে| ওদের হাতে বিশেষ কাজ নেই তাই ওরা ওদের ঈশ্বরকে নৈবেদ্য উত্সর্গ করতে য়েতে চায়| 9 তাই এই লোকদের আরও কঠিন পরিশ্রম করাও যাতে ওরা ব্যস্ত থাকে| তাহলে ওদের আর প্রতারণামূলক কথা শোনবার সময় হবে না|” 10 তাই মিশরের ক্রীতদাস প্রভু এবং ইস্রায়েলীয় তত্ত্বাবধায়করা ইস্রায়েলের লোকদের কাছে গিয়ে বলল, “ফরৌণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন য়ে ইঁট তৈরির জন্য তোমাদের আর খড় সরবরাহ করা হবে না| 11 এবার থেকে তোমরা নিজেরা খড় জোগাড় করে আনবে| সুতরাং যাও গিয়ে খড় জোগাড় করো| কিন্তু ইঁট তৈরির পরিমাণ আগের মতোই রাখতে হবে| খড় জোগাড়ের নাম করে কম ইঁট তৈরি করলে চলবে না|” 12 সুতরাং লোকরা মিশরের চারিদিকে খড়ের খোঁজে গেল| 13 ক্রীতদাস প্রভুরা ইস্রায়েলীয়দের আরো কঠিন কাজ করালো এবং তাদের একদিনে সমান সংখ্যক ইঁট তৈরি করতে বাধ্য করল যা তারা খড় থাকাকালীন করত| 14 মিশরীয় ক্রীতদাস প্রভুরা ইস্রায়েলীয়দের দিয়ে এই হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করানোর দায়িত্ব চাপালো ইস্রায়েলীয় তত্ত্বাবধায়কদের ওপর| মিশরীয় ক্রীতদাস প্রভুরা ইস্রাযেলীয তত্ত্বাবধায়কদের মারলো এবং তাদের বলল, “কেন তোমরা আগের মতো ইঁট তৈরি করতে পারছো না? তোমরা আগে যা করতে পারতে এখনও তোমাদের তাই পারা উচিত্‌|” 15 তখন ইস্রায়েলীয় তত্ত্বাবধায়করা ফরৌণের কাছে নালিশ জানাতে গেল| তারা ফরৌণকে বলল, “আমরা তো আপনার অনুগত ভৃত্য়, তাহলে আমাদের সঙ্গে কেন এরকম ব্যবহার করছেন? 16 আপনি আমাদের খড় সরবরাহ বন্ধ করেছেন| আবার বলছেন আগের মতোই ইঁটের উত্পাদন চালু রাখতে হবে| ইঁট তৈরির পরিমাণ কম হলেই আমাদের মনিবরা আমাদের মারধোর করছে| আপনার লোকরা এটা তো অন্যায় করছে|” 17 উত্তরে ফরৌণ জানালেন, “তোমরা কাজ করতে চাও না| তোমরা অলস হয়ে গেছ| সেজন্যই তোমরা প্রভুর উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য উত্সর্গ করতে যাবার ব্যাপারে আমার অনুমতি চেযেছো| 18 যাও, এখন আবার কাজে ফিরে যাও| আমরা আমাদের কোনও খড় সরবরাহ করব না এবং তোমাদের আগের মতোই সমপরিমাণ ইঁট তৈরি করতে হবে|” 19 তখন ইস্রায়েলীয় তত্ত্বাবধায়করা বুঝতে পারল য়ে তারা গভীর সঙ্কটে পড়েছে| তারা জানতো য়ে কিছুতেই তারা আগের পরিমাণ মতো ইঁট আর তৈরি করতে পারবে না| 20 ফরৌণের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে মোশি এবং হারোণের সঙ্গে তাদের দেখা হল| মোশি ও হারোণ অবশ্য তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই অপেক্ষা করছিল| 21 সুতরাং ইস্রায়েলীয় তত্ত্বাবধায়করা মোশি ও হারোণকে বলল, “আমাদের যাওয়ার ছাড়পত্র চাওযার ব্যাপারে ফরৌণের সঙ্গে কথা বলে তোমরা একটা মারাত্মক ভুল করেছো| প্রভু য়েন তোমাদের শাস্তি দেন| কারণ তোমাদের জন্যই ফরৌণ ও তার শাসকরা আমাদের এখন ঘৃণা করে| তোমরাই তাদের হাতে আমাদের হত্যা করার অজুহাত তুলে দিয়েছ|” 22 তখন মোশি প্রভুর কাছে ফিরে গেল এবং বলল, “প্রভু কেন আপনি লোকদের এমন অমঙ্গল করলেন? কেন আপনি আমার এখানে পাঠিয়েছিলেন? 23 আপনি যা বলতে বলেছিলেন আমি সে কথাগুলো বলতেই ফরৌণের কাছে গিয়েছিলাম| অথচ সেই সময় থেকেই ফরৌণ আপনার লোকদের প্রতি অত্য়ন্ত খারাপ ব্যবহার করছে| এবং আপনি ঐসব লোকদের সাহায্যের জন্য কোনও কিছুই করছেন না|”

যাত্রাপুস্তক 6

1 প্রভু তখন মোশিকে বললেন, “ফরৌণের এখন আমি কি অবস্থা করব তা তুমি দেখতে পাবে| আমি তার বিরুদ্ধে আমার মহান ক্ষমতা ব্যবহার করব এবং সে আমার লোকদের চলে য়েতে বাধ্য করবে| সে য়ে শুধু আমার লোকদের ছেড়ে দেবে তা নয়, সে তার দেশ থেকে তাদের জোর করে পাঠিয়ে দেবে|” 2 ঈশ্বর তখন মোশিকে আবার বললেন, 3 “আমিই হলাম প্রভু| আমি অব্রাহাম, ইসহাক এবং যাকোবের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতাম| তারা আমায় এল্সদাই (সর্বশক্তিমান ঈশ্বর) বলে ডাকত| আমার নাম য়ে যিহোবা তা তারা জানত না| 4 আমি তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলাম| আমি তাদের কনান দেশ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম| ঐ দেশে তারা বাস করলেও দেশটি কিন্তু তাদের নিজস্ব দেশ ছিল না| 5 এখন আমি ইস্রায়েলীয়দের বিলাপ শুনেছি যাদের মিশরীয়রা তাদের ক্রীতদাস করে রেখেছিল এবং আমি আমার চুক্তিকে মনে রাখব এবং আমি যা প্রতিশ্রুতি করেছিলাম তাই করব| 6 সুতরাং ইস্রায়েলের লোকদের গিয়ে বলো আমি তাদের বলেছি, ‘আমি হলাম প্রভু| আমি তোমাদের রক্ষা করব| আমিই তোমাদের মুক্ত করব| তোমরা আর মিশরীয়দের ক্রীতদাস থাকবে না| আমি আমার মহান শক্তি ব্যবহার করব এবং মিশরীয়দের ভয়ঙ্কর শাস্তি দেব| তখন আমি তোমাদের উদ্ধার করব| 7 আমি তোমাদের আমার লোক করে নিলাম এবং আমি হব তোমাদের ঈশ্বর| তোমরা জানবে য়ে আমি হলাম তোমাদের প্রভু, ঈশ্বর, য়ে তোমাদের মিশর থেকে মুক্ত করেছে| 8 আমি অব্রাহাম, ইসহাক এবং যাকোবের কাছে একটি মহান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম| আমি তাদের একটি বিশেষ দেশ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম| তাই আমার নেতৃত্বে তোমরা ঐ দেশে যাবে| আমি তোমাদের ঐ দেশটি দিয়ে দেব| সেই দেশটি একান্তভাবে তোমাদেরই হবে| আমিই হলাম প্রভু|” 9 মোশি এই কথাগুলো ইস্রায়েলীয়দের বলল, কিন্তু তাদের ধৈর্য়্য়হীনতা ও তীব্র পরিশ্রমের দরুণ তারা তার কথা শুনতে অস্বীকার করল| 10 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, 11 “যাও মিশরের রাজা ফরৌণকে বলো য়ে তার উচিত্‌ ইস্রায়েলীয়দের তার দেশ থেকে মুক্তি দেওয়া|” 12 কিন্তু মোশি উত্তরে জানাল, “ইস্রায়েলের লোকরাই আমার কথা শুনতে অস্বীকার করছে, সেক্ষেত্রে ফরৌণ আর কি শুনবে! সেও আমার কথা শুনতে রাজি হবে না| এ ব্যাপারে আমি একরকম নিশ্চিত| তার উপর আমি ভালোভাবে “কথা বলতেও পারি না|” 13 কিন্তু প্রভু মোশি এবং হারোণের সঙ্গে কথা বললেন এবং তাদের ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে ও ফরৌণের সঙ্গে কথা বলতে আদেশ দিলেন| ইস্রায়েলীয়দের মিশর থেকে উদ্ধার করে আনতে প্রভু তাদের আদেশ দিলেন| 14 ইস্রায়েলীয় পরিবারগুলির নেতাদের নাম ক্রমানুসারে এইরূপ: ইস্রায়েলের জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম ছিল রূবেণ| তার পুত্ররা ছিল: হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্ম্মি| 15 শিমিয়োনোর পুত্ররা ছিল: য়িমুয়েল, যামীন, ওহদ, যাখীন, সোহর এবং শৌল য়ে ছিল এক কনানীয়া মহিলার গর্ভজাত সন্তান| 16 লেবি 137 বছর জীবিত ছিলেন| লেবির পুত্রদের নাম হল গের্শোন, কহাত্‌ ও মরারি| 17 গের্শোনের আবার দুই পুত্র ছিল লিব্নি ও শিমিযি| 18 কহাত্‌ 133 বছর পর্য়ন্ত জীবিত ছিল| কহাতের পুত্ররা হল অম্রম, যিষ্হর, হিব্রোণ এবং উষীয়েল| 19 মরারির দুই পুত্র হল মহলি ও মুশি| এই প্রত্যেকটি পরিবারের প্রথম পূর্বপুরুষ ছিল ইস্রায়েলের সন্তান লেবি| 20 অম্রম বেঁচে ছিল 137 বছর| অম্রম তার আপন পিসি য়োকেবদকে বিয়ে করেছিল| অম্রম ও য়োকেবদের দুই সন্তান হল যথাক্রমে হারোণ এবং মোশি| 21 য়িষ্হরের পুত্ররা হল কোরহ, নেফগ ও সিখ্রি| 22 আর উষীয়েলের সন্তান হল মীশায়েল, ইল্সাফন ও সিথ্রি| 23 হারোণ অম্মীনাদবের কন্যা, নহোশনের বোন ইলীশেবাকে বিয়ে করেছিল| হারোণ ও ইলীশেবার সন্তানরা হল নাদব, অবীহূ, ইলিয়াসর ও ইথামর| 24 কোরহের পুত্র অসীর, ইল্কানা ও অবীযাসফ হল কোরহীয় গোষ্ঠীর পূর্বপুরুষ| 25 হারোণের পুত্র ইলিয়াসর পূটীয়েলের এক কন্যাকে বিয়ে করার পরে তাদের য়ে সন্তান হয় তার নাম দেওয়া হয় পীনহস| এরা প্রত্যেকেই ইস্রায়েলের পুত্র লেবির বংশজাত| 26 হারোণ এবং মোশি ছিল এই পরিবারগোষ্ঠীর| প্রভু তাদের দুজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং বলেছিলেন, “আমার লোকদের মিশর থেকে দলে দলে বাইরে নিয়ে এসো|” 27 হারোণ এবং মোশি উভয়েই মিশরের রাজা ফরৌণের সঙ্গে কথা বলেছিল| তারাই ফরৌণকে বলেছিল ইস্রায়েলের লোকদের মিশর থেকে ছেড়ে দেওয়া হোক| 28 মিশরে য়েদিন প্রভু মোশির সঙ্গে কথা বললেন, 29 তিনি তাকে বলেছিলেন, “আমিই হলাম প্রভু| আমি তোমাকে যা কিছু বলেছি তা মিশরের রাজা ফরৌণকে গিয়ে বলো|” 30 কিন্তু মোশি উত্তর দিল, “আমি ভালোভাবে কথা বলতে পারি না| রাজা আমার কথা শুনবে না|”

যাত্রাপুস্তক 7

1 প্রভু তখন মোশিকে বললেন, “আমি তোমাকে ফরৌণের কাছে একজন ঈশ্বর করে তুলেছি| আর হারোণ তোমার ভাই হবে তোমার ভাববাদী| 2 তোমার ভাই হারোণকে আমার সমস্ত আদেশগুলো বলো| তাহলে হারোণ রাজাকে আমার কথাগুলো জানাবে| ফরৌণ ইস্রায়েলীয়দের তার দেশ থেকে চলে য়েতে অনুমতি দেবে| 3 কিন্তু আমি ফরৌণকে জেদী করে তুলব| তাই সে তোমাদের কথা মানবে না| তখন আমি নিজেকে প্রমাণের উদ্দেশ্যে মিশরে নানারকম অলৌকিক অথবা অদ্ভুত কাজ করবে| তবুও সে তোমাদের কথা শুনবে না| তখন আমি মিশরকে কঠিন শাস্তি দেব এবং আমি মিশর থেকে আমার লোকদের বাইরে বের করে আনব| 4 5 যখন আমি তাদের বিরোধিতা করব তখন মিশরের লোকরাও জানতে পারবে য়ে আমিই হলাম প্রভু| সেই মুহুর্তে আমি আমার লোকদের মিশরীয়দের দেশ থেকে বের করে আনব|” 6 প্রভু তাদের যা বলেছিলেন মোশি এবং হারোণ তা মেনে চলেছিল| 7 যখন তারা ফরৌণের সঙ্গে কথা বলেছিল সেই সময় মোশির বয়স ছিল 80 এবং হারোণের বয়স ছিল 83 বছর| 8 মোশি এবং হারোণকে প্রভু বললেন, 9 “ফরৌণ তোমাদের শক্তির পরিচয়ের প্রমাণ হিসাবে কোনও অলৌকিক কাজ ঘটিযে দেখাতে বলবে| তখন হারোণকে বলবে তোমার পথ চলার লাঠিটি মাটিতে ছুঁড়ে ফেলতে| ফরৌণের চোখের সামনে মাটিতে পড়ে থাকা ঐ লাঠি নিমেষের মধ্যে সাপে পরিণত হবে|” 10 তাই মোশি এবং হারোণ প্রভুর কথামতো ফরৌণের কাছে গেল| হারোণ তার সামনে লাঠিটি মাটিতে ছুঁড়ে ফেলেছিল| ফরৌণ এবং তার সভাসদদের চোখের সামনেই লাঠি সাপের রূপ নিল| 11 রাজা এই ঘটনা দেখে তার জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি ও যাদুকরদের ডাকলেন| রাজার নিজস্ব যাদুকররা তাদের মায়াবলে হারোণের মতো তাদের লাঠিটিও সাপে পরিণত করে দেখাল| 12 সেইসব যাদুকররাও নিজের নিজের হাতের লাঠিকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে মুহুর্তে লাঠিগুলিকে সাপে রূপান্তরিত করে দেখাল| কিন্তু হারোণের লাঠি তাদের লাঠিগুলোকে গ্রাস করে নিল| 13 তবুও ফরৌণ উদ্ধত হয়ে থাকলেন| প্রভুর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ীরাজা মোশি এবং হারোণের কথায় কান দিলেন না| 14 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, “ফরৌণ লোকদের ছেড়ে না দেবার জেদ ধরে রইল| 15 সকালে ফরৌণ নদীর দিকে যায| তুমিও তার সঙ্গে দেখা করার জন্য নীল নদের তীরে দাঁড়াবে| সাপে পরিণত হয় ঐ লাঠিকে সঙ্গে নেবে| 16 ফরৌণকে বলবে: ‘প্রভু ইস্রাযেলীযদের ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন| আমায আপনাকে বলতে বলেছেন য়ে তাঁর লোকদের য়েন তাঁর উপাসনার জন্য মরুপ্রান্তরে য়েতে দেওয়া হয়| এখনও পর্য়ন্ত অবশ্য আপনি প্রভুর কথা শোনেন নি| 17 তাই প্রভু আপনার সম্মুখে নিজের স্বরূপ প্রমাণের উদ্দেশ্যে কিছু কাণ্ড ঘটাবেন| এবার দেখুন আমি আমার পথ চলার লাঠি দিয়ে নীল নদের জলে আঘাত করব এবং সঙ্গে সঙ্গে নদীর জল রক্তে পরিণত হবে| 18 নদীর সমস্ত মাছ মারা যাবে এবং নদীর জলে দুর্গন্ধ ছড়াবে| ফলে মিশরীয়রা আর এই নদীর জল পান করতে পারবে না|” 19 প্রভু মোশিকে বললেন, “হারোণকে বলো এই লাঠি নিয়ে সে য়েন মিশরের সমস্ত জলাশয, নদী, খাল, বিল, হ্রদ প্রত্যেকটি জায়গার জলে স্পর্শ করে| লাঠির স্পর্শে সমস্ত জলাশযের জল রক্তে পরিণত হবে| এমনকি কাঠ ও পাথরের পাত্রে সংগ্রহ করে রাখা পানীয় জলও রক্তে পরিণত হবে|” 20 সুতরাং মোশি এবং হারোণ প্রভুর আদেশ কার্য়কর করল| হারোণ ফরৌণ ও তার সভাসদগণের সামনেই তার হাতে লাঠি উঁচিযে ধরে নীল নদের জলে আঘাত করল| আর সঙ্গে সঙ্গে নদীর জল রক্তে পরিণত হল| 21 নদীর সমস্ত মাছ মারা গেল এবং নদীর জলে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করল| ফলে মিশরীয়রা আর সেই নদীর জল পান করতে পারল না| মিশরের সমস্ত জলাধারের জলই রক্তে পরিণত হল| 22 হারোণ ও মোশির মতো রাজার যাদুকররাও তাদের মাযাবলে একই ঘটনা ঘটিযে প্রমাণ করল তারাও কম জানে না| ফলে প্রভুর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ীফরৌণ আবার মোশি ও হারোণের কথা শুনতে অস্বীকার করলেন| 23 ফরৌণ মোশি ও হারোণের ঐ কথায় মনোয়োগ না দিয়ে নিজের প্রাসাদে ঢুকে গেলেন| 24 মিশরীয়রা নদীর জল পান করতে না পেরে তারা পানীয় জলের সন্ধানে নদীর চারপাশে কুঁযো খুঁড়তে লাগল| 25 প্রভুর নীলনদের জলকে রক্তে পরিণত করার পর সাতদিন পার হল|

যাত্রাপুস্তক 8

1 প্রভু তখন মোশির উদ্দেশ্যে বললেন, “ফরৌণকে গিয়ে বলো য়ে প্রভু বলেছেন, ‘আমার লোকেদের আমাকে উপাসনার জন্য ছেড়ে দাও! 2 যদি তুমি ওদের ছেড়ে না দাও তাহলে আমি মিশর দেশ ব্যাঙে ভর্তি করে দেব| 3 নীল নদ ব্যাঙে ভর্তি হয়ে উঠবে| নদী থেকে ব্যাঙরা উঠে এসে তোমার ঘরে শয়্য়াকক্ষে প্রবেশ করে বিছানায উঠে বসবে| তোমার উনুনের চুল্লি, জলের পাত্র ব্যাঙে ভরে যাবে| তোমার সভাসদগণের ঘরও ব্যাঙে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে| 4 তোমাদের চারিদিকে ব্যাঙরা ঘুরে বেড়াবে| তোমার সভাসদগণ, তোমার লোকদের এবং তোমার গায়েও ব্যাঙ ছেঁকে ধরবে|” 5 প্রভু এরপর মোশিকে বললেন, “তুমি হারোণকে বলো সে য়েন তার হাতের পথ চলার লাঠি নদী, খালবিল ও হ্রদের ওপর বিস্তার করে মিশর দেশে ব্যাঙ এনে ভরিয়ে দেয়|” 6 হারোণ মিশরের জলের ওপর তার লাঠি সমেত হাত বিস্তার করতেই নদী, খালবিল ও হ্রদ থেকে রাশি রাশি ব্যাঙ উঠে মিশরের মাটি ঢেকে ফেলল| 7 হারোণের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে রাজার যাদুকররাও তাদের মাযাজাল বিস্তার করে একই কাণ্ড ঘটিযে দেখাল| ফলে মিশরের মাটিতে আরও অসংখ্য ব্যাঙ উঠে এলো| 8 ফরৌণ এবার বাধ্য হয়ে মোশি এবং হারোণকে ডেকে পাঠিয়ে তাদের বললেন, “প্রভুকে বলো তিনি য়েন আমাকে এবং আমার লোকদের এই ব্যাঙের উপদ্রব থেকে রেহাই দেন| আমি প্রভুকে নৈবেদ্য উত্সর্গ করার জন্য লোকদের যাবার ছাড়পত্র দেব|” 9 মোশি ফরৌণকে বলল, “বলুন, আপনি কখন চান য়ে এই ব্যাঙরা ফিরে যাক্| আমি আপনার জন্য, আপনার সভাসদগণ ও প্রজাদের জন্য তাহলে প্রার্থনা করব| তারপরই ব্যাঙরা আপনাকে এবং আপনার ঘর ছেড়ে নদীতে ফিরে যাবে| ব্যাঙরা নদীতেই থাকে| বলুন আপনি কবে এই ব্যাঙদের উপদ্রব থেকে অব্যাহতি চান?” 10 উত্তরে ফরৌণ জানালেন, “আগামীকাল|”মোশি বলল, “বেশ আপনার কথা মতো তাই হবে| তবে এবার নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পেরেছেন য়ে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মতো আর কোন ঈশ্বর এখানে নেই| 11 ব্যাঙরা আপনাকে, আপনার ঘর এবং আপনার সভাসদগণ ও প্রজাদের সবাইকে ছেড়ে ফিরে যাবে| কেবলমাত্র নদীতেই তারা এবার থেকে বাস করবে|” 12 এরপর মোশি এবং হারোণ ফরৌণের কাছ থেকে ফিরে এলো| ফরৌণের বিরুদ্ধে পাঠানো সমস্ত ব্যাঙদের সরিয়ে নেবার জন্য মোশি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করল| 13 মোশির প্রার্থনায সাড়া দিয়ে প্রভু ঘরে, বাইরে, মাঠে ঘাটের সমস্ত ব্যাঙকে মেরে ফেললেন| 14 কিন্তু মৃত ব্যাঙের স্তূপ পচতে শুরু করল এবং সারা দেশ দুর্গন্ধে ভরে উঠল| 15 ব্যাঙদের উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই ফরৌণ আবার একগুঁয়ে ও জেদী হয়ে উঠলেন| প্রভুর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ীমোশি ও হারোণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাজা পালন করলেন না| 16 প্রভু তখন মোশিকে বললেন, “হারোণকে বলো তার হাতের লাঠি দিয়ে মাটির ধূলোয় আঘাত করতে, এবং তারপর সেই ধূলো মিশরের সর্বত্র উকুনে পরিণত হবে|” 17 হারোণ প্রভুর কথামতো ধূলোতে তার লাঠি আঘাত করতেই মিশরের সর্বত্র ধূলো উকুনে পরিণত হল| এবং সেই উকুনগুলো মানুষ ও পশুদের ঘায়ের ওপর চড়ে বসল| 18 রাজার যাদুকররা এবারও একই জিনিস করে দেখানোর চেষ্টা করল কিন্তু তারা কিছুতেই ধূলোকে উকুনে পরিণত করতে পারল না| কিন্তু সেই উকুনগুলো মানুষ ও পশুদের শরীরে রয়ে গেল| 19 যাদুকররা এবারে ব্যর্থ হয়ে গিয়ে রাজা ফরৌণকে বলল য়ে ঈশ্বরের শক্তিই এটাকে সম্ভব করেছে| কিন্তু ফরৌণ তাদের কথাতে কান দিলেন না| প্রভুর ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারেই অবশ্য এই ঘটনা ঘটল| 20 প্রভু মোশিকে বললেন, “সকালে উঠে ফরৌণের কাছে যাবে| ফরৌণ নদীর তীরে যাবে| তখন তাকে বলবে প্রভু বলেছেন, ‘আমার উপাসনার জন্য আমার লোকদের ছেড়ে দাও| 21 যদি তুমি তাদের ছেড়ে না দাও তাহলে তোমার ঘরে মাছির ঝাঁক ঢুকবে| শুধু তোমার ঘরেই নয় তোমার সভাসদগণ ও তোমার প্রজাদের ঘরেও মাছির ঝাঁক ঢুকবে| মিশরের প্রত্যেকটি ঘর মাছির ঝাঁকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে| মিশরের মাঠে ঘাটে সর্বত্র শুধু ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি উড়ে বেড়াবে! 22 কিন্তু মিশরীয়দের মতো ইস্রায়েলের লোকদের আমি এই যন্ত্রণা ভোগ করাবো না| গোশন প্রদেশে, যেখানে আমার লোকরা বাস করে, সেখানে একটিও মাছি থাকবে না| কারণ সেখানে আমরা লোকরা বাস করে| এর ফলে তুমি বুঝতে পারবে য়ে এই দেশে আমিই হলাম প্রভু| 23 সুতরাং আগামীকাল থেকেই তুমি আমার এই বিভেদ নীতির প্রমাণ পাবে|” 24 সুতরাং প্রভু তাই করলেন যা তিনি বলেছিলেন| ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি মিশরে এসে গেল| ফরৌণের বাড়ী এবং তাঁর সভাসদগণের বাড়ী মাছিতে ভরে গেল| মাছিগুলোর জন্য সমগ্র মিশর ধ্বংস হল| 25 ফরৌণ মোশি এবং হারোণকে ডেকে বলল, “তোমরা তোমাদের ঈশ্বরকে এই দেশের মধ্যেই নৈবেদ্য উত্সর্গ করো|” 26 কিন্তু মোশি বলল, “না, তা এখানে করা ঠিক হবে না| কারণ প্রভু, আমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে পশু বলিদান মিশরীয়দের চোখে ভয়ঙ্কর ব্যাপার| আমরা যদি এখানে তা করি তাহলে মিশরীয়রা আমাদের দেখতে পেয়ে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করবে| 27 তাই তিন দিনের জন্য আমাদের প্রভু ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য উত্সর্গ করার জন্য আমাদের মরুপ্রান্তরে য়েতে দিন| প্রভুই আমাদের এটা করতে বলেছেন|” 28 সব শুনে ফরৌণ বলল, “বেশ আমি তোমাদের মরুপ্রান্তরে যাবার ছাড়পত্র দিচ্ছি| তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য উত্সর্গ করার জন্য| কিন্তু মনে রেখো তোমরা কিন্তু বেশী দূর চলে যাবে না| এখন যাও এবং আমার জন্য প্রার্থনা করো|” 29 তখন মোশি ফরৌণকে বলল, “দেখুন, আমি যাব এবং প্রভুকে অনুরোধ করব যাতে আগামীকাল তিনি আপনার কাছ থেকে, আপনার লোকদের কাছ থেকে এবং আপনার সভাসদগণের কাছ থেকে মাছিগুলো সরিয়ে নেন| কিন্তু আপনি য়েন আবার আগের মতো প্রভুকে নৈবেদ্য উত্সর্গ করার বিষযটি নিয়ে পরে আপত্তি করবেন না|” 30 এই কথা বলে মোশি ফরৌণের কাছ থেকে ফিরে এল এবং প্রভুর কাছে প্রার্থনা করল| 31 এবং মোশির প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে প্রভু ফরৌণকে, সভাসদগণ ও প্রজাদের মাছির উপদ্রব থেকে রক্ষা করলেন| মিশর থেকে মাছিদের বের করে দিলেন| আর একটি মাছিও সেখানে রইল না| 32 কিন্তু ফরৌণ আবার জেদী হয়ে গেলেন এবং লোকদের য়েতে দিলেন না|

যাত্রাপুস্তক 9

1 তারপর প্রভু মোশিকে বললেন, ফরৌণকে গিয়ে বল, “প্রভু, ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বর বলেছেন, ‘আমার লোকদের আমার উপাসনা করার জন্য ছেড়ে দাও|’ 2 তুমি যদি তাদের ধরে রাখো এবং য়েতে বাধা দাও 3 তাহলে প্রভু তোমার গবাদি পশুদের ওপর তাঁর ক্ষমতা প্রযোগ করবেন| তোমার সমস্ত ঘোড়া, গাধা, উট, গরু ও মেষের পাল প্রভুর কোপে এক ভয়ঙ্কর রোগের শিকার হবে| 4 কিন্তু প্রভু মিশরের পশুদের মতো ইস্রায়েলের পশুদের দুর্দশাগ্রস্ত করবেন না| ইস্রায়েলের লোকদের কোনও পশু মারা যাবে না| 5 আগামীকাল এই ঘটনা ঘটাবার জন্য প্রভু সময় নির্বাচন করেছেন|” 6 পরদিন, প্রভু য়েমন বলেছিলেন তেমন করলেন| মিশরীয়দের সমস্ত গৃহপালিত পশু মারা গেল| কিন্তু ইস্রায়েলের লোকদের কোনও পশু মারা গেল না| 7 ইস্রায়েলীয়দের কোনও পশু মারা গেছে কিনা তা দেখে আসতে ফরৌণ তাঁর কর্মচারীদের পাঠালেন এবং সে জানতে পারলো য়ে ইস্রায়েলীয়দের একটি পশুও মারা যায নি| কিন্তু তবুও ফরৌণ তাঁর জেদ ধরে রইলেন এবং লোকদের য়েতে দিলেন না| 8 প্রভু মোশি এবং হারোণকে বললেন, “একটা উনুন থেকে এক মুঠো ছাই নাও| মোশি তুমি সেই ছাই ফরৌণের সামনে বাতাসে ছুঁড়ে দাও| 9 এই ছাই ধূলিকণা হয়ে সারা মিশরে ছড়িয়ে পড়বে| এবং যখনই এই ধূলো মিশরের কোনও মানুষ বা পশুর গায়ে পড়বে তখনই তাদের গায়ে ফোঁড়া হবে|” 10 তাই মোশি ও হারোণ উনুন থেকে ছাই নিয়ে ফরৌণের সামনে দাঁড়াল| মোশি সেই ছাই আকাশে ছুঁড়ে দিল আর পশু ও মানুষের গায়ে ফোঁড়া বের হতে লাগল| 11 যাদুকররা মোশির সঙ্গে প্রতিয়োগিতা করতে পারল না| কারণ তাদেরও সারা গায়ে ফোঁড়া ছিল| মিশরের প্রতিটি জায়গায় এই রোগ দেখা দিল| 12 কিন্তু এতে প্রভু ফরৌণকে আরও উদ্ধত করে তুললেন| তাই ফরৌণ তাদের কথা শুনতে অস্বীকার করল| প্রভুর কথামতোই এসব ঘটেছিল| 13 এরপর প্রভু, ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বর মোশিকে বললেন, “সকালে উঠে ফরৌণের কাছে গিয়ে বলবে, প্রভু ঈশ্বর বলেছেন, ‘আমার লোকদের আমার উপাসনা করতে য়েতে দাও| 14 যদি তুমি তা না কর, তবে আমি তোমার জন্য, তোমার সমস্ত রাজকর্মচারীদের জন্য এবং লোকদের জন্য সমস্ত রকমের দুর্ভোগ পাঠাবো| তখন তুমি জানবে য়ে এই পৃথিবীতে আমার মতো ঈশ্বর আর নেই, 15 আমি আমার ক্ষমতা দিয়ে তোমাদের এমন রোগ দিতে পারি যা তোমাদের পৃথিবী থেকে মুছে দেবে| 16 কিন্তু আমি তোমাদের একটা কারণে এখানে রেখেছি| আমি তোমাকে আমার ক্ষমতা দেখানোর জন্য রেখেছি| যাতে সারা পৃথিবীর লোক আমার কথা শুনতে পারে| 17 তুমি এখনও আমার লোকদের সঙ্গে বিরোধিতা করছ এবং তাদের য়েতে দিচ্ছ না| 18 “তাই আগামীকাল এই সময় আমি এক ভয়ঙ্কর শিলাবৃষ্টি ঘটাবো| মিশরের শুরু থেকে আজ পর্য়ন্ত এই রকম ভয়ঙ্কর শিলাবৃষ্টি আর কখনও হয় নি| 19 এখন তুমি তোমার পশুদের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাও| তোমার ক্ষেতে যা কিছু আছে সব একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাও| কেন? কারণ কোন লোক যদি ক্ষেতে পড়ে থাকে, তবে সে মারা যাবে; যদি কোন পশু মাঠে পড়ে থাকে সে মারা যাবে| তোমার বাড়ীর বাইরে যা কিছু পড়ে থাকবে সে সব কিছুর ওপরেই শিলাবৃষ্টি হবে|” 20 ফরৌণের সেই কর্মচারীরা যারা প্রভুর বার্তাকে গুরুত্ব দিয়েছিল তারা তাদের পশু ও ক্রীতদাসদের ক্ষেত থেকে নিয়ে এলো এবং ঘরে রেখে দিল| 21 কিন্তু য়ে সব কর্মচারীরা প্রভুর বার্তা অগ্রাহ্য করেছিল তারা তাদের ক্রীতদাসদের ও পশুদের মাঠে রেখে দিল| 22 প্রভু মোশিকে বললেন, “তোমার হাত আকাশের দিকে তুলে ধরো, তাহলে মিশরের ওপর শিলাবৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে| মিশরের সমস্ত ক্ষেতের মানুষ, পশু ও গাছপালার ওপর এই শিলাবৃষ্টি হবে|” 23 তাই মোশি তার হাতের ছড়ি আকাশের দিকে তুলল, তারপর প্রভু ভূমির ওপর বজ্রনির্ঘোষ, শিলাবৃষ্টি ও অশনি ঘটালেন| সারা মিশরে শিলাবৃষ্টি হল| 24 শিলাবৃষ্টি হচ্ছিল এবং চারিদিকে বিদ্যুত চমকাচ্ছিল| এই ধরণের ভয়ঙ্কর শিলাবৃষ্টি মিশরের শুরু থেকে আজ পর্য়ন্ত আগে কখনও হয়নি| 25 এই শিলাবৃষ্টি মিশরের ক্ষেতের সমস্ত কিছু, লোকজন ও পশুসহ গাছপালা ধ্বংস করে দিল| এই শিলাবৃষ্টিতে মাটির সমস্ত গাছ ভেঙ্গে পড়েছিল| 26 একমাত্র ইস্রায়েলের লোকদের বাসস্থান গোশন প্রদেশে শিলাবৃষ্টি হল না| 27 ফরৌণ মোশি ও হারোণকে ডেকে বললেন, “এইবার বুঝেছি য়ে আমি পাপ করেছি| প্রভুই ঠিক ছিলেন| আমি ও আমার লোকরা ভুল করেছি| 28 প্রভুর দেওয়া শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত আর সহ্য হচ্ছে না| ঈশ্বরকে গিয়ে এই ঝড় থামাতে বল| তাহলে আমি তোমাদের য়েতে দেব, তোমাদের আর এখানে থাকতে হবে না|” 29 মোশি ফরৌণকে বললেন, “আমি যখন শহর ত্যাগ করে যাবো তখন আমি প্রভুকে প্রার্থনার ভঙ্গীতে আমার হাতগুলো ওপরে তুলব| এবং তারপর বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি থামবে| তখন তুমি জানবে য়ে এই পৃথিবী প্রভুর অধিকারে| 30 কিন্তু আমি জানি য়ে তুমি এবং তোমার কর্মচারীরা এখনও প্রভুকে শ্রদ্ধা করো না|” 31 য়ব ও শন গাছে ফুল এসে গিয়েছিল| তাই এই সমস্ত শস্য নষ্ট হয়ে গেল| 32 কিন্তু য়েহেতু গম ও জনার বড় হল না তাই সেগুলো নষ্ট হল না| 33 মোশি ফরৌণের কাছে থেকে শহরের বাইরে গেল, প্রভুকে প্রার্থনা করার ভঙ্গীতে তাঁর হাতগুলো ওপরে তুলল এবং তত্‌ক্ষণাত্‌ বজ্র, শিলাবৃষ্টি এমনকি বৃষ্টিও থেমে গেল| 34 যখন ফরৌণ দেখল বৃষ্টি, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি থেমে গিয়েছে তখন তিনি আবার ভুল করলেন| তিনি ও তার কর্মচারীরা জেদী হয়ে গেল| 35 ফরৌণ উদ্ধত হলেন এবং ইস্রায়েলের লোকদের য়েতে দিতে অস্বীকার করলেন| এসবই হয়েছিল ঠিক প্রভু য়েমন মোশিকে বলেছিলেন সেইরকম ভাবেই|

যাত্রাপুস্তক 10

1 তারপর প্রভু মোশিকে বললেন, “ফরৌণের কাছে যাও, আমি তাকে ও তার কর্মচারীদের জেদী করে তুলেছি যাতে আমি আমার অলৌকিক শক্তি তাদের দেখাতে পারি| 2 আমি এটা এই কারণেও করেছি যাতে তোমরা, তোমাদের সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের আমি মিশরীয়দের বিরুদ্ধে কি কি করেছিলাম এবং মিশরে কেমন করে চিহ্ন-কার্য়্য়গুলি করেছিলাম তার সম্বন্ধে বলতে পারো| তাহলে তোমরা সবাই জানতে পারবে য়ে আমিই প্রভু|” 3 তাই মোশি ও হারোণ ফরৌণের কাছে গেল এবং বলল, “প্রভু, ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বর বলেছেন, ‘তুমি আর কতদিন প্রভুকে অমান্য করবে? আমার লোকদের আমার উপাসনা করতে য়েতে দাও| 4 তুমি যদি আমার আদেশ অমান্য কর তবে আগামীকাল আমি তোমাদের এই দেশে পঙ্গপাল নিয়ে আসব| 5 পঙ্গপালরা সারা দেশ ঢেকে ফেলবে, চারিদিকে এত পঙ্গপাল আসবে য়ে তোমরা মাটি দেখতে পাবে না| শিলাবৃষ্টির হাত থেকে যা কিছু বেঁচে গিয়েছে সেসব পঙ্গপালরা খেযে ফেলবে, মাঠের প্রত্যেকটি গাছের সমস্ত পাতা এই পঙ্গপালরা খেয়ে ফেলবে| 6 তোমার সমস্ত ঘর, তোমার কর্মচারীদের ঘর এবং মিশরের সব ঘর পঙ্গপালে ভরে যাবে| এত পঙ্গপাল হবে যা তোমার পিতামাতা অথবা তোমার পিতামহরা কখনও দেখে নি| মিশরে জনবসতি গড়ে ওঠার সময় থেকে আজ পর্য়ন্ত এত পঙ্গপাল আর কখনও কেউ দেখে নি|”‘ তারপর মোশি পিছন ফিরে ফরৌণকে ছেড়ে চলে গেল| 7 এরপর ফরৌণের কর্মচারীরা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “আর কতদিন আমরা এই লোকদের ফাঁদে পড়ে থাকব? এদের ঈশ্বর, প্রভুর উপাসনা করতে য়েতে দিন, আপনি যদি তা না করেন তবে আপনার বোঝার আগেই মিশর ছারখার হয়ে যাবে|” 8 তখন ফরৌণ তাঁর কর্মচারীদের বললেন মোশি ও হারোণকে ফিরিযে আনতে| তারা এলে ফরৌণ তাদের বললেন, “যাও, তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের উপাসনা কর| কিন্তু আমাকে বলে যাও ঠিক কারা কারা যাচ্ছে?” 9 মোশি উত্তর দিল, “আমাদের সমস্ত লোক যুবক ও বৃদ্ধ সকলেই যাবে| আমরা আমাদের পুত্রদের, কন্যাদের, মেষ, গবাদি পশু এবং প্রত্যেকটি জিনিস আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাব| কারণ প্রভু আমাদের সকলকেই উত্সবে আমন্ত্রণ করেছেন|” 10 ফরৌণ তাদের বললেন, “আমি তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের মিশরে ছেড়ে য়েতে দেওয়ার আগে প্রভুকে সত্যিই তোমাদের সঙ্গে থাকতে হবে! দেখ তোমাদের নিশ্চয়ই কোন কু-মতলব আছে| 11 শুধুমাত্র পুরুষরাই প্রভুর উপাসনা করতে পারবে কারণ প্রথমে তোমরা একথাই বলেছিলে| কিন্তু তোমাদের সব লোক য়েতে পারবে না|” এরপর ফরৌণ মোশি ও হারোণকে বিদায় দিলেন| 12 প্রভু এবার মোশিকে বললেন, “তুমি মিশরের ওপর তোমার হাত মেলে দাও| তাতে পঙ্গপালরা আসবে| সারা মিশর পঙ্গপালে ভরে যাবে| শিলাবৃষ্টিতে য়ে সব গাছ নষ্ট হয় নি সেগুলি পঙ্গপাল খেযে ফেলবে|” 13 মোশি তার হাতের ছড়ি মিশরের ওপর তুলে ধরল| এবং প্রভু পূর্ব দিক থেকে এক প্রবল বাতাস পাঠালেন| সারা দিন সারা রাত ধরে সেই হাওযা বয়ে গেল| এবং সকালবেলা সেই হাওয়ায় পঙ্গপালরা এসে মিশরে ঢুকে পড়ল| 14 পঙ্গপালরা উড়ে এসে মিশরের মাটিতে বসল| এত পঙ্গপাল ইতিপূর্বে কখনও মিশরে দেখা যায় নি আর বোধ হয় পরবর্তী কালেও কখনও দেখা যাবে না| 15 পঙ্গপালরা মাটি ঢেকে ফেলল এবং সারা দেশ অন্ধকার হয়ে গেল| শিলাবৃষ্টি যা ধ্বংস করে নি সে সমস্ত গাছ এবং গাছের ফল পঙ্গপাল খেযে ফেলল, মিশরের কোথাও কোনও গাছ বা লতা-পাতাও অবশিষ্ট রইল না| 16 ফরৌণ তাড়াতাড়ি মোশি ও হারোণকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, “আমি তোমাদের ও তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে পাপ করেছি| 17 এবারকার মতো আমার অপরাধ ক্ষমা করে দাও| তোমাদের প্রভুকে বল এই পঙ্গপালগুলোকে সরিয়ে নিতে|” 18 মোশি ফরৌণের কাছ থেকে চলে গেল এবং প্রভুর কাছে তার জন্য প্রার্থনা করল| 19 প্রভু হাওযার দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম দিক থেকে বাতাস পাঠালেন, এই প্রবল হাওয়ায় সমস্ত পঙ্গপাল মিশর থেকে বেরিয়ে গিয়ে সূফ সাগরে পড়ল| মিশরে আর একটিও পঙ্গপাল রইল না| 20 কিন্তু প্রভু আবার ফরৌণকে জেদী করে তুললেন এবং ফরৌণ ইস্রায়েলের লোকদের য়েতে দিলেন না| 21 তারপর প্রভু মোশিকে বললেন, “তোমার হাত উপরে আকাশের দিকে তুলে দাও যাতে সারা মিশর অন্ধকারে ঢেকে যায| অন্ধকার এত গাঢ় হবে য়ে তোমরা তা অনুভব করতে পারবে|” 22 তাই মোশি আকাশের দিকে হাত তুলল, তখন কালো মেঘ এসে মিশরকে ঢেকে ফেলল| তিন দিন ধরে এই অন্ধকার রইল| 23 কেউ কাউকে দেখতে পেল না বা কেউ উঠে কোথাও য়েতে পারল না| কিন্তু ইস্রায়েলীয়রা যেখানে বাস করত সেখানে আলো ছিল| 24 আবার ফরৌণ মোশিকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, “যাও গিয়ে তোমাদের প্রভুর উপাসনা কর| তোমরা তোমাদের সন্তানদের নিয়ে য়েতে পারবে কিন্তু গরু বা মেষের দল নিতে পারবে না, এখানে রেখে যাবে|” 25 মোশি বলল, “না, আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে উত্সর্গ এবং হোমবলি দেওয়ার জন্য আপনাকে আমাদের পশুসমূহ দিতে হবে| 26 হ্যাঁ, এবং আমরা আমাদের পশুসমূহ প্রভুর উপাসনার জন্য নিয়ে যাব| আমরা একটা ক্ষুরও ফেলে যাব না| কারণ আমরা জানি না আমাদের প্রভু ঈশ্বরের উপাসনার জন্য ঠিক কি কি লাগবে| একথা আমরা আমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে জানতে পারব| তাই আমরা এ সবকিছুই সঙ্গে নিয়ে যাব|” 27 প্রভু আবার ফরৌণকে জেদী করে তুললেন এবং ফরৌণ তাদের য়েতে বাধা দিলেন| 28 ফরৌণ মোশিকে বললেন, “এখান থেকে দুর হয়ে যাও, আর কখনও য়েন এখানে তোমাকে না দেখি, যদি তুমি এখানে আমার কাছে দেখা করতে আসো তবে তোমায় মরতে হবে|” 29 তখন মোশি বলল, “তুমি একটা কথা ঠিকই বলেছো, আমি আর কখনও তোমার কাছে আসব না|”

যাত্রাপুস্তক 11

1 প্রভু তখন মোশিকে বললেন, “মিশর এবং ফরৌণের বিরুদ্ধে আমি আরেকটি বিপর্য়য বয়ে আনব| তারপর, সে তোমাদের সবাইকে পাঠিয়ে দেবে| বস্তুত সে তোমাদের চলে য়েতে বাধ্য করবে| 2 তুমি ইস্রায়েলের লোকদের এই বার্তা পাঠাবে: ‘নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে তোমরা নিজের নিজের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সোনা ও রূপোর অলঙ্কার চাইবে| 3 প্রভু মিশরীয়দের তোমাদের প্রতি দযালু করে তুলবেন| মিশরের লোকরা, এমনকি ফরৌণের কর্মচারীরা মোশিকে এক মহান ব্যক্তির মর্য়াদা দেবে|”‘ 4 মোশি লোকদের জানাল, “প্রভু বলেছেন, ‘আজ মধ্যরাত নাগাদ আমি মিশরের মধ্যে দিয়ে যাব| 5 এবং তার ফলে মিশরীয়দের সমস্ত প্রথমজাত পুত্ররা মারা যাবে| রাজা ফরৌণের প্রথমজাত পুত্র থেকে শুরু করে য়াঁতাকলে শস্য পেষনকারিণী দাসীর প্রথমজাত পুত্র পর্য়ন্ত সবাই মারা যাবে| এমনকি পশুদেরও প্রথম শাবক মারা যাবে| 6 তারপর সমস্ত মিশরে এমন জোরে কান্নার রোল উঠবে যা অতীতে কখনও হয় নি এবং যা ভবিষ্যতেও কখনও হবে না| 7 কিন্তু ইস্রায়েলের লোকদের কোনরকম ক্ষতি হবে না| এমন কি কোনো কুকুর পর্য়ন্ত ইস্রায়েলীয়দের অথবা তাদের পশুদের দিকে ঘেউ ঘেউ করে চিত্কার করবে না| এর ফলে, তোমরা বুঝতে পারবে আমি মিশরীয়দের থেকে ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে কতখানি অন্যরকম আচরণ করি| 8 তখন তোমাদের সমস্ত (মিশরীয় কর্মচারীরা) নতজানু হবে এবং আমার উপাসনা করবে| তারা বলবে, “তুমি তোমার সমস্ত লোককে তোমার সঙ্গে নিয়ে চলে যাও|” তখন মোশি ক্রোধে ফরৌণকে ছেড়ে চলে গেল|” 9 প্রভু এরপর মোশিকে আরও বললেন য়ে, “ফরৌণ তোমার কথা শোনে নি| কেন শোনে নি? শোনে নি বলেই তো আমি মিশরের ওপর আমার মহাশক্তির প্রভাব দেখাতে পেরেছিলাম|” 10 মোশি ও হারোণ ফরৌণের কাছে গিয়েছিল এবং এই সমস্ত অলৌকিক কাজগুলো করেছিল| কিন্তু প্রভু ফরৌণের হৃদয়কে উদ্ধত করেছিলেন যাতে সে ইস্রায়েলীয়দের তার দেশ থেকে য়েতে না দেয়|

যাত্রাপুস্তক 12

1 মোশি ও হারোণ মিশরে থাকার সময় প্রভু তাদের বললেন, 2 “এই মাস হবে তোমাদের জন্য বছরের প্রথম মাস, 3 এই আদেশ সমস্ত ইস্রায়েলবাসীর জন্য: এই মাসের দশম দিনে প্রত্যেকে তার বাড়ীর জন্য একটি করে পশু জোগাড় করবে| পশুটি একটি মেষ অথবা একটি ছাগলও হতে পারে| যদি তার বাড়ীতে একটি গোটা পশুর মাংস খাওয়ার মতো য়থেষ্ট লোক না থাকে তবে সে তার কিছু প্রতিবেশীকে মাংস ভাগ করে খাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করবে| প্রত্যেকের খাওয়ার জন্য যথেষ্ট মাংস থাকবে| পশুটিকে হতে হবে একটি এক বছরের পুংশাবক এবং সম্পূর্ণরূপে স্বাস্থ্য়বান| 4 5 6 মাসের চতুর্দশ দিন পর্য়ন্ত এই পশুটির ওপর তোমাদের নজর রাখতে হবে| সেই দিন ইস্রায়েলীয় মণ্ডলীর সমস্ত লোকরা এই পশুটিকে গোধুলি বেলায হত্যা করবে| 7 তোমরা এই প্রাণীর রক্ত সংগ্রহ করবে, য়ে বাড়ীতে লোকরা ভোজ খাবে সেই বাড়ীর দরজার কাঠামোর ওপরে ও পাশে এই রক্ত লাগিয়ে দেবে| 8 “এই দিন রাতে তোমরা মেষটিকে পুড়িয়ে তার মাংস খাবে| তোমরা তেঁতো শাক ও খামিরবিহীন রুটিও খাবে| 9 মেষটিকে কাঁচা অথবা জলে সিদ্ধ করা অবস্থায় তোমাদের খাওয়া উচিত্‌ হবে না, কিন্তু আগুনের তাপে সেঁকবে| মেষশাবকটির মাথা, পা এবং ভিতরের অংশ সব কিছুই অক্ষুন্ন থাকবে| 10 তোমরা সব মাংস রাতের মধ্যেই খেযে শেষ করবে| যদি পরদিন সকালে কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তা পুড়িয়ে ফেলবে| 11 “যখন তোমরা আহার করবে তখন তোমরা যাত্রার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে থাকার পোশাকে থাকবে| তোমাদের পায়ে জুতো থাকবে, হাতে ছড়ি থাকবে এবং তোমরা তাড়াহুড়ো করে খাবে| কারণ এ হল প্রভুর নিস্তারপর্ব| 12 “আমি মিশরীয়দের প্রথমজাত শিশুগুলিকে এবং তাদের সমস্ত পশুর প্রথমজাত শাবকগুলিকে হত্যা করব| এইভাবে, আমি মিশরের সমস্ত দেবতাদের ওপর রায দেব যাতে তারা জানতে পারে য়ে আমিই প্রভু| 13 কিন্তু তোমাদের দরজায় লাগানো রক্ত একটি বিশেষ চিহ্নের কাজ করবে| যখন আমি ঐ রক্ত দেখব তখন আমি তোমাদের বাড়ীগুলোর ওপর দিয়ে চলে যাব| আমি শুধু মিশরের লোকদের ক্ষতি করব| এই সব মারাত্মক রোগে তোমাদের কোন ক্ষতি হবে না| 14 “তাই তোমরা সবসময় মনে রাখবে য়ে আজ তোমাদের একটি বিশেষ ছুটির দিন| তোমাদের উত্তরপুরুষরা এই ছুটির দিনের মাধ্যমে প্রভুকে সম্মান জানাবে| 15 এই ছুটিতে তোমরা সাতদিন ধরে খামিরবিহীন রুটি খাবে, ছুটির প্রথম দিনে তোমরা তোমাদের বাড়ী থেকে সমস্ত খামির সরিয়ে ফেলবে| এই ছুটিতে পুরো সাত দিন ধরে কেউ কোন খামির খাবে না| যদি কেউ সেটা খায় তবে সেই ব্যক্তিকে ইস্রায়েলীয়দের থেকে আলাদা করে দেওয়া হবে| 16 এই ছুটির প্রথম ও শেষ দিনে পবিত্র সমাগম অনুষ্ঠিত হবে| তোমরা এই দিনগুলোতে কোন কাজ করবে না| তোমরা এই দিনগুলিতে একমাত্র তোমাদের আহারের জন্য খাদ্য তৈরী করতে পারবে| 17 তোমরা খামিরবিহীন রুটির উত্সবের কথা মনে রাখবে| কেন? কারণ এই দিন আমি তোমাদের সব লোককে দলে দলে মিশর থেকে বের করে এনেছিলাম, তাই তোমাদের সব উত্তরপুরুষ এই দিনটি স্মরণ করবে, এই নিয়ম চিরকাল থাকবে| 18 তাই প্রথম মাসের চতুর্দশ দিন বিকেলে তোমরা খামিরবিহীন রুটি খাওয়া শুরু করবে| তোমরা ঐ রুটিটি ঐ মাসের একবিংশ দিনের সন্ধ্যা পর্য়ন্ত খাবে| 19 সাতদিন ধরে তোমাদের ঘরে কোন খামির থাকবে না, য়ে কোন ব্যক্তি সে ইস্রায়েলের নাগরিক হোক বা বিদেশী য়ে এই সময় খামির খাবে তাকে ইস্রায়েলের বাকি লোকদের থেকে আলাদা করে দেওয়া হবে| 20 এই ছুটিতে তোমরা অবশ্যই খামির খাবে না, তোমরা যেখানেই থাক না কেন খামিরবিহীন রুটি খাবে|” 21 তাই মোশি ইস্রায়েলীয়দের সমস্ত প্রবীণদের ডেকে বলল, “তোমাদের পরিবারের জন্য মেষশাবক জোগাড় কর এবং নিস্তারপর্বের জন্য মেষশাবকটিকে হত্যা কর| 22 এক আঁটি করে এসোব নিয়ে পাত্রে রাখা রক্তে ডুবিয়ে তা দিয়ে দরজার কাঠামোর ওপর ও পাশের দিক রঙ করো| সকালের আগে কেউ নিজের বাড়ী ত্যাগ করবে না| 23 এই সময়, প্রভু মিশরের ভেতর দিয়ে মিশরীয়দের হত্যা করতে যাবেন| যখন তিনি দরজার কাঠামোর পাশে ও ওপরে রক্তের প্রলেপ দেখবেন, তখন তিনি সেই দরজাগুলোর ওপর দিয়ে যাবেন| প্রভু ধ্বংসকারীকে তোমাদের বাড়ীতে এসে আঘাত করতে দেবেন না| 24 তোমরা অবশ্যই এই আদেশ মনে রাখবে, এই নিয়ম তোমাদের ও তোমাদের উত্তরপুরুষদের জন্য চিরকাল থাকবে| 25 যখন তোমরা প্রভুর প্রতিশ্রুতি মত তাঁর দেওয়া ভূখণ্ডে যাবে তখন তোমাদের এই জিনিসগুলি অবশ্যই মনে রাখতে হবে| 26 যখন তোমাদের সন্তানরা জিজ্ঞাসা করবে, ‘আমরা কেন এই উত্সব করছি?’ 27 তখন তোমরা বলবে, ‘এই নিস্তারপর্ব প্রভুকে সম্মান জানাবার জন্য| কেন? কারণ যখন আমরা মিশরে ছিলাম তখন প্রভু আমাদের ইস্রায়েলবাসীদের বাড়ীগুলিকে নিস্তার দিয়েছিলেন| প্রভু মিশরীয়দের হত্যা করেছিলেন কিন্তু আমাদের লোকদের বাড়ীগুলো রক্ষা করেছিলেন| সুতরাং লোকে নত হয়ে প্রভুর উপাসনা করল|” 28 প্রভু মোশি ও হারোণকে এই আদেশ দিয়েছিলেন তাই ইস্রায়েলবাসী প্রভুর আদেশমতো কাজ করল| 29 মধ্যরাতে মিশরের সমস্ত প্রথম নবজাতক পুত্রদের প্রভু হত্যা করেছিলেন| ফরৌণের প্রথমজাত পুত্র থেকে জেলের বন্দীর প্রথমজাত পুত্র পর্য়ন্ত| সমস্ত পশুর প্রথমজাত শাবককেও হত্যা করা হল| 30 সেই রাতে মিশরের প্রত্যেক ঘরে কেউ না কেউ মারা গেল| ফরৌণ, তার কর্মচারী ও মিশরের সমস্ত লোক উচ্চস্বরে কান্না শুরু করল| 31 তাই, সেই রাতে ফরৌণ মোশি ও হারোণকে ডেকে বললেন, “উঠে পড়, আমাদের সকলকে ছেড়ে দাও এবং চলে যাও| তুমি ও তোমার ইস্রায়েলের লোকরা যা ইচ্ছা তাই করতে পার| তোমরা য়েমন বলেছিলে, গিয়ে প্রভুর উপাসনা কর| 32 তোমাদের চাহিদা মতো সমস্ত গরু ও মেষের দল তোমরা নিয়ে য়েতে পারো| যাও! যখন তোমরা যাবে আমায আশীর্বাদ করার জন্য প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো|” 33 মিশরীয়রা তাদের তাড়াতাড়ি চলে যাবার জন্য মিনতি করল| কেন? কারণ তারা বলল, “তোমরা না চলে গেলে আমরা সকলে মারা যাব!” 34 ইস্রায়েলীয়রা তাদের রুটিতে খামির দেবার সময় পেল না| তারা ভিজে মযদার তালের পাত্র কাপড়ে জড়িয়ে কাঁধে বয়ে নিয়ে চলল| 35 তারপর ইস্রায়েলের লোকরা মোশির কথামতো তাদের মিশরীয় প্রতিবেশীদের কাছে গিয়ে কাপড় ও সোনা রূপার তৈরী জিনিস চাইল| 36 প্রভু মিশরীয়দের ইস্রায়েলীয়দের প্রতি দযালু করে তুললেন যাতে মিশরীয়রা তাদের ধনসইদ ইস্রায়েলবাসীদের হাতে তুলে দেয়! এইভাবে, ইস্রায়েলীয়রা মিশরীয়দের লুন্ঠন করল| 37 ইস্রায়েলের লোকরা রামিষেষ থেকে সুক্কোতে যাত্রা করল| শিশুরা ছাড়াই সেখানে প্রায় 6,00,000 লোক ছিল| 38 সেখানে প্রচুর মেষ, গবাদি পশু এবং জিনিসপত্র ছিল| তাদের সঙ্গে অনেক অ-ইস্রায়েলীয় লোক গিয়েছিল| 39 য়েহেতু তাদের মিশরের বাইরে য়েতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেই হেতু তারা মাখা ময়দায়, য়েটা তারা মিশর থেকে এনেছিল, খামির মেশাবার সময় পাযনি| এবং যাত্রার জন্য কোন বিশেষ খাবার প্রস্তুত করারও সময় হয় নি| তাই তারা খামিরবিহীন রুটিই সেঁকে নিয়েছিল| 40 ইস্রায়েলীয়বাসীরা 430 বছর ধরে মিশরে বাস করেছিল| 41 প্রভুর সৈন্যরা430 বছর পর সেই বিশেষ দিনে মিশর ত্যাগ করেছিল| 42 তাই সেটা ছিল একটি বিশেষ রাত্রি কারণ প্রভু তাদের মিশর থেকে বাইরে বের করে আনার জন্য লক্ষ্য রাখছিলেন| সেইভাবে, সমস্ত ইস্রায়েলবাসীরা প্রভুকে সম্মান জানানোর জন্য চিরকাল এই বিশেষ রাতটির প্রতি লক্ষ্য রাখবে| 43 প্রভু মোশি ও হারোণকে বললেন, “এই হল নিস্তারপর্বের বলির নিয়মাবলী: কোন বিদেশী এই নিস্তারপর্বে আহার করবে না| 44 কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি কোন দাস কেনে এবং তাকে সুন্নত্‌ করায তাহলে সেই দাস নিস্তারপর্ব খেতে পারবে| 45 কিন্তু য়ে লোক তোমার দেশের একজন সাময়িক বাসিন্দা বা ভাড়া করা কর্মী তার নিস্তারপর্ব ভোজ খাওয়া উচিত্‌ নয়| এই নিস্তারপর্ব শুধুমাত্র ইস্রায়েলের লোকদের জন্য| 46 “প্রত্যেক পরিবার একটি বাড়ীতেই আহার করবে| কোনও খাবার বাড়ীর বাইরে যাবে না, মেষ শাবকের কোন হাড় ভাঙ্গবে না| 47 সমস্ত ইস্রায়েল প্রজাতির মানুষ এই উত্সব পালন করবে| 48 যদি ইস্রায়েলীয় ছাড়া অন্য কোন উপজাতির লোক তোমাদের সঙ্গে থাকে এবং তোমাদের খাবারে ভাগ বসাতে চায় তবে তাকে এবং তার পরিবারের প্রত্যেক পুরুষকে সুন্নত্‌ করাতে হবে| তাহলে সে অন্যান্য ইস্রায়েলীয়দের সমকক্ষ হয়ে যাবে এবং তাদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খেতে পারবে| কিন্তু যদি কোন ব্যক্তির সুন্নত্‌ না করানো হয় তবে সে এই খাবার আহার করতে পারবে না| 49 এই নিয়ম সকলের জন্যই প্রযোজ্য| এই নিয়মটি ইস্রায়েলীয় অথবা অ-ইস্রায়েলীয় সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য|” 50 তাই প্রভু মোশি ও হারোণকে যা আদেশ দিয়েছিলেন সমস্ত ইস্রায়েলের লোক তা পালন করল| 51 তাই সেই দিন প্রভু এইভাবে দলে দলে ইস্রায়েলবাসীদের মিশর দেশ থেকে বের করে আনলেন|

যাত্রাপুস্তক 13

1 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, 2 “ইস্রায়েলের প্রতিটি নারীর প্রথমজাত পুত্র সন্তানকে আমার উদ্দেশ্যে দান কর| এমনকি প্রত্যেকটি পশুর প্রথম পুরুষ শাবকটিও আমার হবে|” 3 মোশি লোকদের বলল, “এই দিনটিকে মনে রেখো| তোমরা মিশরের ক্রীতদাস ছিলে| কিন্তু প্রভু তাঁর মহান শক্তি দিয়ে এই দিনে তোমাদের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন| তোমরা খামিরবিহীন রুটি খাবে| 4 আজ আবীব মাসের (বসন্তকালের) এই দিনে তোমরা মিশর ত্যাগ করেছ| 5 প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে কনানীয়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের দেশ তোমাদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন| প্রভু তোমাদের এই বিশাল সম্পদে ভরা শস্য শ্যামল দেশে নিয়ে আসার পর তোমরা অবশ্যই প্রতি বছর প্রথম মাসের এই বিশেষ দিনে উপাসনা করবে| 6 “সাতদিন ধরে তোমরা খামিরবিহীন রুটি খাবে| সাত দিনের দিন ভোজন উত্সব করবে| এই মহাভোজ উত্সব হবে প্রভুকে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে| 7 তাই সাতদিন ধরে তোমরা খামিরবিহীন রুটি খাবে| তোমাদের দেশের কোথাও কোন খামিরবিশিষ্ট রুটি অবশ্যই থাকবে না| 8 সেইদিন তোমরা তোমাদের সন্তানদের বলবে, ‘প্রভু আমাদের মিশর দেশ থেকে উদ্ধার করে এনেছেন বলে আমরা এই মহাভোজ উত্সব পালন করি|” 9 “এই বিশ্রামের দিনটিকে কোনও বিশেষ দিনে হাতে বাঁধা সুতোর মতো তোমাদের মনে রাখা উচিত্‌|মনে রাখবে দুই চোখের মাঝখানে কপালে লাগানো তিলকের মতো| এই ছুটির দিনটি তোমাদের প্রভুর শিক্ষামালাকে মনে রাখতে সাহায্য করবে| এটা তোমাদের সাহায্য করবে প্রভুর মহান শক্তিকে মনে রাখতে যিনি তোমাদের মিশর থেকে মুক্ত করেচেন| 10 সুতরাং প্রতি বছর ছুটির দিনটিকে তোমরা প্রতি বছর সঠিক সময় স্মরণ করবে| 11 “তোমাদের পূর্বপুরুষদের এবং তোমাদের কাছে প্রতিশ্রুতি মতো প্রভু তোমাদের কনানীযদের দেশে নিয়ে যাবেন| কিন্তু প্রভু তোমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন য়ে তোমাদের তিনি এই দেশ দিয়ে দেবেন| ঈশ্বর তোমাদের এই দেশ দেওয়ার পর, 12 তোমরা কিন্তু তাঁকে তোমাদের প্রথম পুত্র সন্তান এবং ভূমিষ্ট হওয়া প্রথম পুরুষ শাবককে প্রভুর উদ্দেশ্যে দান করবে| 13 প্রতিটি গাধার প্রথমজাত পুরুষ শাবককে প্রতিটি মেষ শাবকের বিনিময়ে প্রভুর কাছ থেকে কিনে মুক্ত করে আনতে পারবে| যদি মুক্ত করতে না পারো তাহলে গাধার শাবকটিকে ঘাড় মটকে হত্যা করবে| এবং সেটাই হবে প্রভুর প্রতি নৈবেদ্য| কিন্তু মানুষের প্রথমজাত পুত্র সন্তানদের অবশ্যই প্রভুর কাছ থেকে ফেরত্‌ নিয়ে আসতে হবে| 14 “ভবিষ্যতে তোমাদের সন্তানরা জিজ্ঞাসা করবে, তোমরা এগুলো কেন করলে, ‘এগুলোর মানেই বা কি?’ তখন তোমরা বলবে, ‘আমরা মিশরে দাসত্ব করতাম| কিন্তু প্রভুই তাঁর মহান শক্তি প্রয়োগ করে আমাদের মিশর দেশ থেকে উদ্ধার করে এনেছিলেন| 15 মিশরে ফরৌণ ছিলেন ভীষণ জেদী| তিনি কিছুতেই আমাদের মুক্তি দিচ্ছিলেন না| তাই প্রভু তখন সে দেশের প্রত্যেক প্রথমজাত সন্তানদের হত্যা করেছিলেন| প্রভু মানুষ ও পশু উভয়েরই প্রথমজাত পুরুষ সন্তানদের হত্যা করেছিলেন| সেইজন্যই আমরা সমস্ত প্রথমজাত পুং পশুদের প্রভুর কাছে উত্সর্গ করি এবং প্রভুর কাছ থেকে আমাদের প্রথমজাত পুত্র সন্তানদের কিনে নিই|’ 16 এরই চিহ্ন হিসাবে তোমাদের হাতে সুতো বাঁধ! এবং দুই চোখের মাঝখানে তিলক| যাতে তোমরা মনে রাখতে পার য়ে প্রভু তাঁর পরাক্রম শক্তি প্রযোগ করে আমাদের মিশর দেশ থেকে উদ্ধার করে এনেছেন|” 17 ফরৌণ যখন লোকদের চলে য়েতে দিলেন, ঈশ্বর তাদের পলেষ্টীয় দেশের মধ্যে দিয়ে ভূমধ্যসাগর বরাবর সহজ সমুদ্র পথ ব্যবহার করতে দেন নি, যদিও সো রাস্তা ছিল| ঈশ্বর বলেছিলেন, “ঐ দিক দিয়ে গেলে যুদ্ধ করতে হবে| তখন লোকরা মত পরিবর্তন করে আবার মিশরেই ফিরে য়েতে পারে|” 18 তাই ঈশ্বর তাদের সূফ সাগরের দিকবর্তী মরুভূমির মধ্যে দিয়ে নিয়ে এসেছিলেন| মিশর ত্যাগ করার সময় ইস্রায়েলের লোকরা য়ুদ্ধের পোশাকে নিজেদের সজ্জিত করল| 19 মোশি য়োষেফের অস্থি বয়ে নিয়ে চলল| (য়োষেফ মারা যাবার আগে ইস্রায়েলের পুত্রদের এই কাজ করার প্রতিশ্রুতি করিযে নিয়েছিল| য়োষেফ বলেছিল, “ঈশ্বর তোমাদের যখন রক্ষা করবেন তখন তোমরা মিশর দেশ থেকে আমার অস্থি সকল বয়ে নিয়ে এসো|”) 20 ইস্রায়েলীয়রা সুক্কোত্‌ ছেড়ে এসেছিল এবং এথমে, য়েটা মরুভুমির কাছে ছিল, সেখানে তাঁবু গাড়ল| 21 প্রভু সেই সময় তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে এলেন| সেই যাত্রার সময় প্রভু পথ দেখানোর জন্য দিনের বেলায় লম্বা মেঘ স্তম্ভ এবং রাতের বেলায আগুনের শিখা ব্যবহার করতেন| ঐ আগুনের শিখা রাতের বেলায় তাদের পথ চলার আলো জোগাতো| 22 লম্বা মেঘ স্তম্ভ সারাদিন তাদের সঙ্গে থাকত এবং রাতে থাকত আগুনের শিখা|

যাত্রাপুস্তক 14

1 তারপর প্রভু মোশিকে বললেন, 2 “ওদের বলো, মিগ্দোল এবং সূফ সাগরের মাঝখানে বাল্সফোনের সামনে রাত্রিযাপন করতে| 3 তাহলে ফরৌণ ভাববে য়ে ইস্রায়েলের লোকরা মরুভূমিতে হারিয়ে গেছে| ওদের আর কোথাও যাবার জায়গা নেই| 4 তখন আমি ফরৌণকে সাহসী করে তুলব যাতে সে তোমাদের তাড়া করে| কিন্তু শেষ পর্য়ন্ত আমি ফরৌণ ও তার সেনাদের পরাজিত করব| এটা আমার সম্মান বাড়াবে| এবং মিশরের লোকরা তখন জানতে পারবে য়ে আমিই প্রভু|” ইস্রায়েলের লোকরা ঈশ্বরের কথামতোই কাজ করল| 5 মিশরের রাজা খবর পেলেন য়ে ইস্রায়েলীয়রা পালিয়েছে| এই খবর শুনে ফরৌণ ও তাঁর সভাসদরা আগের মত মন পরিবর্তন করলেন| ফরৌণ বললেন, “আমরা কেন ইস্রায়েলীয়দের য়েতে দিলাম? কেন ওদের পালাতে দিলাম? এখন আমরা আমাদের ক্রীতদাসদের হারালাম|” 6 সুতরাং ফরৌণ তাঁর রথে চড়ে লোকজন সমেত ফিরে গেলেন| 7 ফরৌণ তাঁর সব চেযে ভালো 600 জন সারথীকে নিলেন| প্রত্যেকটি রথে একজন করে বিশিষ্ট সভাসদ ছিল| 8 ইস্রায়েলীয়রা তাদের যুদ্ধ জয়ে উঁচু করা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছিল| কিন্তু মিশরের রাজা ফরৌণ, য়াঁর হৃদয় প্রভুর দ্বারা উদ্ধত হয়েছিল, ইস্রায়েলীয়দের তাড়া করলেন| 9 মিশরীয় সৈন্যরা তাদের তাড়া করল| ফরৌণের সমস্ত অশ্বারোহী, রথারোহী এবং সৈন্য ইস্রায়েলীয়দের ধরে ফেলল যখন তারা সূফ সাগরের কাছে বাল্সফোনের পূর্বে পী-হহীরোতে শিবির করেছিল| 10 ইস্রায়েলের লোকেরা দেখতে পেল ফরৌণ এবং তাঁর সেনারা তাদের দিকে এগিয়ে আসছে| তখন তারা ভয় পেয়ে প্রভুর কাছে সাহায্যের জন্য চিত্কার করে উঠল| 11 তারা মোশিকে বলল, “কেন তুমি আমাদের মিশর থেকে বের করে আনলে? কেন মরার জন্য তুমি আমাদের এই মরুভূমিতে নিয়ে এলে? আমরা অন্ততঃ মিশরে তো শান্তিতে মরতে পারতাম| সেখানে আর কিছু থাক না থাক প্রচুর কবর ছিল| 12 এরকম য়ে ঘটতে পারে তা কিন্তু আমরা আগেই বলেছিলাম| আমরা বলেছিলাম, ‘অনুগ্রহ করে আমাদের বিরক্ত কোরো না| আমাদের এখানেই থাকতে দাও, মিশরীয়দের সেবা করতে দাও|’ এই মরুভূমিতে এসে মরার থেকে মিশরীয়দের দাসত্ব অনেক ভাল ছিল|” 13 কিন্তু মোশি উত্তরে বলল, “ভয় পেয়ে পালিয়ে য়েও না| দেখো, প্রভু কিভাবে আজ তোমাদের রক্ষা করেন| তোমরা আর কোনও দিন মিশরীয়দের দেখতে পাবে না| 14 তোমাদের কিছুই করতে হবে না| শুধু শান্ত হয়ে দেখে যাও কি ঘটছে| প্রভুই তোমাদের হয়ে যুদ্ধ করবেন|” 15 সেই সময় প্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি এখনও কেন আমার সামনে কাঁদছো! ইস্রায়েলীয়দের এগিয়ে য়েতে বলো| 16 যখন তুমি সূফ সাগরের ওপর তোমার হাতের লাঠি তুলে ধরবে সূফ সাগর দুভাগ হয়ে যাবে| তখন লোকরা সমুদ্রের মাঝখানে তৈরি হওয়া সেই শুকনো পথ দিয়ে পায়ে হেঁটে য়েতে পারবে| 17 আমিই মিশরীয়দের সাহসী করে তুলেছি| তাই ওরা তোমাদের তাড়া করছে| কিন্তু আমি তোমাদের দেখাব য়ে আমি ফরৌণ, তার সমস্ত সৈন্য, তার অশ্বারোহীসমূহ এবং সারথীদের চেযে অনেক বেশী শক্তিশালী| 18 তখন মিশরও জানবে য়ে আমিই প্রভু| মিশরীয়রাও আমাকে সম্মান জানাবে যখন আমি ফরৌণ, তার অশ্বারোহীগণ এবং সারথীদের পরাজিত করব|” 19 এরপর প্রভুর দূত, য়ে সামনে থেকে ইস্রায়েলীয়দের নেতৃত্ব দিচ্ছিল, সে ইস্রায়েলীয়দের পিছন দিকে চলে এলো| তাই এক লম্বা মেঘস্তম্ভ মুহুর্তের মধ্যেই লোকদের সামনে থেকে পিছনে চলে এল| 20 এইভাবে ঐ মেঘস্তম্ভ মিশরীয়দের মাঝখানে বিরাজ করতে থাকল| তখন মিশরীয়দের জন্য অন্ধকার থাকলেও ইস্রায়েলীয়দের জন্য আলো ছিল| তাই ঐ রাত্রে মিশরীয়রা ইস্রায়েলীয়দের কাছে আসতে পারল না| 21 মোশি সূফ সাগরের ওপর তার হাত মেলে ধরল| প্রভু পূর্ব দিক থেকে প্রবল ঝড়ের সৃষ্টি করলেন| এই ঝড় সারারাত ধরে চলতে লাগল| দু’ভাগ হয়ে গেল সমুদ্র| এবং বাতাস মাটিকে শুকনো করে দিয়ে সমুদ্রের মাঝখান বরাবর পথের সৃষ্টি করল| 22 ইস্রায়েলের লোকরা ঐ পথ দিয়ে হেঁটে সূফ সাগর পেরিয়ে গেল| তাদের দুদিকে ছিল জলের দেওয়াল| 23 পিছনে ফরৌণের সমস্ত অশ্বারোহী সেনা ও রথ ধাওয়া করল| 24 পরদিন সকালে মেঘস্তম্ভ ও অগ্নিশিখার ওপর থেকে প্রভু মিশরীয় সেনাদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন| তখন প্রভু ইস্রায়েলীয়দের পক্ষ নিয়ে মিশরীয় সৈন্যবাহিনীকে আতঙ্কে ফেলে দিলেন| 25 রথের চাকা আটকে গিয়ে রথ চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়ালো| মিশরীয়রা চিত্কার করে উঠল, “চলো এখান থেকে বেরিয়ে যাই| প্রভুই ইহুদীদের হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন|” 26 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, “সমুদ্রের ওপর তোমার হাত তুলে ধর| দেখবে তীব্র জলোচ্ছ্বাস গ্রাস করছে মিশরীয়দের রথ ও অশ্বারোহী সেনাদের|” 27 মোশি তার হাত সমুদ্রের ওপর মেলে ধরলো| তাই দিনের আলো ফোটার ঠিক আগে সমুদ্র তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গেল| মিশরীয়রা জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচার তাগিদে প্রাণপনে দৌড়তে লাগল| কিন্তু প্রভু তাদের সমুদ্রের জলে ঠেলে দিলেন| 28 জলোচ্ছ্বাস গ্রাস করল রথ ও অশ্বারোহী সেনাদের| ফরৌণের য়ে সমস্ত সেনারা ইস্রায়েলীয়দের তাড়া করে আসছিল তারা সব ধ্বংস হল| কেউ বেঁচে থাকল না| 29 ইস্রায়েলের লোকরা সমুদ্রের মাঝখানে তৈরি হওয়া পথ দিয়ে সূফ সাগর পেরিয়ে গেল| তাদের পথের দুপাশে ছিল জলের দেওয়াল| 30 সুতরাং সেইদিন এইভাবে প্রভু মিশরীয়দের হাত থেকে ইস্রায়েলীয়দের রক্ষা করলেন| পরে ইস্রায়েলীয়রা সূফ সাগরের তীরে মিশরীয়দের মৃত দেহের সারি দেখতে পেল| 31 মিশরীয়দের সেই পরিণতি দেখার পর থেকে ইস্রায়েলের লোকরা প্রভুর শক্তি সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হল| তারা প্রভুকে ভয় ও সম্মান করতে শুরু করল| তারা বিশ্বাস করতে শুরু করল প্রভুকে এবং তাঁর দাস মোশিকে|

যাত্রাপুস্তক 15

1 এরপর মোশি এবং ইস্রায়েলের লোকরা প্রভুর উদ্দেশ্যে এই গানটি গাইল:“আমি প্রভুর উদ্দেশ্যে গান গাইব! তিনি মহান কাজ করেছেন| তিনি ঘোড়া এবং ঘোড়সওয়ারদের সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন| 2 প্রভুই আমার শক্তি| তিনি আমার পরিত্রাতা এবং আমি তাঁর প্রশংসার গান গাইব| প্রভু আমার ঈশ্বর, আমি তাঁর প্রশংসা করব| প্রভু হলেন আমার পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর| এবং আমি তাঁকে সম্মান করব| 3 প্রভু হলেন মহান য়োদ্ধা| তাঁর নাম হল প্রভু| 4 ফরৌণের রথ এবং সেনাদের তিনি সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন| ফরৌণের সেরা সৈন্যরা সূফ সাগরে ডুবে গেছে| 5 জলের গভীরে তারা তলিয়ে গেছে| পাথরের মতো তারা জলে ডুবে গেছে| 6 “প্রভু আপনার ডান হাত অসম্ভব শক্তিশালী| প্রভু আপনার ডান হাত শত্রুবাহিনীকে চুরমার করে দিয়েছে| 7 আপনি আপনার মহান রাজকীয় ঢঙে আপনার বিরুদ্ধাচারীদের ধ্বংস করেছেন| আগুনের শিখা য়েমন করে ঘর পুড়িয়ে দেয়, তেমনি আপনার ক্রোধ তাদের ধ্বংস করে দিয়েছে| 8 আপনার নিঃশ্বাসের একটি সজোর ফুত্কারে জল জমে উঠেছিল| সেই জলোচ্ছ্বাস একটি নিরেট দেওয়ালে পরিণত হয়েছিল এবং সমুদ্রের গভীরতাও ঘন হয়ে উঠেছিল| 9 শত্রুরা বলেছিল, ‘আমি তাদের তাড়া করে ধরে ফেলব| আমি তাদের সমস্ত ধন-সম্পত্তি লুঠ করব| আমি তরবারি ব্যবহার করে সব লুঠ করে নেব| সবকিছু আমার নিজের জন্য নিয়ে যাব|” 10 কিন্তু আপনি আপনার নিঃশ্বাস দিয়ে সমুদ্রকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং তাদের ঢেকে দিয়েছিলেন| তারা সীসার মতো সেই ক্রুদ্ধ সমুদ্রের নীচে চলে গেছে| 11 প্রভুর মতো আর কোনও ঈশ্বর আছে? না! আপনার মতো আর কোনও ঈশ্বর নেই| আপনি অত্যন্ত পবিত্র| আপনি আশ্চর্য়জনক শক্তিশালী| আপনি মহান অলৌকিক ঘটনা ঘটান| 12 আপনি আপনার ডান হাত প্রসারিত করেছিলেন, তাই পৃথিবী তাদের গিলে ফেলেছিল| 13 আপনি আপনার মহান করুণা দিয়ে লোকদের রক্ষা করেছেন| এবং আপনার শক্তি দিয়ে ঐ লোকদের আপনার পবিত্র ও সুন্দর দেশে আপনি নিয়ে এসেছেন| 14 “অন্যান্য দেশ এই কাহিনী শুনে ভয় পাবে| পলেষ্টীয়রা ভয়ে কেঁপে উঠবে| 15 ইদোমের নেতারা ভয়ে কাঁপবে| মোয়াবের নেতারা ভয়ে কাঁপবে| কনানবাসীরা উদ্যম হারাবে| 16 ঐ শক্তিশালী লোকরা যখন আপনার ক্ষমতার প্রমাণ পাবে তখন তারা ভয় পেয়ে যাবে| ওরা পাথরের মতো অনঢ় হয়ে থাকবে যতক্ষণ না আপনার লোকরা চলে যায: হ্যাঁ, হে প্রভু, যতক্ষণ না আপনার লোক, যাদের আপনি কিনেছিলেন চলে যায়| 17 তাদের আপনার পর্বতে নিয়ে যান যেখানে আপনার বাসস্থান এবং সেখানে তাদের স্থাপন করুন| আমার প্রভু, ঐ জায়গাটাই হচ্ছে সেই জায়গা য়েটা আপনি তৈরী করেছেন| পবিত্র স্থান য়েটাকে আপনার হাত প্রতিষ্ঠা করেছে| 18 প্রভু চিরকালের জন্য যুগে যুগে শাসন করবেন|” 19 যখন ফরৌণের সমস্ত ঘোড়া, রথ ও অশ্বারোহী সমুদ্রের নীচে চলে গেল, তখন প্রভু আবার সমুদ্রের জল তাদের ওপর ফেরত্‌ আনলেন| কিন্তু ইস্রায়েলীয়রা সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে শুকনো পথে হেঁটে গিয়েছিল| 20 তারপর হারোণের বোন মরিয়ম, মহিলা ভাববাদিনী, হাতে একটি খঞ্জনী তুলে নিল| মরিয়ম ও তার মহিলা সঙ্গীরা নাচতে ও গাইতে শুরু করল| গানের য়ে কথাগুলো মরিয়ম উচ্চারণ করছিল তা হল: 21 “প্রভুর উদ্দেশ্যে গান কর| তিনি মহান কাজ করেছেন| তিনি ঘোড়া এবং ঘোড়াসওযারীদের সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন|” 22 ইস্রায়েলের লোকদের সূফ সাগর পেরোতে মোশি নেতৃত্ব দিয়েছিল| তিন দিন ধরে শূর মরুভূমি অতিক্রম করতে করতে তারা জলের সন্ধান পেল না| 23 তিন দিন পর তারা মারাতে এসে পৌঁছালো| মারাতে জলের সন্ধান মিললেও সেই জল এত তেঁতো ছিল য়ে তা পানের অয়োগ্য| (এরজন্য এই জায়গার নাম রাখা হয়েছিল মারা বা তিক্ততা|) 24 লোকরা মোশির কাছে এসে নালিশ জানালো| তারা বলল, “এখন আমরা কি পান করব?” 25 মোশি প্রভুর কাছে কেঁদে পড়ল| প্রভু তাকে এক গাছের সন্ধান দিলেন| মোশি সেই গাছ ঐ তেঁতো জলে ডুবোতেই সেই জল সুস্বাদু হয়ে উঠল|ঐ স্থানে প্রভু লোকদের বিচার করে তাদের জন্য একটি আইন প্রণযনও করেছিলেন| প্রভু তাদের বিশ্বাসেরও পরীক্ষা নিলেন| 26 প্রভু বললেন, “তোমরা অবশ্যই তোমাদের প্রভু ঈশ্বরকে মেনে চলবে| তিনি য়েটা সঠিক মনে করবেন সেটাই তোমরা করবে| তোমরা যদি প্রভুর সমস্ত নির্দেশ ও বিধি মেনে চলো তাহলে তোমরা মিশরীয়দের মতো অসুস্থ থাকবে না| আমি প্রভু, তোমাদের মিশরীয়দের মতো অসুস্থ করে তুলব না| আমিই সেই প্রভু যিনি তোমাদের আরোগ্য দান করেছেন|” 27 তারপর লোকরা এলীমে এসে উপস্থিত হল| সেখানে বারোটি জলের ঝর্ণা এবং 70টি তাল গাছ ছিল| তারা সেই জায়গায় জলের ধারে তাদের শিবির তৈরি করল|

যাত্রাপুস্তক 16

1 তারপর ইস্রায়েলের সমস্ত জনমণ্ডলী এলীম ছেড়ে গেল এবং সীনয় মরুভূমিতে এলো য়েটা ছিল এলীম ও সীনয়ের মাঝখানে| মিশর দেশ ছেড়ে আসার দ্বিতীয মাসের 15 দিনের মাথায় তারা সেখানে পৌঁছলো| 2 তারপর ইস্রায়েলের সমস্ত জনমণ্ডলী মরুভূমিতে মোশি ও হারোণের কাছে নালিশ করল| 3 এইসব লোকরা বলল, “প্রভু যদি আমাদের মিশর দেশে মেরে ফেলতেন তাহলেও ভাল ছিল| অন্ততঃ সেখানে তো খাবার পেতাম| আমাদের ইচ্ছামতো খাবার সেখানে মজুত ছিল| কিন্তু এখন তোমরা আমাদের এই মরুভূমিতে এনে ফেললে| এখানে তো আমরা খাবারের অভাবেই মারা যাব|” 4 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, “আমি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে খাবার ফেলবার ব্যবস্থা করব| সেই খাবার তোমাদের খাবার য়োগ্য হবে| লোকরা প্রতিদিন বাইরে বেরিয়ে এসে তাদের প্রযোজনমতো সারাদিনের খাবার কুড়িয়ে নিয়ে আসবে| আমি যা বলছি তোমরা তা করছ কিনা শুধু তা দেখার জন্যই আমি এটা করব| 5 প্রত্যেকদিন তারা কেবলমাত্র একদিনের মতো পর্য়াপ্ত খাবার সংগ্রহ করবে| কিন্তু শুক্রবার যখন তারা খাবার তৈরি করবে, তখন তারা দেখবে য়ে দুদিনের মত পর্য়াপ্ত খাবার সঞ্চিত আছে|” 6 মোশি এবং হারোণ ইস্রায়েলের লোকদের বলল, “রাতে তোমরা প্রভুর শক্তির প্রমাণ পাবে| তোমরা জানবে য়ে তিনিই তোমাদের মিশর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন| 7 তোমরা প্রভুর কাছে নালিশ জানিয়েছো এবং তিনি তা শুনেছেন| তাই আগামীকাল সকালে তোমরা প্রভুর মহিমা স্বচক্ষে দেখতে পাবে| তোমরা আমাদের কাছে কেবল নালিশই জানিয়ে যাচ্ছ| এখন কি আমরা খানিকটা বিশ্রাম পেতে পারি?” 8 এবং মোশি বলল, “তোমরা নালিশ জানিয়েছ এবং প্রভু তোমাদের অভিযোগ শুনেছেন| তাই আজ রাতে প্রভু তোমাদের মাংস দেবেন| এবং কাল সকালের মধ্যে তোমরা তোমাদের চাহিদা মতো রুটিও পেয়ে যাবে| তোমরা আমার কাছে এবং হারোণের কাছেও নালিশ জানিয়ে এসেছ| কিন্তু আমরা এখন দুজনে কিছু সমযের জন্য বিশ্রাম নিতে পারব বলে মনে হয়| মনে রেখো, তোমরা আমার বিরুদ্ধে কিংবা হারোণের বিরুদ্ধে নালিশ জানাও নি, তোমরা বয়ং প্রভুর বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছ|” 9 তারপর মোশি হারোণকে বলল, “ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের বলো, ‘প্রভুর সামনে উপস্থিত হতে|’ কারণ প্রভু তোমাদের নালিশ শুনেছেন|”‘ 10 হারোণ ইস্রায়েলের সমস্ত লোকদের সে কথা বলল| তখন তারা সবাই একসঙ্গে এক জায়গায় এসে জড়ো হল| হারোণ যখন সবার সঙ্গে কথা বলছিল তখন সবাই পিছন ফিরে মরুভূমির দিকে তাকিয়ে দেখতে থাকল মেঘের ভিতর দিয়ে প্রভুর মহিমা প্রকাশিত হচ্ছে| 11 প্রভু মোশিকে বললেন, 12 “আমি ইস্রায়েলের লোকদের নালিশ শুনেছি| সুতরাং ওদের বলো, ‘আজ রাতে তোমরা মাংস খেতে পারো এবং সকালে তোমরা যতখুশি রুটি খেতে পারো| তখন তোমরা বুঝবে য়ে তোমরা তোমাদের প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরকে, বিশ্বাস করতে পার|” 13 রাতে, তিতির পাখীরা এসেছিল এবং শিবিরের চারপাশে বসেছিল| লোকরা সেই পাখীগুলোকে ধরে তার মাংস খেল| সকালে শিবিরের চারপাশে শিশির পড়েছিল| 14 শিশির শুকিয়ে গেলে তুষার কণার সরু স্তরের মতো একটি বস্তু মাটিতে পড়ে থাকল| 15 তা দেখে ইস্রায়েলবাসীরা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করল, “এটা আবার কি জিনিস?”তারা জানত না সেটা কি| তাই তারা একে অপরকে কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করছিল| তখন মোশি তাদের বলল, “এটা এক ধরণের খাদ্যবস্তু যা প্রভু তোমাদের খাবার জন্য দিয়েছেন| 16 প্রভু বলেছেন, ‘প্রত্যেকেই তার প্রয়োজন মতো এটা কুড়িযে নেবে| এবং প্রত্যেককে তার পরিবারের প্রত্যেকের জন্য অন্ততঃ দু’পোযা করে নিতে হবে|”‘ 17 একথা শুনে ইস্রায়েলবাসীরা প্রত্যেকে ঐ খাদ্যবস্তু কুড়িয়ে নিল, কেউ কেউ আবার অন্যদের থেকে বেশী কুড়ালো| 18 পরে ওজনে দেখা গেল য়ে যারা বেশী সংগ্রহ করেছিল তাদের কাছে অতিরিক্ত পরিমাণ ছিল না এবং যারা কম সংগ্রহ করতে পেরেছিল তাদেরও খাবারে কম পড়ে নি| প্রত্যেকের পরিবারই পর্য়াপ্ত পরিমাণে খাবার পেল| 19 মোশি তাদের বলল, “পরের দিনের জন্য ঐ খাবার মজুত করে রেখো না|” 20 কিন্তু কয়েকজন মোশির কথা না শুনে পরের দিনের জন্য ঐ খাবার রেখে দিল| কিন্তু মজুত করা খাবারগুলোয় পোকা ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে গেল| তাই মোশি ঐসব লোকদের ওপর ক্রুদ্ধ হল| 21 প্রতিদিন সকালে প্রত্যেকে ঐ খাবার পর্য়াপ্ত পরিমাণে জমা করত| কিন্তু দুপুরের মধ্যে ঐ খাদ্যবস্তু গলে উধাও হয়ে য়েত| 22 শুক্রবারে লোকগুলো দ্বিগুণ খাবার জমা করত| তারা মাথা পিছু দু’পোয়া করে খাবার জমা করত| তাই দেখে বিভিন্ন দলের নেতারা এসে মোশিকে তা জানাল| 23 মোশি তখন তাদের বলল, “প্রভুই ওদের বলেছিলেন এটা করতে| কারণ আগামীকাল হল প্রভুকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য বিশেষ বিশ্রামের দিন| তোমরা আজ সব খাবার রান্না করে আজকে খাবার পরে অবশিষ্ট খাবার কালকের জন্য মজুত করে রাখতে পারো|” 24 মোশির আদেশমত, লোকরা সেদিনকার অতিরিক্ত খাবার পরের দিনের জন্য সঞ্চয় করে রেখে দিল| কিন্তু ঐ খাবার এতটুকু নষ্ট হল না| তার মধ্যে একটাও পোকা ছিল না| 25 শনিবার মোশি লোকদের বলল, “আজ হল প্রভুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বিশেষ বিশ্রামের দিন| তাই আজ আর কেউ তোমরা মাঠে যাবে না| গতকালের মজুত করা খাবার আজ খাবে| 26 সপ্তাহের বাকি ছয় দিন খাবার সংগ্রহ করলেও প্রতি সাত দিনের দিন হবে বিশ্রামের দিন| তাই বিশ্রামের দিনে মাঠে কোনও খাবার পাওয়া যাবে না|” 27 একথা বলা সত্ত্বেও শনিবার কয়েকজন খাবারের সন্ধানে বাইরে গেল| কিন্তু দেখল কোনও খাবার মাঠে পড়ে নেই| 28 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, “আর কতদিন এই লোকরা আমার নির্দেশ ও শিক্ষাকে অমান্য করবে? 29 দেখ, প্রভু এই বিশ্রামের দিনটি তোমাদের অবসরের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন| তাই প্রভু শুক্রবার তোমাদের দুদিনের জন্য পর্য়াপ্ত খাবার দিয়ে দেন| সুতরাং য়ে যেখানেই থাকো না কেন শনিবার বিশ্রামের দিনে তোমরা সকলে বিশ্রাম নেবে ও আরাম করবে|” 30 তাই লোকজন প্রভুর কথামতো বিশ্রামের দিনে আরাম করতে লাগল| 31 ইস্রায়েলের লোকেরা ঐ খাদ্যবস্তুর নাম দিল “মান্না|” মান্নাকে দেখতে সাদা রঙের ধনে বীজের মতো হলেও এর স্বাদ অনেকটা মধু দিয়ে তৈরী করা পিঠের মতো| 32 মোশি বলল, “প্রভু বলেছেন: “পরবর্তী উত্তরপুরুষের জন্য তোমাদের দু’পোয়া করে মান্না সঞ্চয় করে রাখতে হবে| তাহলে পরে তারা দেখতে পাবে এই বিশেষ খাবার যা আমি তোমাদের মিশর দেশ থেকে উদ্ধার করে এনে মরুভূমিতে দিয়েছি|”‘ 33 তাই মোশি হারোণকে বলল, “একটা পাত্র নাও এবং তাতে দু’পোয়া মান্না রাখো| প্রভুর সামনে আমাদের উত্তর পুরুষদের জন্য এই মান্না রাখো|” 34 মোশির প্রতি প্রভুর নির্দেশ মতো হারোণ একটি পাত্রে মান্না ভরল এবং সাক্ষ্য সিন্দুকের ভেতর রাখল| 35 ইস্রায়েলীয়রা 40 বছর ধরে মান্না খেযেছিল| কনান দেশের সীমান্তে এসে না পৌঁছানো পর্য়ন্ত তারা মান্না খেযেছিল| 36 (মান্না মাপা হত পোযা হিসেবে| এক পোযা হল 8 কাপের সমান|)

যাত্রাপুস্তক 17

1 সমস্ত ইস্রায়েলীয়রা একসঙ্গে সীন মরুভূমি থেকে তাদের যাত্রা শুরু করল| প্রভু য়েমনভাবে তাদের নেতৃত্ব দিলেন তারা সেইভাবে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় য়েতে শুরু করল| ঘুরতে ঘুরতে তারা রফীদীমে গিয়ে শিবির স্থাপন করল| সেখানে কোনও পানীয় জল ছিল না| 2 তাই ঐসব লোকরা আবার মোশির সঙ্গে তর্ক শুরু করল এবং বলল, “আমাদের পানীয় জল দাও|”মোশি তাদের বলল, “তোমরা কেন আমার বিরোধিতা করছো? কেনই বা তোমরা প্রভুকে পরীক্ষা করছো?” 3 কিন্তু লোকরা তখন প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত ছিল| তাই তারা পুনরায় মোশির কাছে নালিশ জানাতে শুরু করল| তারা বলল, “কেন তুমি আমাদের মিশর থেকে বের করে আনলে? তুমি কি আমাদের, আমাদের সন্তানদের এবং গবাদি পশুদের পানীয় জলের অভাবে মারার জন্য মিশর থেকে বের করে নিয়ে এসেছো?” 4 তারপর মোশি প্রভুর কাছে কেঁদে পড়ল এবং বলল, “আমি এদের নিয়ে কি করি? যদি এখুনি কিছু না করা যায তাহলে এরা তো সত্যি সত্যি আমাকে পাথর দিয়ে মেরে ফেলবে|” 5 প্রভু মোশিকে বললেন, “কিছু প্রবীণ নেতাদের নিয়ে ইস্রায়েলের লোকের সামনে গিয়ে দাঁড়াও| সঙ্গে তোমার পথ চলার লাঠিকেও নেবে য়ে লাঠি দিয়ে তুমি নীল নদে আঘাত করেছিলে| 6 আমি তোমার সামনে হোরেব পর্বতের (সীনয় পর্বত) ওপর দাঁড়াব| পথ চলার লাঠি দিয়ে ঐ পাথরে আঘাত করো আর তখনই দেখবে পাথর থেকে জল বেরিয়ে আসছে| ঐ জল লোকরা পান করতে পারবে|”মোশি তাই করল এবং ইস্রায়েলের প্রবীণ নেতারাও তা স্বচক্ষে দেখতে পেল| 7 মোশি ঐ স্থানের নাম দিল মঃসা ও মরীবা, কারণ ঐ স্থানেই ইস্রায়েলের লোকরা তার বিরোধিতা এবং ঈশ্বরের পরীক্ষা নিয়েছিল| লোকজন চেযেছিল প্রভু তাদের সঙ্গে আছেন কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে| 8 সেই সময় অমালেক গোষ্ঠীর লোকরা এল এবং রফীদীমে ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গে যুদ্ধ বাধিয়ে দিল| 9 তখন মোশি যিহোশূয়কে বলল, “কিছু লোককে বেছে নিয়ে আগামীকাল থেকে অমালেকদের সঙ্গে যুদ্ধ করো| আমি তোমাকে পথ চলার লাঠি য়েটাতে ঈশ্বরের পরাক্রম বিদ্যমান, সেইটা নিয়ে পাহাড়ের ওপর থেকে লক্ষ্য করব|” 10 পরদিন যিহোশূয় মোশির আদেশ মেনে যুদ্ধ করতে গেল| একই সমযে মোশি, হারোণ এবং হূর পাহাড়ের চূড়ায় উঠল| 11 যতক্ষণ পর্য়ন্ত মোশি তার হাত তুলে রইল, ইস্রায়েলীয়রা যুদ্ধ জিতছিল, যখন সে তার হাত নামিয়েছিল তখন তারা হেরে যাচ্ছিল| 12 কিছু সময় পরে হাত তুলে থাকতে থাকতে মোশি ক্লান্ত হয়ে উঠল| তখন হারোণ ও হূর একটা বিশাল পাথরে মোশিকে বসিযে তারা উভয়ে মোশির দুদিকে গিয়ে তার হাত তুলে ধরল| সূর্য় না ডোবা পর্য়ন্ত তারা এইভাবেই মোশির হাত দুটোকে তুলে ধরে রইল| 13 আর যিহোশূয় অমালেকদের যুদ্ধে পরাজিত করল| 14 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, “এই যুদ্ধ নিয়ে একটা বই লেখ যাতে লোকরা মনে রাখে এখানে কি ঘটেছিল এবং য়িহোশূযের কাছে এটা জোরে পড়ে শোনাও যাতে সে জানতে পারে য়ে আমি অমালেকদের এই পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দেব|” 15 এরপর মোশি একটি বেদী তৈরী করল| সেই বেদীর নাম হল “প্রভুই আমার পতাকা|” 16 মোশি বলল, “আমি প্রভুর সিংহাসনের দিকে হাত বাড়িযে ছিলাম বলেই প্রভু অমালেকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, য়েমন তিনি সর্বদা করেন|”

যাত্রাপুস্তক 18

1 মোশির শ্বশুর যিথ্রো ছিল মিদিয়নীয়র যাজক| ঈশ্বর য়ে একাধিকভাবে মোশিকে এবং ইস্রায়েলের লোকদের সাহায্য করেছেন তা সে শুনেছিল| য়িথ্রো শুনেছিল য়ে প্রভু ইস্রায়েলীয়দের মিশর থেকে বের করে এনেছেন| 2 তাই য়িথ্রো মোশির স্ত্রী সিপ্পোরাকে নিল এবং মোশির সঙ্গে দেখা করতে গেল| মোশি তখন ঈশ্বরের পর্বতের কাছে শিবির করে রযেছে| মোশির স্ত্রী সিপপোরা তখন বাপের বাড়ীতে থাকত কারণ মোশিই তার স্ত্রীকে বাপের বাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছিল| 3 যিথ্রো তার সঙ্গে শুধু মোশির স্ত্রীকেই নয়, মোশির দুই পুত্রকেও নিয়ে গিয়েছিল| প্রথম পুত্রের নাম গের্শোন কারণ সে যখন জন্মায় তখন মোশি বলেছিল, “আমি পরদেশে প্রবাসী|” 4 দ্বিতীয পুত্রের নাম ইলীয়েষর| নামকরণের কারণ হিসেবে দ্বিতীয় পুত্রের জন্মের সময় মোশি বলেছিল, “আমার পিতার ঈশ্বর, আমাকে সাহায্য করেছেন এবং ফরৌণের তরবারি থেকে রক্ষা করেছেন|” 5 য়িথ্রো মোশির স্ত্রী ও দুই পুত্রকে নিয়ে মোশির শিবিরে পৌঁছালো| মোশি তখন ঈশ্বরের পর্বতের কাছে মরুভূমিতে শিবিরে ছিল| 6 যিথ্রো মোশির উদ্দেশ্যে একটি বার্তায় বলে পাঠাল, “আমি তোমার শ্বশুর যিথ্রো| আমি তোমার স্ত্রী ও দুই পুত্রকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি|” 7 তখন মোশি তাঁবু থেকে বেরিয়ে এসে শ্বশুরকে হাঁটু গেড়ে প্রণাম ও চুম্বন করল| দুজনে দুজনের শরীর ও স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিয়ে মোশির তাঁবুতে প্রবেশ করল| 8 ইস্রায়েলের লোকদের জন্য প্রভু যা যা করেছেন মোশি তা বিস্তারিতভাবে যিথ্রোকে বলল| মোশি জানাল, প্রভু ফরৌণ ও মিশরের লোকদের কি অবস্থা করেছেন| যাত্রাপথে য়ে সমস্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল সে সমস্ত সমস্যার কথাও সে বলল| প্রত্যেকটি সমস্যার ক্ষেত্রে প্রভু কিভাবে ইস্রায়েলের লোকদের রক্ষা করেছেন তাও সে শ্বশুরকে খুলে বলল| 9 মিশরীয়দের হাত থেকে ইস্রায়েলীয়দের উদ্ধার করবার সময় প্রভু তাদের জন্য য়ে সমস্ত ভাল কাজগুলি করেছিলেন সে সম্বন্ধে শুনে য়িথ্রো খুশী হল| 10 য়িথ্রো বলল,“প্রভুর প্রশংসা করো! তিনিই তোমাদের মিশরীয়দের কবল থেকে মুক্ত করেছেন| ফরৌণের হাত থেকেও প্রভু তোমাদের রক্ষা করেছেন| 11 এখন আমি জানি সকল দেবতার থেকে প্রভুই মহান! তারা ভাবত তারাই একমাত্র ক্ষমতার অধিকারী কিন্তু দেখ ঈশ্বর কি করে দেখালেন!” 12 মোশির শ্বশুর যিথ্রো ঈশ্বরের প্রতি সম্মানার্থে নৈবেদ্য ও বলি দিল| তখন হারোণ ও ইস্রায়েলের অন্যান্য প্রবীণ নেতারা এসে ঈশ্বরের সামনে মোশি ও য়িথ্রোর সঙ্গে একসঙ্গে আহার করল| 13 পরদিন মোশি লোকদের বিচার করতে বসল| বিচার সভায় এত লোক হয়েছিল য়ে সবাইকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্য়ন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হল| 14 মোশিকে লোকদের বিচার করতে দেখে য়িথ্রো তাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কেন একা বিচারকের দায়িত্ব পালন করছো? এবং সবাই সারাদিন ধরে কেনই বা শুধু তোমার কাছেই আসছে?” 15 তখন মোশি তার শ্বশুরকে বলল, “লোকরা আমার কাছে ঈশ্বরের সিদ্ধান্ত জানতে আসে| 16 যখন মানুষদের মধ্যে কোন বিবাদ তৈরী হয় তখন তারা আমার কাছে আসে| আমিই ঠিক করে দিই কে সঠিক আর কে বেঠিক| এই উপায়ে আমি মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের বিধি ও শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিই|” 17 কিন্তু মোশির শ্বশুর তাকে বলল, “এটাই ঐ কাজের সঠিক উপায় নয়| 18 এটা তোমার একার কাজ নয়| তুমি একা এই কাজ করতে পারবে না| এভাবে তুমিও উদ্যম হারাবে এবং লোকরাও ক্লান্ত হয়ে পড়বে! 19 এখন মন দিয়ে আমার কথা শোন| আমার কিছু উপদেশ গ্রহণ করো| এবং আমি প্রার্থনা করি ঈশ্বর য়েন সর্বদা তোমার সঙ্গে থাকেন| তুমি সর্বদা লোকদের সমস্যা শুনে যাবে এবং সেগুলো নিয়ে তুমি সর্বদা ঈশ্বরের কাছে বলবে| 20 তুমি ঈশ্বরের বিধি ও শিক্ষামালাকে লোকদের মধ্যে জাগিয়ে তুলবে| তাদের বলবে তারা য়েন ঈশ্বর প্রদত্ত বিধিকে না ভাঙ্গে| তাদের বলবে সঠিক পথে চলতে| তাদের কি করা উচিত্‌ তাও বলে দেবে| 21 কিন্তু তোমাকে কিছু মানুষকে বিচারক হিসাবে এবং নেতা হিসেবে নির্বাচন করতে হবে|“কিছু ভাল মানুষ যাদের তুমি বিশ্বাস করতে পারো তাদের নির্বাচন করো - তারা ঈশ্বরকে সম্মান করবে| তাদেরই নির্বাচন করবে যারা অর্থের জন্য নিজেদের সিদ্ধান্ত বদল করবে না এবং এদের মানুষদের শাসক হিসাবে তৈরি করো| 1,000 জন প্রতি, 100 জন প্রতি, 50 জন প্রতি এবং 10 জন প্রতি শাসক মনোনীত করো| 22 এবার ঐ লোকেদের শাসনের ভার এই শাসকদের হাতে ছেড়ে দাও| যদি কোনও গুরুত্বপূর্ণ মামলা থাকে তাহলে সেই শাসকরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তোমার কাছে আসবে| কিন্তু সাধারণ মামলার সিদ্ধান্তগুলি অবশ্য তারা নিজেরাই করে নেবে| এইভাবে তোমার বেশ কিছু কাজের ভার তারা বহন করবে এবং তার ফলে লোকদের নেতৃত্ব দিতে তোমারও সুবিধা হবে| 23 যদি তুমি এভাবে এগোতে পারো, আর ঈশ্বর যদি চান তাহলে তুমি তোমার দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে এবং একইভাবে লোকরাও তাদের সমস্যার সমাধান করে ঘরে ফিরে য়েতে পারবে|” 24 যিথ্রো যা বলল মোশি তাই করল| 25 ইস্রায়েলের লোকদের থেকে কিছু ভাল লোককে সে মনোনীত করল| তারপর সে তাদের নেতা হিসেবে তুলে ধরল| মোশি প্রতি 1,000 জনের জন্য, প্রতি 100 জনের জন্য, প্রতি 50 জনের জন্য, এবং প্রতি 10 জনের জন্য শাসক নিযুক্ত করল| 26 এরপর থেকে সেই প্রধানরাই সাধারণ লোকদের শাসন করতে শুরু করল| লোকদের মধ্যে বিবাদ দেখা দিলে তারা নিজের নিজের অঞ্চলের নির্দিষ্ট প্রধানের কাছে য়েতে লাগল সমস্যা সমাধানের জন্য| কেবলমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কোন সমস্যা বা মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হত মোশিকে| 27 কিছুদিন পর মোশি তার শ্বশুর যিথ্রোকে বিদায় জানাল এবং যিথ্রো তার দেশে ফিরে গেল|

যাত্রাপুস্তক 19

1 মিশর ছেড়ে এসে যখন ইস্রায়েলেরে লোকরা ভ্রমণ করছিল তখন সেই ভ্রাম্যমান অবস্থার তৃতীয় মাসে ইস্রায়েলের লোকরা সীনয় মরুভূমিতে পৌঁছোল| 2 তারা রফীদীম থেকে সীনয় পর্য়ন্ত ভ্রমণ করেছিল এবং পর্বতের কাছে তাঁবু ফেলেছিল| 3 তারপর মোশি পর্বতে উঠল ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাত্‌ করার উদ্দেশ্যে| সেই পর্বতে ঈশ্বর মোশিকে ডেকে বললেন, “ইস্রায়েলের লোকজন ও মহান যাকোব পরিবারের লোকজনকে একথাগুলি বলো: 4 তোমরা নিজেরাই দেখেছ আমি মিশরীয়দের কি অবস্থা করেছি| তোমরা দেখেছো আমি কিভাবে ঈগল পাখীর মতো মিশর থেকে তোমাদের বের করে আমার কাছে এখানে নিয়ে এসেছি| 5 তাই এখন আমি তোমাদের আমার নির্দেশগুলো মেনে চলতে বলছি| আমার চুক্তি পালন করো| তোমরা যদি তা করো তাহলে তোমরা হবে আমার বিশেষ লোক| এই পুরো পৃথিবীটাই আমার; কিন্তু আমি তোমাদের আমার বিশেষ লোক হিসেবে মনোনীত করেছি| 6 তোমরা যাজকদের একটি বিশেষ রাজ্য় হবে| মোশি তুমি কিন্তু আমি যা বলেছি তা ইস্রায়েলের লোকেদের অবশ্যই বলবে|” 7 তাই মোশি আবার পর্বত থেকে নীচে নেমে এসে ইস্রায়েলের প্রবীণ লোকদের প্রভুর সমস্ত নির্দেশ জানাল| 8 তারা সবাই সমস্বরে জানাল, “প্রভুর সব কথা আমরা মেনে চলব|”তখন মোশি প্রভুকে বলল য়ে প্রত্যেকেই তাঁকে মেনে চলবে| 9 এবং প্রভু মোশিকে বললেন, “ঘন মেঘের মধ্যে দিয়ে আমি তোমার কাছে আসব এবং তোমার সঙ্গে কথা বলব| এবং তোমার সঙ্গে আমার বাক্যলাপ প্রত্যেকটি লোক শুনতে পাবে| লোকদের কাছে তোমার বিশ্বাসয়োগ্যতা বাড়ানোর জন্যই আমি এই উপায়ে তোমার সঙ্গে কথা বলব|”তখন মোশি লোকদের যাবতীয় বক্তব্য ঈশ্বরকে জানাল| 10 এবং প্রভু মোশিকে বললেন, “আজ এবং আগামীকাল তুমি একটা বিশেষ সভার জন্য লোকদের প্রস্তুত করো| তাদের অবশ্যই তাদের পোশাক ধুয়ে নিতে হবে| 11 এবং তৃতীয় দিনে আমার জন্য তৈরী থাকতে হবে| তৃতীয় দিনে আমি সীনয় পর্বত থেকে নীচে নেমে আসব এবং প্রত্যেকটি মানুষ আমার দর্শন পাবে| 12 কিন্তু তুমি প্রত্যেককে বলবে পর্বত থেকে দূরে সরে থাকতে| একটি রেখা টেনে সেই রেখা ওদের পার হতে বারণ করবে| কোন লোক বা প্রাণী যদি পর্বতকে স্পর্শ করে তাহলে তার মৃত্য়ু হবে| তাকে অবশ্যই পাথর দিয়ে অথবা তীর বিদ্ধ করে মেরে ফেলতে হবে| তাকে কেউ ছোঁবে না| শিঙা বেজে না ওঠা পর্য়ন্ত প্রত্যেকে অপেক্ষা করবে| তারপর তারা পর্বতে উঠতে পারবে|” 13 14 সুতরাং মোশি পর্বত থেকে নীচে নেমে এসে লোকদের বিশেষ সভার জন্য প্রস্তুত করল| লোকরা তাদের পোশাক পরিষ্কার করে নিল| 15 তখন মোশি লোকদের বলল, “তৃতীয় দিনে ঈশ্বরের সঙ্গে বিশেষ সভার জন্য প্রস্তুত হও| ঐদিন পর্য়ন্ত কোন পুরুষ নারীকে স্পর্শ করবে না|” 16 তৃতীয় দিন সকালে, পর্বতের চূড়া থেকে ঘন মেঘ নীচে নেমে এল| মেঘ গর্জন ও বিদ্য়ুত্‌ রেখায় উচ্চস্বরে শিঙা বেজে উঠল| শিবিরের প্রত্যেকে ভয় পেয়ে গেল| 17 তখন মোশি সবাইকে শিবির থেকে বের করে পর্বতের কাছে ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নিয়ে এল| 18 সীনয় পর্বত ধোঁয়ায ঢেকে গেল| চূল্লীর মতো ধোঁয়া পাকিযে পাকিযে ওপরে উঠতে লাগল| সমস্ত পর্বত কাঁপতে শুরু করল| আগুনের শিখায় প্রভু পর্বত থেকে নীচে নেমে এলেন বলেই এই ঘটনা ঘটল| 19 শিঙার শব্দ ক্রমশঃ জোরালো হতে থাকল| মোশি যতবার ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলল ততবারই বজ্রের মতো কঠিন স্বরে ঈশ্বর উত্তর দিতে থাকলেন| 20 প্রভু সীনয় পর্বতে নেমে এলেন| এরপর প্রভু মোশিকে পর্বত শৃঙ্গে তাঁর কাছে য়েতে বললেন| তখন মোশি পর্বতে চড়ল| 21 প্রভু মোশিকে বললেন, “নীচে গিয়ে লোকদের বলো ওরা য়েন আমার কাছে না আসে| আমাকে য়েন না দেখে| যদি তা করে তাহলে অনেকে মারা পড়বে| 22 আর য়ে সকল যাজক আমার কাছে আসবে তাদের বলো তারা য়েন এই বিশেষ সভার জন্য নিজেদের তৈরি করে আসে| যদি তারা তা না করে তাহলে আমি তাদের শাস্তি দেব|” 23 মোশি প্রভুকে বলল, “কিন্তু লোকে পর্বতে চড়তে পারবে না| কারণ আপনিই তো বলেছিলেন একটি রেখা টানতে এবং সেই রেখা লঙঘন করে কেউ য়েন পবিত্র ভূমিতে না আসে|” 24 প্রভু তাকে বললেন, “নীচে মানুষের কাছে যাও| গিয়ে হারোণকে তোমার সঙ্গে নিয়ে এসো| কিন্তু কোন সাধারণ মানুষ ও যাজককে আমার কাছে আসতে দিও না| যদি তারা আমার খুব কাছে আসে তাহলে আমি তাদের শাস্তি দেব|” 25 সুতরাং মোশি লোকদের এই কথাগুলি বলার জন্য নীচে নামল|

যাত্রাপুস্তক 20

1 তখন ঈশ্বর এই সব কথা বললেন: 2 “আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| আমিই তোমাদের মিশরের দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছি| তাই তোমরা এই নির্দেশগুলি মানবে: 3 “আমাকে ছাড়া তোমরা আর কোনও দেবতাকে উপাসনা করবে না| 4 “তোমরা অবশ্যই অন্য কোন মূর্তি গড়বে না য়েগুলো আকাশের, ভূমির অথবা জলের নীচের কোন প্রাণীর মত দেখতে| 5 কোন মূর্ত্তির উপাসনা বা সেবা করবে না| কারণ, আমিই প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর| যারা অন্য দেবতার উপাসনা করবে তাদের আমি ঘৃণা করি| আমার বিরুদ্ধে যারা পাপ করবে তারা আমার শত্রুতে পরিণত হবে| এবং আমি তাদের শাস্তি দেব| আমি তাদের সন্তানসন্ততি এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও শাস্তি দেব| 6 কিন্তু যারা আমায ভালবাসবে ও আমার নির্দেশ মান্য করবে তাদের প্রতি আমি সর্বদা দযালু থাকব| আমি তাদের হাজার প্রজন্ম পর্য়ন্ত দযা প্রদর্শন করব|” 7 “তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের নাম ভুল ভাবে ব্যবহার করবে না| যদি কেউ তা করে তাহলে সে দোষী এবং প্রভু তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করবেন না| 8 “বিশ্রামের দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে মনে রাখবে| 9 সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করো| 10 কিন্তু সপ্তমদিনটি হবে অবসরের| প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের প্রতি সম্মান প্রর্দশনের দিন| সুতরাং সেই দিনে কেউ কাজ করবে না-তুমি নয়, অথবা তোমার ছেলেরা এবং মেয়েরা, অথবা তোমার স্ত্রী, অথবা তোমার ক্রীতদাস-দাসীরা কেউ নয়| এমনকি তোমাদের গৃহপালিত পশু এবং তোমাদের শহরে বাস করা বিদেশীরাও বিশ্রামের দিনে কোন কাজ করবে না| 11 কারণ প্রভু সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে এই আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছু বানিয়েছেন এবং সপ্তমদিনে তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন| এইভাবে বিশ্রামের দিনটি প্রভুর আশীর্বাদ ধন্য - ছুটির দিন| প্রভু এই দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে সৃষ্টি করেছেন| 12 “তুমি অবশ্যই তোমার পিতামাতাকে সম্মান করবে, তাহলে তোমরা তোমাদের দেশে দীর্ঘ জীবনযাপন করবে| য়েটা প্রভু, তোমাদের ঈশ্বর তোমাদের দিচ্ছেন| 13 “কাউকে হত্যা কোরো না| 14 “ব্যাভিচার কোরো না| 15 “চুরি কোরো না| 16 “অন্যদের সম্বন্ধে মিথ্যা বোলো না| 17 “তোমাদের প্রতিবেশীর ঘরবাড়ীর প্রতি লোভ কোরো না| তার স্ত্রীকে ভোগ করতে চেও না| এবং তার দাস-দাসী, গবাদি পশু অথবা গাধাদের আত্মসাত্‌ করতে চেও না| অন্যদের কোন কিছুর প্রতি লোভ কোরো না|” 18 ঐ সমযে, লোকজন বজ্র নির্ঘোষ শুনতে পেল এবং বিদ্য়ুত্‌ দেখতে পেল| তারা শিঙার শব্দ শুনতে পেল এবং দেখল ধোঁয়া ওপর দিকে উঠছে| এই দেখে লোকরা ভয়ে কুঁকড়ে গেল| পর্বত থেকে দূরে দাঁড়িয়ে তারা এই ঘটনা দেখতে লাগল| 19 তখন লোকরা মোশিকে বলল, “তুমি যদি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাও তাহলে তা আমরা শুনব| কিন্তু ঈশ্বর য়েন আমাদের সঙ্গে কথা না বলেন| তিনি কথা বললে আমরা ভয়ে মারা যাব|” 20 তখন মোশি তাদের বলল, “ভয় পেও না| প্রভু তোমাদের পরীক্ষা করতে আবির্ভূত হয়েছেন| তিনি চান তোমরা তাঁকে সম্মান কর, যাতে তোমরা পাপ কাজ না কর|” 21 লোকরা পর্বত থেকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকল, আর তখন মোশি অন্ধকার মেঘের ভেতর ঈশ্বরের কাছে গেল| 22 তখন প্রভু মোশিকে, ইস্রায়েলের লোকদের এই কথাগুলি বলার জন্য বললেন: “তোমরা দেখেছো য়ে আমি স্বর্গ থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলেছি| 23 সুতরাং তোমরা আমার সঙ্গে তুলনা করে সোনা অথবা রূপো দিয়ে অন্য কোন মূর্ত্তি গড়বে না| 24 “আমার জন্য একটি বিশেষ বেদী তৈরী করো| বেদী তৈরীর সময় মাটি ব্যবহার করবে| আমার প্রতি উত্সর্গ হিসেবে ঐ বেদীর ওপর হোমবলি ও মঙ্গল নৈবেদ্য নিবেদন করবে| বলিতে তোমাদের গৃহপালিত মেষ অথবা গবাদি পশু ব্যবহার করবে| যেখানে যেখানে আমি তোমাদের মনে রাখতে বলেছি সেই সব স্থানে তোমরা এই বলিগুলি দেবে| তখন আমি এসে তোমাদের আশীর্বাদ করব| 25 পাথরের বেদী তৈরী করলে কোন লোহার অস্ত্র দিয়ে, কাটা পাথর ফলক দিয়ে সেই বেদী তৈরী করবে না| যদি তা করো তাহলে সেই বেদী গ্রহণয়োগ্য হবে না| 26 এবং আমার বেদীতে কোন সিঁড়ি তৈরী করবে না| যদি বেদীতে সিঁড়ি থাকে তাহলে ঐ সিঁড়ি দিয়ে মানুষ যখন উঠবে তখন নীচের লোকদের কাছে তাদের নগ্নতা প্রকাশ পাবে|”

যাত্রাপুস্তক 21

1 তারপর ঈশ্বর মোশিকে বললেন, “তুমি অন্য এই সব নিয়মের কথাও লোকদের বলবে| 2 “তুমি যদি ইব্রীয় দাস ক্রয় করো তবে সে ছয় বছর দাসত্ব করার পর বিনামূল্যে মুক্তি পাবে| 3 যদি তোমার দাস থাকাকালীন সে বিবাহিত না হয় তাহলে মুক্তির সমযেও সে একাই মুক্তি পাবে| কিন্তু যদি সে বিবাহিত হয় তাহলে সে সস্ত্রীক মুক্তি পাবে| 4 যদি দাসটি বিবাহিত না হয় তাহলে তার মনিব তাকে বিয়ে দিতে পারে| সে যদি পুত্র অথবা কন্যা ধারণ করে তাহলে সে এবং তার ছেলেমেয়েরা মনিবের অধিকারভুক্ত হবে এবং সে নিজে ঐ মনিবের কাছে থাকবে এবং দাসের নিজের কর্মকাল শেষ হবার পর সে একা মুক্তি পাবে| 5 “কিন্তু যদি দাসটি বলে, ‘আমি আমার মনিবকে, আমার পত্নীকে এবং ছেলে-মেয়েদের ভালবাসি, তাই আমি মুক্ত হতে চাই না,’ 6 যদি এরকম হয় তাহলে তার মনিব দাসটিকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে আসবে| তারপর তার মনিব তাকে একটি দরজা বা দরজার কাঠের কাঠামোর কাছে নিয়ে যাবে| তারপর ছুঁচালো একটি যন্ত্র দিয়ে মনিব তার দাসের কানে একটি ফুটো করবে| তাহলে সেই দাস সারাজীবন তার মনিবের সেবা করবে| 7 “কোন ব্যক্তি যদি তার কন্যাকে দাস হিসেবে বিক্রি করতে চায় তাহলে তার মুক্তি পাওয়ার নিয়ম পুরুষ দাসদের নিয়মের থেকে আলাদা হবে| 8 যদি সেই মহিলার মনিব তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় তাহলে সে তার মহিলা দাসটিকে তার পিতার কাছে ফেরত্‌ পাঠাতে পারে| যদি মনিবটি তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে অন্য লোকের কাছে তাকে বিক্রি করতে পারবে না কারণ সেটা হবে অন্যায| 9 যদি তার মনিব মহিলা দাসটিকে তার পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় তবে তাকে দাসের মতো না রেখে মেয়ের মতো রাখতে হবে| 10 “যদি মনিব অন্য কোনও স্ত্রীলোককে বিয়ে করে তাহলে সে তার প্রথম স্ত্রীকে কম খাবার বা কম জামাকাপড় দিতে পারবে না| সে তার স্ত্রীর প্রতি বিবাহের অধিকার হিসেবে সব কর্তব্য করবে| 11 মনিব যদি এই তিনটি জিনিস না করে তাহলে তার স্ত্রী বিনামূল্যে তার কাছে থেকে মুক্তি পাবে| 12 “যদি কোনও ব্যক্তি কাউকে আঘাত করে হত্যা করে তাহলে সেই ব্যক্তিকেও হত্যা করা হবে| 13 কিন্তু যদি একটি দুর্ঘটনায় কোন ব্যক্তি মারা যায তাহলে সেটা ঈশ্বরের অভিপ্রায় বলে ধরে নেওয়া হবে| আমি কতগুলি বিশেষ জায়গা বেছে দেব য়েগুলি লোকরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করবে| 14 কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি ক্রোধ বা ঘৃণা থেকে কাউকে হত্যা করে তবে সে শাস্তি পাবে| তাকে আমার বেদী থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হবে| 15 “য়ে ব্যক্তি পিতা বা মাতাকে আঘাত করবে তাকে হত্যা করা হবে| 16 “যদি কোনও ব্যক্তি কাউকে চুরি করে দাস হিসেবে বিক্রি করতে চায় বা নিজের দাস করে রাখতে চায় তাহলে তাকে হত্যা করা হবে| 17 “য়ে ব্যক্তি তার পিতা বা মাতাকে অভিশাপ দেয়, তাকে হত্যা করা হবে| 18 “পরস্পর ঝগড়া করবার সময় যদি একজন অপর ব্যক্তিকে পাথর অথবা তার মুষ্টি দিয়ে আঘাত করে তাহলে তার শাস্তি পাওয়া উচিত্‌| য়ে আহত সে যদি মারা না যায় তবে য়ে আঘাত করেছে তাকে হত্যা করা হবে না| 19 আহত ব্যক্তি যদি কিছু সময়ের জন্য শয্যাশায়ী থাকে তাহলে য়ে আঘাত করেছে সে তার সমযের ক্ষতিপূরণ দেবে, যতদিন না আহত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠে| 20 “কখনও কখনও মনিব তার পুরুষ বা স্ত্রী দাসদের প্রহার করে থাকে, যদি এই প্রহারে দাসটি মারা যায় তবে তার ঘাতক শাস্তি পাবে| 21 কিন্তু যদি দাসটি মারা না গিয়ে কযেকদিন বাদে সেরে ওঠে তবে তার মনিবকে কিছু বলা হবে না কারণ সে তার দাসের জন্য অর্থ ব্যয করে থাকে এবং সে দাসটি তার সম্পত্তি| 22 “দুটি মানুষ ঝগড়া করার সময় যদি কোনও গর্ভবতী মহিলাকে আঘাত করে এবং এর ফলে যদি তার গর্ভপাত হয়ে যায এবং অন্য কোন ক্ষতি না হয় তাহলে য়ে আঘাত করেছে সে শুধু তাকে জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়ে যাবে| ঐ মহিলার স্বামী জরিমানার টাকার অংশ ঠিক করে দেবে| বিচারকরা এই ব্যাপারে তাকে সাহায্য করবে| 23 কিন্তু যদি সেই মহিলার আঘাতের ফলে কোন ক্ষতি হয় তাহলে য়ে তাকে আঘাত করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, য়ে অন্যকে হত্যা করবে তাকেও মরতে হবে| একজনের জীবনের বদলে অন্যের জীবন নেওয়া হবে| 24 তুমি চোখের বদলে চোখ নেবে, দাঁতের বদলে দাঁত, হাতের বদলে হাত, পায়ের বদলে পা নেবে| 25 পোড়ার বদলে পোড়াবে, চোটের বদলে চোট দেবে, কাটার বদলে কাটবে| 26 “যদি কোন ব্যক্তি তার দাসের চোখে আঘাত করে তাকে অন্ধ করে দেয় তাহলে সেই দাসকে মুক্তি দিয়ে দিতে হবে| তার চোখ হল তার মুক্তির মূল্য, স্ত্রী বা পুরুষ দাসের ক্ষেত্রে এই একই নিয়ম খাটবে| 27 যদি কোনও মনিব তার দাসকে মুখে আঘাত করে তার দাঁত ফেলে দেয় তবে তাকে মুক্তি দিতে হবে, তার দাঁত হবে তার মুক্তির মূল্য, এই নিয়ম স্ত্রী ও পুরুষ উভয় দাসের ক্ষেত্রেই প্রয়োজ্য় হবে| 28 “যদি কোনও ব্যক্তির ষাঁড় কোন স্ত্রী বা পুরুষকে মেরে ফেলে তাহলে ঐ ষাঁড়কে পাথর দিয়ে মেরে হত্যা করতে হবে| ঐ ষাঁড়কে খাওয়া ও যাবে না| কিন্তু ষাঁড়ের মালিক দোষী হবে না| 29 কিন্তু যদি ষাঁড়টি ইতিপূর্বে কাউকে আঘাত করে থাকে এবং তার মালিককে সতর্ক করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই মালিককে দোষী সাব্যস্ত করা হবে| কেননা সে জানা সত্ত্বেও ষাঁড়টিকে যথাস্থানে বেঁধে বা আটকে রাখে নি| আর যদি এরকম ষাঁড়কে ছেড়ে রাখার ফলে কারো প্রাণ যায তাহলে সেই ষাঁড় ও তার মালিক দুজনকেই পাথর দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলা হবে| 30 কিন্তু মৃত ব্যক্তির পরিবার যদি অর্থ গ্রহণ করে তাহলে ষাঁড়ের মালিককে মারা হবে না| কিন্তু সে বিচারকদের নির্ধারিত টাকার অঙ্ক জরিমানা দেবে| 31 “এই একই নিয়ম বলবত্‌ থাকবে যদি ষাঁড়টি কোনও লোকের পুত্র বা কন্যাকে হত্যা করে| 32 কিন্তু ষাঁড়টি যদি কোনও দাসকে হত্যা করে তবে তার মালিককে 30 টুকরো রূপো দিতে হবে মূল্য হিসেবে এবং ষাঁড়টিকে পাথর দিয়ে মারা হবে| এই নিয়ম স্ত্রী ও পুরুষ দাসের ক্ষেত্রে একই হবে| 33 “কোনও ব্যক্তি কুঁযোর ওপরের ঢাকা সরিয়ে দিতে পারে বা গভীর গর্ত খুঁড়ে ঢাকা না দিয়ে রাখতে পারে| যদি কোন ব্যক্তির পোষা জন্তু এসে এই গর্তে পড়ে যায তবে গর্তের মালিককে দাযী করা হবে| 34 গর্তের মালিককে জন্তুটির মূল্য দিতে হবে কিন্তু মূল্য দেওয়ার পর সে জন্তুটির দেহ নিজের কাছে রাখার অধিকার পাবে| 35 “যদি এক ব্যক্তির ষাঁড় আরেক ব্যক্তির ষাঁড়কে হত্যা করে তখন জীবিত ষাঁড়টিকে বিক্রি করে দিতে হবে| উভয় ব্যক্তি সেই বিক্রয় মূল্যের অর্ধেক ভাগ পাবে এবং মৃত ষাঁড়টির দেহের অর্ধেক ভাগ পাবে| 36 যদি কারো ষাঁড় অন্য কারো ব্যক্তির জন্তুদের গুঁতিযে মেরে ফেলার জন্য পরিচিত থাকে, তবে সেই ষাঁড়ের মালিককে তার জন্য দাযী করা হবে| যদি ষাঁড়টি অন্য ষাঁড়কে মেরে ফেলে, তাহলে তার মালিককেই দায়ী করা হবে কারণ সে ষাঁড়টিকে ছেড়ে রেখেছে| তাকে অবশ্যই মৃত ষাঁড়ের মূল্য দিতে হবে কিন্তু মৃত ষাঁড়টি সে নিজের জন্য রাখতে পারে|

যাত্রাপুস্তক 22

1 “য়ে ব্যক্তি ষাঁড় বা মেষ চুরি করেছে তাকে কিভাবে শাস্তি দেবে? যদি সে প্রাণীটিকে হত্যা করে বা বিক্রি করে দেয় তবে সে সেটা ফেরত্‌ দিতে পারবে না, তাই তাকে একটা চুরি করা ষাঁড়ের বদলে পাঁচটা ষাঁড় কিনে দিতে হবে বা একটা মেষের বদলে চারটি মেষ দিতে হবে| তাকে চুরির জন্য জরিমানা দিতে হবে| 2 যদি তার কাছে কিছু না থাকে তাহলে তাকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হবে| যদি তুমি লোকটির কাছে জন্তুটিকে দেখতে পাও, তবে চোরকে অবশ্যই চুরি করা জন্তুটির মূল্যের দ্বিগুণ মূল্য দিতে হবে| প্রাণীটি ষাঁড় বা গাধা বা মেষ যাই হোক না কেন নিয়ম একই থাকবে|“যদি সিঁধ কেটে চুরি করার সময় কোনও চোর মারা যায তবে কেউই দোষী হবে না| কিন্তু যদি এটা দিনের বেলায হয় তাহলে য়ে হত্যা করবে সে দাযী হবে| 3 4 5 “যখন একটি ব্যক্তি তার গৃহপালিত জন্তুদের তার নিজের ক্ষেতে অথবা দ্রাক্ষাক্ষেতে চরতে দেয়, কিন্তু তারা যদি বিপথে গিয়ে অন্য কারো ক্ষেতে অথবা দ্রাক্ষাক্ষেতে চরে বেড়ায তাহলে তাকে তার ক্ষেতের অথবা দ্রাক্ষাক্ষেতের সবচেযে ভালো ফসল দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে| 6 “কেউ যদি তার প্রতিবেশীর শস্যের গাদা অথবা য়ে শস্য কাটা হয়নি তা অথবা পুরো ক্ষেতটি পুড়িয়ে ফেলে, তাহলে যা কিছু পুড়ে গেছে তার ক্ষতিপূরণ তাকে দিতে হবে| 7 “কোনও ব্যক্তি তার টাকা বা অন্য কিছু তার প্রতিবেশীর কাছে রাখতে দিতে পারে| কিন্তু যদি প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে সেই জিনিস চুরি হয়ে যায তবে কি করবে? চোরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে| যদি চোরকে পাওয়া যায তবে চোর চুরি করা জিনিসের মূল্যের দ্বিগুণ জরিমানা দেবে| 8 যদি চোরকে খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে ঈশ্বর বিচার করবেন য়েখান থেকে চুরি হয়েছে সেই বাড়ির মালিক দোষী কি না| বাড়ির মালিক ঈশ্বরের কাছে যাবে এবং ঈশ্বর বিচার করবেন য়ে সে কিছু চুরি করেছে কি না| 9 “যদি কোনও দুই ব্যক্তি উভয়েই কোনও ষাঁড় বা গাধা বা মেষ বা কোনও হারানো বস্তুকে নিজের বলে দাবী করে তাহলে তারা দুজনেই ঈশ্বরের কাছে যাবে| ঈশ্বর যাকে দোষী করবেন সে অপর ব্যক্তিকে সেই জিনিসটির মূল্যের দ্বিগুণ দাস দেবে| 10 “কোনও ব্যক্তি তার কোন প্রাণীর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তার প্রতিবেশীকে অল্প সময়ের জন্য ভার দিতে পারে| সেটা গাধা বা ষাঁড় বা মেষ হতে পারে কিন্তু যদি সেই প্রাণী আহত হয় বা মারা যায বা কারো অলক্ষ্যে চুরি হয়ে যায তাহলে কি করবে? 11 তখন সেই প্রতিবেশীকে প্রভুর নামে শপথ করে বলতে হবে য়ে সে চুরি করে নি| তখন প্রাণীর মালিক সেই শপথ গ্রাহ্য করবে এবং প্রতিবেশীকে সেই মৃত প্রাণীর জন্য কোন জরিমানা দিতে হবে না| 12 কিন্তু যদি সেই প্রতিবেশী চুরি করে থাকে তবে তাকে জরিমানা দিতে হবে| 13 যদি কোন বন্য জন্তু প্রাণীটিকে মেরে ফেলে তবে তার দেহ প্রমাণ হিসেবে দেখাতে হবে| তাহলে প্রতিবেশীকে জরিমানা দিতে হবে না| 14 “যদি কোনও ব্যক্তি তার প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার নেয় তবে সে তার জন্য দায়ী থাকবে| যদি কোন প্রানী আহত হয় বা মারা যায তবে প্রতিবেশী প্রানীর মালিককে জরিমানা দেবে| প্রতিবেশীই দায়ী কারণ মালিক সেখানে উপস্থিত ছিল না| 15 কিন্তু যদি প্রানীর মালিক সেখানে উপস্থিত থাকে তাহলে প্রতিবেশীকে জরিমানা দিতে হবে না| যদি প্রতিবেশী প্রানীটিকে ব্যবহারের জন্য টাকা দেয় তাহলে তাকে প্রাণীটি আহত হলে বা মারা গেলে জরিমানা দিতে হবে না| সে ঐ প্রানীটি ব্যবহারের জন্য যা মূল্য দিয়েছে তাই য়থেষ্ট| 16 “যদি, কোনও ব্যক্তি একজন অবাগদত্তা কুমারী মেয়ের সঙ্গে য়ৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় তাহলে সে অবশ্যই তার পিতাকে পুরো য়ৌতুক দেবে এবং তাকে বিয়ে করবে| 17 যদি তার পিতা মেয়েটিকে সেই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দিতে নাও চান তাহলেও তাকে মেয়েটির জন্য পুরো অর্থ দিতে হবে| 18 “যদি কোন স্ত্রীলোক দুষ্ট কূহক করে তবে তাকে বাঁচতে দিও না| 19 “কোন মানুষ যদি কোন পশুর সঙ্গে য়ৌন সম্পর্ক করে তবে তাকে অবশ্যই হত্যা করবে| 20 “যদি কোন ব্যক্তি মূর্ত্তিকে নৈবেদ্য দেয় তবে তাকে হত্যা করবে| তোমরা অবশ্যই কেবলমাত্র প্রভুর কাছেই নৈবেদ্য উত্সর্গ করবে| 21 “মনে রাখবে তোমরা ইতিপূর্বে মিশরে বিদেশী ছিলে তাই তোমরা কোন বিদেশীকে ঠকাবে না বা আঘাত করবে না| 22 “কোন বিধবা বা অনাথ শিশুর কখনও কোনও ক্ষতি করো না| 23 যদি তুমি ঐসব বিধবা ও অনাথদের নির্য়াতন কর তাহলে আমি তাদের দুর্দশার কথা জেনে যাব| 24 এতে আমি রেগে গিয়ে তোমাকে হত্যা করব, যার ফলে তোমার স্ত্রী বিধবা এবং তোমার সন্তানরা অনাথ হবে| 25 “যদি আমার লোকদের মধ্যে কেউ দরিদ্র হয় এবং তাকে তুমি কিছু টাকা ধার দাও, তাহলে ঐ টাকার ওপর কোন সুদ দাবী করো না অথবা তাকে সুদ দিতে বাধ্য করো না| সুদ নিয়ে য়ে টাকা দেয় তার মতো ব্যবহার করো না| 26 যদি কোনও ব্যক্তি তোমার কাছে ধার শোধ করার প্রমাণ হিসেবে তার গায়ের শীতবস্ত্র বন্ধক রাখে তবে তুমি সুর্য়াস্তের আগে তাকে সেটা ফিরিযে দেবে| 27 যদি তার শীতবস্ত্র না থাকে তবে সে শীতে কষ্ট পাবে এবং তার কান্না আমি শুনতে পাবো কারণ আমি দয়ালু| 28 “ঈশ্বর বা জনগণের নেতাদের কখনও অভিশাপ দিও না| 29 “ফসল কাটার সময় প্রথম শস্যের দানা ও প্রথম ফলের রস বছরের শেষ পর্য়ন্ত অপেক্ষা না করেই আমাকে দেবে|“তোমাদের প্রথম সন্তানকে আমার কাছে উত্সর্গ করবে| 30 তোমাদের প্রথমজাত গরু বা মেষও আমাকে দেবে| প্রথম নবজাতককে তার মাযের কাছে সাত দিন রেখে অষ্টম দিনে আমাকে দিয়ে দেবে| 31 “তোমরা আমার বিশেষ লোক, কোন বন্য প্রাণীর মেরে ফেলা পশুর মাংস খাবে না| সেই মাংস কুকুরকে খেতে দেবে|

যাত্রাপুস্তক 23

1 “অন্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ রটিও না| যদি তুমি আদালতে সাক্ষী দিতে যাও তাহলে একজন খারাপ লোককে সাহায্যের জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না| 2 “সবাই যা করছে তুমিও তাই করতে য়েও না| যদি একটি গোষ্ঠীর মানুষ অন্যায় করে তাহলে তুমিও তাদের দলে গিয়ে ভিড়ে য়েও না, বরং তুমি তাদের ইন্ধন না জুগিয়ে যা সঠিক এবং ন্যায্য তাই করো| 3 “কোন মামলা-মকদ্দমায় কোন দরিদ্র লোককে তোমার বিশেষ অনুগ্রহ করা অবশ্যই উচিত্‌ নয়| 4 “যদি কোনও ব্যক্তির বলদ অথবা গাধা হারিয়ে যায় আর তা যদি তুমি খুঁজে পাও তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তুমি হারিযে যাওয়া বলদ বা গাধাটিকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেবে| এমনকি সে যদি তোমার শত্রু হয় তাহলেও তুমি এটাই করবে| 5 “যদি কোন মালবাহী পশু মালের ভারে আর চলতে না পারার মতো অবস্থায় পৌঁছে যায তাহলে তুমি সেই পশুটির ভার লাঘব করতে সচেষ্ট হবে| সেই পশুটি যদি তোমার শত্রুও হয় তাহলেও তুমি তা করবে| 6 “কোনও দরিদ্রের সঙ্গে কোনরকম অন্যায় হতে দিও না| সাধারণ মানুষদের মতোই একই বিধানে সেই দরিদ্রের বিচার হওয়া উচিত| 7 “কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সচেতন থেকো| কারুর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিও না| কোনও নির্দোষ মানুষকে শাস্তি পেতে দেখলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাবে| য়ে একজন নির্দোষ মানুষকে হত্যা করে সে একজন পাপী এবং আমি কখনই তাকে ক্ষমা করব না| 8 “যদি কেউ তোমাকে তার অন্যায় কাজকর্মের সঙ্গী হবার জন্য ঘুষ দিতে চায় তাহলে তুমি সেই ব্যক্তির প্রস্তাব গ্রহণ করবে না| কারণ ঘুষের অর্থ সত্য়কে দেখার দৃষ্টি ঢেকে দেয় এবং এই ধরণের ঘুষের অর্থ ভাল মানুষদের মিথ্যা বলতে প্রলুদ্ধ করে| 9 “কোনও বিদেশীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে না কারণ এক সময় তোমরা যখন মিশরে ছিলে তোমরাও তখন সে দেশে বিদেশী হিসেবেই বাস করতে| 10 “ছয় বছর ধরে জমিতে চাষ করো, বীজ বোনো, ফসল ফলাও| 11 কিন্তু সপ্তম বছরে আর নিজের জমিকে চাষের জন্য ব্যবহার করবে না| সপ্তম বছরটি হবে জমির বিশেষ বিশ্রামের সময়| তাই জমিতে সে বছর আর কোনও চাষ করবে না| তবু যদি সেই জমিতে কোনও ফসল ফলে তাহলে সেই ফসল গরীব মানুষদের দিয়ে দিতে হবে এবং বাকী যা পড়ে থাকবে তা খেতে দেবে বন্য প্রানীদের| তোমাদের দ্রাক্ষাক্ষেত ও জলপাই গাছগুলির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটাবে| 12 “সপ্তাহে ছদিন কাজ করার পর সপ্তম দিনটি ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করো| ছুটির দিন শুধু বিশ্রামের জন্য তুলে রাখবে| তুমি অবশ্যই তোমার ক্রীতদাসদের এবং বিদেশীদের এবং এমন কি তোমার গৃহপালিত ষাঁড় এবং গাধাদের সাময়িক অবকাশ দেবে| 13 “এই সমস্ত নিয়মগুলো তুমি সাবধানে মেনে চলবে| অন্য দেবতাদের নামও উচ্চারণ করো না; তোমার মুখে য়েন ওগুলো না শুনতে পাওয়া যায| 14 “তোমাদের জন্য বছরে তিনটি বিশেষ ছুটির দিন থাকবে| তোমাদের আমাকে উপাসনার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে আসতে হবে| 15 প্রথম ছুটির দিনটি হবে খামিরবিহীন রুটির উত্সব| আমার নির্দেশ মতো তা পালন করা হবে| এই সময় তোমরা য়ে রুটি খাবে তা হবে খামিরবিহীন| সাত দিন এই ভাবে চলবে| তোমরা এই নির্দেশ পালন করবে আবীব মাসে| কারণ এই সময়ই তোমরা মিশর থেকে ফিরে এসেছিলে| এই আবীব মাসে তোমরা প্রত্যেকে আমাকে উত্সর্গ করার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসবে| 16 “দ্বিতীয় ছুটির দিনটি হবে ফসল কাটার উত্সব| গ্রীষ্মের প্রথম দিকে এই দ্বিতীয় ছুটির দিন হবে| সে সময় তোমরা ক্ষেতের ফসল কাটবে|“তৃতীয় ছুটির দিনটি হবে ফসল তোলার উত্সব| বছরের শেষে যখন তোমরা জমি থেকে সব শস্য ঘরে তুলবে তখনই এই উত্সব পালিত হবে| 17 “সুতরাং প্রত্যেক বছরে তিনদিন সকলে সেই নির্দিষ্ট বিশেষ স্থানে জড়ো হয়ে তোমাদের প্রভুর সঙ্গে কাটাবে| 18 “যখন তোমরা পশু বলি দিয়ে তার রক্ত প্রভুর উদ্দেশ্যে উত্সর্গ করবে তখন আর খামির দেওয়া রুটি উত্সর্গ করবে না| এবং ঐ বলির মাংস তোমরা একদিনে খেয়ে নেবে, পরের দিনের জন্য জমিয়ে রাখবে না| 19 “ক্ষেত থেকে ফসল তোলার সময় সব ফসল তুলে প্রথমে নিয়ে আসবে তোমাদের ঈশ্বরের গৃহে|“কোন ছাগ শিশুকে তার মাযের দুধে ফুটিয়ো না|” 20 ঈশ্বর বললেন, “দেখ তোমাদের জন্য আমি এক দূত জন পাঠাচ্ছি| আমি তোমাদের জন্য য়ে স্থান নির্বাচন করেছি তোমাদের সেইখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার পাঠানো দূত তোমাদের নেতৃত্ব দেবে| ঐ দূত তোমাদের রক্ষা করবে| 21 ঐ দূতকে অমান্য না করে তাকে অনুসরণ করো| তার বিরুদ্ধে কখনও অসন্তোষ প্রকাশ করো না| ঐ দূতের শরীরে আমার শক্তি আছে; সুতরাং সে কোনরকম অন্যায় বরদাস্ত করবে না| 22 তোমরা তার সব কথা মেনে চলবে| আমার সব কথাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে| যদি তোমরা তা করো তাহলে আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব| তোমাদের শত্রুদের বিরোধিতা করব এবং যারা তোমার বিরুদ্ধে যাবে আমি তাদেরও শত্রুতে পরিণত হব|” 23 ঈশ্বর বললেন, “আমার প্রেরিত দূত তোমাদের আগে আগে যাবে| সে তোমাদের নেতৃত্ব দেবে - ইমোরীয, হিত্তীয়, পরিষীয়, কনানীয, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের বিরুদ্ধে| কিন্তু আমি তাদের প্রত্যেককে পরাজিত করব| 24 “তাদের দেবতাদের তোমরা পূজা করবে না| তোমরা সেইসব দেবতাদের কাছে নতজানু হবে না| তাদের জীবনযাপনের সঙ্গে তোমরা নিজেদের জড়াবে না| তোমরা তাদের মূর্তিদের ধ্বংস করবে এবং তোমরা তাদের দেবতাকে মনে রাখার সমস্ত স্তম্ভ ভেঙ্গে ফেলবে| 25 তোমরা সর্বদা তোমাদের প্রভুর সেবা অবশ্যই করবে| আমি তোমাদের রুটি ও জলকে আশীর্বাদ করব| আমি তোমাদের কাছ থেকে সমস্ত রোগ সরিয়ে নেব| 26 তোমাদের মহিলারা সন্তান ধারণে সক্ষম হয়ে উঠবে| তাদের কেউই সন্তান প্রসবকালে মারা যাবে না| আমি তোমাদের দীর্ঘ জীবন দেব| 27 “তোমরা যখন তোমাদের শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে তখন আমি তোমাদের শক্তি জোগাবো| তোমাদের শত্রুদের যাতে তোমরা হারাতে পারো তাতে আমি সাহায্য করব| তোমাদের শত্রুরা হতচকিত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাতে শুরু করবে| 28 আমি তোমাদের আগে একটা ভীমরুলপাঠাব| সেই তোমাদের শত্রুদের জোর করে তাড়িয়ে দেবে| হিব্বীয়, কনানীয় ও হিত্তীয়রা তোমাদের দেশ ত্যাগ করে পালাবে| 29 কিন্তু আমি শীঘ্রই ঐ সমস্ত মানুষগুলোকে জোর করে তোমাদের দেশ থেকে তাড়াব না| অন্তত এক বছর আমি ওদের তাড়াব না| কারণ তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তোমাদের দেশ জনমানব শূন্য হয়ে পড়বে| ফলে সে সময় বন্য প্রানীরা ঢুকে পড়ে বংশবৃদ্ধির দ্বারা দেশটাকে দখল করে নেবে এবং তখন সেই সমস্ত প্রানীরাই তোমাদের সমস্যা সৃষ্টি করবে| 30 তাই আমি খুব ধীরে ধীরে ঐ মানুষগুলোকে তোমাদের দেশ থেকে তাড়াব| তোমরাও ক্রমশঃ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে থাকবে আর আমিও ওদের একে একে তাড়াতে থাকব| 31 “সূফ সাগর থেকে ফরাত্‌ নদী পর্য়ন্ত সমস্ত জমি তোমাদের দিয়ে দেব| তোমাদের দেশের পশ্চিম সীমান্ত হবে পলেষ্টীয়দের সমুদ্র পর্য়ন্ত| আর পূর্ব দিকের সীমান্ত হবে আরব দেশের মরুভূমি| এই সীমানার মধ্যে বসবাসকারী প্রত্যেককে আমি তোমাদের দিয়েই পরাজিত করে তাড়িয়ে ছাড়ব| 32 “তোমরা ঐ সমস্ত লোকদের সঙ্গে অথবা তাদের দেবতাদের সঙ্গে কোনরকম চুক্তি করবে না| 33 তাদের তোমাদের দেশে একদম থাকতে দেবে না| যদি থাকতে দাও তাহলে তাদের ফাঁদে পা দিয়ে তোমরা আমার বিরুদ্ধে পাপ করবে এবং তোমরা ঐ লোকদের দেবতাদের পূজা করতে বাধ্য হবে|”

যাত্রাপুস্তক 24

1 প্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি, হারোণ, নাদব, অবীহূ এবং ইস্রায়েলের 70 জন প্রবীণ নেতৃবৃন্দ পর্বতের ওপর উঠে এসে দূর থেকে আমার উপাসনা করো| 2 কিন্তু মোশি একাই প্রভুর কাছে আসবে| অন্যরা য়েন প্রভুর কাছে না যায| এমনকি বাকী লোকরা মোশির সঙ্গে পর্বতে উঠবে না|” 3 প্রভুর সমস্ত নির্দেশ ও সমস্ত বিধি মোশি লোকদের বলল| তখন সবাই রাজী হল এবং বলল, “আমরা প্রভুর সমস্ত নির্দেশ মেনে চলব|” 4 তখন মোশি একটি খাতায় প্রভুর সমস্ত নির্দেশ লিখে রাখল| পরদিন সকালে সে জেগে উঠল এবং পর্বতের পাদদেশে একটি বেদী এবং ইস্রায়েলের দ্বাদশ পরিবারগোষ্ঠী অনুসারে বারোটি স্তম্ভ নির্মাণ করল| 5 তারপর মোশি ইস্রায়েলের যুবকদের পাঠাল প্রভুর বেদীতে কিছু উত্সর্গের জন্য| এই যুবকরা হোমবলি ও মঙ্গল নৈবেদ্য স্বরূপ প্রভুর কাছে ষাঁড়গুলি উত্সর্গ করল| 6 পশু বলির সময় মোশি পাত্রগুলিতে অর্ধেক রক্ত রাখল এবং বাকী রক্ত বেদীর ওপর ঢেলে দিল| 7 মোশি তখন খাতাটি নিয়ে তাতে লেখা চুক্তিগুলি চেঁচিয়ে পড়তে থাকল| লোকরা তা শুনে বলে উঠল, “আমরা প্রভুর দেওয়া বিধিগুলি শুনেছি এবং আমরা তা মানতে রাজি আছি|” 8 তখন মোশি লোকদের মাঝে উঠে দাঁড়াল এবং ঐ পাত্রগুলিতে রাখা রক্ত ছিটিয়ে দিল| সে বলল, “দেখ, এই হচ্ছে সেই রক্ত যা তোমাদের সঙ্গে প্রভুর চুক্তির সূচনা করে| চুক্তিটিকে ব্যাখ্যা করার জন্যই ঈশ্বর তোমাদের জন্য বিধি প্রণযন করেছেন|” 9 এরপর মোশি, হারোণ, নাদব, অবীহূ এবং ইস্রায়েলের 70 জন প্রবীণ নেতৃবৃন্দ সেই পর্বতে চড়ল| 10 পর্বতের ওপর তারা ইস্রায়েলের ঈশ্বরকে দেখতে পেল| ঈশ্বর নীল আকাশের মতো স্বচ্ছ নীলকান্ত মণির রাস্তার ওপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন| 11 ইস্রায়েলের প্রবীণদের প্রত্যেকে ঈশ্বরকে দেখতে পেল| কিন্তু ঈশ্বর তাদের ধ্বংস করেন নি|পরিবর্তে তারা সবাই একত্রে ভোজন ও পান করল| 12 প্রভু মোশিকে বললেন, “পর্বতের ওপর আমার কাছে এসো এবং ওখানে থাকো| আমি লোকদের জন্য আমার শিক্ষামালা ও বিধিগুলি দুটো প্রস্তর ফলকে লিখে রেখেছি| আমি এই প্রস্তর ফলকগুলি তোমাকে দিতে চাই|” 13 তখন মোশি ও তার পরিচারক যিহোশূয় ঈশ্বরের কাছে যাওয়ার জন্য পর্বতে চড়লো| 14 মোশি প্রবীণ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলল, “এখানে তোমরা আমাদের দুজনের জন্য অপেক্ষা করো| আমরা তোমাদের কাছে ফিরে আসব| আমি যাবার পর তোমাদের কারো কোন সমস্যা হলে হারোণ ও হূরের কাছে যাবে|” 15 মোশি যখন পর্বতে উঠল তখন পর্বত মেঘে আচ্ছন্ন ছিল| 16 সীনয় পর্বতে প্রভুর মহিমা স্থায়ী হল| ছয় দিন পর্বত মেঘে ঢেকে রইল এবং সপ্তম দিনে ঈশ্বর মেঘের ভেতর থেকে মোশির সঙ্গে কথা বললেন| 17 আর তখন ইস্রায়েলের লোকরা প্রভুর মহিমা দেখতে পেল| য়েন এক আগুনের গোলা জ্বলছিল পর্বতের চূড়ায়| 18 তখন মোশি মেঘের মধ্যে দিয়েই পর্বতের চূড়ায় উঠতে লাগল| মোশি ঐ পর্বতে 40 দিন ও 40 রাত কাটিযেছিল|

যাত্রাপুস্তক 25

1 প্রভু মোশিকে বললেন, 2 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো আমার জন্য উপহার নিয়ে আসতে| তারা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের মনে মনে ঠিক করে নেবে তারা আমাকে কি দিতে চায| আমার হয়ে তুমি সেই উপহারগুলি গ্রহণ করো| 3 এই হল তার ফর্দ যা যা তুমি তাদের থেকে গ্রহণ করবে: সোনা, রূপো এবং পিতল, 4 নীল, বেগুনী এবং লাল সূতো ও মসৃণ শনের কাপড় এবং ছাগলের লোম, 5 মেষের লাল রঙের চামড়া, মসৃণ চামড়া, বাবলা কাঠ, 6 প্রদীপের তেল, অভিষেকের তেল, সুগন্ধি মশলা, সুগন্ধি ধূপ তৈরির মশলা| 7 এগুলি ছাড়াও অলীক মণি এবং অন্যান্য মনিমাণিক্য য়েগুলো যাজক দ্বারা পরিহিত এফোদ এবং বক্ষাবরণের ওপর ব্যবহৃত হবে তা গ্রহণ করো|” 8 ঈশ্বর আরও বললেন, “লোকরা আমার জন্য একটি পবিত্র স্থান তৈরী করবে| তখন আমি তাদের মধ্যে থাকতে পারব| 9 আমি তোমাদের পবিত্র তাঁবু এবং তার আসবাবপত্রাদি কেমন দেখতে হওয়া উচিত্‌ দেখাব| এবং আমি য়েমনটি দেখাব ঠিক তেমনি একটি তাঁবু তৈরী করবে| 10 “একটি বিশেষ সিন্দুক তৈরী করবে| সিন্দুকটি তোমরা বাবলা কাঠ দিয়ে তৈরী করবে| পবিত্র সিন্দুকটির দৈর্য়্ঘ হবে 2.5 হাত, প্রস্থ 1.5 হাত এবং উচ্চতা 1.5 হাত| 11 পুরো সিন্দুকটির ভেতরে বাইরে সোনা দিয়ে মুড়ে দেবে| তোমরা অবশ্যই তার চারধারে সোনার ঝালর দেবে| 12 তোমরা সিন্দুকটিকে বয়ে নেওয়ার জন্য চারটি সোনার আংটা সিন্দুকটির চারদিকে লাগাবে| দুদিকে দুটো করে সোনার কড়া বা আংটা থাকবে| 13 এরপর সিন্দুকটিকে বহন করার জন্য দুটো বাবলা কাঠের দণ্ড বানাবে| এই দণ্ডটিও সোনা দিয়ে মোড়া থাকবে| 14 এরপর সিন্দুকটির দু প্রান্তের আংটার মধ্যে দণ্ডগুলি ঢোকাবে এবং সিন্দুকটিকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার করবে| 15 এই দণ্ডগুলি অবশ্যই সিন্দুকটির হাতার ভেতরদিকে দৃঢ় হয়ে থাকবে এবং সেগুলো কখনও খুলে নেওয়া হবে না|” 16 ঈশ্বর বললেন, “আমি তোমাদের চুক্তিটি দেব| তা ঐ সিন্দুকে রেখে দেবে| 17 আড়াই হাত লম্বা ও দেড় হাত চওড়া একটি সোনার আচ্ছাদন তৈরী করবে| 18 “পেটানো সোনা দিয়ে দুইটি করূব দূত বানাও এবং সোনার আচ্ছাদনের দুই প্রান্তে তাদের রাখো| 19 আচ্ছাদনের দুই কোণায তাদের রেখে একই আচ্ছাদনের নীচে ওদের স্থাপন করবে| এরপর দূতদের এবং আচ্ছাদনটিকে একটি অখণ্ড বস্তু করবার জন্য তাদের যুক্ত করো| 20 দূতদের ডানা দুটিকে অবশ্যই আকাশের দিকে বিস্তৃত করে দিতে হবে| এবার ডানা সমেত দূতের মূর্তিকে সিন্দুকে এমনভাবে রাখবে য়েন দুজনেই মুখোমুখি আচ্ছাদনের দিকে তাকিযে থাকে| 21 “আমি তোমাদের চুক্তিটি দেবে এবং তোমরা তা সিন্দুকে রাখবে এবং সিন্দুকের ওপর ঐ ঢাকনাটি দিয়ে দেবে| 22 আমি যখন তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাত্‌ করব তখন আমি পরস্পর মুখোমুখি ঐ দূতদের মাঝখানে আচ্ছাদনের ওপর থেকে কথা বলব| ইস্রায়েলবাসীকে দেবার জন্য আমি আমার সমস্ত আদেশসমূহ তোমাদের দেব| 23 “বাবলা কাঠের একটি টেবিল তৈরী করবে| টেবিলটি দৈর্য়্ঘে হবে 2 হাত, প্রস্থে 1 হাত এবং উচ্চতায় 1.5 হাত| 24 টেবিলটি খাঁটি সোনা দিয়ে মোড়া থাকবে এবং টেবিলের চারদিকে সোনার নিকেল করা থাকবে| 25 তারপর টেবিলের চারিদিকে 1 হাত চওড়া একটি কাঠের কাঠামো তৈরী করবে এবং ঐ কাঠের কাঠামোতে সোনার নিকেল করা থাকবে| 26 টেবিলের চার পায়ায চারটি সোনার কড়া তৈরী করে রাখবে| 27 পায়ায সোনার কড়া চারটি টেবিলের ওপর রাখা কাঠামো বরাবর সোজা তুলে আনবে| এবার চারটি কড়ায দণ্ড ঢুকিয়ে টেবিলটিকে বহন করা যাবে| 28 বাবলা কাঠেরই দণ্ড তৈরী করে য়েগুলি সোনারপাতে মুড়ে টেবিলটিকে বহন করবে| 29 সোনার থালা, চামচ, মগ ও পাত্র তৈরী করবে| মগ ও পাত্র পেয নৈবেদ্যর জন্য ব্যবহার করা হবে| 30 টেবিলের ওপর আমার জন্য বিশেষ রুটি রাখবে| এবং তা য়েন সর্বক্ষণই আমার সামনে রাখা থাকে| 31 “এরপর একটি দীপদান বানাবে| খাঁটি সোনাকে পিটিযে একটি সুদৃশ্য দীপদান তৈরী করবে| এই দীপদানের কাণ্ড, শাখা, গোলাধার প্রভৃতি সব অখণ্ড হবে| 32 “এই দীপদানে অবশ্যই ছয়টি শাখা থাকতে হবে| তিনটি শাখা একদিকে প্রসারিত থাকবে এবং অন্যদিকে থাকবে তিনটি শাখা| 33 প্রত্যেক শাখায় তিনটি ফুল থাকবে| ঐ দীপদানের ফুলগুলি বাদাম ফুলের মতো হবে এবং তাতে মুকুলও থাকবে| 34 দীপদানের জন্য আরও চারটে ফুল তৈরী করবে| এই ফুলগুলি হবে বাদাম ফুলের মতো, সঙ্গে মুকুলও থাকবে. 35 দীপদানের ছয়টি শাখা থাকবে| হাতলের বা দীপদানের কাণ্ডের দুদিক থেকে যথাক্রমে তিনটি করে শাখা বেরিয়ে আসবে| কাণ্ডের যেখানে শাখাগুলি মিশছে সেখানে ফুল ও মুকুল তৈরী করে লাগাবে| 36 পুরো দীপদানটি, এবং শাখা ফুলগুলিও খাঁটি সোনার হওয়া চাই| এবং পুরোটাই একছাঁচে অর্থাত্‌ অখণ্ড হতে হবে| 37 এরপর সাতটি প্রদীপ বানাবে দীপদানে রাখার জন্য| এই প্রদীপগুলিই দীপদানের সামনে আলোকিত করে রাখবে| 38 প্রদীপের চিমটাটিও সোনার হওয়া চাই| য়ে থালাটিতে দীপদানটি রাখা হবে সেটিকেও সোনার হতে হবে| 39 ঐ দীপদান ও দীপদানের আনুষঙ্গিক অংশ তৈরী করতে অবশ্যই 75 পাউণ্ড সোনা ব্যবহার করতে হবে| 40 পর্বতের ওপর আমি তোমাদের যা যা দেখিয়েছি তা তৈরী করার সময় সর্বদা সতর্ক থেকো, য়েন কোন ভুল না হয়|”

যাত্রাপুস্তক 26

1 প্রভু মোশিকে বললেন, “পবিত্র তাঁবুটি তৈরী করবে 10টি পর্দা দিয়ে| পর্দাগুলি তৈরী হবে মসৃণ শনের কাপড়ে এবং নীল, বেগুনী ও লাল সুতোয| একজন দক্ষ কারিগর পর্দাটি বুনবে এবং তাতে সে করূব দূতের চিত্র সেলাই করবে| 2 প্রত্যেকটি পর্দা একই রকম আকৃতির তৈরী করবে| প্রত্যেকটি পর্দা দৈর্য়্ঘে 28 হাত ও প্রস্থে 4 হাত হবে| 3 এক ভাগ করবার জন্য 5টি পর্দাকে যুক্ত করো| পর্দাগুলি সমান দু ভাগে ভাগ করবে| 4 এক ভাগের শেষ পর্দাটির ধার জুড়ে ফাঁস তৈরী করবার জন্য নীল কাপড় ব্যবহার কর| 5 দুই ভাগের শেষ পর্দা দুটিতে 50টি নীল কাপড়ের ঝালর থাকবে| 6 পর্দাগুলিকে একত্রে যুক্ত করবার জন্য 50টি সোনার আংটা তৈরী কর| এটা পবিত্র তাঁবুটিকে একসঙ্গে যুক্ত করবে একটি অখণ্ড তাঁবু করবার জন্য| 7 “একটি তাঁবু তৈরী করবার জন্য ছাগলের লোম দিয়ে তৈরী এগারোটি পর্দা ব্যবহার করো| এই তাঁবুটি হবে আগের পবিত্র তাঁবুর আচ্ছাদন| 8 এই সমস্ত পর্দাগুলি অবশ্যই একই আকৃতির হবে| প্রত্যেকটি পর্দা হবে 30 হাত লম্বা এবং 4 হাত চওড়া| 9 এগারোটি পর্দা দুভাগে ভাগ করে এক ভাগে পাঁচটা ও অন্য ভাগে ছয়টি পর্দা রাখবে| পবিত্র তাঁবুর সামনে ষষ্ঠ পর্দাটি ভাঁজ করে রাখবে| 10 প্রতিটি ভাগের শেষে পর্দার নীচে 50টি ফাঁস লাগাও| 11 এবার পর্দাগুলি একত্র করার জন্য 50টি পিতলের আংটা তৈরী করবে এবং একসঙ্গে সেগুলি টাঙ্গাবে| 12 এই তাঁবুর শেষ পর্দাটির অর্ধেক অবশ্যই পবিত্র তাঁবুর পিছন দিকে ঝুলে থাকবে| 13 অন্য দিকেও 1 হাত করে পর্দা পবিত্র তাঁবুর ভূমিদেশ থেকে নীচের দিকে ঝুলে থাকবে| এইভাবে পবিত্র তাঁবুকে পরবর্তী তাঁবুটি চারিদিক থেকে আচ্ছাদনের মতো ঘিরে থাকবে| 14 ভেতরের তাঁবু থেকে বাইরের তাঁবুতে যাওয়ার জন্য দুখানি চামড়ার ছাদ তৈরী করবে| একটি হবে পুং মেষের পাকা চামড়ায তৈরী এবং অন্যটি হবে উত্কৃষ্ট চামড়ার| 15 “পবিত্র তাঁবুটিকে খাড়া করে রাখার জন্য বাবলা কাঠের একটি কাঠামো তৈরী করবে| 16 ঐ কাঠামোটি হবে 10 হাত উঁচু ও 1.5 হাত চওড়া| 17 প্রত্যেকটি কাঠামোর নীচে দুটো পায়া থাকবে| পবিত্র তাঁবুর প্রত্যেকটি কাঠামো একই আকারের হবে| 18 পবিত্র তাঁবুর দক্ষিণ দিকের জন্য 20টি কাঠামো বানাবে| 19 কাঠামোগুলির নীচে লাগানোর জন্য রূপো দিয়ে 40টি ভূমিমূল তৈরী করবে| প্রত্যেকটি কাঠামোর গোড়ায দুটি করে রূপোর পায়া বা ভূমিমূল থাকবে| 20 উত্তর দিকের জন্য আরও 20টি কাঠামো তৈরী করবে| 21 একই রকম ভাবে কুড়িটি কাঠামোর দুটি করে পায়ার জন্য আরও 40টি রূপোর পায়া তৈরী করে লাগাবে| 22 পবিত্র তাঁবুর পিছন দিক অর্থাত্‌ পশ্চিম দিকের জন্য আরও ছয়খানি কাঠামো বানাবে| 23 পবিত্র তাঁবুর পিছন দিকে দুই কোণের জন্য দুখানি কাঠামো বানাবে| 24 দুই কোণার কাঠামো দুখানি পরস্পরের সঙ্গে নীচের দিকে যুক্ত থাকবে| ওপরে একটি কড়া এই দুখানি কাঠামোকে একত্রে ধরে রাখবে| দু দিকের কোণাতেই একই রকম হবে| 25 এই রকম মোট আটটি কাঠামো থাকবে এবং 16টি রূপোর পায়া থাকবে| 26 “পবিত্র তাঁবুর কাঠামোগুলি জোড়া লাগানোর জন্য বাবলা কাঠ ব্যবহার করবে| পবিত্র তাঁবুর প্রথম দিকে পাঁচটি জোড়া তক্তা থাকবে| 27 অন্যদিকেও পাঁচটি তক্তা জোড়া দেওয়া থাকবে| এবং পিছনদিকেও পাঁচটি জোড়া তক্তা থাকবে| 28 তক্তাগুলির মাঝখানে একটি কেন্দ্রস্থিত হুড়কো লাগাতে হবে| 29 “কাঠামোগুলি তারপর সোনা দিয়ে মুড়ে দেবে| তক্তাগুলি আটকানোর জন্য আংটা ব্যবহার করবে| আংটাগুলিও অবশ্যই সোনার হবে| কীলকগুলিকে সোনা দিয়ে ঢেকে দাও| 30 এইভাবে পর্বতের ওপর দেখানো পরিকল্পনা অনুযায়ীঅবশ্যই তোমাদের পবিত্র তাঁবুটি তৈরী করতে হবে| 31 “পবিত্র তাঁবুর ভেতর বিভাজনের জন্য মসৃণ শনের কাপড়ের পর্দা বানাবে| ঐ পর্দার ওপর অবশ্যই করূব দূতের চেহারা থাকতে হবে| লাল, নীল, বেগুনী সূতোর কারুকার্য়ে তা ফুটে উঠবে| 32 বাবলা কাঠের চারটি খুঁটি তৈরী করে সোনা দিয়ে তাও মুড়ে দেবে| চারটে খুঁটিতে সোনার আংটা লাগাবে| খুঁটিরে নীচে রূপোর পায়া লাগাবে| এবার পর্দাটি সোনার আংটায লাগিয়ে টাঙ্গিযে দেবে খুঁটির সঙ্গে| 33 পর্দাটি সোনার আংটাগুলির নীচে টাঙিযে দাও| তারপর ঠিক পর্দার পিছনে সাক্ষ্যসিন্দুক রাখবে| টাঙানো পর্দা দিয়ে পবিত্র স্থান এবং অতি পবিত্র স্থানের মধ্যে বিভাজন করবে| 34 অতি পবিত্র স্থান হিসাবে সাক্ষ্যসিন্দুকের ওপর একটি আবরণ রাখবে| 35 “পবিত্র স্থানে পর্দার উল্টো দিকে নির্মিত বিশেষ টেবিলটি রাখবে| টেবিলটি বসানো হবে পবিত্র তাঁবুর উত্তর দিকে| এবার দীপদানটিকে বসাবে দক্ষিণ দিকে টেবিলের থেকে খানিকটা দূরে| 36 “এবারে একটি পর্দা দিয়ে পবিত্র তাঁবুর প্রবেশ পথ ঢেকে দেবে| পর্দাটি বানাবে লাল, নীল, বেগুনী সুতো ও মসৃণ শনের কাপড় দিয়ে| এবং তাতে চিত্র ফুটিযে তুলবে| 37 এই পর্দা টাঙানোর জন্য সোনার আংটা বানাবে| এবং বাবলা কাঠের পাঁচটি খুঁটি বানাবে| সেগুলিও সোনার পাতে মোড়া থাকবে| পাঁচটি খুঁটির পায়া পিতল দিয়ে বানাবে|”

যাত্রাপুস্তক 27

1 প্রভু মোশিকে বললেন, “বাবলা কাঠের একটি বেদী বানাবে| বেদীখানা হবে চৌকো আকারের| বেদীটি উচ্চতায় হবে 3 হাত, লম্বায হবে 5 হাত এবং চওড়ায হবে 3 হাত| 2 বেদীর চার কোণার প্রত্যেকটির জন্য একটি করে শিখর বানাও এবং প্রত্যেকটি শিখর বেদীর কোনায যুক্ত কর যাতে তারা অখণ্ড হয়| তারপর ওটিকে পিতলের পাত দিয়ে মুড়ে দাও| 3 “বেদীর সমস্ত যন্ত্রপাতি এবং বাসন-কোসন পিতল দিয়ে তৈরী কর| বেদী থেকে ছাই তুলে নেওয়ার জন্য পাত্র, তার বেলচাসমূহ, সিঞ্চনকারী পাত্রসমূহ, আঁকশি এবং উনুন তৈরী কর| ব্যবহারের পর বেদীর হোমবলির ছাই দিয়ে এগুলো পরিষ্কার করবে| 4 বেদীর জন্য ছাকনীর আকারের একটি ঝাঁঝরি রাখবে| ঝাঁঝরির চারকোণার জন্য পিতলের আংটা বানাবে| 5 বেদীর নীচে এই ঝাঁঝরি রাখবে| কিন্তু এর উচ্চতা হবে বেদীর মধ্যভাগ পর্য়ন্ত| 6 “বেদীর জন্য পিতলে মোড়া বাবলা কাঠের খুঁটি ব্যবহার করবে| 7 বেদীর দুপাশে লাগানো আংটার মধ্যে খুঁটি ঢুকিয়ে বেদীকে যেখানে ইচ্ছে বয়ে নিয়ে বেড়াও| 8 খালি ধারগুলিতে কাঠের তক্তা ব্যবহার করে বেদীটি একটি শূন্য সিন্দুকের আকারে বানাও| এবং পর্বতে আমি য়েভাবে দেখালাম ঠিক সেইভাবেই বানাবে| 9 “পবিত্র তাঁবুর জন্যে একটি আদালত চত্বর বানাবে| দক্ষিণ দিকে 100 হাত লম্বা পর্দা দেওয়া দেওয়াল থাকবে| এই পর্দা মসৃণ শনের কাপড়ের তৈরী হওয়া চাই| 10 কুড়িটি খুঁটি এবং খুঁটিগুলোর নীচে 20টি পিতলের ভিত্তি তৈরী কর| আংটা এবং পর্দার দণ্ডগুলি রূপো দিয়ে তৈরী কর| 11 উত্তরদিকেও একইভাবে 100 হাত লম্বা একটি পর্দার দেওয়াল থাকবে| এর জন্য অবশ্যই 20টি খুঁটি ও 20টি পিতলের ভিত্তি থাকবে| এই খুঁটিগুলির জন্য আংটাসমূহ ও পর্দার দণ্ডগুলি হবে রূপোর তৈরী| 12 “আদালত চত্বরের পশ্চিম দিকে 50 হাত লম্বা পর্দা থাকবে| আর এর জন্য চাই দশটি খুঁটি ও পায়া| 13 পূর্ব দিকেও 50 হাত লম্বা পর্দা থাকবে| 14 এই পূর্ব দিকটিই হবে প্রবেশ পথ| প্রবেশ পথের একদিকে থাকবে 15 হাত লম্বা পর্দা| তার জন্যও চাই তিনটি খুঁটি ও পায়া| 15 অন্যদিকেও করতে হবে একই ব্যাপার সেই 15 হাত লম্বা পর্দা ও তার জন্য চাই 3টি খুঁটি ও 3টি পায়া| 16 “আদালত চত্বরের পথটি ঢাকতে বানাবে 20 হাত লম্বা পর্দা| পর্দা তৈরী হবে মিহি ক্ষৌমবস্ত্রের এবং লাল, নীল, বেগুনী ও লাল সুতোর এবং তাতে সুন্দর চিত্র ফুটিযে তুলবে| পর্দাটি টাঙ্গানোর জন্য চারটি খুঁটি ও চারটি পায়া থাকবে| 17 উঠোনের চারিদিকের সমস্ত খুঁটি পর্দার রূপোর দণ্ড দিয়ে যুক্ত হবে| খুঁটির ওপর পর্দা টাঙ্গানোর আংটাগুলি হবে রূপোর এবং খুঁটির নীচে পায়াগুলি হবে পিতলের| 18 আদালত চত্বরটি হবে 100 হাত লম্বা ও 50 হাত চওড়া| আদালত চত্বরের চারিদিকে 5 হাত উচ্চতার টানা পর্দার দেওয়াল থাকবে| পর্দাটি হবে মিহি মসীনা কাপড়ের| খুঁটির নীচের পায়াগুলি হবে পিতলের| 19 পবিত্র তাঁবু তৈরীর যাবতীয় জিনিসপত্র হবে পিতলের| উঠোনের চারিদিকের, পর্দায় ব্যবহারের জন্য কীলকগুলি পিতলের তৈরী হবে| 20 “ইস্রায়েলের লোকদের আদেশ করো, তারা য়েন প্রত্যেক সন্ধ্যায় য়ে প্রদীপ জ্বালানো হবে তার জন্য সব থেকে ভাল জলপাইযের তেল নিয়ে আসে| 21 হারোণ ও তার পুত্রদের কাজ হল প্রতি সন্ধ্যায় প্রভুর সামনে প্রদীপ জ্বালানোর জন্য প্রদীপ তৈরী করে রাখা| আর সাক্ষ্য সিন্দুকের ঘরের বাইরে পর্দা দিয়ে বিভাজন করা অন্য একটি ঘরে বা সমাগম তাঁবুর ঘরে তারা সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্য়ন্ত সর্বদা প্রভুর সামনে প্রদীপ বালিয়ে রাখবে| ইস্রায়েলের লোকরা এবং তাদের পরবর্তী উত্তরপুরুষরা এই চিরস্থায়ী বিধি মেনে চলবে|”

যাত্রাপুস্তক 28

1 প্রভু মোশিকে বললেন, “তোমার ভাই হারোণ ও তার পুত্রগণ নাদব, অবীহূ, ইলীয়াসর এবং ঈথামরকে তোমার কাছে আসতে বলো| তারাই যাজকরূপে ইস্রায়েলের লোকদের হয়ে আমাকে সেবা করবে| 2 “তোমার ভাই হারোণের জন্য একটি বিশেষ ধরণের পোশাক বানাবে| ঐ পোশাক হারোণকে বিশেষ সম্মান ও গৌরব প্রদান দেবে| 3 কযেকজন দক্ষ দর্জি সেই পোশাক তৈরী করবে| আমি সেই দর্জিদের বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করেছি| সেই দর্জিদের বলো হারোণের জন্য বিশেষ পোশাক তৈরী করতে| এই পোশাকই প্রমাণ করবে সেই যাজক আমাকে বিশেষ ভাবে সেবা করছে| তখন সে আমাকে যাজকের মতোই সেবা করবে| 4 তাদের য়ে পোশাকগুলি বানাতে হবে তা হল এই : একটি বক্ষাবরণ, একটি এফোদ, একটি নীল রঙের পরিচ্ছদ এবং একটি সাদা বোনা বস্ত্র, একটি পাগড়ি এবং একটি কোমর বন্ধনী| এই বিশেষ পোশাক পরিচ্ছদগুলি বানানো হবে হারোণ ও তার পুত্রদের জন্য| এই পোশাক পরার পরেই ওরা আমায যাজক হিসেবে সেবা করতে পারবে| 5 পোশাকগুলিতে ব্যবহার হবে সোনার জরি, মসৃণ মসীনা এবং লাল, নীল, বেগুনী সুতো| 6 “এফোদ বানাতে সোনার জরি, মসৃণ শনের কাপড় ও লাল, নীল, বেগুনী সুতো ব্যবহার করবে| দক্ষতার সঙ্গে অতি যত্নে তা তৈরী করতে হবে| 7 এফোদের প্রতিটি কাঁধে একটি করে কাঁধ পট্টি থাকবে| এফোদের দুই কোণার সঙ্গে কাঁধ পট্টি সংযুক্ত হবে| 8 “এফোদের জন্য কোমর বন্ধনী তৈরীর সময় দর্জীদের সতর্ক থাকতে হবে| এফোদের মতো কোমর বন্ধনীতেও সোনার জরি, মসৃণ শণের কাপড় ও লাল, নীল, বেগুনী সুতো ব্যবহার করা হবে| 9 “দুটো গোমেদমনি নাও এবং তার ওপর ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম খোদাই কর| 10 ছয় জনের নাম এক মণিতে ও অন্য ছয় জনের নাম অপর মণিতে খোদাই করবে| নাম খোদাই করার সময় বযস অনুযায়ীবড় থেকে ছোট এইভাবে পর পর সাজাবে| 11 শীলমোহরের মতো নামগুলো খোদাই করে সোনা দিয়ে বাঁধিযে নেবে| 12 এবারে ঐ দুটি মণি এফোদের দুই কাঁধে লাগাবে| হারোণ যখন প্রভুর সামনে দাঁড়াবে তখন সে ইস্রায়েলের পুত্রদের নামের স্মারক হিসেবে ঐ বিশেষ আচ্ছাদনটি পরবে| 13 এফোদের দুই কাঁধে যাতে খোদাই করা মণি দুটি সঠিকভাবে আটকে থাকে তার জন্য খাঁটি সোনা ব্যবহার করবে| 14 খাঁটি সোনার দুটি শিকল তৈরী কর, প্রত্যেকটি দড়ির মত পাকানো এবং তাদের ঐ মণি দুটির সঙ্গে আটকে দাও| 15 “মহাযাজকের জন্য বক্ষাবরণ তৈরী করবে| দক্ষ দর্জিরা এফোদের মতোই য়ত্ন করে বক্ষাবরণ তৈরী করবে| বক্ষাবরণ তৈরী হবে সোনার জরি, মসৃণ মসীনা কাপড় ও লাল, নীল, বেগুনী সুতো দিয়ে| 16 বক্ষাবরণটিকে চারকোণা করবার জন্য অবশ্যই দুবার ভাঁজ করতে হবে| এর দৈর্য়্ঘ হবে 1 বিঘত্‌ ও প্রস্থ হবে 1 বিঘত্‌| 17 বক্ষাবরণে চার সারিতে মণিমানিক্য বসাও| প্রথম সারিতে থাকবে চূনী, পীতমণি ও মরকত| 18 দ্বিতীয সারিতে থাকবে পদ্মরাগ, নীলকান্ত ও পান্না| 19 তৃতীয় সারিতে থাকবে পোখরাজ, য়িস্ম ও কটাহেলা| 20 চতুর্থ সারিতে থাকবে বৈদুর্য়্য়, গোমেদ ও সূর্য়্য়কান্ত মণি| এই মণিগুলি নিজের নিজের সারিতে সোনায আঁটা থাকবে| 21 বারোটি মণির ওপর ইস্রায়েলের সন্তানদের নাম আলাদা আলাদা করে খোদাই থাকবে| সীলমোহরের মতো ঐ মণিগুলিতে বারোজনের নাম খোদাই করা থাকবে| 22 “বক্ষাবরণের ওপরের অংশটির জন্য খাঁটি সোনা দিয়ে প্রত্যেকটিকে দড়ির মত পাকিযে শেকল তৈরী কর| 23 দুটো সোনার আংটা লাগানো থাকবে বক্ষাবরণের দুই কোণে| 24 দুটো সোনার চেন বক্ষাবরণের দুপাশের আংটায লাগাবে| 25 পাকানো শেকল দুটির অন্য প্রান্ত এফোদের কাঁধের পট্টিগুলোর সঙ্গে অবশ্যই সামনে দিয়ে জোড়া থাকবে| 26 আরও দুটো সোনার আংটা বানিয়ে বক্ষাবরণের অন্য দুই প্রান্তে লাগাবে| এফোদের পরে বক্ষাবরণের ভিতর ভাগে এই আংটা থাকবে| 27 আরও দুটো সোনার আংটা এফোদের সামনের দিকে কাঁধের পট্টির নীচে লাগাবে| এফোদের কোমর বন্ধনীর ওপরে এই আংটা স্থাপন করতে হবে| 28 বক্ষাবরণ থেকে এফোদ যাতে খসে পড়ে না যায তার জন্য বক্ষাবরণের আংটার সঙ্গে এফোদের আংটা নীল রঙের ফিতে দিয়ে বেঁধে নেবে| এইভাবে বক্ষাবরণ কোমর বন্ধনীর কাছাকাছি থেকে এফোদকেও ধরে রাখতে সক্ষম হবে| 29 “হারোণ পবিত্র স্থানে প্রবেশ করলে তাকে বক্ষাবরণ পরতেই হবে| এইভাবে যখন সে প্রভুর সামনে দাঁড়াবে তখন সে তার বক্ষের ওপর স্মারক হিসেবে ইস্রায়েলের বারোজন সন্তানের নাম পরে থাকবে| 30 আর সেই বক্ষাবরণের অভ্যন্তরে উরীম ও তূম্মীম রাখবে| প্রভুর সামনে গেলে সর্বদা সেগুলি হারোণের হৃদয়ের ওপর থাকবে| এইভাবে হারোণ প্রভুর সামনে ইস্রায়েলের সন্তানদের বিচার প্রতিনিযত নিজের হৃদয়ের ওপর বয়ে নিয়ে বেড়াবে| 31 “এফোদের জন্য একটি সম্পূর্ণরূপে নীল রঙের আলখাল্লা তৈরী করবে| 32 আলখাল্লার মাঝখান দিয়ে মাথা ঢোকানোর জন্য একটি ছিদ্র করবে এবং এই ছিদ্রটির চারধার জুড়ে একটি বোনা কাপড়ের টুকরো সেলাই করে দাও যাতে এটি ছিঁড়ে না যায| এই কাপড় ছিদ্রটির চারদিকে গলাবন্ধনীর কাজ করবে, ফলে তা ছিঁড়ে যাবে না| 33 লাল, নীল, বেগুনী সুতো দিয়ে ডালিমের মতো সুতোর গোলা তৈরী কর এবং আলখাল্লার নীচে ঝুলিয়ে দেবে আর সুতোর বলের মাঝখানে সোনার ছোট ছোট ঘন্টা লাগাবে| 34 পুরো আলখাল্লার নীচের চারিদিকে এই রকম একটা করে সুতোর গোলা ও একটা করে সোনার ঘন্টা লাগানো হবে| 35 যাজকরূপে প্রভুকে সেবা করার সময় হারোণ এই আলখাল্লাটি পরবে| প্রভুর সামনে দাঁড়ানোর জন্য হারোণ পবিত্র স্থানের দিকে এগোলে ঐ ঘন্টাগুলি বাজবে এবং পবিত্র স্থান ছেড়ে বেরনোর সময়ও ঘন্টাগুলি বাজবে| এইভাবে হারোণ কখনও মারা যাবে না| 36 “নির্মল সোনার ফলক বানিয়ে তাতে শীলমোহরের মতো জনগণের উদ্দেশ্যে খোদাই করবে এই কথাগুলি: এটি প্রভুর কাছে উত্সর্গীকৃত| 37 সোনার ফলকটিকে নীল ফিতেতে আবদ্ধ করবে| পাগড়ির ওপর চারিদিকে নীল ফিতে বাঁধা থাকবে| পাগড়ির সামনের দিকে থাকবে সোনার ফলকটি| 38 হারোণ পাগড়ি সমেত ঐ সোনার ফলকটি মাথায় পরবে| আর তা সবসময় হারোণের মাথায় থাকবে| তার ফলে ইস্রায়েলের লোকরা প্রভুকে য়ে সমস্ত উপঢৌকন দেবে হারোণ তা দোষ মুক্ত করে সব কিছু পবিত্র করে তুলবে যাতে সেই সমস্ত উপঢৌকন প্রভু গ্রহণ করতে পারেন| 39 “মসৃণ সাদা মসীনা সুতো দিয়ে আরও একটা আলখাল্লা বুনবে| পাগড়িও বানাবে মসৃণ মসীনা কাপড়ের| চিহ্নিত কোমর বন্ধনী বানাবে| 40 হারোণের পুত্রদের জন্যও গায়ের পোশাক, কোমর বন্ধনী ও পাগড়ি বানাবে| এই পোশাকই তাদের গৌরবান্বিত ও সম্মানিত করবে| 41 এই পোশাকগুলি তোমার ভাই হারোণ ও তার পুত্রদের পরাবে| যাজক হিসেবে অভিষেকের জন্য তাদের গায়ে বিশেষ সুগন্ধি তেল ছেটাবে| এইভাবে তারা পবিত্র হবে এবং প্রভুর সেবা করার য়োগ্য যাজক হয়ে উঠবে| 42 “যাজকদের নগ্নতা ঢাকার জন্য শরীরের ভেতরের পোশাক মসৃণ মসীনা কাপড়ে তৈরী হবে| এই ভেতরের পোশাক তাদের জঙঘা থেকে কোমর পর্য়ন্ত ঢেকে রাখবে| 43 সমাগম তাঁবুতে প্রবেশের সময় হারোণ ও তার পুত্রদের অবশ্যই এই পোশাকগুলি পরাতে হবে| পবিত্র স্থানে প্রভুর সেবার উদ্দেশ্যে বেদীর কাছে আসতে হলে তাদের এই পোশাক পরতে হবে| তারা যদি এই পোশাক না পরে তাহলে তাদের মরতে হবে কারণ তারা অপরাধী| এই পোশাক পরার বিধি হারোণ ও তার পরবর্তী বংশধরদের চিরস্থায়ীভাবে মেনে চলতেই হবে|”

যাত্রাপুস্তক 29

1 প্রভু মোশিকে বললেন, “এখন আমি তোমাকে বলব আমার সেবায বিশেষ যাজক হিসেবে নিয়োগ করার জন্য হারোণ ও তার পুত্রদের কি কি করতে হবে| একটি নির্দোষ ছোট বলদ ও দুটি মেষশাবক জোগাড় করে আনো| 2 তারপর উত্কৃষ্ট মানের গমের আটা থেকে খামিরবিহীন রুটি তৈরী করো এবং একই আটা বা মযদা দিয়ে জলপাইযের তেল মিশিয়ে পিঠে তৈরী করবে| তেলে ভাজা সরু পিঠেও বানাবে| 3 এই রুটি ও পিঠেগুলি ঝুড়িতে ভরবে| এবার এই ঝুড়িটি এবং ষাঁড় ও মেষ দুটি সমাগম তাঁবুতে নিয়ে এসো| 4 “এরপর হারোণ ও তার পুত্রদের সমাগম তাঁবুর দরজায় নিয়ে আসবে| পরিষ্কার জলে তাদের স্নান করাবে| 5 বিশেষভাবে বানানো পোশাকটি হারোণকে পরাবে| তাকে বোনা সাদা পোশাকটি এবং নীল বস্ত্র সমেত এফোদ পরাবে| এফোদের সঙ্গে যুক্ত করবে বক্ষাবরণ| এরপর সুদৃশ্য কোমরবন্ধনী লাগিয়ে দেবে| 6 তার মাথায় পাগড়ি পরাও এবং পাগড়িটি ঘিরে বিশেষ পবিত্র মুকুটটি পরাও| 7 এবার অভিষেকের তেল হারোণের মাথায় ছিটিয়ে দেবে| এইভাবে হারোণ যাজকরূপে অভিষিক্ত হবে| 8 “এরপর হারোণের পুত্রদের ঐ স্থানে নিয়ে এসে সাদা আলখাল্লা পরাবে| 9 তাদের কোমরে বাঁধবে কোমরবন্ধনী| তাদের মাথায় পরাবে শিরোভূষণ| এইভাবে তারা যাজক হিসাবে চিহ্নিত হবে| চিরস্থায়ী অধিকার বিধি অনুযায়ীতারা যাজক পদে উত্তীর্ণ হবে| এইভাবে তুমি হারোণ ও তার পুত্রদের যাজক হিসাবে অভিষিক্ত করবে| 10 “এবার সেই বলদকে সমাগম তাঁবুর সামনে আনো| হারোণ ও তার পুত্ররা সেই বলদের ওপর তাদের হাত রাখবে| 11 সমাগম তাঁবুর প্রবেশপথে ঐ বলদটিকে প্রভুর উপস্থিতিতে বলি দাও| প্রভু তা দেখবেন| 12 সেই বলদ বলির কিছু পরিমাণ রক্ত নাও এবং তোমার আঙ্গুল দিয়ে বেদীর শৃঙ্গগুলির ওপরে ঐ রক্তের প্রলেপ লাগিয়ে দাও| বাকি রক্ত বেদীর নীচে ছড়িয়ে দেবে| 13 এবার বলি দেওয়া সেই বলদের শরীরের সমস্ত চর্বি, য়কৃত্‌ এবং চর্বি এবং দুটো মুত্রগ্রন্থী ও তার চারপাশের চর্বি জড়ো করে বেদীর ওপর জ্বালাবে| 14 এবার ঐ বলদের মাংস, চামড়া এবং গোবর তাঁবুর বাইরে নিয়ে যাও এবং তা আগুনে পুড়িয়ে দাও| এই পদ্ধতিতে যাজকদের পাপমোচনের হোমবলি হবে| 15 “এবার হারোণ ও তার পুত্রদের বলো একটি মেষের ওপর হাত রাখতে| 16 ঐ মেষটিকে কেটে ফেল| তার এবং বলির রক্ত সংগ্রহ কর এবং ঐ রক্ত বেদীর চারপাশে লাগিয়ে দাও| 17 এরপর মেষটিকে খণ্ড খণ্ড করে কাটো| মেষের অভ্যন্তর ভাগ এবং পা-গুলি ধোও| এই অংশগুলি অন্যান্য অংশের সঙ্গে এবং মাথার সঙ্গে রাখো| 18 এবার সেগুলি বেদীতে এনে পুড়িয়ে দেবে| বেদীতে পোড়ালে তা হবে হোমবলি| প্রভুর উদ্দেশ্যে আগুনের উপহার| প্রভু এর গন্ধে খুশী হবেন| 19 “এবার অন্য একটি মেষ নিয়ে এসো এবং হারোণ ও তার পুত্রদের বলো মাথায় হাত রাখতে| 20 ছাগলটিকে বলি দাও ও তার একটু রক্ত নাও এবং সেটি হারোণ ও তার পুত্রদের ডান কানের লতিতে লাগিয়ে দাও| একটু রক্ত লাগাও ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং কিছু রক্ত লাগাবে ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে| এরপর বাকী রক্ত বেদীর চারদিকে ঢেলে দেবে| 21 এবার বেদী থেকে একটু রক্ত তুলে নাও এবং একটি বিশেষ অভিষেকের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে হারোণ ও তার পুত্রদের ওপর ও তাদের পোশাকের ওপর ছিটিয়ে দেবে| এতে বোঝা যাবে য়ে হারোণ ও তার পুত্রদের পোশাকগুলি প্রভুর কাছে উত্সর্গীকৃত| 22 “এরপর সেই মেষের চর্বি ছাড়িয়ে নেবে| (এটা সেই ছাগল বা মেষ য়েটা হারোণের মহাযাজকরূপে অভিষেকের সময় ব্যবহৃত হয়েছে|) বলি দেওয়া ছাগলের লেজের এবং শরীরের ভেতরের চর্বি ছাড়িয়ে নেবে| যকৃত্‌ ও মুত্রগ্রন্থীর ওপরের চর্বি এবং ডান পায়ের চর্বিও সংগ্রহ করবে| 23 এবার প্রভুর সামনে রাখার জন্য খামিরবিহীন রুটি এবং তেলে ভাজা পিঠে ভর্তি ঝুড়িটিকে আনবে| ঝুড়ি থেকে একটি রুটি, একটি তেলেভাজা পিঠে ও একটি ছোট সরুচাক্লী পিঠে তুলে নেবে| 24 এই জিনিসগুলি হারোণ ও তার পুত্রদের দেবে এবং ওদের বলবে এইগুলি হাতে নিতে এবং প্রভুর সামনে সেগুলি দোলাতে| এটা হবে দোলনীয় নৈবেদ্য| 25 এবার এই জিনিসগুলি তাদের কাছ থেকে নিয়ে নাও এবং তাদের বেদীর ওপর রাখো এবং এইগুলি মেষের সঙ্গে পুড়িয়ে দাও| এটি একটি হোমবলি| এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে| 26 “এরপর বলি দেওয়া মেষটির বক্ষ কেটে নেবে| (হারোণের মহাযাজকের পদে অভিষেক উত্সবে এই মেষটিকে ব্যবহার করা হয়েছিল|) মেষটির বক্ষ প্রভুর সামনে দোলনীয় নৈবেদ্যর মত দোলাও এবং তারপরে রেখে দাও| এটি তোমার খাবার জন্য থাকবে| 27 হারোণের মহাযাজকরূপে অভিষেকের শিষ্টাচারে ব্যবহৃত ছাগলের পা ও স্তন এই বিশেষ অঙ্গ দুটি পবিত্র হল| এবার ঐ দুটি অঙ্গ হারোণ ও তার পুত্রদের দিয়ে দেবে| 28 এরপর থেকে সর্বদা ইস্রায়েলের জনগণ প্রভুকে যাজকের মাধ্যমে ঐ বিশেষ অঙ্গ দুটি উত্সর্গ করবে| তারা যখন যাজককে ঐ অঙ্গ দুটি দেবে তা হবে প্রভুকে দেওয়ারই সমান| 29 “বিশেষভাবে তৈরী করা বিশেষ পোশাকগুলো হারোণের জন্য তৈরী করা হলেও সেগুলো যত্ন করে রেখে দেবে| কারণ হারোণের পর য়ে মহাযাজক হবে সে ঐ পোশাকগুলো পরেই প্রভুর সেবা করবে| 30 হারোণের পর তার ছেলেদের মধ্যে থেকেই একজন মহাযাজকের দায়ভার সামলাবে| সে যখন সমাগম তাঁবুতে পবিত্র স্থানের সেবায নিযোজিত হবে তখন সে সাতদিন ঐ পোশাকগুলোই পরবে| 31 “হারোণের মহাযাজকরূপে অভিষেক উত্সবে ব্যবহৃত মেষের মাংস সেদ্ধ কর| পবিত্র স্থানেই ঐ মাংস রান্না হবে| 32 সমাগম তাঁবুর সামনের দরজায় বসে হারোণ ও তার পুত্ররা ঐ রান্না করা মাংস খাবে| ঝুড়ির রুটি দিয়ে তারা মাংস খাবে| 33 এই পদ্ধতিতে তাদের পাপমোচন হবে এবং তারা প্রাযশ্চিত্তের মাধ্যমে যাজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে| আর কাউকে ওগুলো খেতে দেওয়া হবে না, কারণ সেগুলি পবিত্র| 34 যদি কোন খাবার রুটি বা মাংস অবশিষ্ট থাকে তাহলে পরদিন সকালে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলতে হবে| কেউ এ খাবার খাবে না কারণ এই খাবার বিশেষ উপায়ে বিশেষ সময়ে খেতে হয়| 35 “আমার আদেশ মতো তুমি হারোণ ও তার পুত্রদের এগুলি করাবে| আমি যা যা বলেছি তুমি তাদের জন্য ঠিক তাই করবে| তাদের যাজক পদে অভিষেকের শিষ্টাচার সাত দিন ধরে চলবে| 36 সাতদিন ধরে তুমি প্রত্যেকদিনে একটি করে বলদ বলি দেবে| হারোণ ও তার পুত্রদের পাপমোচনের জন্য এই উপায় অবলম্বন করতে হবে| এই প্রাযশ্চিত্ত বেদীকে পূণ্য করার জন্য করতে হবে| এবং বেদীকে পবিত্র করার জন্য জলপাইযের তেল ঢালবে| 37 তুমি সাত দিন ধরে প্রায়শ্চিত্ত করে সাতদিন ধরে বেদীকে পূণ্য ও পবিত্র করে তুলবে| সে সময় বেদীটি অতি পবিত্র স্থান হয়ে উঠবে| বেদীর সংস্পর্শে যা আসবে তাই-ই পবিত্র হয়ে যাবে| 38 “প্রত্যেকদিন তুমি বেদীতে কিছু না কিছু নৈবেদ্য দেবে| তোমাকে এক বছর বয়সের দুটো মেষ বলি দিতেই হবে| 39 একটা মেষকে সকালে ও অন্যটিকে সন্ধ্যায় বলি দেবে| 40 যখন তুমি প্রথম মেষটিকে বলি দেবে তখন তার সঙ্গে এক পোয়া খাঁটি জলপাই তেল আর তিন পোয়া দ্রাক্ষারসের সঙ্গে আট বাটি ভাল গমের আটাও উত্সর্গ করো| 41 এবার দ্বিতীয মেষটি গোধূলি বেলায বলি দেবে| এটির শস্য নৈবেদ্য এবং এটির পেয নৈবেদ্য হবে সকালের নৈবেদ্যর মতোই| এটা হবে একটি সুগন্ধ সৌরভ, প্রভুকে নিবেদিত একটি হোমবলি| এবং প্রভু তা নিঃশ্বাসে গ্রহণ করবেন এবং তার গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে| 42 “প্রভুর প্রতিদিনের নৈবেদ্যগুলোকেই পুড়িয়ে ফেলতে হবে| সমাগম তাঁবুর দরজাতেই এটা করবে| প্রভুকে নৈবেদ্য দেবার সময় সর্বদা এটাই করবে| আমি, প্রভু তোমাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ওখানেই দর্শন দেব| 43 ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গে সাক্ষাত্‌ করব ঐ স্থানেই এবং আমার মহিমা ঐ স্থানকে পবিত্র করে তুলবে| 44 “তাই সমাগম তাঁবুকে আমি পবিত্র করে তুলব এবং বেদীকেও পবিত্র করে তুলব| হারোণ ও তার পুত্ররা যাতে আমাকে যাজক হয়ে সেবা করতে পারে তার জন্য আমি ওদেরও পবিত্র করে তুলব| 45 ইস্রায়েলের লোকদের সঙ্গেই আমি থাকব| আমিই হব তাদের ঈশ্বর| 46 লোকরা জানবে আমিই তাদের প্রভু এবং ঈশ্বর| তারা জানতে পারবে য়ে আমিই ‘সেই জন’ য়ে তাদের নেতৃত্ব দিয়ে মিশর থেকে বের করে এনেছে তাই আমি তাদের মাঝেই বাস করব| আমিই তাদের প্রভু, আমিই তাদের ঈশ্বর|”

যাত্রাপুস্তক 30

1 প্রভু মোশিকে বললেন, “বাবলা কাঠের একটা বেদী তৈরী করবে| ধূপদান হিসাবে এই বেদী ব্যবহার করবে| 2 বেদীটি হবে চারকোণা| বেদীর দৈর্য়্ঘ ও প্রস্থ হবে 1 হাত করে এবং উচ্চতা হবে 2 হাত| বেদীর এই শৃঙ্গগুলি বেদীর সঙ্গে একটি অখণ্ড টুকরো হবে| 3 ওটিকে খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দাও - এর উপরিভাগে, বেদীকে ঘিরে তার চার ধারে এবং বেদীর চারধারে তার শৃঙ্গগুলি সোনার নিকেল দাও| 4 সোনার নিকেলের নীচে বেদীর বিপরীত দুদিকে দুটো সোনার আংটা লাগাবে| এই আংটায দণ্ড ঢুকিয়ে বেদীকে বয়ে নিয়ে যাওয়া হবে| 5 দণ্ডও বাবলা কাঠের হবে এবং দণ্ডকে সোনা দিয়ে মুড়ে দেবে| 6 ধূপবেদীটি বিশেষ পর্দার সামনে বসাও| ঐ পর্দাটি সাক্ষ্যসিন্দুকের ওপর য়ে আচ্ছাদন আছে তার সামনে থাকবে| এটা সেই স্থান সেখানে আমি তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাত্‌ করব| 7 “প্রতি সকালে হারোণ যখন বাতিগুলো ঠিক করতে আসবে তখন সে বেদীতে সুগন্ধি ধূপ জ্বালাবে| 8 সন্ধ্যায যখন সে প্রদীপ জ্বালাতে আসবে তখনও তাকে বেদীতে ধূপ জ্বালাতে হবে| এখন থেকে, এই ধূপ নিয়মিতভাবে প্রভুর সামনে অর্পণ করতে হবে| 9 এই বেদীর ওপর অন্য কোন ধূপ অথবা হোমবলি উত্সর্গ করবে না| কোন রকম শস্য নৈবেদ্য ও পেয় নৈবেদ্যর জন্য এই বেদী ব্যবহার করা হবে না| 10 “বছরে একবার হারোণ প্রভুর প্রতি একটি বিশেষ পশু উত্সর্গ করবে| মানুষের পাপমোচনের উদ্দেশ্যে সে পাপ বলির রক্ত দিয়ে প্রাযশ্চিত্ত করবে| পাপমোচনের নৈবেদ্যর রক্ত দিয়ে এই প্রাযশ্চিত্ত করতে হবে| এটি প্রভুর কাছে সবচেয়ে পবিত্র| এই দিনটি চিহ্নিত হবে প্রাযশ্চিত্তের দিন হিসেবে| এই দিনটি হবে প্রভুর কাছে একটি বিশেষ দিন|” 11 প্রভু মোশিকে বললেন, 12 “ইস্রায়েলের জনসংখ্যা গণনা করো তাহলে বুঝতে পারবে কতজন ইস্রায়েলে বসবাস করে| তাদের প্রত্যেকে প্রভুকে কিছু না কিছু অর্থ দান করবে| যদি প্রত্যেকে এটা মেনে চলে তাহলে তাদের জীবনে কোন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে না| 13 এই লোকদের প্রত্যেককে আমলাতান্ত্রিক মান অনুযায়ী1/2 শেকল দিতে হবে| এই আমলাতান্ত্রিক শেকলের ওজন হল 20 গেরা| এই 1/2 শেকল প্রভুর প্রতি একটি নৈবেদ্য| 14 কুড়ি বছর হলে তাকে গণনার আওতায় আনা হবে| এবং গণনার আওতায় চলে আসা প্রত্যেকে এই নৈবেদ্য দেবে প্রভুর প্রতি| 15 বড় লোকরা 1/2 শেকলের বেশী দেবে না আবার গরীবরা 1/2 শেকলের কম দেবে না| তাদের জীবনের প্রাযশ্চিত্তের জন্য প্রত্যেককে অবশ্যই সমপরিমাণ নৈবেদ্য প্রভুকে অর্পণ করতে হবে| 16 প্রায়শ্চিত্ত নৈবেদ্যর সমস্ত অর্থ জমা কর এবং ঐ অর্থ সমাগম তাঁবুর যাবতীয় খরচের জন্য ব্যবহার কর| এই নৈবেদ্য এরকমভাবে প্রভুকে তাঁর লোকদের কথা মনে রাখাবার জন্য| তারা তাদের নিজেদের জীবনের জন্য মূল্য দেবে|” 17 প্রভু মোশিকে বললেন, 18 “পিতলের একটি পায়া তৈরী করে তার ওপর একটি পিতলের পাত্র বসাবে| এই পাত্রে অন্য সব কিছু পরিষ্কার করে ধোযা হবে| সমাগম তাঁবু ও বেদীর মাঝখানে ঐ পাত্র বসিয়ে তাতে জল ভর্তি করবে| 19 হারোণ ও তার পুত্ররা ঐ পাত্রের জলে তাদের হাত পা ধোবে| 20 যখনই তারা সমাগম তাঁবুতে প্রবেশ করবে অথবা প্রভুর কাছে নৈবেদ্য পোড়াবার জন্য বেদীর কাছে আসবে তখনই তাদের ঐ পাত্রের জল দিয়ে নিজেদের পরিষ্কার করতে হবে যাতে তারা মারা না যায| এটা মেনে চললে তারা মারা যাবে না| 21 যদি তারা মরতে না চায় তাহলে এই বিধি তাদের মেনে চলতে হবে| এই বিধি হারোণ এবং তার উত্তরপুরুষদের চিরকাল মেনে চলতে হবে|” 22 প্রভু মোশিকে বললেন, 23 “সুগন্ধি মশলা খুঁজে আনো| 12 পাউণ্ড ওজনের তরল মস্তকি, 6 পাউণ্ড ওজনের সুগন্ধি দারুচিনি, 6 পাউণ্ড ওজনের সুগন্ধি এবং 24 বারো পাউণ্ড ওজনের সূক্ষ্ম ধরণের দারুচিনি নিয়ে এসো| এগুলিকে প্রচলিত শেকলের মান অনুযায়ীওজন কর| 1 গ্য়ালন জলপাইযের তেলও এনো| 25 “সুগন্ধি অভিষেকের তেল তৈরী করবার জন্য এই জিনিসগুলি বিশেষজ্ঞের মতো মেশাও| 26 সমাগম তাঁবুর ওপর ও সাক্ষ্যসিন্দুকের ওপর ঐ তেল ছিটিয়ে দাও| এর ফলে ঐ জিনিসগুলোর বিশেষত্ব প্রকাশ পাবে| 27 টেবিল এবং টেবিলের ওপর রাখা প্লেটে ওই তেল ছিটোবে| দীপদান ও তার সকল পাত্র ও ধূপবেদীতেও ঐ তেল ছিটোবে| 28 হোমবলির বেদীতে এবং হোমবলির জন্য ব্যবহৃত সমস্ত পাত্রে এবং হাত পা ধোযার সেই পাত্র ও পাত্রের নীচে রাখা পায়াতেও ঐ তেল ছিটিয়ে দাও| 29 প্রভুর সেবার জন্য এই সমস্ত জিনিসগুলোকে তোমাকে পবিত্র করে তুলতে হবে| তাহলেই তারা পবিত্র হয়ে উঠবে| এই জিনিসগুলোকে অন্য কিছু স্পর্শ করলে সেগুলোও পবিত্র হয়ে উঠবে| 30 “যাজকরূপে বিশেষ উপায়ে আমাকে সেবার জন্য হারোণ ও তার পুত্রদের গায়েও ঐ তেল ছিটিয়ে দেবে| 31 ইস্রায়েলের লোকদের বলো য়ে এই অভিষেকের তেল হল পবিত্র| ইস্রায়েলের লোকদের বলো য়ে এই তেল অবশ্যই তোমাদের বংশ পরম্পরায একমাত্র আমার জন্যই ব্যবহৃত হবে| 32 সাধারণ সুগন্ধি হিসেবে কেউ য়েন এই তেল ব্যবহার না করে| এই সূত্র অনুসারে অন্য কোন তেল তৈরী করবে না| এই তেল পবিত্র এবং তোমাদের কাছে এর বিশেষ অর্থ আছে| 33 যদি কেউ এই পবিত্র তেল সাধারণ সুগন্ধি হিসাবে তৈরী করে অথবা এটি কারো ওপর আরোপ করে, তার লোকদের থেকে তাকে বিতাড়িত করে দেওয়া হবে|” 34 এরপর প্রভু মোশিকে বললেন, “এই সুগন্ধি মশলাগুলো জোগাড় করে আনো: ধুনো, নখী, গুগ্গুল, কুন্দুরু| মনে রাখবে প্রত্যেকটি মশলার পরিমাণ হবে সমান| 35 পরিষ্কার লবনের সঙ্গে এই সুগন্ধি মশলাগুলো মেশাও এবং সুগন্ধি তৈরী করার মতো সুগন্ধি ধূপ বানাও| এই প্রক্রিযা ধূপকে খাঁটি এবং পবিত্র করবে| 36 খানিকটা পাউডারের মতো ধূপের গুঁড়ো করে নিয়ে সেই মিহি করা ধূপের গুঁড়ো য়ে সমাগম তাঁবুতে আমি তোমাদের দর্শন দেব তার মধ্যে রাখা সাক্ষ্যসিন্দুকের সামনে রাখবে| বিশেষ প্রযোজনেই শুধুমাত্র এই ধূপের গুঁড়ো ব্যবহার করবে| 37 প্রভুর জন্য বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এর ব্যবহার হবে না| 38 সুগন্ধি ধূপের গন্ধ অনুভব করতে কেউ যদি নিজের জন্য এই ধূপের গুঁড়ো নিয়ে যায তাহলে সে সমাজচ্য়ূত হবে|”

যাত্রাপুস্তক 31

1 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, 2 “আমার বিশেষ কাজের জন্য আমি যিহূদা বংশীয় একজনকে নির্বাচন করেছি| তার নাম হল বত্সলেল| বত্সলেল হল হূরের পৌত্র এবং উরির পুত্র| 3 আমি বত্সলেলকে ঈশ্বরের আত্মা, পটুতা, দক্ষতা এবং সমস্ত রকমের কলা ও শিল্পের জ্ঞান দিয়ে ভরে দিয়েছি| 4 বত্সলেল একজন ভাল শিল্পকার এবং সে সোনা, রূপো ও পিতল থেকে নানা জিনিসপত্র তৈরী করতে পারে| 5 বত্সলেল নানা মণি মাণিক্য কাটতে ও তাতে খোদাই করে সুন্দর অলঙ্কার তৈরী করতে পারে| সে কাঠের শিল্পকর্মেও পারদর্শী| বত্সলেল সব ধরণের কাজ করতে পারে| 6 বত্সলেলের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি অহলীযাবকে নির্বাচন করেছি| অহলীযাব হল দান পরিবারগোষ্ঠীর অহীষামকের পুত্র| আমি বাকী কারিগরদের সব রকম দক্ষতা দিয়েছি যাতে ওরা তোমাকে দেওয়া আমার নির্দেশগুলো পালন করতে পারে: 7 সমাগম তাঁবু, সাক্ষ্যসিন্দুক, সাক্ষ্য সিন্দুকের ওপরের আচ্ছাদন এবং সমাগম তাঁবুর সমস্ত আসবাবপত্র| 8 টেবিল ও তার ওপর রাখা যাবতীয় সব কিছু, আনুষঙ্গিক অংশসহ খাঁটি সোনার বাতিস্তম্ভটি এবং ধূপবেদী| 9 হোমবলির বেদী এবং বেদীতে ব্যবহৃত জিনিসপত্র| হাত পা ধোযার পাত্র ও পাত্রের নীচের পায়া| 10 যাজক হারোণের জন্য বোনা বিশেষ পোশাক পরিচ্ছদ এবং হারোণের পুত্ররা যখন যাজকের কাজ করবে তখন তাদের জন্য বোনা বিশেষ পোশাক পরিচ্ছদ| 11 সুগন্ধি অভিষেকের তেল, পবিত্র স্থানে ব্যবহারের সুগন্ধি ধূপ|আমি তোমাকে ঠিক য়েভাবে নির্দেশ দিয়েছি ঠিক সেইভাবেই তাদের এই জিনিসগুলো তৈরী করতে হবে|” 12 প্রভু মোশিকে বললেন, 13 “ইস্রায়েলের লোকদের এই কথাগুলি বলো: তোমরা অবশ্যই আমার বিশ্রামের দিন বিধি অনুসারে পালন করবে| তোমরা এটা অবশ্যই করবে কারণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটা তোমার এবং আমার মধ্যে একটি প্রতীক চিহ্ন হিসাবে বিরাজ করবে| এই চিহ্ন দেখাবে য়ে, আমিই প্রভু, তোমাদের পবিত্র করেছি| 14 “এই বিশ্রামের দিনকে একটি বিশেষ দিনের মর্য়াদা দেবে| যদি কেউ এই বিশেষ বিশ্রামের দিনকে অন্য একটি সাধারণ দিনের মতো পালন করে তাহলে তাকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে| যদি কেউ এই বিশ্রামের দিনেও কাজ করে, তাহলে তাকে তার লোকদের থেকে বিতাড়িত করতে হবে| 15 কাজ করার জন্য সপ্তাহের বাকি ছয় দিন নির্দিষ্ট থাকবে কিন্তু সপ্তম দিনটি হবে বিশেষ বিশ্রামের দিন| এই দিনটি তোলা থাকবে প্রভুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দিন হিসেবে| এই বিশেষ বিশ্রামের দিনে কেউ কাজ করলে তার মৃত্য়ু অনিবার্য়| 16 বিশ্রামের দিনটিকে সর্বদা মনে রেখে ইস্রায়েলের মানুষ বিশেষ দিন হিসেবে পালন করবে| তারা সর্বদা এটা মেনে চলবে| এটা হল আমার ও তাদের মধ্যে এক চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত| 17 বিশ্রামের দিনটি একটি চিরস্থায়ী চিহ্ন হিসেবে বেঁচে থাকবে আমার ও ইস্রায়েলের লোকদের মধ্যে| প্রভু সপ্তাহের ছয় দিন পরিশ্রম করে এই স্বর্গ ও মর্য়্ত তৈরী করেছেন| কিন্তু সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম ও অবসরের মধ্যে কাটিযেছেন|” 18 সীনয় পর্বতে এরপর প্রভু মোশির সঙ্গে কথোপকথন শেষ করলেন| তারপর তিনি বন্দোবস্ত লেখা দুটো সমান্তরাল পাথর ফলক মোশিকে দিলেন| ঈশ্বর নিজের হাতে ঐ দুই পাথর ফলকে লিখেছেন|

যাত্রাপুস্তক 32

1 পর্বত থেকে মোশির নামতে দেরী হচ্ছে দেখে লোকরা উদ্বিগ্ন হয়ে হারোণকে ঘিরে ধরল| তারা বলল, “মোশি আমাদের পথ দেখিয়ে মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছে কিন্তু আমরা তো এখান থেকে কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না য়ে মোশির কি হয়েছে| সুতরাং এসো, আমরা আমাদের নেতৃত্ব দেবার জন্য দেবতাদের তৈরী করি|” 2 হারোণ তখন ঐ লোকদের বলল, “তোমরা আমার কাছে তোমাদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের কানের সোনার দুল এনে দাও|” 3 সুতরাং সবাই তাদের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদের কানের দুল এনে হারোণকে দিল| 4 হারোণ সবার কাছ থেকে সোনার দুলগুলো নিয়ে সেগুলো গলিযে একটি বাছুরের মূর্তি গড়ল| হারোণ বাটালি দিয়ে বাছুরের মূর্তি গড়ল এবং সোনা দিয়ে মূর্তিটির আচ্ছাদন তৈরী করল|তখন লোকরা বলল, “হে ইস্রায়েল, এই তোমার দেবতা যিনি তোমাকে মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছেন|” 5 সব দেখার পর হারোণ বাছুরের মূর্তির সামনে একটি বেদী তৈরী করল| এরপর হারোণ ঘোষণা করে জানাল, “আগামীকাল প্রভুর সম্মানার্থে একটি বিশেষ চড়ুই ভাতি উত্সব পালন করা হবে|” 6 পরদিন খুব ভোরে লোকরা উঠে কিছু পশুকে মেরে হোমবলি ও মঙ্গল নৈবেদ্য দিল| তারপর তারা বসে পাত পেড়ে খাওয়া দাওযা করে আনন্দ স্ফূর্তিতে মেতে উঠল| 7 ঠিক সেই সমযে প্রভু মোশিকে বললেন, “তোমার লোকরা, যাদের তুমি মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছো, তারা মারাত্মক পাপ কাজে লিপ্ত হয়েছে| 8 আমার নির্দেশ সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করে সোনা গলিযে তারা একটি বাছুরের মূর্তি তৈরী করেছে| তারা গলা সোনা দিয়ে তৈরী একটি বাছুরের মূর্তিকে পূজো করছে এবং তাকে নৈবেদ্য দিচ্ছে| আবার তারা বলছে, ‘ইস্রায়েল, এই হচ্ছে তোমার দেবতা যিনি তোমাকে মিশর থেকে বের করে এনেছেন|” 9 প্রভু মোশিকে বললেন, “আমি ঐ লোকদের ভাল করে চিনি| ওরা ভীষণ জেদী ও উদ্ধত| 10 সুতরাং আমাকে একা থাকতে দাও| আমি তাদের ওপর ক্রুদ্ধ, আমি তাদের ধ্বংস করব| তারপর আমি তোমাকে দিয়ে একটা বড় জাতির সৃষ্টি করব|” 11 কিন্তু মোশি বিনযের সঙ্গে, প্রভু তার ঈশ্বরকে অনুরোধ করল, “আপনি ক্রোধ দিয়ে আপনার লোকদের ধ্বংস করবেন না| আপনি আপনার শক্তি ও পরাক্রম দিয়ে ঐ মানুষদের মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছিলেন| 12 কিন্তু আপনি যদি ওদের ধ্বংস করেন তাহলে মিশরীয়রা বলতে পারে য়ে, ‘প্রভু নিজের লোকদের জন্য খারাপ কিছু করার পরিকল্পনা করেছিলেন| তাই তিনি ঐ লোকদের মিশর থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিলেন| তিনি চেযেছিলেন পর্বতের ওপর নিয়ে গিয়ে তাদের হত্যা করতে| তিনি চেযেছিলেন তাদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে| তাই আপনি তাদের ওপর রাগ করবেন না| দযা করে আপনার মনকে বদলান| আপনার জনগণকে ধ্বংস করবেন না| 13 আপনার দাসগণ অব্রাহাম, ইসহাক এবং যাকোবকে স্মরণ করুন| এবং আপনি তাদের কাছে নিজের নামে শপথ নিয়ে বলেছিলেন: ‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি য়ে আকাশের অসংখ্য তারার মতো তোমাদের বংশ বৃদ্ধি হবে| এই দেশ তোমাদের বংশধরদের দিয়ে দেব| ওরা এখানে চিরকালের জন্য থাকবে|”‘ 14 তাই প্রভু তাঁর মন পরিবর্তন করলেন এবং তাঁর লোকদের ধ্বংস করবার ভীতি প্রদর্শন পালন করলেন না| 15 তখন মোশি ঘুরে দাঁড়াল এবং পর্বতের নীচে নামল| তার হাতে ছিল বন্দোবস্ত লেখা দুই পাথর ফলক| ঐ দুই পাথর ফলকের দুপাশেই লেখা ছিল প্রভুর নির্দেশগুলি| 16 ঈশ্বর নিজের হাতে ঐ দুই পাথর ফলক তৈরী করে নিজেই ঐ নির্দেশগুলি লিখেছেন| 17 যিহোশূয় শিবিরের গভীরে লোকজনের কোলাহল শুনতে পেল এবং মোশিকে বলল, “মনে হচ্ছে শিবিরের লোকরা যুদ্ধ করছে|” 18 উত্তরে মোশি বলল, “এই কোলাহল কোন যুদ্ধ জয়ের উল্লাস নয় আবার পরাজয়ের কান্নাও নয়| আমি কিন্তু গান বাজনা শুনতে পাচ্ছি|” 19 মোশি সেই শিবিরের কাছে গেল| সে দেখল সোনার বাছুরের মূর্তিটি এবং লোকরা তা নিয়ে নাচানাচি করছে| এসব দেখে মোশি রেগে গেল, রাগের চোটে হাত থেকে পাথর ফলকগুলি নীচে ফেলে দিল এবং পর্বতের পাদদেশে তাদের ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিল| 20 মোশি সেই সোনার বাছুরের মূর্তিকে আগুনে ছুঁড়ে ফেলে দিল| তারপর আগুনে সেই মূর্তি গলে গেলে সেই ছাই জলে মিশিয়ে ইস্রায়েলের লোকদের সেই জল পান করতে বাধ্য করল| 21 মোশি হারোণকে বলল, “এই লোকরা তোমার সঙ্গে কি করেছিল য়ে তুমি ওদের এমন পাপের দিকে ঠেলে দিলে?” 22 হারোণ উত্তর দিল, “মহাশয, রাগ করো না| তুমি তো জানো এরা সব সময়ই ভুল পথে পা বাড়ায| 23 ওরা আমায বলেছিল, ‘মোশি আমাদের মিশর দেশ থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বের করে আনলেও এখন কিন্তু তার কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না| তাই আমাদের জন্য এমন দেবতাসমূহ তৈরী করে দাও যারা আমাদের নেতৃত্ব দেবে|” 24 তখন আমি ওদের বলেছিলাম, ‘যদি তোমাদের কোন সোনার দুল থাকে তাহলে আমাকে সব দাও|’ ওরা আমাকে সোনার দুল দিলে আমি সেগুলো আগুনে ফেলে দিলে আগুন থেকে ঐ বাছুরটি বের হয়ে এলো|” 25 মোশি দেখল হারোণ লোকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিযেছে এবং তারা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছে| লোকরা বন্য হয়ে উঠেছে| এবং তাদের সমস্ত শত্রুরা এই বোকামী দেখতে পেয়েছে| 26 তাই মোশি সেই শিবিরের প্রবেশ দ্বারে দাঁড়িয়ে বলে উঠল, “কেউ যদি প্রভুকে অনুসরণ করতে চাও তাহলে আমার কাছে এসো|” এবং লেবি বংশজাত লোকরা সবাই দৌড়ে মোশির কাছে চলে এল| 27 তখন মোশি তাদের বলল, “প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর কি বলেন তা আমি তোমাদের বলব: ‘প্রত্যেকে তার নিজের নিজের তরবারি হাতে তুলে নিয়ে শিবিরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে গিয়ে সমস্ত লোকদের হত্যা করে তাদের শাস্তি দাও| প্রত্যেকে তার বন্ধু ভাই এবং প্রতিবেশীকে হত্যা করবে|” 28 লেবি বংশজাত প্রত্যেক মানুষ মোশির নির্দেশ পালন করল| সেই দিন অন্তত 3000 ইস্রায়েলবাসীকে হত্যা করা হয়েছিল| 29 তখন মোশি বলল, “আজ থেকে প্রভু তোমাদের তাঁর সেবার জন্য উত্সর্গ করেছেন এবং আজ তিনি তোমাদের আশীর্বাদ করেছেন কারণ তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের পুত্রদের এবং ভাইদের বিরুদ্ধে ঝগড়া করেছ|” 30 পরদিন সকালে মোশি সবাইকে বলল, “তোমরা মারাত্মক পাপ কাজ করেছো কিন্তু এখন আমি প্রভুর কাছে যাব এবং চেষ্টা করব যাতে তিনি তোমাদের এই পাপকে ক্ষমা করে দেন|” 31 সুতরাং মোশি আবার প্রভুর কাছে ফিরে গিয়ে বলল, প্রভু অনুগ্রহ করে শুনুন| ওরা সোনার দেবতা তৈরী করে মারাত্মক পাপ করেছে| 32 এখন আপনি ওদের এই পাপকে ক্ষমা করে দিন| যদি আপনি ওদের ক্ষমা না করেন তাহলে আপনার লেখা পুস্তকথেকে আমার নাম মুছে দিন|” 33 প্রভু মোশিকে বললেন, “য়ে আমার বিরুদ্ধে পাপ কাজ করেছে আমি কেবল তার নামই আমার পুস্তক থেকে কেটে ফেলব| 34 তাই এখন তুমি নীচে গিয়ে লোকদের য়ে দেশে নিয়ে য়েতে বলেছি সেই দেশে নিয়ে যাও| আমার দূত তোমাদের আগে পথ দেখাতে দেখাতে যাবে, পাপীর যখন বিনাশের সময় হবে তখন সে শাস্তি পাবেই|” 35 তাই প্রভু লোকদের ওপর একটি মহামারী ঘটালেন কারণ তারা হারোণকে বাছুরের মূর্তি তৈরী করতে বাধ্য করেছিল|

যাত্রাপুস্তক 33

1 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, “তুমি এবং তোমার লোকদের, যাদের তুমি মিশর থেকে এনেছিলে তাদের অবশ্যই এখান থেকে চলে য়েতে হবে| অব্রাহাম, ইস্হাক ও যাকোবকে আমি য়ে দেশ দেব বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সেই দেশে চলে যাও| আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম য়ে আমি ওদের পরবর্তী উত্তরপুরুষদের ঐ দেশ দিয়ে যাব| 2 তাই আমি তোমার আগে একজন দূত পাঠাব এবং কনানীয, ইমোরীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের পরাজিত করে ঐ দেশ থেকে তাড়িয়ে দেব| 3 তোমরা সেই ভাল দেশে যাও সেখানে সব কিছু সুন্দর| কিন্তু আমি তোমার সঙ্গে যাব না| তোমরা ভীষণ একগুঁযে ও জেদী| তোমরা আমাকে ক্রুদ্ধ করেছ| যদি আমি তোমাদের সঙ্গে যাই তাহলে হয়তো আমি তোমাদের ধ্বংস করতে পারি|” 4 এই দুঃসংবাদ শোনার পর লোকরা ভীষন হতাশ হয়ে পড়ল এবং তারা মণিমাণিক্য ব্যবহার করা বন্ধ করে দিল| 5 কেন? কারণ মোশিকে প্রভু বলেছেন, “ইস্রায়েলবাসীকে বলো, “তোমরা একগুঁয়ে জেদী প্রকৃতির মানুষ| খুব কম সমযের জন্যও আমি যদি তোমাদের সঙ্গে ভ্রমণ করি তাহলে তোমাদের বিনাশ হতে পারে| সুতরাং যখন আমি স্থির করব ইস্রায়েলকে কি করতে হবে তখন তোমরা নিজেদের দেহ থেকে অলঙ্কারাদি খুলে ফেল|” 6 সুতরাং ইস্রায়েলবাসীরা হোরেব পর্বত থেকে তাদের যাত্রাপথে নিজেদের অলঙ্কারাদি খুলে ফেলল| 7 মোশি শিবিরের একটু দূরে অন্য একটি তাঁবু স্থাপন করল| মোশি এই তাঁবুর নাম দিল “সমাগম তাঁবু|” প্রভুকে কেউ যদি কিছু জিজ্ঞাসা করতে চায তাহলে সে শিবিরের বাইরে ঐ সমাগম তাঁবুতে য়েতে পারে| 8 যখন খুশি মোশি ঐ সমাগম তাঁবুতে য়েত| সবাই তাকে লক্ষ্য করত| সকলে নিজস্ব তাঁবুর দরজায় দাঁড়িয়ে মোশির সমাগম তাঁবুর অভ্যন্তরে যাওয়া দেখতো| 9 মোশি যখনই ঐ সমাগম তাঁবুতে প্রবেশ করতো তখনই তাঁবুর দরজায় মেঘস্তম্ভ নেমে আসত এবং প্রভু তখন মোশির সঙ্গে কথা বলতেন| 10 লোকরা সমাগম তাঁবুর দরজায় মেঘস্তম্ভ দেখতে পেলেই তারা নিজের নিজের তাঁবুর মধ্যে হাঁটু গেড়ে ঈশ্বরের উপাসনা করতো| 11 এভাবেই প্রভু মোশির সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলত| প্রভু বন্ধুর মতো মোশির সঙ্গে কথা বলতেন| প্রভুর সঙ্গে কথা শেষ করার পর মোশি শিবিরে ফিরে য়েত কিন্তু মোশির পরিচারক (দাস), নূনের পুত্র যিহোশূয় তাঁবুর বাইরে বেরোত না| 12 মোশি প্রভুকে বলল, “আপনি এই লোকদের নেতৃত্ব দিতে বলেছিলেন কিন্তু আমার সঙ্গে আপনি কাকে পাঠাবেন তা কিন্তু বলেন নি| আপনি বলেছেন, ‘আমি তোমাকে ভাল করে চিনি এবং তোমার ওপর আমি সন্তুষ্ট|’ 13 আমি যদি সত্যিই আপনাকে সন্তুষ্ট করে থাকি তাহলে আমাকে আপনার শিক্ষা ও জ্ঞান দিন| আমি আপনাকে জানতে চাই| তাহলে আমি আপনাকে বরাবর সন্তুষ্ট করতে পারব| মনে রাখবেন য়ে তাদের সবাই আপনার লোক|” 14 প্রভু উত্তরে বললেন, “আমি নিজে তোমার সঙ্গে যাব, আমি তোমাকে বিশ্রাম দেব|” 15 তখন মোশি প্রভুকে বললেন, “আপনি যদি আমাদের সঙ্গে না যান তাহলে আমাদের এই স্থান থেকে সরাবেন না| 16 তাছাড়া, আমরা কি করে বুঝব আপনি আমার এবং আপনার লোকদের ওপর সন্তুষ্ট? আপনি যদি আমাদের সঙ্গে যান তাহলে বুঝব আপনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন| আপনি যদি আমাদের সঙ্গে না আসেন, তাহলে আমার এবং আপনার লোকদের মধ্যে এবং পৃথিবীর অন্য জাতির মধ্যে আর কোন পার্থক্য থাকবে না|” 17 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, “বেশ আমি তোমার ইচ্ছা পূরণ করব| কারণ আমি তোমার ওপর সন্তুষ্ট এবং আমি তোমাকে ভাল করে জানি|” 18 তখন মোশি বলল, “দযা করে আপনার মহিমা আমায় দেখান|” 19 তখন প্রভু উত্তর দিলেন, “আমি আমার সমস্ত গুণাবলীকে তোমার সামনে দিয়ে গমণ করাবো| আমিই প্রভু এবং তোমরা যাতে শুনতে পাও সেইজন্য আমি আমার নাম ঘোষণা করব| কারণ আমার যাকে খুশী আমি আমার করুণা ও ভালবাসা দেখাতে পারি| 20 কিন্তু তোমরা আমার মুখ দেখতে পাবে না| আমাকে দেখার পর কেউ বাঁচতে পারবে না| 21 “আমার খুব কাছেই একটি পাথর আছে তোমরা সেই পাথরের ওপর দাঁড়াতে পারো| 22 ঐ স্থান দিয়েই আমার মহিমা প্রকাশ পাবে| আমি তোমাদের ঐ পাথরের একটি বিশাল ফাটলে রেখে দেব এবং আমি যখন ওখান দিয়ে যাব তখন আমার হাত তোমাদের ঢেকে দেবে| 23 এরপর আমি তোমাদের ওপর থেকে হাত সরিয়ে নেব এবং তোমরা আমার পিছন দিক দেখতে পাবে কিন্তু আমার মুখ দেখতে পাবে না|”

যাত্রাপুস্তক 34

1 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, “পূর্ববর্তী দুটি প্রস্তর ফলকের মতো, য়ে দুটি তুমি ভেঙ্গেছিলে আরো দুটি প্রস্তর ফলক তুমি তৈরী কর| প্রথম ফলক দুটিতে য়েসব কথা লেখা হয়েছিল সেইসব কথা আমি আবার এই ফলক দুটিতে লিখব| 2 কাল সকালে প্রস্তুত হয়ে নিও এবং আমার সঙ্গে দেখা করবার জন্য সীনয় পর্বতের চূড়ায় এসো| 3 আর কেউ তোমার সঙ্গে আসবে না| অন্য কাউকে য়েন পর্বতের কোথাও না দেখা যায| এমনকি কোনও পশুর দল বা মেষের পালকেও পর্বতের নীচে চরতে দেওয়া যাবে না|” 4 তাই মোশি প্রথম পাথরের ফলকের মতো আরও দুটি ফলক তৈরী করল| তারপর পরদিন সকালে উঠে সীনয় পর্বতের চূড়ায় গেল| মোশি প্রভুর আদেশ অনুসারে সব কিছু করল| সে পাথরের ফলক দুটি সঙ্গে করে নিয়ে গেল| 5 অতঃপর প্রভু মেঘের মধ্যে মোশির কাছে নেমে এলেন এবং তার সঙ্গে দাঁড়ালেন এবং তাঁর নাম (প্রভুর) ঘোষণা করলেন| 6 প্রভু মোশির সামনে দিয়ে গেলেন এবং বললেন, “যিহোবা, প্রভু হলেন দয়ালু ও করুণাময়| তিনি ক্রোধের ব্যাপারে ধৈর্য়্য়শীল| তিনি পরমস্নেহে পরিপূর্ণ এবং বিশ্বস্ত| 7 হাজার হাজার পুরুষ ধরে প্রভু তাঁর করুণা দেখান| তিনি ভুল কাজ, অবাধ্যতা এবং পাপ ক্ষমা করে দেন| কিন্তু তবু তিনি দোষীদের শাস্তি দিতে ভোলেন না| তিনি কেবলমাত্র দোষীদেরই শাস্তি দেন না, তাদের দণ্ডনীয অপরাধের জন্য তাদের তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষের উত্তরপুরুষদেরও শাস্তি দেন|” 8 তখন মোশি সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু গেড়ে বসল ও আভুমি মাথা নত করে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করল এবং বলল, 9 “প্রভু, আপনি যদি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হন তাহলে আমাদের সঙ্গে চলুন| আমি জানি আমরা জেদী কিন্তু আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দিন| আমাদের ওপর আপনার নিজের পূর্ণ অধিকার আছে বলে মনে করুন এবং আমাদের গ্রহণ করুন|” 10 তখন প্রভু বললেন, “আমি তোমার লোকদের সঙ্গে এই চুক্তি করি য়ে আমি তোমার লোকদের সামনে এমন সব আশ্চর্য়্য় কার্য়্য় করব যা ইতিপূর্বে পৃথিবীর কোনও দেশে হয় নি| তখন তোমাদের চারপাশের সমস্ত জাতিসমূহ দেখতে পাবে আমি কত মহান| তারা এইসব আশ্চর্য়্য় জিনিস দেখবে যা আমি তোমাদের জন্য করব| 11 আমি যা আদেশ দিচ্ছি, আজ তা পালন কর তাহলে আমি তোমাদের শত্রুদের তোমাদের দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করব| আমি ইমোরীয়, কনানীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় ও যিবূষীয়দের বিতাড়ন করব| 12 সাবধান! তোমরা যেখানে যাচ্ছো সেখানকার লোকদের সঙ্গে কোনও চুক্তি কোরো না| তাহলে তোমরা বিপদে পড়বে| 13 তাদের বেদী ধ্বংস কর| য়ে পাথরকে তারা পূজো করে তা ভেঙ্গে ফেলো| তাদের পবিত্র দণ্ডগুলি ধ্বংস করো| 14 অন্য কোনও দেবতাকে পূজা করো না কারণ আমার নাম “ঈর্ষা|” আমি হলাম ঈর্ষাপরাযণ ঈশ্বর| 15 “ঐ দেশের লোকদের সঙ্গে কোনও চুক্তি না করার ব্যাপারে সাবধান থেকো| কারণ তোমরা তাদের দেবতাদের পূজো করে এবং তাদের নৈবেদ্য উত্সর্গ করে ব্যভিচার করবে| তারা তাদের নৈবেদ্য ভক্ষণ করতে তোমাদের নিমন্ত্রণ করবে| 16 তোমরা যদি তাদের কন্যাদের পুত্রবধূরূপে গ্রহণ করো তাহলে ঐ মহিলারা তোমাদের পুত্রদের তাদের ঐ দেবতাদের পূজো করাবে এবং তারা তোমাদের পুত্রদের প্রভুর প্রতি অবিশ্বস্ত করে তুলবে| 17 “কোনও মূর্ত্তি তৈরী করবে না| 18 “খামিরবিহীন রুটির উত্সব পালন করবে| আমি তোমাদের য়েমন আদেশ দিয়েছিলাম সেই মতো সাতদিন ধরে খামিরবিহীন রুটি খাবে| তোমরা এটা আবীব মাসে করবে কারণ ঐ মাসে তোমরা মিশর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলে| 19 “কোনও নারীর প্রথম গর্ভজাত পুত্র সন্তান হবে আমার| এমনকি গবাদি পশুর অথবা মেষের প্রথমজাত পুরুষশাবকও আমার অধিকারভুক্ত| 20 তোমরা যদি গাধার প্রথমজাত পুরুষশাবককে রাখতে চাও, তবে তোমরা একটি মেষশাবকের বিনিময়ে তা রাখতে পারো| কিন্তু তোমরা যদি ঐ গাধার শাবকটিকে একটি মেষের বিনিময়ে না কেনো তাহলে তোমাদের ঐ গাধার ঘাড় মটকাতে হবে| তোমাদের সমস্ত প্রথমজাত পুত্র সন্তানদের আমার কাছে থেকে ফেরত্‌ নিতে হবে| কিন্তু কোনও লোকই উপহার ছাড়া আমার কাছে আসবে না| 21 “তোমরা ছয়দিন যাবত্‌ পরিশ্রম করবে ও সপ্তম দিনে বিশ্রাম নেবে| চাষের বীজ রোপন ও ফসল কাটার সময় তোমরা অবশ্যই বিশ্রাম নেবে| 22 “সাত সপ্তাহের উত্সব পালন করবে| গম কাটার পর প্রথম কাটা ফসলের দানাগুলো এই উত্সবের জন্য ব্যবহার করবে এবং বছরের শেষে ফসল কাটার উত্সব পালন করবে| 23 “বছরে তিনবার তোমাদের সমস্ত লোক সর্বশক্তিমান প্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সামনে উপস্থিত হবে| 24 “তোমরা যখন তোমাদের দেশে যাবে তখন আমি তোমাদের শত্রুদের সেখান থেকে বিতাড়িত করতে বাধ্য করব| আমি তোমাদের দেশের সীমা বিস্তার করে দেব যাতে তোমরা আরও বেশী জমি পাও| তোমাদের অবশ্যই প্রতি বছরে তিনবার প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের সামনে য়েতে হবে| এবং তখন কেউ তোমাদের দেশ অধিকার করার চেষ্টা করবে না| 25 “যখন তোমরা আমাকে নৈবেদ্য হিসাবে রক্ত উত্সর্গ করবে তখন তার সঙ্গে খামির দেবে না|“নিস্তারপর্বে উত্সর্গীকৃত মাংস পরদিন সকাল পর্য়ন্ত রাখা উচিত্‌ হবে না| 26 “তোমাদের ক্ষেতের প্রথম ফসল প্রভুকে দেবে| ঐ ফসল প্রভু, তোমাদের ঈশ্বরের গৃহে নিয়ে আসবে|“কখনও কোনও ছাগশিশুকে তার মায়ের দুধ দিয়ে রান্না করবে না|” 27 তারপর প্রভু মোশিকে বললেন, “তোমাকে আমি যা বলেছি সব কিছু লিখে রাখো| এইগুলিই হল তোমার এবং ইস্রায়েলের লোকদের মধ্যে চুক্তির দলিল|” 28 মোশি সেখানে প্রভুর সঙ্গে 40 দিন ও 40 রাত বাস করেছিল| মোশি 40 দিন কোন কিছু ভোজন করল না বা জল পান করল না| মোশি দুটি পাথরের ফলকের ওপর চুক্তির কথাগুলি লিখেছিল| 29 তারপর মোশি সীনয় পর্বত থেকে নেমে এল| সে সেই চুক্তি লেখা পাথরের ফলক দুটি বয়ে নিয়ে এল| প্রভুর সঙ্গে কথা বলার পর মোশির মুখ জ্বলজ্বল করছিল| কিন্তু মোশি নিজে তা জানত না| 30 হারোণ ও ইস্রায়েলের অন্য সব লোকরা তার উজ্জ্বল মুখ দেখে তার কাছে য়েতে ভয় পাচ্ছিল| 31 তখন মোশি তাদের ডেকে পাঠাল| মোশি হারোণ এবং দলপতির সঙ্গে কথা বলল| 32 তারপর সমস্ত ইস্রায়েলবাসী মোশির কাছে এল| সীনয় পর্বতে প্রভু য়েসব আদেশ দিয়েছেন মোশি সেই আদেশের কথা তাদের শোনাল| 33 মোশি তার কথা শেষ করে নিজের মুখ আবরণ দিয়ে ঢেকে ফেলল| 34 কিন্তু মোশি যখনই প্রভুর সঙ্গে কথা বলতে য়েত তখন সে যতক্ষণ না বাইরে আসত ততক্ষণ সেই আবরণ খুলে রাখত| মোশি যখন প্রভুর সান্নিধ্য থেকে বেরিয়ে আসত এবং ইস্রায়েলের লোকদের প্রভুর আদেশসমূহ বলত, 35 তখন তারা মোশির মুখমণ্ডলের ওপর একটি দীপ্তি দেখতে পেত| তাই সে আবার তার মুখ ঢেকে ফেলত, পরের বার প্রভুর সঙ্গে কথা বলতে না যাওয়া পর্য়ন্ত সে ঐভাবেই মুখ ঢেকে রাখত|

যাত্রাপুস্তক 35

1 মোশি সমস্ত ইস্রায়েলবাসীকে একত্র করল| সে তাদের বলল, “প্রভু তোমাদের যা আদেশ করেছেন তা আমি তোমাদের বলব: 2 “তোমরা ছয়দিন ধরে কাজ করবে কিন্তু সপ্তম দিনটি বিশেষভাবে বিশ্রামের জন্য থাকবে| তোমরা ঐদিন বিশ্রাম নেবে এবং এইভাবে প্রভুকে সম্মান জানাবে| য়ে ব্যক্তি সপ্তম দিন কাজ করবে তাকে হত্যা করা হবে| 3 “ঐ বিশ্রামের দিন তোমাদের বাড়ীর কোথাও তোমরা আগুন পর্য়ন্ত জ্বালাবে না|” 4 মোশি ইস্রায়েলের সমস্ত মণ্ডলীকে বলল, “এইগুলি হল প্রভুর আদেশসমূহ: 5 প্রভুর জন্য বিশেষ উপহার সংগ্রহ কর| প্রত্যেকে মনে মনে ঠিক করে নেবে তোমরা কি দেবে| তারপর তোমরা প্রভুর কাছে উপহারসমূহ আনবে| সোনা, রূপো, পিতল; 6 নীল, বেগুনী ও লাল সুতো ও সূক্ষ্ম মসীনা বস্ত্র; ছাগলের লোম; 7 লাল রঙ করা মেষ চর্ম ও মসৃণ চর্ম; বাবলা কাঠ; 8 প্রদীপের জন্য তেল, অভিষেকের তেলের জন্য মশলাপাতি এবং সুগন্ধি ধূপকাঠির জন্য মশলা এনে তোমরা প্রভুকে দেবে| 9 এফোদ ও বক্ষাবরণের জন্য গোমেদ ও অন্যান্য মূল্যবান মণিমাণিক্যও সঙ্গে এনো| 10 তোমাদের মধ্যে যারা দক্ষ কারিগর তারা এসে প্রভুর আদেশমতো জিনিস তৈরী করো: 11 পবিত্র তাঁবু, তার বাইরের তাঁবু, তার আস্তরণ, আংটাগুলি, তক্তাসমুহ, আগল, খুঁটি ও ভিত্তিসমূহ; 12 পবিত্র সিন্দুক, তার খুঁটিগুলি, আস্তরণ এবং পর্দা যা পবিত্র সিন্দুক যেখানে রাখা আছে সেই জায়গা ঢেকে দেয়; 13 সেই টেবিল ও তার পায়াগুলি, টেবিলের ওপরের সমস্ত জিনিস এবং টেবিলের ওপরের বিশেষ রুটি| 14 বাতির জন্য বাতিদানসমূহ, তার আনুষঙ্গিক অঙ্গ এবং বাতির জন্য তেল| 15 ধূপ বেদী এবং তার খুঁটিসমূহ; অভিষেকের তেল এবং সুগন্ধি ধূপ; য়ে পর্দা পবিত্র তাঁবুর প্রবেশদ্বার ঢেকে রাখবে| 16 হোমবলির জন্য বেদী এবং তার পিতলের জাল, খুঁটিগুলি এবং তার বাসনকোসন, পিতলের পাত্র ও তার দান; 17 প্রাঙ্গণের চারদিকের পর্দা, তাদের খুঁটি ও ভিত্তিসমূহ এবং প্রাঙ্গণের প্রবেশদ্বারের পর্দা 18 সমাগম তাঁবুর জন্য এবং প্রাঙ্গণের জন্য কীলকগুলি এবং তাদের দড়িগুলি; 19 পবিত্র স্থানে পরার জন্য যাজকের বিশেষ বস্ত্র -এসবই তোমরা আনবে| এই বিশেষ বস্ত্র যাজক হারোণ ও তার পুত্ররা পরবে| তারা যখন যাজক হবে তখন তারা এই বস্ত্র পরবে|” 20 তারপর ইস্রায়েলের সমগ্র মণ্ডলী মোশির কাছ থেকে চলে গেল| 21 প্লত্যেকে, যাদের হৃদয়ে প্রবৃত্তি ও মনে ইচ্ছা হল তারা প্রভুর জন্য উপহার নিয়ে এল| এই উপহার সামগ্রীগুলি সমাগম তাঁবুর জন্য, তাঁবুর ভেতরের প্রযোজনীয জিনিস এবং বিশেষ বস্ত্র তৈরীর কাজে লাগানো হল| 22 পুরুষ, স্ত্রী যারা ইচ্ছুক ছিল প্রভুর জন্য উপহার সামগ্রী নিয়ে এলো| তারা পিন, দুল, আংটি ও অন্যান্য গযনা নিয়ে এল এবং সমস্ত প্রভুকে দিয়ে দিল| এটা ছিল প্রভুর জন্য বিশেষ নৈবেদ্য. 23 য়ে সমস্ত লোকের কাছে মিহি শনের কাপড় ছিল এবং নীল, বেগুনী ও লাল সুতো ছিল তারা তা নিয়ে প্রভুর কাছে এলো, যাদের কাছে ছাগলের লোম বা লাল রঙ করা মেষের চামড়া বা মসৃণ চামড়া ছিল তারা নিয়ে এল এবং প্রভুকে দিল| 24 যারা প্রভুকে রূপো বা পিতল দিতে চাইল তারা সেটা নিয়ে এল| যাদের কাছে বাবলা কাঠ ছিল যা সমাগম তাঁবু নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা য়েতে পারে তারা সেটা আনল এবং তা প্রভুকে দিল| 25 প্রতিটি দক্ষ মহিলা তাদের হাত দিয়ে সুতো কিটে মিহি শনের কাপড় বুনল এবং লাল, নীল ও বেগুনী সুতো কাটল| 26 ঐ দক্ষ মহিলারা যারা সাহায্য করতে চাইল, তারা ছাগলের লোম থেকে কাপড় তৈরী করল| 27 ইস্রায়েলবাসীদের দলপতিরা গোমেদ ও অন্যান্য মণিমাণিক্য নিয়ে এলো য়েগুলি এফোদ ও যাজকের বক্ষাবরণের উপর লাগানো হবে| 28 তারা মশলা ও জলপাই তেলও নিয়ে এল, এগুলি সুগন্ধি ধূপ, অভিষেকের তেল ও প্রদীপের তেল হিসেবে ব্যবহৃত করবার জন্য| 29 সমস্ত পুরুষ ও নারী, যারা সাহায্য করতে চাইছিল তারা প্রভুর জন্য উপহার সামগ্রী নিয়ে এল| তারা নিজেদের ইচ্ছায স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই উপহারসামগ্রী প্রদান করল| প্রভু মোশি ও তার লোকদের য়েসব জিনিস বানাতে আদেশ করেছিলেন সেইসব জিনিসই এই উপহার সামগ্রীর সাহায্যে তৈরী করা হল| 30 তারপর মোশি ইস্রায়েলবাসীদের বলল, “দেখ, প্রভু যিহূদা বংশের হূরের পৌত্র, উরির পুত্র বত্সলেলকে মনোনীত করেছেন| 31 তিনি তাকে ঐশ্বরিক ক্ষমতা দিয়েছেন| তিনি তাকে জ্ঞানে ও সর্বপ্রকার বিদ্য়ায পারদর্শী করে তুলেছেন| 32 সে সোনা, রূপো ও পিতলের জিনিস তৈরী করে তার ওপর কারুকার্য়্য় করতে পারে| 33 সে মূল্যবান পাথর ও মণিমাণিক্য কেটে বসাতে পারে| সে কাঠ দিয়েও সর্বপ্রকার জিনিস তৈরী করতে পারে| 34 প্রভু বত্সলেল ও অহলীযাবকে শিক্ষাদান করার বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছেন| অহলীযাব হল দান বংশীয অহীষামকের পুত্র| 35 প্রভু এই দুজনকেই সর্বপ্রকার কাজ করার জন্য বিশেষ দক্ষতা দিয়েছেন| তারা ছুতোর এবং ধাতুর কাজে দক্ষ| তারা মিহি শনের কাপড়, নীল, বেগুনী এবং লাল সুতোর সাহায্যে কাপড়ে কারুকার্য়্য় করে ও কাপড় বোনে| তারা পশম দিয়েও কাপড় বুনতে পারে|

যাত্রাপুস্তক 36

1 “অতএব বত্সলেল, অহলীযাব ও অন্যান্য সব দক্ষ কারিগরদের অবশ্যই প্রভুর আদেশ অনুসারে কাজটি করতে হবে| প্রভু এদের জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়েছেন যাতে এরা পারদর্শিতার সঙ্গে পবিত্র স্থান তৈরীর কাজ করতে পারে|” 2 তারপর মোশি বত্সলেল, অহলীযাব এবং য়েসব লোকদের প্রভু বিশেষ দক্ষতা দিয়েছিলেন তাদের ডেকে ইস্রায়েলবাসীদের আনা উপহার সামগ্রীগুলি তাদের হাতে তুলে দিল| এই সব লোকরা পবিত্র স্থান তৈরীর কাজে সাহায্য করার জন্যই এসেছিল এবং তারা এই উপহারগুলি ঈশ্বরের পবিত্র স্থান তৈরীর কাজে লাগাল| লোকরা প্রত্যেক দিন সকালেই উপহার নিয়ে আসত| 3 4 শেষকালে ঐসব কারিগররা পবিত্র স্থানের কাজ ছেড়ে মোশির কাছে এল| তারা বলল, 5 “আমাদের তাঁবুর কাজ শেষ করার জন্য যা প্রযোজন তার চেযে লোকরা অনেক বেশী জিনিস এনেছে|” 6 তখন মোশি শিবিরের চারদিকে খবর পাঠাল: “কোনও নারী বা পুরুষ পবিত্র স্থানের জন্য আর কোনও উপহার তৈরী করবে না|” তাই লোকদের উপহার না দিতে বাধ্য করা হল| 7 তারা প্রয়োজনের চেযে অনেক বেশী জিনিস এনেছিল| 8 তারপর দক্ষ কারিগররা পবিত্র তাঁবু তৈরী করবার কাজ আরম্ভ করল| তারা মিহি শনের কাপড়, বেগুনী, নীল ও লাল সুতো দিয়ে দশটি পর্দা তৈরী করল| তারা তার ওপর সূতো দিয়ে ঈশ্বরের বিশেষ ডানাযুক্ত করূব দূতের ছবি বসাল| 9 প্রত্যেকটি পর্দাই ছিল সমান মাপের - 28 হাত লম্বা ও 4 হাত চওড়া| 10 তারপর কারিগররা সেই পর্দাগুলি জুড়ে দুভাগে ভাগ করল| পাঁচটি করে পর্দা নিয়ে একেকটি ভাগ হলো| 11 তারা নীল কাপড় দিয়ে প্রত্যেক ভাগের পর্দার কিনারায একটি ফাঁস তৈরী করল| 12 প্রতিটি ভাগের পর্দার ধারে 50টি করে ফাঁস দিল| ফাঁসগুলি ছিল একে অপরের বিপরীতে| 13 তারা দুটি পর্দাকে জোড়া দেবার জন্য 50টি সোনার আংটা তৈরী করল| এইভাবে পবিত্র তাঁবুটিকে একসঙ্গে একটি খণ্ডে যুক্ত করা হল| 14 তারপর কারিগররা সেই পবিত্র তাঁবুর আচ্ছাদনের জন্য আরেকটি তাঁবু তৈরী করল| তারা ছাগলের লোম দিয়ে এগারোটি পর্দা বানাল| 15 সবগুলি পর্দাই ছিল সমান মাপের - 30হাত লম্বাও 4 হাত চওড়া| 16 তারপর পাঁচটি পর্দা জুড়ে একটি ও ছয়টি পর্দা জুড়ে আরেকটি ভাগ করা হল| 17 দুই ভাগের পর্দার মাঝেই 50টি করে ফাঁস লাগানো হল| 18 দুই ভাগের পর্দাগুলি জুড়ে একটি তাঁবু বানানোর জন্য তারা 50টি পিতলের আংটা তৈরী করল| 19 তারপর তারা পবিত্র তাঁবুর জন্য আরো দুটি আচ্ছাদন তৈরী করল| একটি বানানো হলো লাল রঙ করা ভেড়ার চামড়া দিয়ে আর অন্যটি বানানো হল মসৃণ চামড়া দিয়ে| 20 তারপর কারিগররা পবিত্র তাঁবুকে দাঁড় করানোর জন্য বাবলা কাঠের কাঠামো বানালো| 21 প্রতিটি কাঠামো ছিল 10 হাত লম্বা ও 1.5 হাত চওড়া| 22 প্রতিটি কাঠামো পাশাপাশি দুটি তক্তা জোড়া দিয়ে তৈরী হয়েছিল| প্রতিটি কাঠামো ছিল একইরকম| 23 এইভাবে তারা পবিত্র তাঁবুর কাঠামোগুলো তৈরী করল| তারা পবিত্র তাঁবুর দক্ষিণ দিকের জন্য 20টি কাঠামো তৈরী করল| 24 তারপর ঐ কাঠামোর জন্য 40টি রূপোর পায়া তৈরী করল| প্রত্যেকটি কাঠামোতে দুটি করে পায়া ছিল| প্রতিটি তক্তার ধারে একটি করে পায়া| 25 তাঁবুর উত্তর দিকের জন্যও তারা 20টি কাঠামো তৈরী করল| 26 তারা 40টি রূপোর ভিত্তি তৈরী করল, প্রত্যেক কাঠামোর জন্য দুটি করে ভিত্তি| 27 তাঁবুর পিছনে পশ্চিম দিকের জন্য তারা আরো দুটি কাঠামো তৈরী করল| 28 পবিত্র তাঁবুর পিছনে কোনার দিকের জন্যও তারা দুটি কাঠামো তৈরী করল| 29 এই কাঠামোগুলিকে একত্র করে নীচের দিকে জোড়া দেওয়া হল এবং ওপর দিকে একটা আংটা দিয়ে দুদিকের কোনার কাঠামোগুলি জোড়া হল| 30 পবিত্র তাঁবুর পশ্চিম দিকের জন্য মোট আটটি কাঠামো ছিল| সেখানে 16টি রূপোর পায়াও ছিল যা প্রতিটি কাঠামোতে দুটি করে লাগানো হল| 31 তারপর কারিগররা বাবলা কাঠ দিয়ে কাঠামোর আগল তৈরী করল| তাঁবুর প্রথম পাশে পাঁচটি আগল, 32 অন্য দিকে পাঁচটি আগল লাগালো এবং পেছনদিকে অর্থাত্‌ পশ্চিম দিকে পাঁচটি আগল লাগালো| 33 মাঝের আগলটিকে রাখা হল কাঠামোর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত জুড়ে| 34 কাঠামোগুলিকে সোনায মুড়ে দেওয়া হল| তারপর তারা সোনার আংটা তৈরী করল আগলগুলি ধরে রাখার জন্য এবং আগলগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হল| 35 তারা মিহি শনের কাপড় দিয়ে পর্দাসমূহ তৈরী করল এবং তারা বিশেষ পর্দাটি তৈরী করবার জন্য নীল, বেগুনী ও লাল সূতো তৈরী করল| তারা সেগুলোর ওপর করূব দূতদের চেহারা সেলাই করল| 36 চারটি বাবলা কাঠের খুঁটি বানিয়ে সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হল| তারা খুঁটির জন্য সোনার আংটা তৈরী করল এবং চারটি করে রূপোর পায়া তৈরী করল| 37 তারপর তারা তাঁবুতে ঢোকার জন্য দরজার পর্দা বানাল মিহি শনের কাপড় এবং নীল, বেগুনী ও লাল সুতা ব্যবহার করে| এর ওপর তারা সুতার কাজও করল| 38 তারপর তারা এই ঢোকার দরজার পর্দার জন্য পাঁচটি খুঁটি ও আংটা তৈরী করল| তারপর এই খুঁটির ও পর্দার আংটার মাথাগুলি সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হল| তারপর খুঁটির জন্য পাঁচটি করে পিতলের পায়া প্রস্তুত করা হল|

যাত্রাপুস্তক 37

1 বত্সলেল বাবলা কাঠ দিয়ে পবিত্র সিন্দুক তৈরী করল| সিন্দুকটি 2.5 হাত লম্বা, 1.5 হাত চওড়া আর 1.5 হাত উঁচু| 2 তারপর সে খাঁটি সোনা দিয়ে সিন্দুকের ভেতর ও বাইরের দিকে মুড়ে দিল| সে সিন্দুকের চারিদিকে সোনার জরি দিয়ে ঘিরেও দিল| 3 এরপর সে চারটি সোনার আংটা চারকোণায় রাখল সিন্দুকটি বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য| এর একদিকে দুটি আংটা লাগানো ছিল এবং দুটি আংটা লাগানো ছিল এর অন্য দিকে| 4 সিন্দুকটি বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবলা কাঠের খুঁটি তৈরী করে সে সেগুলি খাঁটি সোনায মুড়ে দিল| 5 তারপর সে পবিত্র সিন্দুকের প্রতিটি ধারে আংটাগুলির ভেতর দিয়ে খুঁটিগুলি ঢুকিয়ে দিল| 6 তারপর সে খাঁটি সোনা দিয়ে আচ্ছাদনটি তৈরী করল| এটা ছিল 2.5 হাত লম্বা ও 1.5 হাত চওড়া| 7 তারপর সে পেটানো সোনা দিয়ে দুটি করূব দূত তৈরী করল এবং সেগুলো আচ্ছাদনের দুধারে রেখে দিল| 8 তারপর সে করূব দূতের মূর্ত্তি দুটি পাপমোচন স্থানের আচ্ছাদনের সঙ্গে জুড়ে একত্র করল| 9 দূতরা ডানা আকাশে ছড়িয়ে পবিত্র সিন্দুকটিকে ঢেকে দিল| দূতরা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে পাপমোচন স্থানের দিকে তাকিযে রইল| 10 বত্সলেল বাবলা কাঠ দিয়ে একটি 2 হাত লম্বা, 1 হাত চওড়া ও 1.5 হাত উঁচু টেবিল বানাল| 11 টেবিলের চারধার খাঁটি সোনার পাত দিয়ে সে মুড়ে দিল| এবং তার চারধারে একটি সোনার ঝালর লাগিয়ে দিল| 12 তারপর সে একটি 1 হাত চওড়া কাঠামো তৈরী করল টেবিলের সব ধার ঘিরে এবং কাঠামোর চারপাশে সোনার ঝালর লাগালো| 13 তারপর সে টেবিলের চারকোণায চারপায়ায চারটি সোনার আংটা লাগাল| 14 সে টেবিলটাকে বইবার জন্য আংটাগুলো কাঠামোর খুব কাছে আটকে দিল| 15 তারপর সে টেবিলটি বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবলা কাঠের খুঁটি তৈরী করল| খাঁটি সোনা দিয়ে খুঁটিগুলিও মুড়ে দিল| 16 এরপর সে টেবিলে ব্যবহারের জন্য সোনার প্লেট, চামচ, বাটি ও কলসী বানাল| পেয নৈবেদ্য ঢালার জন্য বাটি ও কলসী ব্যবহার করা হল| 17 তারপর সে সোনার বাতিদানটি তৈরী করল| সে খাঁটি সোনা হাতুড়ি দিয়ে পেটালো এবং তৈরী করল বাতিদানের বিস্তৃত পাদানী| সে ফুল, পাতা, কুঁড়ি দিয়ে কারুকার্য়্য় করে সবকিছু একত্রে জুড়ে দিল| 18 বাতিদানের ছয়টি শাখা, একদিকে তিনটি অপরদিকে আরও তিনটি| 19 প্রতিটি ডালে থাকল তিনটি করে ফুল| সেগুলি কাঠ বাদামের ফুলের মতো তাতে কুঁড়ি ও পাতা রাখা হল| 20 বাতিদানের দণ্ডে আরও চারটি ফুল রাখা হল কুঁড়ি ও পাপড়ি সমেত যা দেখতে বাদাম ফুলের মতো| 21 তাতে একেক দিকে তিনটি করে মোট ছয়টি ডালও রাখা হল| প্রতি জোড়া ডালগুলির নীচে য়েগুলি বিস্তৃত পাদানীর সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেখানে কুঁড়ি ও পাপড়িসহ একটি ফুল ছিল| 22 পুরো বাতিদানটি খাঁটি সোনায ফুলপাতাসহ একসাথে জোড়া দিয়ে তৈরী করা হল| 23 এই বাতিদানের জন্য সাতটি প্রদীপ তৈরী করা হল| তারপর সে খাঁটি সোনা দিয়ে সলতের চিমটা ও শীষদানী পাত্র তৈরী করল| 24 সে মোট 75 পাউণ্ড খাঁটি সোনা ব্যবহার করে এই বাতিদান ও তার আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র তৈরী করল| 25 এরপর ধূপ-ধূনা পোড়াবার জন্য সে বাবলা কাঠ দিয়ে একটি ধূপদানী তৈরী করল| এটা ছিল 1 হাত লম্বা, 1 হাত চওড়া এবং 2 হাত উচ্চতা বিশিষ্ট একটি চৌকোনা জিনিস| ধূপদানের চারকোণের প্রতিটিতে একটি করে শৃঙ্গ ছিল| এই শৃঙ্গগুলি ও ধূপবেদী একটি অখণ্ড টুকরো ছিল| 26 সে ধূপদানের ওপর চারপাশ এবং শৃঙ্গগুলি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিল| তারপর ধূপদানের চারপাশ সোনার জরি দিয়ে মুড়ে দিল| 27 এই জরির নীচে দুধারে আংটা লাগানো হল| এই আংটা লাগানো হল বয়ে নিয়ে যাওয়ার খুঁটি ধরে রাখার জন্য| 28 সে এই খুঁটিগুলি বাবলা কাঠ দিয়ে তৈরী করে সোনা দিয়ে মুড়ে দিল| 29 তারপর সে একজন সুগন্ধি প্রস্তুতকারক য়েমন করে সুগন্ধ তৈরী করে সেইভাবে পবিত্র অভিষেকের তেল এবং খাঁটি ও সুগন্ধি ধূপ-ধূনা তৈরী করল|

যাত্রাপুস্তক 38

1 তারপর বত্সলেল বাবলা কাঠ দিয়ে হোমবলির বেদী তৈরী করলেন| এটা ছিল 5 হাত লম্বা, 5 হাত চওড়া ও 3 হাত উচ্চতা বিশিষ্ট চৌকোনা আকারের| 2 তারপর সে বেদীর প্রত্যেকটি কোণের জন্য একটি করে শৃঙ্গ বানালো এবং তাদের কোণায জুড়ে দিল যাতে তা অখণ্ড হয় এবং বেদীটি পিতল দিয়ে ঢেকে দিল| 3 সে বেদীতে ব্যবহারের সব সরঞ্জাম পিতল দিয়ে তৈরী করল| সে পাত্র, বেলচা, বাটি, কাঁটা চামচ, চাটু ইত্যাদি তৈরী করল| 4 তারপর সে পিতল দিয়ে জালের মতো একটি ঝাঁঝরি তৈরী করল| বেদীর বেড়ের নীচে থেকে মাঝখান পর্য়ন্ত এই ঝাঁঝরি বসানো হল| 5 তারপর সে বেদীটি বয়ে নিয়ে যাওয়ার খুঁটি লাগাবার জন্য ঝাঁঝরির চারকোণা়য চারটি আংটা লাগাল| 6 তারপর সে বাবলা কাঠ দিয়ে খুঁটি তৈরী করে পিতল দিয়ে মুড়ে দিল| 7 বেদীটি বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য খুঁটিগুলো আংটার ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হল| বেদীর ধারগুলো তৈরী করা হল তক্তা দিয়ে| এটা ছিল একটা খালি সিন্দুকের মতো ফাঁপা| 8 তারপর সে পিতল দিয়ে পাত্র এবং পাত্রের পায়া তৈরী করল| এটা মহিলাদের দেওয়া পিতলের আযনা থেকে নেওয়া হয়েছিল| এই মহিলারা সমাগম তাঁবুর প্রবেশ দরজায় সেবা করার জন্য এসেছিল| 9 তারপর সে প্রাঙ্গণের চারিদিকে পর্দার একটি দেওয়াল তৈরী করল| দক্ষিণ দিকে সে 100 হাত লম্বা পর্দার একটি দেওয়াল তৈরী করল| এই পর্দাগুলো ছিল মিহি শনের কাপড় দিয়ে তৈরী| 10 কুড়িটি খুঁটির সাহায্যে এই পর্দাগুলিতে অবলম্বন দেওয়া ছিল| খুঁটিগুলো ছিল 20টি পিতলের ভিত্তির উপর| খুঁটির আংটা ও পর্দার বন্ধনী ছিল রূপোর তৈরী| 11 উত্তর দিকের প্রাঙ্গণেও ছিল 100 হাত লম্বা পর্দার একটি দেওয়াল| সেখানে 20টি পিতলের ভিত্তির ওপর 20টি খুঁটি ছিল| খুঁটির আংটা ও পর্দার বন্ধনী ছিল রূপোর| 12 পশ্চিমদিকের প্রাঙ্গণে থাকল 50 হাত লম্বা পর্দার দেওয়াল| আর থাকল 10টি খুঁটি ও 10টি ভিত্তি| খুঁটির আংটা ও পর্দার বন্ধনী তৈরী করা হল রূপো দিয়ে| 13 প্রাঙ্গণের পূর্ব দিকে 50 হাত চওড়া| প্রাঙ্গণে প্রবেশের দরজা রাখা হল এই দিকেই| 14 প্রবেশ দরজার দিকের পর্দা ছিল 15 হাত লম্বা| এইদিকে তিনটি খুঁটি ও তিনটি ভিত্তি ছিল| 15 অন্যদিকের প্রবেশ দরজাও ছিল 15 হাত লম্বা| ঐদিকে তিনটি খুঁটি ও তিনটি পায়া ছিল| 16 প্রাঙ্গণের চারিদিকের সব পর্দাই ছিল মিহি শনের কাপড়ের তৈরী| 17 খুঁটির ভিত্তিগুলো ছিল পিতলের তৈরী| দণ্ডগুলির আংটা ও পর্দার বন্ধনী ছিল রূপো দিয়ে তৈরী| খুঁটির মাথাগুলো ছিল রূপো দিয়ে মোড়া| প্রাঙ্গণের সব খুঁটিতেই ছিল রূপোর পর্দাবন্ধনী| 18 প্রাঙ্গণের প্রবেশ দরজার পর্দা তৈরী করা হল মিহি শনের কাপড় দিয়ে| এবং নীল, বেগুনী ও লাল সুতো দিয়ে| পর্দার ওপর সুতোর কারুকার্য়্য়ও করা হল| পর্দাটি ছিল 20 হাত লম্বা এবং 5 হাত উঁচু| এগুলো প্রাঙ্গণের চারিদিকের পর্দার সমান উঁচু| 19 পর্দা ঠেকা দেওয়া হল চারটি খুঁটি ও চারটি পিতলের পায়া দিয়ে| খুঁটির আংটা তৈরী করা হল রূপো দিয়ে| খুঁটির ওপরের দিক আর পর্দার বন্ধনী রূপোর| 20 পবিত্র তাঁবুর সমস্ত কীলকগুলো এবং প্রাঙ্গণের চারিদিকের পর্দাগুলো ছিল পিতলের তৈরী| 21 মোশি লেবীয়দের আদেশ দিল পবিত্র তাঁবু বা সাক্ষ্যের তাঁবু তৈরীর কাজে যা কিছু ব্যবহার করা হয়েছে তা একটি তালিকায লিখে রাখতে| এই তালিকার দায়িত্ব দেওয়া হল যাজক হারোণের পুত্র ঈথামরকে| 22 যিহূদা বংশীয হূরের পৌত্র ও উরির পুত্র বত্সলেল মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশ অনুসারে সব কিছু তৈরী করল| 23 দান বংশীয অহীষামকের পুত্র অহলীযাব তাকে এই কাজে সাহায্য করল| সে একজন দক্ষ কারিগর ও কারুশিল্পী| সে মিহি শনের কাপড়, নীল, বেগুনী ও লাল সুতো বোনায পারদর্শী ছিল| 24 এই পবিত্র স্থান নির্মাণের জন্য 2 টনেরও বেশী সোনা দেওয়া হয়েছিল| এটা ছিল সরকারি হিসাব অনুযায়ীওজন| 25 যতজন লোককে গোনা হয়েছিল তারা সবাই আমলাতান্ত্রিক পরিমাণ অনুসারে 3.75 টন রূপো দিয়েছিল| 26 কুড়ি বছর বা তার বেশী বযসের লোকদের গোনা হয়েছিল| মোট 6,03,550 জন পুরুষ ছিল এবং প্রত্যেককে আমলাতান্ত্রিক পরিমাপ অনুসারে 1.5 আউন্স রূপো কর হিসেবে দিতে হয়েছিল| 27 তারা 3.75 টন রূপো ব্যবহার করে প্রভুর পবিত্র স্থান এবং পর্দার জন্য 100টি ভিত্তি তৈরী করেছিল| তারা পবিত্র স্থানের ভিত্তির জন্য এবং পর্দার পায়ার জন্য 3.75 টন রূপো ব্যবহার করেছিল| মোট 100টি ভিত্তি করা হয়েছিল| তারা প্রতিটি ভিত্তির জন্য 75 পাউণ্ড রূপো ব্যবহার করেছিল| 28 বাকি 50 পাউণ্ড রূপো দিয়ে আংটা পর্দার বন্ধনী তৈরী করেছিল এবং খুঁটির মাথা মুড়ে দিয়েছিল| 29 প্রভুকে 26.5 টনেরও বেশী পিতল নৈবেদ্য দেওয়া হয়েছিল| 30 ঐ পিতল দিয়ে সমাগম তাঁবুর প্রবেশ দরজার পায়া তৈরী করা হয়েছিল| পিতল দিয়ে, বেদী ও ঝাঁঝরি তৈরী হয়েছিল| বেদীতে প্রযোজনীয সমস্ত জিনিসপত্র পিতল দিয়ে তৈরী করা হয়েছিল| 31 প্রাঙ্গণের চারিদিকের পর্দা ও প্রবেশ দরজার পর্দার পায়াও পিতল দিয়ে বানানো হয়েছিল| পবিত্র তাঁবুর খুঁটি এবং প্রাঙ্গণের চারদিকের পর্দার জন্য পিতল ব্যবহার করা হয়েছিল|

যাত্রাপুস্তক 39

1 যাজকরা যখন প্রভুর পবিত্র স্থানে সেবা করবে তখন তারা য়ে বিশেষ পোশাক পরবে, সেটা নীল, বেগুনী ও লাল সুতো দিয়ে কারিগররা তৈরী করল| তারা মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশ অনুযায়ীহারোণের জন্য বিশেষ পোশাক তৈরী করল| 2 তারা মিহি শনের কাপড়, সোনার জরি, নীল, বেগুনী ও লাল সুতো দিয়ে এফোদ তৈরী করল| 3 তারা সোনা পিটিযে সরু পাত তৈরী করে তারপর তা থেকে সোনার জরি বানাল| তারপর তারা সেই সোনার জরি নীল, বেগুনী, লাল সুতো ও শনের কাপড়ের সাথে একসাথে বুনল| এটা খুবই দক্ষ কারিগরের কাজ| 4 তারা এফোদের জন্য কাঁধের কাপড় বানাল য়েটা এফোদের দুই কোনে বেঁধে দেওয়া হল| 5 তারা কোমরবন্ধনী বুনে এফোদের সাথে জুড়ে দিল| মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশ অনুযায়ীএটাও এফোদের মতই মিহি শনের কাপড় নীল, বেগুনী ও লাল সুতো এবং সোনার জরি দিয়ে বোনা হল| 6 কারিগররা এফোদের জন্য সোনার ওপর গোমেদ বসালো| তারা ঐ পাথরগুলোর ওপর ইস্রায়েলের পুত্রদের নাম খোদাই করল| 7 তারপর তারা এই মণিগুলো এফোদের ওপর বসিযে দিল| এই অলংকারগুলি ইস্রায়েলের লোকদের জন্য একটি স্মারক হয়ে থাকবে| এসবই করা হয়েছিল মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশ অনুসারে| 8 তারপর তারা বক্ষাবরণ তৈরী করল| ঠিক এফোদের মতোই এটাও ছিল একজন দক্ষ কারিগরের কাজ| এটা তৈরী করা হল সোনার জরি, মিহি শনের কাপড় এবং নীল, বেগুনী ও লাল কাপড় দিয়ে| 9 বক্ষাবরণটিকে অর্ধেক করে ভাঁজ করে চারকোণা একটি পকেটের আকার দেওয়া হল| এটা ছিল 9 ইঞ্চি লম্বা আর 9 ইঞ্চি চওড়া| 10 তারপর কারিগররা বক্ষাবরণটির ওপর চার সারি মণিমাণিক্য বসালো| প্রথম সারিতে ছিল চূনী, পীতমণি ও মরকত| 11 দ্বিতীয সারিতে ছিল পদ্মরাগ, নীলকান্ত ও পান্না, 12 তৃতীয় সারিতে ছিল পোখরাজ, য়িস্ম ও কটাহেলা| 13 চতুর্থ সারিতে ছিল বৈদুর্য়্য়, গোমেদ ও সূর্য়কান্তমণি| এইসব মণি সোনার ওপর বসানো হল| 14 বক্ষাবরণটির ওপর মোট বারোটি মণি ছিল| ইস্রায়েলের প্রত্যেক পুত্রের জন্য ছিল একটি করে মণি| প্রত্যেক অলঙ্কারের ওপর শীলমোহরের মতো ইস্রায়েলের বারোটি পরিবারগোষ্টীর একটি করে নাম খোদাই করা ছিল| 15 কারিগররা বক্ষাবরণের জন্য খাঁটি সোনার শেকলসমূহ বানালো| এই শেকলগুলি দড়ির মত পাকানো ছিল| 16 কারিগররা দুটি সোনার আংটা বানিয়ে বক্ষাবরণের দুই কোণে আটকে দিল| তার কাঁধের জন্য দুটি সোনার স্থালীও তৈরী করল| 17 তারা সোনার চেন দুটিকে বক্ষাবরণের কোণের আংটার সাথে বেঁধে দিল| 18 তারা আরো দুটি সোনার আংটা বানিয়ে বক্ষাবরণের অপর দুটি কোণে আটকে দিল| এটা ছিল বক্ষাবরণের ভিতরের দিকে এফোদের ঠিক পরেই| তারা সোনার শেকলের অপর প্রান্তগুলি সামনের দিক দিয়ে এফোদের কাঁধের পট্টির সোনার অলঙ্কারের সঙ্গে যুক্ত করেছিল| 19 তারপর তারা আরো দুটি সোনার আংটা তৈরী করল এবং সেগুলি এফোদের পাশে বক্ষাবরণের ভেতরদিকের ধারে আটকে দিল| 20 তারা আরো দুটি সোনার আংটা বসাল কাঁধের পট্টির নীচে এফোদের সামনে| এই আংটাগুলি ছিল বন্ধনীর কাছে, কোমরবন্ধনীর ওপর| 21 তারপর তারা একটি নীল ফিতের সাহায্যে বক্ষাবরণীর আংটার সাথে এফোদের আংটা বেঁধে দিল| এইভাবে প্রভুর আদেশ অনুযায়ীবক্ষাবরণটি এফোদের সাথে শক্তভাবে বাঁধা থাকল| 22 তারপর তারা এফোদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নীল কাপড় দিয়ে একটি পোশাক বুনল| 23 তারা আলখাল্লার মাঝখানে একটি ফুটো করল এবং এই ফুটোর চারধার দিয়ে এক টুকরো কাপড় সেলাই করে দিল, ফুটোটি যাতে না ছেঁড়ে তার জন্য| 24 তারপর তারা মিহি শনের কাপড় এবং নীল, বেগুনী ও লাল সুতো দিয়ে বেদানা তৈরী করল| এই বেদানাগুলি তারা আলখাল্লার নীচের ধারে ঝুলিয়ে দিল| 25 তারা খাঁটি সোনার ঘন্টা তৈরী করল এবং সেগুলি আলখাল্লার নীচের ধারে বেদানার মাঝে মাঝে লাগিয়ে দিল| 26 আলখাল্লার নীচের ধারে প্রত্যেকটি বেদানার মাঝখানে একটি করে ঘন্টা লাগানো হল| মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশমতই প্রভুর সেবা করার সময় যাজকের পরার জন্য পোষাক তৈরী করা হল| 27 দক্ষ কারিগররা হারোণ ও তার পুত্রদের জন্য মিহি শনের কাপড়ের জামা তৈরী করল| 28 তারা মিহি শনের কাপড় দিয়ে একটি পাগড়ি, মাথায় বাঁধার ফিতে ও ভেতরে পরার পোশাক তৈরী করল| 29 মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশমতো তারা মিহি শনের কাপড় এবং নীল, বেগুনী ও লাল সুতো দিয়ে কাপড়ের ওপর সুঁচের কাজ করে বন্ধনী তৈরী করল| 30 তারপর তারা খাঁটি সোনা থেকে সোনার পাত তৈরী করল পবিত্র মুকুটের জন্য| তারা সোনার ওপর এই কথাগুলি খোদাই করল; ‘পবিত্র প্রভুর কাছে|’ 31 তারপর তারা এই সোনার পাতটিকে একটি নীল ফিতের সঙ্গে বেঁধে দিল| তারা মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশ অনুসারে নীল ফিতেটিকে পাগড়ির সঙ্গে জড়িয়ে বেঁধে দিল| 32 অবশেষে পবিত্র তাঁবু বা সমাগম তাঁবুর কাজ শেষ হল| মোশিকে প্রভু যা যা আদেশ দিয়েছিলেন ইস্রায়েলবাসী ঠিক সেইভাবেই সবকিছু করল| 33 তারপর তারা মোশিকে ডেকে পবিত্র তাঁবু ও তার ভেতরের সব জিনিস দেখাল| তারা মোশিকে আংটা, কাঠামো, আগল, খুঁটি এবং পায়া দেখাল| 34 তারা তাকে তাঁবুর লাল রঙ করা মেষের চামড়ার তৈরী আবরণ দেখাল| তারা তাকে মসৃণ চামড়ার তৈরী আবরণও দেখাল| তাকে সর্বোচ্চ পবিত্রতম স্থানের প্রবেশ দরজার পর্দাও দেখানো হল| 35 মোশিকে সাক্ষ্য সিন্দুকটিও দেখানো হল| সিন্দুকটি বহন করার জন্য খুঁটি ও সিন্দুকটির আবরণও তারা দেখাল| 36 তারা তাকে টেবিল ও তার উপরে রাখা জিনিস এবং বিশেষ রুটিও দেখাল| 37 তারা তাকে খাঁটি সোনার তৈরী দীপদান ও তার দীপগুলিও দেখাল| তারা দীপের জন্য ব্যবহৃত তেল ও দীপের আনুষঙ্গিক অংশগুলিও দেখাল| 38 মোশিকে সোনার বেদী, অভিষেকের তেল, সুগন্ধী ধূপ-ধূনা এবং তাঁবুর প্রবেশ দরজার পর্দাও দেখানো হল| 39 তারা পিতলের বেদী ও পিতলের খুরা দেখাল| তারা বেদী বহন করার খুঁটি ও বেদীতে ব্যবহার্য় সব জিনিস দেখাল| পাত্র এবং পাত্রের পায়াও দেখাল| 40 তারা মোশিকে প্রাঙ্গণের চারিদিকের পর্দা, তার খুঁটি এবং পায়াও দেখাল| প্রাঙ্গণের প্রবেশ দরজার পর্দা, দড়ি, তাঁবুর খুঁটি এবং পবিত্র তাঁবু বা সমাগম তাঁবুর সমস্ত কিছুই মোশিকে দেখানো হল| 41 তারা পবিত্র স্থানে সেবার জন্য যাজকদের পোশাক, হারোণ এবং তার পুত্রদের জন্য তৈরী বিশেষ পোশাক মোশিকে দেখাল| এই পোশাক হারোণের পুত্ররা যাজকের কাজ করার সময় পরবে| 42 ইস্রায়েলবাসীরা মোশিকে দেওয়া প্রভুর আদেশ মতোই সমস্ত কাজ করেছিল| 43 মোশি সবকিছু ভাল করে পর্য়বেক্ষণ করে দেখল য়ে সবকিছুই হুবহু প্রভুর আদেশ মতোই হয়েছে| তাই মোশি তাদের আশীর্বাদ করল|

যাত্রাপুস্তক 40

1 তখন প্রভু মোশিকে বললেন, 2 “প্রথম মাসের প্রথম দিনে তোমরা পবিত্র তাঁবু অর্থাত্‌ সমাগম তাঁবু স্থাপন করবে| 3 সাক্ষ্য সিন্দুকটি পবিত্র তাঁবুতে রাখো এবং আবরণ দিয়ে ঢেকে দাও| 4 টেবিলটি নিয়ে এসো এবং ওপরে য়ে সব জিনিস থাকার কথা সেগুলি রাখো| তারপর দীপদানটি তাঁবুতে নিয়ে এসে দীপগুলি ঠিক জায়গা মতো রাখো| 5 এরপর তাঁবুতে নৈবেদ্য দেওয়ার জন্য সোনার বেদীটি নিয়ে এসো| সাক্ষ্য সিন্দুকটির সামনে বেদীটি রাখো| পবিত্র তাঁবুর প্রবেশ দরজায় পর্দা টাঙিযে দাও| 6 “হোমবলি দেওয়ার জন্য বেদীটি পবিত্র তাঁবুর প্রবেশ দরজার সামনে রাখো| 7 হাতমুখ ধোওযার জন্য পাত্রটিতে জল রেখে সেটি সমাগম তাঁবু ও বেদীর মাঝখানে রাখো| 8 প্রাঙ্গণের চারিদিকে পর্দার দেওয়াল টাঙিযে দাও| তারপর প্রাঙ্গণের প্রবেশ দরজায় পর্দা লাগিয়ে দাও| 9 “অভিষেক তেল ব্যবহার করে পবিত্র তাঁবু ও তার ভেতরের সবকিছুর অভিষেক করো| তুমি যখন ঐসব জিনিসের ওপর তেল ছেটাবে তখন সবকিছু পবিত্র হয়ে যাবে| 10 হোমবলির জন্য বেদীটি অভিষেক করো এবং অভিষেকের তেল দিয়ে বেদীর সমস্ত জিনিস অভিষিক্ত করো| এতে বেদীটি খুব পবিত্র হয়ে উঠবে| 11 পাত্র ও পাত্র দানকে পবিত্র করবার জন্য তাদের অভিষেক করো| 12 “হারোণ ও তার পুত্রদের সমাগম তাঁবুর প্রবেশ দরজায় নিয়ে এসো| তাদের জল দিয়ে স্নান করাও| 13 তারপর হারোণকে বিশেষ পোশাক পরাও| তাকে তেল দিয়ে অভিষেক করে পবিত্র করো| তাহলে সে যাজকরূপে আমার সেবা করতে পারবে| 14 তার পুত্রদের পোশাক পরাও| 15 তার পুত্রদের ঠিক সেভাবে অভিষেক করাও য়েভাবে তাদের পিতাকে করেছ| তাহলে তারাও যাজক হিসেবে আমার সেবা করতে পারবে| যখন তুমি তাদের অভিষেক করবে তখন তারা যাজক হয়ে যাবে| এবং এই পরিবার আগামী দিনেও চিরকালের মত যাজকের কাজ করবে|” 16 মোশি প্রভুর আদেশ মেনে তাঁর নির্দেশ মতো সবকিছু করল| 17 তাই ঠিক সমযে পবিত্র তাঁবু স্থাপন করা হল| তারা মিশর ছেড়ে যাবার দ্বিতীয বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিন তাঁবু স্থাপন করা হয়েছিল| 18 মোশি তাঁবুর ভিত্তিগুলো জায়গামত স্থাপন করল| তারপর সে ভিত্তিগুলোর ওপর কাঠামোটি বসাল এবং আগল দিয়ে খুঁটিগুলো বসাল| 19 তারপর মোশি পবিত্র তাঁবুর ওপর বাইরের তাঁবু বসাল| এবং তার ওপর আচ্ছাদন দিল| সে সব কিছুই প্রভুর আদেশ মতো করল| 20 মোশি চুক্তিপত্র নিয়ে পবিত্র সিন্দুকে রাখল| খুঁটিগুলো সিন্দুকের ওপর রেখে সেটিকে আবরণ দিয়ে ঢেকে দিল| 21 তারপর মোশি পবিত্র সিন্দুকটি পবিত্র তাঁবুতে রাখল| সিন্দুকটির সুরক্ষার জন্য সে ঠিক জায়গায় পর্দা টাঙ্গালো এবং এভাবেই সে প্রভুর আদেশ মতো সাক্ষ্য সিন্দুকটির সুরক্ষার ব্যবস্থা করল| 22 তারপর সে পবিত্র তাঁবুর উত্তরদিকে পবিত্র স্থানের পর্দার সামনে টেবিলটি রাখলো| 23 প্রভুর আদেশ অনুসারে মোশি প্রভুর সামনে টেবিলের ওপর রুটি রাখল| 24 তারপর সে তাঁবুটির দক্ষিণ দিকে টেবিলের বিপরীত দিকে দীপদানটি রাখল| 25 প্রভু য়েমনটি আদেশ করেছিলেন সেই মতো মোশি দীপগুলি স্থাপন করল এবং সেগুলো প্রভুর সামনে রাখল| 26 এরপর মোশি সমাগম তাঁবুর পর্দার সামনে সোনার বেদীটি রাখল| 27 প্রভুর আদেশ মতো মোশি তার ভেতরে সুগন্ধি ধূপ-ধূনো পোড়ালো| 28 তারপর মোশি পবিত্র তাঁবুর প্রবেশ দরজায় পর্দা টাঙালো| 29 মোশি হোমবলির বেদীটি সমাগম তাঁবুর প্রবেশ দরজার সামনে রাখল| তারপর মোশি সেই বেদীতে একটি হোমবলি দিল| সে প্রভুকে শস্য নৈবেদ্যও দিল| সে সবকিছুই প্রভুর আদেশ মতো করল| 30 মোশি এরপর সমাগম তাঁবু ও বেদীর মাঝখানে হাত মুখ ধোওযার জন্য জল ভর্ত্তি পাত্রটি রাখল| 31 হাত ও পা ধোযার জন্য মোশি, হারোণ ও তার পুত্ররা এই পাত্রের জল ব্যবহার করল| 32 তারা প্রত্যেকবার তাঁবুতে ঢোকার সময় এবং বেদীর কাছে যাওয়ার সময় তাদের হাত পা ধুয়ে নিল| এসব কিছুই করা হল প্রভুর আদেশ অনুসারে| 33 তারপর মোশি পবিত্র তাঁবুর প্রাঙ্গণের চারিদিকে পর্দা দিয়ে দিল| সে বেদীটি প্রাঙ্গণে রেখে প্রাঙ্গণের প্রবেশ দরজায় পর্দা লাগাল| এইভাবেই মোশি তার সব কাজ শেষ করল| 34 এরপরই মেঘ এসে পবিত্র সমাগম তাঁবু ঢেকে ফেলল| এবং প্রভুর মহিমায পবিত্র তাঁবু পরিপূর্ণ হল| 35 মোশি সমাগম তাঁবুতে ঢুকতে পারল না| কারণ তা মেঘে ঢেকে ছিল এবং প্রভুর মহিমায ছিল পরিপূর্ণ| 36 এই মেঘই ইস্রায়েলের লোকদের দেখিয়ে দিয়েছিল য়ে কখন যাত্রা শুরু করতে হবে| যখন পবিত্র তাঁবুর ওপর থেকে মেঘ সরে যাবে তখনই ইস্রায়েলের লোকরা যাত্রা শুরু করতে পারবে| 37 কিন্তু যখন মেঘ পবিত্র তাঁবুর ওপর ছিল তখন লোকরা তাদের যাত্রা শুরু করার চেষ্টা করেনি| যতক্ষণ না মেঘ ওপরে উঠেছিল ততক্ষণ তারা সেখানেই ছিল| 38 তাই প্রভুর মেঘ দিনের বেলায় ছিল সমাগম তাঁবুর ওপরে এবং রাতে আগুন ছিল মেঘের ভেতরে| তাই ইস্রায়েলের সমগ্র পরিবার তাদের পুরো যাত্রাপথে মেঘটি দেখতে পাচ্ছিল|

লেবীয় পুস্তক 1

1 প্রভু ঈশ্বর মোশিকে ডাকলেন এবং সমাগম তাঁবু থেকে তার সঙ্গে কথা বললেন, 2 “ইস্রায়েলের লোকদের বল: যখন প্রভুর কাছে তোমরা কোন নৈবেদ্য নিয়ে আসবে, সেই নৈবেদ্য যেন তোমাদেরই কোন একটি গৃহপালিত প্রাণী হয়, তা একটি গরু, মেষ বা ছাগলও হতে পারে| 3 “যখন কোন ব্যক্তি তার গো-পাল থেকে হোমবলি দেয়, তখন সেটা যেন ষাঁড় হয়, যার মধ্যে কোন দোষ নেই| সমাগম তাঁবুতে ঢোকার মুখে সে প্রাণীটিকে আনবে| তারপর প্রভু সেই নৈবেদ্য গ্রহণ করবেন| 4 প্রাণীটিকে হত্যা করার সময় সে অবশ্যই প্রাণীটির মাথায় তার হাত রাখবে| প্রভু সেই ব্যক্তিকে পাপ থেকে মুক্ত করার জন্যই প্রায়শ্চিত্তরূপে হোমবলি গ্রহণ করবেন| 5 “প্রভুর সামনেই সে সেই এঁড়ে বাছুরটিকে হনন করবে| তারপর হারোণের পুত্ররা অর্থাত্‌ যাজকরা সমাগম তাঁবুতে ঢোকার মুখে অবস্থিত বেদীর কাছে অবশ্যই সেই রক্ত আনবে এবং বেদীর ওপরে এবং চারপাশে তা ছিটিয়ে দেবে| 6 যাজকরা অবশ্যই প্রাণীটির দেহ থেকে চামড়া ছাড়াবে এবং তারপর প্রাণীটিকে কেটে টুকরো টুকরো করবে| 7 হারোণের পুত্ররা অর্থাত্‌ যাজকরা অবশ্যই বেদীতে আগুন জ্বালবে এবং তারপর আগুনের ওপর কাঠ চাপাবে| 8 তারপর তারা বেদীর ওপরের আগুনে জড়ো করা কাঠের ওপর অবশ্যই টুকরোগুলো (মাথা আর চর্বিযুক্ত মাংস) রাখবে| 9 যাজকরা জল দিয়ে অবশ্যই জন্তুটির পাগুলি আর দেহের ভিতরের অংশগুলি ধুয়ে নেবে| তারপর তারা বেদীর ওপরকার জন্তুটির সমস্ত অংশ পুড়িয়ে নেবে| এ হল হোমবলি, আগুনে প্রস্তুত একটি নৈবেদ্য| এই নৈবেদ্যর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করবে| 10 “যখন কেউ হোমবলি হিসেবে একটা মেষ বা একটা ছাগল উপহার দেয়, তখন সেই প্রাণীটিকে অবশ্যই পুরুষ প্রাণী হতে হবে, যার মধ্যে কোন দোষ বা খুঁত নেই| 11 প্রভুর সামনে বেদীর উত্তর দিকে সে প্রাণীটিকে হত্যা করবে| তারপর হারোণের পুত্ররা অর্থাত্‌ যাজকরা প্রাণীটির রক্ত বেদীর ওপরে এবং চারপাশে ছিটিয়ে দেবে| 12 তারপর যাজকরা প্রাণীটিকে টুকরো টুকরো করে কাটবে| তারপর তারা টুকরোগুলো (মাথা ও চর্বিযুক্ত মাংস) বেদীর আগুনে রাখা কাঠের ওপর রাখবে| 13 যাজকরা জল দিয়ে প্রাণীটির পাগুলি আর দেহের ভিতরের অংশগুলি ধুয়ে নেবে| যাজকদের অবশ্যই পশুটির সমস্ত অংশই উত্সর্গ করতে হবে| তারা বেদীর ওপর প্রাণীটিকে পুড়িয়ে নেবে| এ হল হোমবলি, আগুনে প্রস্তুত নৈবেদ্য| এই সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে| 14 “যখন কোন লোক প্রভুকে হোমবলি হিসেবে একটি পাখী উপহার দেয়, তখন সেই পাখীটি যেন একটি ঘুঘু কিংবা একটি কচি পাযরা হয়| 15 যাজক অবশ্যই নৈবেদ্যটিকে বেদীর কাছে আনবে| তারপর সে পাখীর মাথাটি টেনে ছিঁড়ে নেবে এবং বেদীর ওপর পাখীটিকে পোড়াবে| পাখীটির রক্ত বেদীর পাশে ফেলে দেবে| 16 যাজক অবশ্যই পাখীটির গলার থলিটা টেনে নেবে, পালকগুলিও সরাবে এবং সেগুলিকে বেদীর পূর্ব দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে| বেদী থেকে ছাই সরিয়ে রাখার এটাই হল জায়গা| 17 যাজক পাখীটির ডানার জায়গাটা ছিঁড়ে ফেলবে কিন্তু পাখীটিকে দুভাগ করবে না| তারপর পাখীটিকে বেদীর উপর কাঠের ওপরকার আগুনে পোড়াবে| এটা হল হোমবলি, আগুনে প্রস্তুত নৈবেদ্য| এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে|

লেবীয় পুস্তক 2

1 “যদি কেউ প্রভু ঈশ্বরকে শস্য নৈবেদ্য দান করে, তবে তার নৈবেদ্য যেন গুঁড়ো ময়দা থেকে তৈরী হয়| এই ময়দার ওপর লোকটি অবশ্যই তেল ঢালবে এবং তার ওপর কুন্দুরু রাখবে| 2 তারপর সে সেটা হারোণের পুত্রদের কাছে অর্থাত্‌ যাজকদের কাছে আনবে| সে তেল আর সুগন্ধি মেশানো এক মুঠো ময়দার গুঁড়ো নেবে| যাজক তখন বেদীর ওপরে এই স্মারক নৈবেদ্য পোড়াবে| এই নৈবেদ্য আগুনে প্রস্তুত| এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে| 3 হারোণ এবং তার পুত্রদের জন্য থাকবে বাকি পড়ে থাকা শস্য নৈবেদ্য| প্রভুকে দেওয়া আগুনে তৈরী এই নৈবেদ্য অত্যন্ত পবিত্র| 4 “যখন কোন লোক উনুনে সেঁকা রুটি নৈবেদ্য উপহার দেয় তখন তা যেন অবশ্যই খামিরবিহীন রুটি হয় ইস্রায়েলে মিহি ময়দা ও তেল দিয়ে তৈরী, অথবা যেন তেল মেশানো সরুচাকলী হয়| 5 যদি তুমি সেঁকাপাত্রে সেঁকা শস্য নৈবেদ্য আনো, তা হলে তা যেন অবশ্যই তেল মেশানো খামিরবিহীন গুঁড়ো ময়দার তৈরী হয়| 6 তুমি অবশ্যই সেটা টুকরো টুকরো করবে এবং তার ওপর তেল ঢালবে| এটি হল শস্য নৈবেদ্য| 7 যদি তুমি কড়ায় ভাজা শস্য নৈবেদ্য নিয়ে আসো, তখন যেন তা তেল মেশানো গুঁড়ো ময়দা দিয়ে তৈরী হয়| 8 “তুমি অবশ্যই এই সব জিনিস থেকে তৈরী শস্য নৈবেদ্যগুলি প্রভুর কাছে আনবে| ইস্রায়েলেজকের কাছে সেগুলি নিয়ে ইস্রায়েলেবে এবং সে সেগুলিকে বেদীর ওপর রাখবে| 9 তারপর যাজক শস্য নৈবেদ্যর কিছু অংশ নেবে এবং এই স্মারক নৈবেদ্য, বেদীর ওপর পোড়াবে| এই নৈবেদ্য আগুনের তৈরী| এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে| 10 পড়ে থাকা শস্য নৈবেদ্য হারোণ ও তার পুত্রদের জন্য| প্রভুকে দেওয়া এই আগুনে তৈরী নৈবেদ্য অত্যন্ত পবিত্র| 11 “তোমরা অবশ্যই খামির মেশানো কোন শস্য নৈবেদ্য প্রভুকে দেবে না| তোমরা খামির বা মধু আগুনে ঝলসে প্রভুকে নৈবেদ্য হিসেবে দেবে না| 12 প্রথম ফসল থেকে আনা নৈবেদ্য হিসেবে তোমরা খামির ও মধু প্রভুর কাছে আনতে পারো, কিন্তু খামির ও মধু সুগন্ধ হয়ে উবে যাওয়ার জন্য বেদীর ওপর যেন পোড়ানো না হয়| 13 তোমাদের আনা প্রতিটি শস্য নৈবেদ্যে তোমরা অবশ্যই লবণ দেবে| ঈশ্বরের নিয়মের লবণ যেন তোমাদের শস্য নৈবেদ্য থেকে বাদ না পড়ে| তোমাদের সমস্ত নৈবেদ্যর সঙ্গে অবশ্যই লবণ আনবে| 14 “যখন তোমরা প্রথম ফসল থেকে শস্য নৈবেদ্য প্রভুর কাছে আনবে, তখন অবশ্যই আগুনে ঝলসানো শস্যের মাথা আনবে| এইগুলি অবশ্যই টাটকা শস্যের চূর্ণ করা মাথা হবে| এই হবে তোমাদের প্রথম ফসল থেকে আনা শস্য নৈবেদ্য| 15 তোমরা অবশ্যই তেল আর সুগন্ধি তার ওপর ঢালবে| এই হল শস্য নৈবেদ্য| 16 যাজক অবশ্যই গুঁড়ো শস্যের কিছু অংশ, তেল এবং সমস্ত ধূনা প্রভুর কাছে স্মারক নৈবেদ্য হিসেবে পোড়াবে|

লেবীয় পুস্তক 3

1 “মঙ্গল নৈবেদ্য হিসেবে যখন কেউ ঈশ্বরের কাছে উত্সর্গ দেয় তখন প্রাণীটি একটি পুরুষ বা স্ত্রী গরু হতে পারে| কিন্তু প্রাণীটির অবশ্যই যেন কোন দোষ না থাকে| 2 লোকটি প্রাণীটির মাথায় হাত রাখবে এবং সমাগম তাঁবুতে ঢোকার মুখে প্রাণীটিকে হত্যা করবে, তারপর বেদীর ওপরে আর তার চারপাশে হারোণের পুত্ররা অর্থাত্‌ যাজকরা রক্ত ছিযিে দেবে| 3 মঙ্গল নৈবেদ্য হল প্রভুর প্রতি আগুনে প্রস্তুত এক নৈবেদ্য| প্রাণীটির দেহের ভিতরে ও বাইরে যে চর্বি আছে, যাজকরা তা অবশ্যই উত্সর্গ করবে| 4 তারা দুটি বৃক্ক এবং যে চর্বি নিতম্বের নীচে তাদের ঢেকে রেখেছে সেগুলো উত্সর্গ করবে| যে চর্বি য়কৃত্‌কে ঢেকে রেখেছে তারা সেটিও উত্সর্গ করবে এবং বৃক্কের সঙ্গে এটিকে সরিয়ে রাখবে| 5 তারপর হারোণের পুত্ররা বেদীর ওপর চর্বি পোড়াবে| আগুনের ওপরকার কাঠে রাখা জ্বলন্ত নৈবেদ্যর ওপর তা তারা রাখবে| এটা হল আগুনে প্রস্তুত নৈবেদ্য| এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে| 6 “যখন কোন লোক প্রভুর প্রতি মঙ্গল নৈবেদ্য হিসেবে একটি মেষ বা একটি ছাগল দান করে, তখন প্রাণীটি পুরুষ অথবা স্ত্রী জাতীয হতে পারে; কিন্তু তাতে যেন অবশ্যই কোন দোষ না থাকে| 7 যদি সে তার নৈবেদ্য হিসেবে একটি মেষশাবক আনে তবে সে তা প্রভুর সামনে আনবে| 8 সে অবশ্যই তার হাত প্রাণীটির মাথার ওপর রাখবে আর সমাগম তাঁবুর সামনে প্রাণীটিকে হত্যা করবে| তারপর হারোণের পুত্ররা বেদীর চারপাশে প্রাণীটির রক্ত ছিযিে দেবে| 9 আগুনে প্রস্তুত নৈবেদ্যর মত করে তারা মঙ্গল নৈবেদ্যর একটা অংশ প্রভুর প্রতি উত্সর্গ করবে| তারা অবশ্যই চর্বি, সমগ্র চর্বিযুক্ত লেজ এবং যে চর্বি প্রাণীটির ভিতর অংশের সমস্ত অঙ্গগুলোকে ঢেকে রাখে তা উত্সর্গ করবে| (পিছনের হাড়ের একেবারে লাগোযা অংশ থেকে লেজটা সে কেটে দেবে|) 10 কটির কাছের দুটি বৃক্ক ও তাদের ঢেকে রাখা চর্বিকে তারা যেন দান করে| তারা অবশ্যই য়কৃতের চর্বি অংশটুকুও দান করবে| তারা অবশ্যই বৃক্ক সমেত সেটিকে সরিয়ে নেবে| 11 তারপর বেদীর ওপর যাজকরা সেগুলিকে পোড়াবে| প্রভুর প্রতি আগুনের নৈবেদ্যই হল মঙ্গল নৈবেদ্য কিন্তু এটা সাধারণ মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে| 12 “যদি নৈবেদ্যটি একটি ছাগল হয় তা হলে লোকটি তাকে প্রভুর সামনে আনবে| 13 লোকটি ছাগলটির মাথায় তার হাত রাখবে এবং তাকে সমাগম তাঁবুর সামনে হত্যা করবে| তারপর হারোণের পুত্ররা বেদীর চারপাশে ছাগলের সে রক্ত ছিযিে দেবে| 14 প্রভুর প্রতি আগুনের নৈবেদ্য হিসেবে যাজকরা মঙ্গল নৈবেদ্যর কিছু অংশ অবশ্যই দান করবে| প্রাণীটির ভিতরের অংশগুলির ওপরের ও চারপাশের চর্বি তারা অবশ্যই উত্সর্গ করবে| 15 তারা নীচের পিছনের দিকের মাংসপেশীর কাছাকছি দুটি বৃক্ক ও তাদের চর্বির আচ্ছাদন অবশ্যই উত্সর্গ করবে| তারা য়কৃতের চর্বি অংশও দেবে| তারা অবশ্যই এটাকে বৃক্কসহ সরিয়ে দেবে| 16 এরপর যাজকরা অবশ্যই এগুলি বেদীর ওপর পোড়াবে| মঙ্গল নৈবেদ্য হল আগুনে প্রস্তুত এক নৈবেদ্য| এর সুগন্ধ প্রভুকে খুশী করে| এটিও সাধারণ মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে; কিন্তু শ্রেষ্ঠ অংশগুলি অর্থাত্‌ চর্বি, প্রভুর জন্য নির্দিষ্ট| 17 বংশপরম্পরায এই নিয়ম চিরকালের জন্য তোমাদের মধ্যে চলতে থাকবে| যেখানেই তোমরা থাক তোমরা অবশ্যই কখনও চর্বি বা রক্ত খাবে না|”

লেবীয় পুস্তক 4

1 প্রভু মোশিকে বললেন, 2 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: যদি কোন মানুষ অজান্তে পাপ করে ফেলে এবং প্রভু ইস্রায়েলে করতে বারণ করেছেন তেমন কোন কাজ করে, তখন মানুষটি অবশ্যই এই কাজগুলি করবে: 3 “যদি অভিষিক্ত যাজক এমন একটা ভুল করে বসে ইস্রায়েলেতে মানুষ তার পাপে দোষী হয়ে ইস্রায়েলেয, তখন যাজক তার পাপের জন্য অবশ্যই প্রভুর কাছে একটি নৈবেদ্য দান করবে| যাজক অবশ্যই কোন দোষ নেই এমন একটি এঁড়ে বাছুর উত্সর্গ করবে| পাপ নৈবেদ্য হিসেবে সে এঁড়ে বাছুরটি প্রভুকে উত্সর্গ করবে| 4 অভিষিক্ত যাজক এঁড়ে বাছুরটিকে সমাগম তাঁবুর প্রবেশ পথে আনবে| তারপর তার হাত ষাঁড়ের মাথায় রাখবে এবং প্রভুর সামনে ষাঁড়টাকে হত্যা করবে| 5 সেই যাজক বাছুরটি থেকে কিছুটা রক্ত নিয়ে তা সমাগম তাঁবুর ভেতরে নিয়ে আসবে| 6 পরে তার আঙুল রক্তের মধ্যে ডোবাবে এবং পবিত্রতম জায়গার আচ্ছাদনের সামনে প্রভুর সামনে সাতবার সেই রক্ত ছেটাবে| 7 যাজক কিছুটা রক্ত সুগন্ধী বেদীর কোণে লাগাবে| (এই বেদীটি সমাগম তাঁবুতে প্রভুর সামনে রযেছে|) ষাঁড়ের সব রক্তটাই তাকে হোম বেদীর নীচে ঢেলে দিতে হবে| (এই বেদীটি সমাগম তাঁবুতে ঢোকার মুখের বেদী|) 8 পাপের জন্য নৈবেদ্যর বাছুরটির সমস্ত চর্বি সে বের করে নেবে| ভেতরের অংশগুলির ওপরকার ও চারপাশের চর্বিও সে নিয়ে নেবে| 9 সে অবশ্যই বৃক্ক এবং কটির নীচে যে চর্বি তাদের ঢেকে রাখে তা নেবে| সে য়কৃতের চর্বিও অবশ্যই নেবে| সে এটা বৃক্কের সাথেই বের করে নেবে| 10 মঙ্গল নৈবেদ্যর ষাঁড়টির উত্সর্গীকরণের মতই যাজক অবশ্যই এই সমস্ত অংশগুলো উত্সর্গ করবে| হোম নৈবেদ্যর জন্য যে বেদী, তার ওপর যাজক অবশ্যই প্রাণীটির অংশগুলো পোড়াবে| 11 কিন্তু যাজক অবশ্যই ষাঁড়টির চামড়া, ভেতরের অংশগুলো এবং শরীরের বর্য়্জ পদার্থ এবং মাথা ও পাযের সমস্ত মাংস সরিয়ে রাখবে| যাজক সেই সব অংশ তাঁবুর বাইরে বিশেষ জায়গায়-যেখানে ছাইগুলো ঢেলে রাখা হয়, সেখানে বয়ে নিয়ে আসবে| সেখানে অবশ্যই সে কাঠের ওপর সেই সব অংশ রেখে পোড়াবে| যেখানে ছাইগুলো ঢালা আছে সেখানেই ষাঁড়টিকে পোড়াতে হবে| 12 13 “এমনও হতে পারে যে সমগ্র ইস্রাযেল জাতি না জেনে পাপ করেছে| তারা হয়তো এমন অনেক কাজ করে বসেছে যেগুলি প্রভু তাদের না করতেই আজ্ঞা দিয়েছেন| যদি তাই ঘটে তারা দোষী হবে| 14 যদি তারা সেই পাপ সম্বন্ধে বুঝতে পারে, তবে তারা সমগ্র জাতির জন্য পাপের নৈবেদ্য হিসেবে একটা এঁড়ে বাছুর উত্সর্গ করবে| তারা অবশ্যই এঁড়ে বাছুরটিকে সমাগম তাঁবুতে নিয়ে আসবে| 15 লোকদের মধ্যেকার প্রবীণরা প্রভুর সামনে ষাঁড়টির মাথায় হাত রাখবে এবং তখন একজন প্রভুর সামনে এঁড়ে বাছুরটিকে হত্যা করবে| 16 অভিষিক্ত যাজক যে তখন কর্তব্যরত ছিল, সে কিছুটা রক্ত সমাগম তাঁবুতে নিয়ে আসবে| 17 যাজকটি তার আঙুল রক্তের মধ্যে ডোবাবে এবং তা সাতবার প্রভুর সামনে পর্দার সম্মুখভাগে ছিটিয়ে দেবে| 18 তারপর যাজক কিছুটা রক্ত বেদীর কোণগুলোয ফেলবে| (এই বেদী সমাগম তাঁবুর মধ্যে প্রভুর সামনে রযেছে|) যাজক সমস্ত রক্ত জ্বলন্ত নৈবেদ্যর বেদীর মেঝেতে ঢালবে| (এই বেদী সমাগম তাঁবুর মধ্যে ঢোকার মুখে রযেছে|) 19 এরপর যাজক প্রাণীটির সমস্ত চর্বি নেবে এবং তা বেদীর ওপর পোড়াবে| 20 যাজক পাপ নৈবেদ্য যেমনভাবে ষাঁড়টিকে উত্সর্গ করেছিল সেইভাবেই এই সমস্ত অংশগুলো উত্সর্গ করবে| এইভাবে যাজক লোকদের শুচি করে তুলবেএবং ঈশ্বর ইস্রায়েলের লোকদের ক্ষমা করবেন| 21 যাজক অবশ্যই এই ষাঁড়টিকে শিবিরের বাইরে আনবে এবং তা পোড়াবে, যেমনভাবে সে প্রথম ষাঁড়কে পুড়িয়েছিল| সমগ্র সম্প্রদাযের পক্ষে এটাই হল পাপ মোচনের নৈবেদ্য| 22 “একজন শাসক অজান্তে পাপ করতে পারে এবং তার প্রভু ঈশ্বর ইস্রায়েলে ইস্রায়েলে করতে অবশ্যই নিষেধ করেছিলেন, তার মধ্যে কোন একটা সে করে ফেলতে পারে| এই ভুল করার জন্য শাসক দোষী হবে| 23 যদি শাসক তার পাপ সম্বন্ধে বুঝতে পারে, তা হলে সে অবশ্যই কোন দোষ নেই এমন একটি পুরুষ ছাগল আনবে| সেটাই হবে তার নৈবেদ্য| 24 শাসকটি অবশ্যই তার হাত ছাগলটির মাথায় রাখবে আর প্রভুর সামনে যেখানে হোমবলি হত্যা করা হয় সেখানেই তাকে হনন করবে| ছাগলটি হল দোষমোচনের বলি| 25 পাপ নৈবেদ্যর কিছুটা রক্ত যাজক অবশ্যই তার আঙুলে নেবে এবং জ্বলন্ত নৈবেদ্যর বেদীর কোণগুলোয তা লাগাবে| বাকি রক্তটুকু যাজক অবশ্যই বেদীর মেঝেতে ঢেলে ফেলবে| 26 আর ছাগলটির সমস্ত মেদ যাজক অবশ্যই বেদীর ওপর পোড়াবে; মঙ্গল নৈবেদ্য দানের মেদ যেমনভাবে সে পোড়ায সেইভাবে যাজক অবশ্যই তা পোড়াবে| এইভাবে যাজক সেই শাসককে তার পাপ থেকে শোষণ করবে এবং ঈশ্বর তাকে ক্ষমা করবেন| 27 “সাধারণ মানুষের কেউ যদি অজান্তে পাপ করে এবং প্রভু ইস্রায়েলে নিষিদ্ধ করেছেন এমন কিছু যদি করে তাহলে সে তার অপরাধের জন্য আইনের কাছে দাযবদ্ধ থাকবে| 28 যদি সেই ব্যক্তিটির নিজের পাপ সম্বন্ধে অবগত হয় তবে সে নিশ্চয়ই দোষ নেই এমন একটি স্ত্রী ছাগল আনবে| এইটিই হবে লোকটির পাপের জন্য নৈবেদ্য| পাপ করেছে বলে সে অবশ্যই এই ছাগলটি আনবে| 29 সে তার হাত প্রাণীটির মাথায় রাখবে এবং হোমবলির জায়গায় তাকে হত্যা করবে| 30 তারপর যাজক ছাগলটির কিছুটা রক্ত তার আঙুলে নেবে এবং হোমবলির বেদীর কোণগুলোতে সেই রক্ত ছিযিে দেবে| এরপর যাজক ছাগের বাকি রক্তটুকু অবশ্যই বেদীর মেঝেতে ঢেলে দেবে| 31 যেমনভাবে মঙ্গল নৈবেদ্য থেকে মেদ দেওয়া হয়, সেইভাবে যাজক অবশ্যই ছাগলটির সমস্ত মেদ উত্সর্গ করবে| যাজক অবশ্যই প্রভুর উদ্দেশ্যে সুগন্ধি হিসেবে বেদীর ওপর তা পোড়াবে| এইভাবে যাজক সেই মানুষটিকে তার পাপ মোচনের প্রাযশ্চিত্ত করাবে| এবং ঈশ্বর সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন| 32 “পাপের নৈবেদ্য হিসেবে যদি সেই লোকটি একটি মেষশাবক আনে তাহলে তাকে অবশ্যই কোন দোষ নেই এমন একটি স্ত্রী শাবক আনতে হবে| 33 লোকটি অবশ্যই তার হাত প্রাণীটির মাথায় রাখবে এবং যেখানে তারা হোমবলি হত্যা করে সেখানেই দোষ মোচনের নৈবেদ্যকে হত্যা করবে| 34 যাজক তার আঙুলে অবশ্যই সেই পাপমোচনের নৈবেদ্য থেকে কিছুটা রক্ত নেবে এবং হোমবলির বেদীর কোণগুলিতে তা লাগাবে| এরপর যাজক মেষশাবকটার বাকী সব রক্ত বেদীর মেঝেয ঢালবে| 35 যেমনভাবে মঙ্গল নৈবেদ্যগুলির মধ্যে মেষশাবকের মেদ মাংস উত্সর্গ করা হয়, যাজক সেইভাবে মেষশাবকটির সমস্ত মেদ উত্সর্গ করবে| সেটাকে যাজক যেমনভাবে কোন হোমবলি প্রভুকে দেওয়া হয়, সেইভাবে বেদীর ওপর তাকে পোড়াবে| এইভাবে যাজক সেই ব্যক্তিটিকে তার কৃত পাপ কর্মের প্রাযশ্চিত্ত করাবে এবং ঈশ্বর সেই লোকটিকে ক্ষমা করবেন|

লেবীয় পুস্তক 5

1 “কোন মানুষ একটি সতর্কবাণী শুনতে পারে, অথবা একজন মানুষ এমন কিছু শুনে বা দেখে থাকতে পারে ইস্রায়েলে অন্য লোকদের বলা উচিত্‌| যদি সেই লোকটি ইস্রায়েলে দেখেছে বা শুনেছে তা লোকদের না বলে, তা হলে সে এই পাপের জন্য দোষী হবে| 2 অথবা লোকটি হয়ত অশুচি কোন কিছু স্পর্শ করতে পারে| যেমন গৃহপালিত কোন প্রাণীর মৃতদেহ অথবা কোন অশুচি প্রাণীর মৃতদেহ| ঐ লোকটি নাও জানতে পারে যে সে ঐসব জিনিস স্পর্শ করেছে; কিন্তু তবু সে ভুল করার কারণে দোষী হবে| 3 এমন অনেক বিষয় আছে ইস্রায়েলে মানুষের কাছ থেকে আসে এবং মানুষকে অশুচি করে| একজন মানুষ না জেনেই অন্য একজনের কাছ থেকে এসবের যে কোন একটা স্পর্শ করতে পারে| যখন সেই মানুষ জানতে পারে যে সে অশুচি জিনিস স্পর্শ করেছে, তখন সে দোষী হবে| 4 একজন মানুষ ভাল অথবা মন্দ কিছু চিন্তা না করেই হঠকারী প্রতিজ্ঞা করে ফেলতে পারে এবং এসম্পর্কে ভুলে যেতে পারে কিন্তু যখন তার প্রতিজ্ঞার কথাটা মনে পড়বে তখনই সে হবে দোষী কারণ সে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি| 5 সুতরাং যদি কোন মানুষ এগুলির মধ্যে কোন একটি বিষয়ে দোষী হয় তাহলে সে যে কাজটা ভুল করে করেছে তা অবশ্যই স্বীকার করবে| 6 সে অবশ্যই তার কৃত দোষের জন্য প্রভুর কাছে আসবে| সে অবশ্যই একটা স্ত্রী মেষশাবক বা স্ত্রী ছাগল পাপমোচনের নৈবেদ্য হিসেবে আনবে| তারপর যাজক সেই মানুষটির কৃত পাপকর্ম থেকে তাকে মুক্ত করার জন্য ইস্রায়েলে কিছু করার করবে| 7 “যদি লোকটি মেষশাবক দিতে সমর্থ না হয় তবে সে অবশ্যই দুটি ঘুঘু পাখী বা দুটি পাযরা ঈশ্বরের কাছে আনবে| এগুলো হল তার কৃত পাপের জন্য নৈবেদ্য| একটি পাখী হবে অবশ্যই তার পাপের নৈবেদ্য এবং অপরটি হবে হোমের নৈবেদ্য| 8 লোকটি অবশ্যই সেগুলি ইস্রায়েলেজকের কাছে আনবে| প্রথমে যাজক পাপ নৈবেদ্য হিসেবে একটি পাখীকে উত্সর্গ করবে| যাজক পাখীর ঘাড় থেকে মাথাটা আলাদা করে নেবে, কিন্তু পাখীটিকে দুভাগে ভাগ করবে না| 9 যাজক অবশ্যই বেদীর পাশে পাপের জন্য উত্সর্গীকৃত এই নৈবেদ্যর রক্তকে ছিটিয়ে দেবে| তারপর বাকি রক্ত বেদীর তলদেশে ঢেলে দেবে| এই হল কৃত পাপের জন্য নৈবেদ্য| 10 এরপর যাজক দ্বিতীয পাখীটিকে অবশ্যই হোমবলির নিয়মানুইস্রায়েলেযী উত্সর্গ করবে| এইভাবে যাজক সেই মানুষটিকে তার কৃত পাপ থেকে মোচনের প্রাযশ্চিত্ত করাবে এবং ঈশ্বর সেই মানুষটিকে ক্ষমা করবেন| 11 “যদি মানুষটি দুটি ঘুঘু পাখী বা দুটি পাযরা দিতে সমর্থ না হয় তাহলে সে অবশ্যই 8 কাপ গুঁড়ো ময়দা আনবে| এটাই হবে তার পাপের জন্য নৈবেদ্য| লোকটি কোনক্রমেই ময়দায কোন তেল দেবে না| তা পাপ মোচনের নৈবেদ্য বলে সে এতে কুন্দুরু দেবে না| 12 লোকটি অবশ্যই ময়দার গুঁড়ো ইস্রায়েলেজকের কাছে আনবে| যাজক তা থেকে এক মুঠো ময়দা নেবে| এ হবে এক স্মরনার্থক নৈবেদ্য| বেদীর ওপর যাজক গুঁড়ো ময়দা পোড়াবে| এ হল ঈশ্বরের প্রতি আগুনে পোড়ানো এক নৈবেদ্য| এ নৈবেদ্য পাপের জন্য উত্সর্গ নৈবেদ্য| 13 এইভাবে যাজক মানুষটিকে শোধন করবে এবং ঈশ্বর সেই মানুষটিকে ক্ষমা করবেন| যেটুকু শস্য নৈবেদ্য পড়ে থাকবে, তা সাধারণ শস্য নৈবেদ্যর মতই ইস্রায়েলেজকের জন্য হবে|” 14 প্রভু মোশিকে বললেন, 15 “কোন মানুষ আকস্মিকভাবে প্রভুর পবিত্র জিনিস অপবিত্র করতে পারে| সেক্ষেত্রে সেই লোকটি তখন কোন খুঁত নেই এমন একটি পুরুষ মেষ অবশ্যই আনবে| এটাই হবে প্রভুর প্রতি দোষের জন্য দেওয়া নৈবেদ্য| তুমি অবশ্যই পবিত্র স্থানের মাপ কাঠি ব্যবহার করবে এবং পুরুষ মেষটির একটি মূল্য ঠিক করবে| 16 পবিত্র জিনিসের সঙ্গে সে যে পাপ করেছে তার জন্য লোকটি অবশ্যই তার জরিমানা দেবে| সে ইস্রায়েলে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা দেবে ও তার সঙ্গে মূল্যের এক পঞ্চমাংশ য়োগ করবে এবং সেই মূল্য যাজককে দেবে| এইভাবে পাপমোচনের নৈবেদ্যর মেষটি উত্সর্গ করে যাজক সেই লোকটিকে শুচি করবে এবং ঈশ্বর ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন| 17 “যদি কোন ব্যক্তি পাপ করে এবং প্রভুর আজ্ঞাগুলির কোন একটি লঙঘন করে, এমনকি যদি সে তা না জেনে করে থাকে, সে দোষী সাব্যস্ত হবে এবং তার পাপের জন্য দাযী হবে| 18 সেই লোকটিকে ইস্রায়েলেজকের কাছে কোন খুঁত নেই এমন একটি পুরুষ মেষ আনতে হবে| সেই পুরুষ মেষ হবে দোষ মোচনের নৈবেদ্য| এইভাবে অজান্তে লোকটি যে পাপ করেছিল তা থেকে যাজক তাকে মুক্ত করবে এবং ঈশ্বর সেই মানুষটিকে ক্ষমা করবেন| 19 এমন কি, সে যে পাপ করেছে এটা না জানলেও লোকটি দোষী সুতরাং সে প্রভুকে অবশ্যই তার দোষার্থক নৈবেদ্য দান করবে|”

লেবীয় পুস্তক 6

1 প্রভু মোশিকে বললেন, 2 “একজন মানুষ হয়তো এইসব পাপের মধ্যে কোন একটা করে প্রভুর বিরুদ্ধাচরণ করতে পারে| কারোর কোন বিষয় দেখাশোনা করার সময় সে ব্যাপারে কি ঘটেছে সে সম্বন্ধে মিথ্য়া কথা বলতে পারে, সে কিছু চুরি করতে পারে অথবা কাউকে ঠকাতে পারে| 3 অন্যের হারিযে ইস্রায়েলেওযা জিনিস পেয়ে মিথ্য়ে বলতে পারে, অথবা তার প্রতিশ্রুতি অনুইস্রায়েলেযী কাজ নাও করতে পারে| অথবা কোন মানুষ অন্য কোন রকমের অন্যায় করতে পারে| 4 কিন্তু সে এই ধরণের কোন কাজ করলে পাপের দোষে দোষী হবে, সুতরাং সে ইস্রায়েলে কিছু চুরি করেছিল, সে অন্যকে ঠকিযে ইস্রায়েলে কিছু নিয়েছিল তা সে অবশ্যই ফিরিযে দেবে| অথবা অন্য লোকরা তাকে ইস্রায়েলে কিছু তত্ত্বাবধান করার জন্য দিয়েছিল অথবা যেসব জিনিস সে পেয়েও মিথ্য়ে বলেছিল, সব কিছু সে অবশ্যই ফিরিযে দেবে| 5 সে ইস্রায়েলে কিছু মিথ্য়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার পুরো দাম দেবে এবং তারপর সে অতিরিক্ত জিনিসটির এক পঞ্চমাংশের মত দামও অবশ্যই ফেরত্‌ দেবে| সে প্রকৃত অধিকারীর কাছেই সেই অর্থ দেবে| যেদিন সে তার দোষার্থক বলি নিয়ে আনবে সেদিন সে এই কাজটি করবে| 6 “ঐ মানুষটি অবশ্যই ইস্রায়েলেজকের কাছে দোষার্থক বলি নিয়ে আসবে| তা অবশ্যই হবে মেষের দল থেকে আনা একটা পুরুষ মেষ| সেই পুরুষ মেষের মধ্যে যেন কোন খুঁত না থাকে| যাজক ইস্রায়েলে বলবে এর দাম হবে তাই| এটা হবে প্রভুর কাছে প্রদত্ত এক দোষার্থক বলি| 7 এরপর যাজক প্রভুর কাছে ইস্রায়েলেবে এবং লোকটির পাপ মোচনের জন্য প্রযোজনীয কাজ করবে এবং প্রভু লোকটির সমস্ত কাজ ক্ষমা করে দেবেন যেগুলির জন্য সে দাযী ছিল|” 8 প্রভু মোশিকে বললেন, 9 “হারোণ এবং তার পুত্রদের এই নির্দেশ দাও: এটা হল হোমবলির নিয়ম| বেদীর অগ্নিকুণ্ডের ওপর সকাল না হওয়া পর্য়ন্ত হোমবলি সারা রাত ধরে থাকবে| বেদীর আগুন অবশ্যই একটানা বেদীটির ওপরে জ্বলতে থাকবে| 10 যাজক অবশ্যই মসীনার অন্তর্বাস পরবে এবং তার উপর পরবে মসীনা বস্ত্রের পোশাক| বেদীর ওপর আগুনে দগ্ধ যে নৈবেদ্যসমূহ ছাই হয়ে ইস্রায়েলেবে যাজক সেই পরিত্যক্ত ছাই তুলে নিয়ে সেই সমস্ত ছাই বেদীর পাশে রাখবে| 11 এরপর যাজক এই পোশাক ছেড়ে অন্য পোশাক পরবে, তারপর সে তাঁবুর বাইরে অন্য এক বিশেষ জায়গায় ছাইগুলিকে নিয়ে ইস্রায়েলেবে| 12 কিন্তু বেদীর আগুন অবশ্যই বেদীর ওপর জ্বলতে থাকবে| তাকে কোন মতেই নিভিযে দেওয়া চলবে না| যাজক প্রতিদিন সকালে বেদীর ওপরে কাঠ দিয়ে জ্বালাবে| সে বেদীর ওপরে কাঠ সাজিযে মঙ্গল নৈবেদ্য সমূহের চর্বি অবশ্যই পোড়াবে| 13 বেদীর ওপর আগুন অবিরাম জ্বলতে থাকবে, তা যেন কোন মতেই না নিভে ইস্রায়েলেয| 14 “এটা হল শস্য নৈবেদ্য দানের নিয়ম: বেদীর সামনে প্রভুর কাছে হারোণের পুত্ররা এই নৈবেদ্য অবশ্যই আনবে| 15 শস্য নৈবেদ্য সমূহের মধ্য় থেকে যাজক এক মুঠো ভর্তি গুঁড়ো ময়দা নেবে| সেই শস্য নৈবেদ্যর সাথে যেন তেল এবং সুগন্ধী নিশ্চিতভাবে থাকে| যাজক বেদীর ওপর শস্য নৈবেদ্যকে পোড়াবে| এটা হবে প্রভুর প্রতি এক স্মরনার্থক নৈবেদ্য, এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে| 16 “শস্য নৈবেদ্যর অবশিষ্ট ইস্রায়েলে পড়ে থাকবে হারোণ এবং তার পুত্ররা অবশ্যই তা খাবে| খামির না দিয়ে তৈরী এক ধরণের রুটিই হল শস্য নৈবেদ্য| কোনো পবিত্র স্থানে যাজকরা অবশ্যই এই রুটি খাবে; সমাগম তাঁবুর প্রাঙ্গণের মধ্যেই এটা খাবে| 17 শস্য নৈবেদ্যটি যেন কখনই খামির দিয়ে তৈরী করা না হয়| আগুন দিয়ে তৈরী আমাকে দেওয়া নৈবেদ্যসমূহ আমি যাজকদের অংশ হিসেবে দিয়েছি| এটা অত্যন্ত পবিত্র, দান করা পাপ নৈবেদ্য এবং দোষ নৈবেদ্যর মত| 18 হারোণের সমস্ত সন্তানদের মধ্যে প্রত্যেকটি পুরুষ সন্তান আগুনে প্রস্তুত প্রভুর প্রতি নিবেদিত নৈবেদ্যসমূহ খেতে পারে| এটা তোমাদের বংশপরম্পরাভাবে চিরকালের নিয়ম| এই সমস্ত নৈবেদ্য স্পর্শের দ্বারাই সেই সব মানুষদের পবিত্রতা আনে|” 19 প্রভু মোশিকে বললেন, 20 “হারোণ আর তার পুত্রদের আমার কাছে এইসব নৈবেদ্য আনতে হবে| যেদিন তারা হারোণকে প্রধান যাজক বলে অভিষিক্ত করবে, সেদিনই তারা এটা করবে| শস্য নৈবেদ্যর জন্য তারা অবশ্যই 8 কাপ গুঁড়ো ময়দা আনবে| (প্রতিদিনের নৈবেদ্য দানের সমযেই এটা দেওয়া হবে|) তারা এর অর্ধেক আনবে সকালে, বাকি অর্ধেক আনবে সন্ধ্যার সময়| 21 গুঁড়ো ময়দার সঙ্গে তেল মেশানো হবে এবং সেঁকার পাত্রে তাকে সেঁকা হবে| তৈরী হয়ে গেলে তুমি অবশ্যই তা ভেতরে আনবে| তুমি নৈবেদ্যটিকে টুকরো টুকরো করে ভাঙ্গবে| এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে| 22 “হারোণের স্থানে বসার জন্য হারোণের উত্তরপুরুষদের থেকে অভিষিক্ত যাজক এই শস্য নৈবেদ্য অবশ্যই প্রভুর কাছে আনবে| এ নিয়ম চিরকাল ধরে চলবে| প্রভুর জন্য শস্য নৈবেদ্য অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে অগ্নিদগ্ধ করতে হবে| 23 ইস্রায়েলেজকের প্রত্যেকটি শস্য নৈবেদ্য অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে পোড়াতে হবে| তা কোন মতেই আহার করা চলবে না|” 24 প্রভু মোশিকে বললেন, 25 “হারোণ ও তার পুত্রদের বলো: এই হল পাপ নৈবেদ্য দানের নিয়ম| যেখানে প্রভুর সামনে হোমবলির বলি হত্যা করা হয়েছিল, সেখানেই পাপ নৈবেদ্যর বলিকেও হত্যা করতে হবে| এটা অত্যন্ত পবিত্র| 26 যে যাজক পাপ নৈবেদ্য উত্সর্গ করছে সে অবশ্যই সেটা খাবে; কিন্তু সে এটা একটা পবিত্র জায়গায় খাবে-জায়গাটা যেন সমাগম তাঁবুর চারপাশের উঠানের মধ্যে হয়| 27 পাপ নৈবেদ্যর মাংস স্পর্শেই একজন মানুষ বা কোন বিষয় পবিত্র হয়ে ওঠে|“যদি ছিটানো রক্তের একটুও কোন মানুষের কাপড়ের ওপর পড়ে তখন অবশ্যই কোন পবিত্র স্থানে যে সেই কাপড় কাচা হয়| 28 মাটির পাত্রে যদি পাপ নৈবেদ্যকে সিদ্ধ করা হয়, তাহলে পাত্রটাকে অবশ্যই ভেঙ্গে ফেলতে হবে| যদি পাপ নৈবেদ্যকে পিতলের তৈরী পাত্রে ফোটানো হয়, তাহলে পাত্রটিকে অবশ্যই মাজতে হবে এবং পরে জলে ধুয়ে নিতে হবে| 29 “যাজক পরিবারের যে কোন পুরুষ পাপ মোচনের নৈবেদ্য খেতে পারবে; এটা খুবই পবিত্র| 30 কিন্তু যদি পাপ মোচনের নৈবেদ্যর রক্ত সমাগম তাঁবুর মধ্যে আনা হয় এবং সেই পবিত্র স্থানে লোকদের শুচি করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই পাপ মোচনের নৈবেদ্য আগুনে পুড়িয়ে নিতে হবে| যাজকরা সেই পাপ নৈবেদ্য অবশ্যই খাবে না|

লেবীয় পুস্তক 7

1 “দোষ মোচনের বলি উত্সর্গের এগুলি হল নিয়ম: এ অত্যন্ত পবিত্র| 2 একজন যাজক দোষ মোচনের বলি অবশ্যই সেই জায়গায় হত্যা করবে, যেখানে হোমের বলি হত্যা করা হয়, তারপর দোষ মোচনের বলির রক্ত বেদীর সবদিকে ছিটিয়ে দেবে| 3 “যাজক দোষ মোচনের বলির সমস্ত মেদ অবশ্যই উত্সর্গ করবে, মেদসহ লেজ এবং ভিতর অংশের ওপর ছড়িয়ে থাকা মেদ উত্সর্গ করবে| 4 যাজক নৈবেদ্যর দুটি বৃক্ক এবং যে চর্বি কটিদেশের নীচে তাদের ঢেকে রাখে তা উত্সর্গ করবে, য়কৃতের মেদ অংশও নৈবেদ্য হিসাবে দেবে| মুত্রগ্রন্থিগুলির সঙ্গে সে তা ছাড়িযে আনবে| 5 ঐ সমস্ত জিনিস যাজক বেদীর ওপর পোড়াবে| এ হবে প্রভুর প্রতি আগুনে প্রস্তুত এক নৈবেদ্য| এটা হল এক দোষ মোচনের নৈবেদ্য| 6 “ইস্রায়েলেজকের পরিবারের যে কোন পুরুষ দোষ মোচনের বলি ভক্ষণ করতে পারে| এ নৈবেদ্য খুবই পবিত্র, তাই এটা অবশ্যই কোন পবিত্র স্থানে খেতে হবে| 7 দোষ মোচনের নৈবেদ্য পাপ মোচনের নৈবেদ্যরই মতো| এই দুই নৈবেদ্যর জন্য এক নিয়ম| যে যাজক বলির ব্যবস্থা করবে সে খাদ্য হিসেবে মাংস পাবে| 8 যে যাজক বলির ব্যবস্থা করবে সে দগ্ধ নৈবেদ্য থেকে চামড়াও পাবে| 9 প্রদত্ত প্রত্যেক শস্য নৈবেদ্য সেই ইস্রায়েলেজকের অধিকারে আসবে, যে যাজক তা উত্সর্গ করবার ভার নেবে| যাজক পাবে শস্য নৈবেদ্যসমূহ ইস্রায়েলে উনুনে সেঁকা বা ভাজবার পাত্রে অথবা সেঁকার থালায রান্না করা| 10 পুত্রদের অধিকারে থাকবে শস্য নৈবেদ্যসমূহ, সেগুলি শুকনো বা তেল মেশানো হতে পারে| হারোণের পুত্ররা সকলে এই খাদ্যের অংশ নেবে| 11 “প্রভুর কাছে মঙ্গল নৈবেদ্যসমূহ দানের নিয়ম| 12 কোন ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা জানাতে মঙ্গল নৈবেদ্য আনতে পারে| যদি সে কৃতজ্ঞতা জানাতে নৈবেদ্য আনে তবে তার খামিরবিহীন তেল মাখানো রুটি, ওপরে তেল দেওয়া পাতলা কিছু রুটি এবং তেল মেশানো গুঁড়ো ময়দার কিছু গোটা পাঁউরুটি আনা উচিত| 13 মঙ্গল নৈবেদ্যসমূহ হল সেই নৈবেদ্য ইস্রায়েলে কোন ব্যক্তি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতেই আনে| সেই নৈবেদ্যর সঙ্গে ব্যক্তিটি খামির দিয়ে তৈরী করা গোটা পাঁউরুটিগুলিও অন্য নৈবেদ্য হিসেবে আনবে| 14 এই সমস্ত রুটির একটি সেই ইস্রায়েলেজকের, যে মঙ্গল নৈবেদ্যর রক্ত ছিযিে দেবে| 15 মঙ্গল নৈবেদ্যর মাংস যেদিন উত্সর্গ করা হবে, সেই দিনেই তা খেতে হবে| একজন মানুষ এই উপহার ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই দেয়; কিন্তু পরের দিন সকালের জন্য মাংসের একটুও যেন পড়ে না থাকে| 16 “কোন মানুষ মঙ্গল নৈবেদ্য আনতে পারে কারণ সে হয়ত ঈশ্বরকে উপহার দিতে চায় অথবা সে হয়ত ঈশ্বরের কাছে বিশেষ মানত করেছিল| যদি এটা সত্য হয় তাহলে যেদিন সে নৈবেদ্য দেয়, সেই দিনেই প্রদত্ত নৈবেদ্য খেযে নিতে হবে| যদি কিছু পড়ে থাকে তা পরের দিন অবশ্যই খেতে হবে| 17 কিন্তু যদি এই নৈবেদ্যর কোন মাংস তৃতীয় দিনেও পড়ে থাকে তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে| 18 যদি কোন ব্যক্তি তৃতীয় দিন তার মঙ্গল নৈবেদ্যর কোন মাংস ভক্ষণ করে তাহলে প্রভু সেই ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না| তার নৈবেদ্য প্রভু গ্রহণ করবেন না; সেই নৈবেদ্য হবে অশুচি| আর যদি কোন ব্যক্তি সেই মাংসের কিছু ভক্ষণ করে তা হলে সেই ব্যক্তি নিজে তার দোষের জন্য দাযী হবে| 19 “অশুচি এমন কোন বস্তুর ছোঁযা লাগা মাংস অবশ্যই যেন কেউ না খায়; আগুনে এই মাংস পোড়াবে| প্রত্যেকটি শুচি মানুষ মঙ্গল নৈবেদ্য থেকে মাংস খেতে পারে| 20 কিন্তু যদি কোন অশুচি ব্যক্তি প্রভুর জন্য নির্দিষ্ট মঙ্গল নৈবেদ্যর মাংস খায়, তা হলে সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই তার লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে| 21 “যদি কোন ব্যক্তি কোন অশুচি জিনিস, ইস্রায়েলে মানুষের শরীরের দ্বারা অশুচি হয়েছে বা কোন অশুচি জন্তু বা প্রভু নিষেধ করেছেন এমন কোন জিনিস স্পর্শ করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অশুচি হবে| এবং যদি সে মঙ্গল নৈবেদ্যর মাংস খায়, তাহলে তাকে অবশ্যই তার লোকদের থেকে আলাদা করতে হবে|” 22 প্রভু মোশিকে বললেন, 23 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: তোমরা গরু, মেষ বা ছাগলের কোনো চর্বি অবশ্যই খাবে না| 24 যে জন্তু স্বাভাবিক ভাবে মারা গেছে অথবা অন্য জন্তুদের দ্বারা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তোমরা সে জন্তুর চর্বি ব্যবহার করতে পার; কিন্তু তোমরা কখনোই তা খাবে না| 25 আগুনে পোড়া জন্তু প্রভুর প্রতি প্রদত্ত যদি কোন ব্যক্তি তার চর্বি খায়, তাহলে সেই ব্যক্তিকে তার সংশ্লিষ্ট লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে| 26 “তোমরা যেখানেই বাস করো না কেন কখনও কোন পাখির বা কোন জন্তুর রক্ত পান করবে না| 27 যদি কোন ব্যক্তি রক্ত খায়, তাহলে সেই লোকটিকে অবশ্যই তার লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে|” 28 প্রভু মোশিকে বললেন, 29 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: যদি কোন ব্যক্তি প্রভুর কাছে মঙ্গল নৈবেদ্য নিয়ে আসে, তাহলে সেই ব্যক্তি ঐ নৈবেদ্যর অংশ অবশ্যই প্রভুকে দেবে| 30 উপহারের সেই অংশ আগুনে পোড়ানো হবে| সে নিজের হাতে সেই উপহারের অংশ বহন করবে| সেই জন্তুটির চর্বি এবং বক্ষদেশ ইস্রায়েলেজকের কাছে আনবে| প্রভুর সামনে জন্তুটির বক্ষদেশটি তুলে ধরবে| এটাই হবে দোলনীয় নৈবেদ্য| 31 তারপর যাজক বেদীর ওপর চর্বি পোড়াবে; কিন্তু জন্তুর বক্ষদেশ হারোণ এবং তার পুত্রদের অধিকারে থাকবে| 32 তোমরা মঙ্গল নৈবেদ্যর ডান দিকের উরুটিও যাজককে দেবে| 33 মঙ্গল নৈবেদ্যর ডান দিকের উরুটি থাকবে সেই ইস্রায়েলেজকের (হারোণের পুত্রদের) দখলে, যে মঙ্গল নৈবেদ্যর রক্ত আর চর্বি উত্সর্গ করবে| 34 আমি ইস্রায়েলের লোকদের কাছ থেকে দোলনীয় নৈবেদ্যর বক্ষদেশ এবং মঙ্গল নৈবেদ্যর ডান উরু নিচ্ছি এবং সেই বস্তুগুলি আমি হারোণ ও তার পুত্রদের দিয়ে দিচ্ছি| ইস্রায়েলের লোকরা অবশ্যই এই নিয়ম চিরকালের জন্য মেনে চলবে|” 35 ঐগুলি হল প্রভুকে প্রদত্ত আগুনের তৈরী নৈবেদ্যর অংশ ইস্রায়েলে হারোণ ও তার পুত্রদের অধিকার| যখনই হারোণ এবং তার পুত্ররা প্রভুর যাজক হয়ে সেবা করবে তারা উত্সর্গগুলির অংশও পাবে| 36 যাজকদের মনোনীত করার সময় থেকেই প্রভু ঐ সব অংশ যাজকদের দেওয়ার জন্য ইস্রায়েলের লোকদের নির্দেশ দেন| লোকরা অবশ্যই যেন সেই অংশ চিরকালের জন্য যাজকদের দেয়| 37 ঐগুলি হল হোমবলি, শস্য নৈবেদ্য, পাপমোচনের নৈবেদ্য, দোষমোচনের বলি, মঙ্গল নৈবেদ্য এবং যাজক নির্বাচন সম্পর্কে নিয়মাবলী| 38 সীনয় পর্বতের ওপর প্রভু মোশিকে এই আজ্ঞাগুলি দেন| যেদিন প্রভু ইস্রায়েলের লোকদের সীনয় মরুভুমির মধ্যে প্রভুর কাছে তাদের নৈবেদ্যসমূহ আনতে আদেশ দিয়েছিলেন, সেদিনই তিনি ঐ বিধিগুলি জানিয়ে দেন|

লেবীয় পুস্তক 8

1 প্রভু মোশিকে বললেন, 2 “হারোণ ও তার পুত্রদের সঙ্গে নাও| সেই সঙ্গে নাও পোশাক-পরিচ্ছদ, অভিষেকের জন্য তেল, পাপমোচনের নৈবেদ্যর ষাঁড়, দুটি পুরুষ মেষ এবং খামিরবিহীন রুটির ঝুড়ি| 3 তারপর লোকদের একসঙ্গে সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে নিয়ে এসো|” 4 প্রভুর আদেশ মতই মোশি সব কাজ করল| লোকরা সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে একসঙ্গে দেখা করল| 5 তখন মোশি লোকদের বলল, “প্রভু ইস্রায়েলে আদেশ করেছেন এ হল তাই এবং তা অবশ্য কর্তব্য|” 6 তারপর মোশি হারোণ ও তার পুত্রদের নিয়ে এল| জল দিয়ে সে তাদের ধৌত করল| 7 এরপর মোশি হারোণকে বোনা অঙ্গরক্ষিণী পরালো এবং তার কোমরের চারপাশে কটিবন্ধ জড়াল| তারপর মোশি হারোণের গায়ে পোশাক পরিযে গায়ে এফোদ জড়াল এবং বোনা পটুকাতে গা বেষ্টন করে তা বাঁধল| এইভাবে মোশি হারোণের গায়ে এফোদ পরাল| 8 মোশি হারোণের বুকে বক্ষাবরণ পরিযে দিল| তারপর সে বক্ষাবরণের ভেতরে উরীম ও তূম্মীম রাখল| 9 মোশি হারোণের মাথা লম্বা কাপড় জড়ানো পাগড়ি দিয়ে ঢেকে দিল| এক টুকরো সোনা পাগড়ির সামনেটায বসিযে দিল| এই সোনার টুকরোটা হল পবিত্র মুকুট| প্রভুর আজ্ঞা মতই মোশি এটা করেছিল| 10 এরপর মোশি অভিষেকের তেল নিল এবং পবিত্র তাঁবুর ওপর ও তার মধ্যেকার সমস্ত জিনিসের ওপর তা ছিটিয়ে দিল| এইভাবে মোশি তাদের পবিত্র করল| 11 মোশি বেদীর ওপর ঐ তেলের কিছুটা সাতবার ছিটিয়ে দিল| মোশি বেদীর ওপর এবং তত্সংলগ্ন থালা, গামলায এবং তার তলদেশে তেল ছিটিয়ে সব কিছুকে পবিত্র করল| 12 তারপর কিছুটা অভিষেকের তেল নিয়ে সে হারোণের মাথায় ঢালল, এইভাবে মোশি হারোণকে পবিত্র করল| 13 মোশি এরপর হারোণের পুত্রদের নিয়ে এসে তাদের বোনা অঙ্গরক্ষিণী পরাল| পরে তাদের গায়ে কটিবন্ধ জড়িয়ে দিল| তারপর তাদের মাথায় ফেট্টি বাঁধল| প্রভুর আজ্ঞামতই মোশি এসব করল| 14 এরপর মোশি পাপ মোচন নৈবেদ্যর ষাঁড়টিকে নিয়ে এল| পাপ মোচন নৈবেদ্যর ষাঁড়ের মাথার ওপর হারোণ ও তার পুত্ররা হাত রাখল| 15 তারপর মোশি ষাঁড়টিকে হত্যা করে তার রক্ত সংগ্রহ করল| মোশি তার আঙুল দিয়ে কিছু রক্ত বেদীর সব কোণে লাগাল| এইভাবে মোশি বেদীটিকে বলির উপয়োগী করে তৈরী করল| তারপর সে বেদীর মেঝেয রক্ত ঢেলে দিল| লোকদের পাপ মুক্ত করার জন্য এইভাবে মোশি বেদীটিকে বলির জন্য তৈরী রাখল| 16 সে য়কৃত্‌ থেকে সব চর্বি বের করে নিল এবং সেই সঙ্গে দুটি বৃক্ক ও তাদের ওপরকার সব চর্বিটুকু নিয়ে সেই বেদীর ওপর তাদের পোড়াল| 17 কিন্তু মোশি ষাঁড়ের চামড়া, তার মাংস এবং শরীরের বর্য়্জ পদার্থকে তাঁবুর বাইরে নিয়ে এল| তাঁবুর বাইরে আগুনে মোশি সেগুলিকে পোড়াল| প্রভুর আজ্ঞামতই মোশি এসব করল| 18 এরপর মোশি হোমবলির জন্য পুরুষ মেষকে নিয়ে এল| হারোণ এবং তার পুত্ররা সেই পুরুষ মেষের মাথায় তাদের হাত রাখল| 19 মোশি তারপর পুরুষ মেষটিকে হত্যা করল| সে বেদীর চারপাশে ও বেদীর ওপরে পুরুষ মেষটির রক্ত ছিটিয়ে দিল| 20 মোশি পুরুষ মেষটিকে টুকরো টুকরো করে কাটল| সে ভিতরের অংশগুলি ও পা জল দিয়ে ধুয়ে দিল, তারপর বেদীর ওপর গোটা পুরুষ মেষটিকে পোড়াল| মোশি মাথা ও শরীরের টুকরোগুলো এবং চর্বি পোড়াল| এ হল আগুনের তৈরী হোমবলি| এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করে| প্রভুর আজ্ঞামত মোশি ঐগুলি করল| 21 22 তারপর মোশি অন্য পুরুষ মেষটিকে নিয়ে এল| হারোণ আর তার পুত্রদের যাজক হিসাবে নির্দিষ্ট করার জন্যই এই পুরুষ মেষটি ব্যবহার করা হয়েছিল| তারা এই পুরুষ মেষটির মাথায় তাদের হাত রেখেছিল| 23 এরপর মোশি পুরুষ মেষটিকে হত্যা করল| এর কিছুটা রক্ত সে হারোণের কানের লতিতে, তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং হারোণের ডান পাযের বুড়ো আঙুলের মাথায় ছোঁযাল| 24 তারপর সে হারোণের পুত্রদের বেদীর কাছাকাছি নিয়ে এল| রক্তের কিছুটা তাদের ডান কানের লতিতে, ডান হাতের বুড়ো আঙুলে এবং ডান পাযের বুড়ো আঙুলের মাথায় লাগিয়ে দিল| এরপর সে বেদীর চারপাশে রক্ত ছিযিে দিল| 25 এরপর মোশি চর্বি, লেজ, ভিতরের সমস্ত অংশগুলোর চর্বি, য়কৃত্‌ ঢাকা চর্বি, বৃক্ক দুটি এবং তাদের চর্বি এবং ডান দিকের উরু নিল| 26 প্রত্যেকদিন প্রভুর সামনে এক ঝুড়ি ভর্ত্তি খামিরবিহীন রুটি রাখা হত| মোশি এই রুটিগুলির একটি, তেল মাখানো রুটির একটি ও একটি খামিরবিহীন পাতলা রুটি নিল| সেই সব রুটির টুকরোগুলো মোশি চর্বির ওপর এবং পুরুষ মেষের ডান উরুর ওপর রাখল| 27 তারপর মোশি সেই সমস্ত কিছু হারোণ ও তার পুত্রদের হাতে দিয়ে দিল| টুকরোগুলোকে মোশি দোলনীয় নৈবেদ্যরূপে প্রভুর সামনে দোলালো| 28 তারপর হারোণ ও তার পুত্রদের হাত থেকে সেগুলিকে নিয়ে মোশি বেদীর হোমবলির ওপর পোড়াল| হারোণ ও তার পুত্রদের যাজক হিসাবে নিয়োগ করার জন্যই এই নৈবেদ্য| এ নৈবেদ্য আগুনের দ্বারা তৈরী নৈবেদ্য| এর গন্ধ প্রভুকে খুশী করে| 29 মোশি বক্ষদেশটা নিয়ে প্রভুর সামনে তা দোলনীয় নৈবেদ্য হিসেবে দোলাল| যাজকদের নিয়োগ করার ব্যাপারে পুরুষ মেষের এই অংশ হল মোশির অংশ| মোশি প্রভুর আজ্ঞামতই এসব কাজ করল| 30 মোশি বেদীর ওপর পড়ে থাকা অভিষেকের তেলের কিছুটা ও কিছুটা রক্ত নিয়ে হারোণের ওপর এবং হারোণের পোশাকের ওপর ছিযিে দিল| হারোণের সঙ্গে সেবারত ছেলেদের এবং তাদের পোশাকের ওপরেও কিছুটা ছিটিয়ে দিল| এইভাবে মোশি হারোণ, তার কাপড়-চোপড়, তার ছেলেদের এবং ছেলেদের কাপড়-চোপড় শুচিশুদ্ধ করল| 31 তারপর মোশি হারোণ ও তার পুত্রদের জিজ্ঞাসা করল, “আমার আদেশ তোমাদের মনে পড়ে তো? আমি বলেছিলাম, ‘হারোণ এবং তার পুত্ররা এই সমস্ত জিনিস অবশ্যই আহার করবে|’ সুতরাং যাজক নির্বাচনের অনুষ্ঠান থেকে রুটির ঝুড়ি আর মাংস নিয়ে নাও| সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে মাংসটাকে সিদ্ধ করো| সেই খানেই মাংস আর রুটি খেও| আমি ইস্রায়েলে বলছি সেইমতো এটা করো| 32 যদি মাংস বা রুটির কোন কিছু পড়ে থাকে তবে তা পুড়িয়ে ফেল| 33 যাজক নির্বাচনের অনুষ্ঠান চলবে সাতদিন ধরে| সেই অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্য়ন্ত তোমরা অবশ্যই সমাগম তাঁবুর প্রবেশ পথ ছাড়বে না| 34 আজ ইস্রায়েলে করা হল, প্রভু সেইসব করতেই আজ্ঞা দিয়েছেন| তোমাদের শুচি করতেই তিনি এই সব আজ্ঞা দিয়েছেন| 35 তোমরা অবশ্যই সমাগম তাঁবুর প্রবেশ মুখে সাতদিন ধরে দিনরাত থাকবে| যদি তোমরা প্রভুর আজ্ঞা না মানো তাহলে তোমরা মারা ইস্রায়েলেবে| প্রভু আমাকে এইসব আজ্ঞা দিয়েছেন|” 36 তাই হারোণ ও তার পুত্ররা প্রভু মোশিকে ইস্রায়েলে ইস্রায়েলে করতে আজ্ঞা দিয়েছিলেন সেসবই করল|

লেবীয় পুস্তক 9

1 আট দিনের দিন মোশি হারোণ ও তার পুত্রদের এবং সেই সাথে ইস্রায়েলের প্রবীণদেরও ডাকল| 2 মোশি হারোণকে বলল, “একটা ষাঁড় এবং একটা পুরুষ মেষ নিয়ে এসো| এই জন্তুদের মধ্যে অবশ্যই যেন কোন খুঁত না থাকে| ষাঁড়টা হবে পাপ মোচনের নৈবেদ্য আর মেষটা হবে হোমবলির নৈবেদ্য| ঐসব জন্তুদের প্রভুর কাছে নিবেদন করো| 3 ইস্রায়েলের লোকদের বলো, ‘পাপ মোচনের নৈবেদ্যর জন্য একটি পুরুষ ছাগল নাও এবং হোমবলির জন্য একটি বাছুর ও একটি মেষশাবক নাও| বাছুর ও ছাগ শিশু প্রত্যেকটির বযস যেন এক বছর হয়| ঐ সমস্ত জন্তুদের মধ্যে অবশ্যই যেন কোন খুঁত না থাকে| 4 একটা ষাঁড় ও একটা পুরুষ মেষ মঙ্গল নৈবেদ্যর জন্য নাও| ঐসব জন্তু ছাড়াও তেল মেশানো শস্য নৈবেদ্য নেবে এবং এসব প্রভুর কাছে নিবেদন করবে, কারণ আজ প্রভু তোমাদের কাছে আবির্ভূত হবেন|” 5 সুতরাং সমস্ত মানুষ সমাগম তাঁবুর কাছে এলো| মোশি যেমন আদেশ দিয়েছিল তারা সকলে সেই মত জিনিস আনলো| সমস্ত লোক প্রভুর সামনে দাঁড়াল| 6 মোশি বলল, “প্রভুর আজ্ঞা মতই তোমরা এগুলি করবে আর তখন প্রভুর মহিমা তোমাদের কাছে প্রকাশিত হবে|” 7 তারপর মোশি হারোণকে বলল, “ইস্রায়েলেও প্রভুর আজ্ঞা মতো কাজগুলি করো| বেদীর কাছে ইস্রায়েলেও এবং পাপ মোচনের নৈবেদ্য ও হোমবলির নৈবেদ্যগুলি নিবেদন করো, ইস্রায়েলেতে তুমি এবং তোমার লোকরা শুচি হও| লোকদের নৈবেদ্যগুলিও নাও এবং সেইসব পর্বগুলি পালন কর যেগুলি তাদের শুচি করে|” 8 সেইজন্য হারোণ বেদীর সামনে এসে পাপমোচনের নৈবেদ্যর জন্য ষাঁড়টাকে হত্যা করলো| এই পাপমোচনের নৈবেদ্য তার নিজেরই জন্য| 9 তারপর হারোণের পুত্ররা হারোণের কাছে রক্ত আনলো| হারোণ তার আঙুল রক্তে ডুবিয়ে তার বেদীর কোণগুলোয ছড়িয়ে দিল, তারপর বেদীর মেঝেতে রক্ত ঢেলে দিল| 10 পাপমোচনের নৈবেদ্য থেকে হারোণ নিল চর্বি, বৃক্কগুলো এবং য়কৃতের চর্বি অংশটা, প্রভু যেমন যেমন মোশিকে আজ্ঞা করেছিলেন সেইভাবে সে ঐ জিনিসগুলো বেদীর ওপর পোড়ালো| 11 হারোণ এরপর শিবিরের বাইরে আগুনে মাংস আর চামড়া পোড়াল| 12 পরে হোমবলির জন্য হারোণ জন্তুটিকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে কাটল| হারোণের পুত্ররা হারোণের কাছে রক্ত নিয়ে এলে হারোণ সেই রক্ত বেদীর চারপাশে ছিটিয়ে দিল| 13 হারোণের পুত্ররা হারোণকে হোমবলির টুকরোগুলো আর মাথাটা দিলে সে সেগুলো বেদীর ওপর পোড়াল| 14 হোমবলির ভিতরের অংশগুলো আর পাগুলিও ধুয়ে ফেলে সেইসব বেদীর ওপর পোড়াল| 15 তারপর হারোণ লোকদের নৈবেদ্যগুলি আনল| সে লোকদের পাপের জন্য নৈবেদ্য হিসেবে ছাগলটিকে হত্যা করে প্রথমটার মতই এটিকে নিবেদন করল| 16 প্রভুর নির্দেশমত সে দগ্ধ নৈবেদ্যটিকে নিয়ে এসে নিবেদন করল| 17 বেদীর কাছে শস্য নৈবেদ্য নিয়ে এসে সে এক মুঠো শস্য নিল এবং তা রোজ সকালে বেদীর ওপর যে বলি দেওয়া হত তার সাথে সাথে নিবেদন করল| 18 সে ষাঁড় এবং পুরুষ মেষটিকেও হত্যা করল| এসব হল লোকদের মঙ্গল নৈবেদ্য| হারোণের পুত্ররা হারোণের কাছে রক্ত আনলে সে এই রক্ত বেদীর চারপাশে ছড়িয়ে দিল| 19 তারা ষাঁড় আর মেষের চর্বি, লেজের চর্বি, ভিতরের অংশে ঢাকা দেওয়া চর্বি, বৃক্কগুলি এবং য়কৃতের চর্বি অংশ আনল| 20 এইসব চর্বিগুলো ষাঁড় আর পুরুষ মেষের বুকের ওপর রাখা হলে হারোণ চর্বি অংশগুলো বেদীর ওপর পোড়াল| 21 হারোণ মোশির আজ্ঞামতো বক্ষদেশগুলি এবং ডান উরু প্রভুর সামনে দোলনীয় নৈবেদ্য হিসাবে দোলাল| 22 তারপর লোকদের উদ্দেশ্যে তার হাত ওপরে তুলে তাদের আশীর্বাদ করল| পাপ মোচনের নৈবেদ্য, হোমবলি এবং মঙ্গল নৈবেদ্য শেষ করার পর হারোণ বেদী থেকে নেমে এল| 23 মোশি এবং হারোণ সমাগম তাঁবুর ভিতরে এল| পরে তারা বাইরে এসে লোকদের আশীর্বাদ করল| তারপর প্রভুর মহিমা সমস্ত লোকের সামনে আবির্ভুত হল| 24 প্রভুর কাছ থেকে অগ্নি নির্গত হয়ে বেদীর ওপরকার হোমবলি ও চর্বি দগ্ধ করল| তখন সমস্ত মানুষ সেই নৈবেদ্য দহন দেখে চিত্কার